ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শেরপুরে নিখোঁজ ৫ ছাত্রের ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার তনু হত্যা: দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশের নির্দেশ বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল রাজনীতি বাড়ছে: যুবদল সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইউনুছ হাওলাদার আর নেই মরিশাসের শ্রমবাজার খুলতে সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত টিআইবি প্রকৃত ঘটনা জাজ করে স্টেটমেন্ট দেয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে অস্বস্তিকর বাস্তবতা ঈশ্বরগঞ্জে অটোরিকশাচাপায় শ্রমিকের মৃত্যু গণতন্ত্রে হতাশা এবং নেতৃত্বে অসন্তোষ শরীয়তপুরে প্রধান শিক্ষকের ওপর মব হামলা, আদালতে মামলা কন্যাশিশু নির্যাতন: আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সংকট মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
Nagad desktop

নতুন আণবিক জগৎ তৈরি করে নোবেল জয় তিন বিজ্ঞানীর

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৩ পিএম
নতুন আণবিক জগৎ তৈরি করে নোবেল জয় তিন বিজ্ঞানীর
মেটাল–অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ কাঠামো আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ওমর এম ইয়াঘি। ছবি: সংগৃহীত

রসায়নের জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। তারা হলেন- জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ওমর এম ইয়াঘি। আণবিক পর্যায়ে এক বিশেষ ধরনের স্থাপত্য বা কাঠামো তৈরির কৌশল আবিষ্কারের জন্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের এই সম্মাননা প্রদান করেছে।

তাদের আবিষ্কৃত এই কাঠামো ‘মেটাল–অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ বা সংক্ষেপে ‘এমওএফ’ নামে পরিচিত। ধাতব আয়ন ও জৈব অণুর সমন্বয়ে গঠিত এই কাঠামোর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ক্ষুদ্র গহ্বর বা ফাঁকা স্থান, যার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অণু প্রবেশ ও নির্গমন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণ, দূষিত পানি থেকে দূষক পদার্থ অপসারণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, এমনকি হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণেও সফল হয়েছেন।

মেটাল-অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস বা এমওএফ আসলে কী?
বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে গেলে, মেটাল-অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস এক ধরনের ‘রসায়নিক স্থাপত্য’। এমওএফ’কে একটি আণবিক আকারের বহুতল ভবনের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। এর প্রতিটি তলা নির্দিষ্ট কোনো অণুর জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এর গঠন এতটাই সুশৃঙ্খল ও ক্ষুদ্র গহ্বরের দ্বারা গঠিত যে, মাত্র কয়েক গ্রাম এমওএফের অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল একটি ফুটবল মাঠের সমান হতে পারে। এই বিশাল পৃষ্ঠতলের কারণে এটি বিপুল পরিমাণ গ্যাস বা অন্যান্য পদার্থ শোষণ করতে পারে।

রসায়নবিদরা এই তিন নোবেলজয়ীর দেখানো পথে হেঁটে এর মধ্যে হাজার হাজার ভিন্ন ধরনের এমওএফ তৈরি করেছেন। এটি জ্বালানি, পরিবেশ, চিকিৎসাসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফল পাকাতে সাহায্যকারী ইথিলিন গ্যাস আটকে দিয়ে ফলকে বেশি দিন সতেজ রাখা থেকে শুরু করে মানবদেহে নির্দিষ্ট স্থানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া কিংবা পরিবেশ থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ক্ষতিকর উপাদান ধ্বংস করার মতো নানা প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে।

রবসনের কাঠের বল থেকে অনুপ্রেরণা
গল্পের শুরু ১৯৭৪ সালে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড রবসন তার ছাত্রদের অণু-পরমাণুর গঠন শেখানোর জন্য কাঠের বল ও রড দিয়ে মডেল তৈরি করছিলেন। পরমাণুর মডেল হিসেবে ব্যবহৃত কাঠের বলগুলোতে রাসায়নিক বন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট কোণে ছিদ্র করার প্রয়োজন ছিল। কাজ শেষে বলগুলো হাতে নিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, ছিদ্রগুলোর সঠিক অবস্থান অণুর গঠনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক রূপ দিচ্ছে।

