চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানের লক্ষ্যে নতুন নভোচারী দলের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ৮ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে ১০ জনকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও টেস্ট পাইলট। নাসার ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো নভোচারী দলে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি, যা মহাকাশ গবেষণায় একটি নতুন মাইলফলক।
নাসার এই দলে ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে যেমন আছেন নাসার কিউরিওসিটি মার্স রোভার প্রকল্পে কাজ করা একজন ভূতত্ত্ববিদ, তেমনি আছেন স্পেসএক্সের একজন প্রকৌশলী, যিনি গত বছর বিশ্বের প্রথম বেসরকারি স্পেসওয়াকে অংশ নিয়ে মহাকাশ ভ্রমণ করেছেন। চূড়ান্তভাবে মহাকাশযাত্রার জন্য যোগ্য হওয়ার আগে তাদের দুই বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক শন ডাফি বলেন, ‘আপনারা আমেরিকার সেরা ও উজ্জ্বলতম। আমাদের ভবিষ্যতে একটি সাহসী অনুসন্ধান পরিকল্পনা আছে। তাই আমেরিকার সেরা ও উজ্জ্বলতমদের প্রয়োজন হবে।’ তিনি চাঁদে নভোচারী পাঠানোর দৌড়ে জেতার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘চীন মহাকাশে আমাদের নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে... আমরাই জিতব।’ তার মতে, এই নতুন দলের যেকোনো একজন হতে পারেন মঙ্গলের বুকে পা রাখা প্রথম মানব।
১৯৫৯ সালে ‘মার্কারি সেভেন’ দিয়ে নভোচারী বাছাই শুরুর পর এটি নাসার ২৪তম ক্লাস। এর আগে ২০২১ সালে সর্বশেষ ক্লাসটি নির্বাচিত হয়েছিল। এ পর্যন্ত নাসা মাত্র ৩৭০ জনকে নভোচারী হিসেবে বেছে নিয়েছে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম অভিজাত গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত করেছে। নতুন এই ১০ জন নাসার বর্তমান ৪১ জন সক্রিয় নভোচারীর সঙ্গে যুক্ত হবেন।
নাসার ফ্লাইট অপারেশনস ডিরেক্টর নর্ম নাইট জানিয়েছেন, এবারের প্রতিযোগিতা ছিল অত্যন্ত কঠিন। নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন সামরিক পাইলট, স্পেসএক্সের সাবেক লঞ্চ ডিরেক্টর ও একজন চিকিৎসক।
নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এরিন ওভারক্যাশের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘হতেই পারে না! মানে, হ্যাঁ, অবশ্যই। কিন্তু এটা অবিশ্বাস্য।’ এই দলের সদস্য আনা মেনন ইতোমধ্যে স্পেসএক্সের একটি ফ্লাইটে মহাকাশ ভ্রমণ করেছেন। এটি তাকে নাসার প্রথম নভোচারী প্রার্থী হিসেবে অনন্য করে তুলেছে। আরেক সদস্য লরেন এডগার ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভেতে কাজ করার সময় মার্স রোভার প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে আবারও চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানো।


