মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। তাদের তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট ‘স্টারশিপ’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত সোমবার টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্টারবেস সুবিধায় রকেটের আপার স্টেজ বা ওপরের অংশের ছয়টি র্যাপ্টর ইঞ্জিন একসঙ্গে চালু করে এই ‘স্ট্যাটিক ফায়ার’ পরীক্ষাটি চালানো হয়।
আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে স্টারশিপের একাদশ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইলন মাস্কের লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে এই রকেটে করে মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানো। শুধু মঙ্গল অভিযান নয়, নাসার ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে চাঁদের বুকে মানুষ ও মালামাল পৌঁছে দেওয়ার জন্যও স্টারশিপ তৈরি করা হচ্ছে।
তবে স্টারশিপের পথচলা খুব একটা মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে বেশ কয়েকটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২৬ আগস্টের ফ্লাইটটি কেবল সফল হয়। এই ব্যর্থতাগুলোর কারণে নাসার আর্টেমিস প্রকল্পের সময়সূচিও পিছিয়ে গেছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদে মানুষ পাঠানোর এই মিশনের অবতরণ ২০২৪ সালে হওয়ার কথা থাকলেও, এখন তা ২০২৭ সালের মাঝামাঝির আগে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি অ্যারোস্পেস সেফটি অ্যাডভাইজরি প্যানেলের এক বৈঠকে বলা হয়েছে, স্টারশিপের কিছু মৌলিক সমস্যার কারণে নাসার চন্দ্রাভিযান আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। প্যানেলের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘অরবিটাল রিফুয়েলিং’ বা মহাকাশ কক্ষপথে রকেটে জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়া। চাঁদে নভোচারী পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই প্রযুক্তি অপরিহার্য, তবে স্পেসএক্স এখনও পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সফলভাবে করে দেখাতে পারেনি। প্যানেল তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘আগামী ছয় মাসে স্টারশিপের উৎক্ষেপণগুলো বলে দেবে ২০২৭ সাল বা এই দশকের শেষের দিকে চাঁদে মানুষ পাঠানো সম্ভব হবে কি না।’