এই সাধারণ পর্যবেক্ষণ থেকে তার মাথায় আসে এক প্রশ্ন— ‘যদি বাস্তব পরমাণুর মধ্যকার স্বাভাবিক আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে অণুগুলোকে জোড়া লাগানো যায়, তবে কি নতুন ধরনের উপাদান তৈরি করা সম্ভব?’ এই ভাবনা থেকে এক দশকের বেশি সময় পর তিনি গবেষণায় নামেন। হীরার গঠন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি কপার আয়নের সঙ্গে চার বাহুবিশিষ্ট একটি জৈব অণু যুক্ত করেন। রসায়নবিদদের তৎকালীন ধারণা ছিল, এটি একটি বিশৃঙ্খল জট তৈরি করবে। কিন্তু রবসন সবাইকে অবাক করে দিয়ে ১৯৮৯ সালে একটি সুশৃঙ্খল ত্রিমাত্রিক কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হন, যার ভেতরে ছিল বিশাল ফাঁকা জায়গা। এটি ছিল এমওএফ তৈরির পথে প্রথম মাইলফলক।

তবে রবসনের তৈরি কাঠামো খুব একটা স্থিতিশীল ছিল না। এই ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে স্থিতিশীল ও কার্যকর কাঠামো তৈরির কাজটি করেন সুসুমু কিতাগাওয়া ও ওমর এম ইয়াঘি।

অপ্রয়োজনীয়ও একদিন প্রয়োজনীয় হতে পারে: কিতাগাওয়া
জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুসুমু কিতাগাওয়া ছোটবেলা থেকে বিশ্বাস করতেন, ‘অপ্রয়োজনীয়ও কখনো না কখনো উপকারী হয়।’ প্রাথমিক পর্যায়ে তার তৈরি এমওএফ কাঠামো অস্থির হওয়ায় গবেষণার জন্য অর্থ পেতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ১৯৯৭ সালে তিনি প্রথম স্থিতিশীল একটি ত্রিমাত্রিক এমওএফ তৈরি করেন, যা তার অভ্যন্তরীণ গঠন ঠিক রেখে গ্যাস শোষণ ও নির্গমন করতে পারত।

১৯৯৮ সালে কিতাগাওয়া ব্যাখ্যা করেন, এমওএফ উপকরণের মূল বিশেষত্ব হলো নমনীয়তা ও বৈচিত্র্য। এগুলো কঠিন জিওলাইটের মতো নয়; বরং নমনীয় ও পরিবর্তনযোগ্য। পরে তিনি এমন এমওএফ তৈরি করেন, যা গ্যাস ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আকার পরিবর্তন করে, আবার খালি হলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তার এই ধারণা এমওএফ গবেষণায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তার তৈরি করা নমনীয় এমওএফ অনেকটা ফুসফুসের মতো গ্যাস শোষণ করে সংকুচিত বা প্রসারিত হতে পারত।

ইয়াঘি: মরুভূমির বাতাস থেকে পানির ফোঁটা
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ওমর এম ইয়াঘি রসায়নে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে ‘পরিকল্পিত নকশার’ মাধ্যমে নতুন বস্তু তৈরিতে আগ্রহী ছিলেন। জর্ডানের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা ইয়াঘি ছোটবেলায় স্কুলের লাইব্রেরিতে প্রথম আণবিক কাঠামোর ছবি দেখে মুগ্ধ হন।

১৯৯৫ সালে তিনি প্রথমবারের মতো ‘মেটাল–অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ শব্দটি ব্যবহার করেন। সেই সময় তিনি প্রথম সফলভাবে একটি স্থিতিশীল দ্বিমাত্রিক কাঠামো প্রকাশ করেন। তবে তার সেরা কাজটি আসে ১৯৯৯ সালে, যখন তিনি ‘এমওএফ-৫’ নামে একটি ব্যতিক্রমী স্থিতিশীল ও বিশাল অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠতলবিশিষ্ট কাঠামো তৈরি করেন। এই কাঠামো ৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও তার গঠন ধরে রাখতে পারত। এর শোষণ ক্ষমতা এত বেশি ছিল যে, মাত্র কয়েক গ্রামের পৃষ্ঠতল একটি ফুটবল মাঠের সমান।

এর পর ইয়াঘি দেখান, কীভাবে এমওএফের কাঠামোর নকশা পরিবর্তন করে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য অর্জন করা যায়। তার তৈরি এক সংস্করণ মিথেন গ্যাস সংরক্ষণে, আরেকটি পানিশূন্য মরুভূমির বাতাস থেকে পানি আহরণে সক্ষম হয়। রাতে এই পদার্থ বাতাসের জলীয় বাষ্প শোষণ করে, আর সূর্যের তাপে সকালে সেই পানি বেরিয়ে আসে—পানি সংগ্রহের এক অভিনব পদ্ধতি।

বাস্তব জীবনে এমওএফের প্রয়োগ

এই তিন বিজ্ঞানীর মৌলিক গবেষণার ওপর ভিত্তি করে আজ এমওএফ প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ:

পানি সংগ্রহ
ইয়াঘির গবেষক দল অ্যারিজোনার মরুভূমিতে এমওএফ ব্যবহার করে রাতের বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে সকালে তা থেকে বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

কার্বন শোষণ
কানাডার একটি কারখানায় ‘CALF-২০’ নামের একটি এমওএফ ব্যবহার করে চিমনি থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের পরীক্ষা চলছে।

জ্বালানি সংরক্ষণ
হাইড্রোজেনকে নিরাপদ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর সংরক্ষণ। ‘NU–১৫০১’-এর মতো এমওএফ সাধারণ চাপে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণ করতে পারে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত বিষাক্ত গ্যাস ধারণ করতে কিংবা পানি থেকে PFAS-এর মতো মারাত্মক দূষক পদার্থ অপসারণে এমওএফ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ
কিছু এমওএফ ক্ষতিকর গ্যাস, এমনকি রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাসকেও ভেঙে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।

গবেষকরা মনে করছেন, মেটাল-অরগানিক ফ্রেমওয়ার্কস একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পদার্থগুলোর একটি। রিচার্ড রবসন, সুসুমু কিতাগাওয়া এবং ওমর এম ইয়াঘি তাদের কাজের মাধ্যমে মানবজাতির সামনে থাকা বহু বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নতুন পথ দেখিয়েছেন— যা আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুসারে ‘মানবতার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপকার’ বয়ে এনেছে।

উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক
ছবি সিএমজি


চীনের নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইভিটিওএল উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উৎপাদন লাইনে এসেছে। শুক্রবার পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়না এর অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এইই২৫ নামের এই বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি টর্ক ঘনত্বের ক্ষেত্রে দেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি টর্ক ঘনত্বের ফলে ইঞ্জিনের ওজন কম হয় এবং উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী বা পণ্য বহন করা সম্ভব হয়। 
এইই২৫ ইঞ্জিনটি বিমানের ব্যাটারিতে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক শক্তিকে রোটর সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি  ও থ্রাস্টে রূপান্তর করে।  
ইঞ্জিনটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—মূল মোটর ও এর কন্ট্রোলার, কুলিং সিস্টেমের মোটর ও কন্ট্রোলার, এবং ভ্যারিয়েবল-পিচ অ্যাকচুয়েটর ও কন্ট্রোলার—একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিমান নির্মাতারা সহজে ইঞ্জিনটি স্থাপন করে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য চীনের বৈদ্যুতিক বিমান ও নগর আকাশ পরিবহন প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সূত্র: সিএমজি

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি