অবশেষে গভীর সমুদ্রে বসবাসকারী রহস্যময় প্রাণী ভ্যাম্পায়ার স্কুইডের (Vampyroteuthis infernalis) বিশাল জিনোম (একটি জীবের সম্পূর্ণ জিনগত তথ্যের সমষ্টি) উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এতে জানা গেছে, কোটি কোটি বছর পেরিয়ে গেলেও এই প্রাণীর জিনগত গঠন প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। এ কারণেই গবেষকেরা একে ‘লিভিং ফসিল’ বা জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
গত ২৭ নভেম্বর বিজ্ঞান সাময়িকী iScience-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ভ্যাম্পায়ার স্কুইডের ক্রোমোজোমগুলোর গঠন আজকের স্কুইড ও কাটলফিশের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিল রয়েছে— যদিও এটি জীববৈজ্ঞানিকভাবে অক্টোপাস শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে স্কুইড ও অক্টোপাস যখন বিবর্তনের পথে আলাদা হয়ে যায়, তখন তাদের যৌথ পূর্বপুরুষের জিনগত কাঠামো কেমন ছিল, তার একটি জীবন্ত নমুনা এই ভ্যাম্পায়ার স্কুইড।
গবেষণার প্রধান লেখক অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ওলেগ সিমাকভ জানান, অক্টোপাসদের বিবর্তনীয় গোষ্ঠীর অংশ হলেও ভ্যাম্পায়ার স্কুইড খুব প্রাচীন এক সময়ে এই গোষ্ঠী থেকে আলাদা হয়ে যায়।
গবেষণার জন্য পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে একটি গবেষণা অভিযানে দুর্ঘটনাবশত ধরা পড়া ভ্যাম্পায়ার স্কুইডের টিস্যু নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে আধুনিক জিন বিশ্লেষণ প্রযুক্তি প্যাকবায়ো (PacBio) ব্যবহার করে এর ডিএনএ সিকোয়েন্স করা হয়। প্রাণীটির বিরলতার কারণে তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য আর কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি। তবে এর জিনোম তুলনা করা হয় আর্গোনট, সাধারণ অক্টোপাস ও কার্লড অক্টোপাসের সঙ্গে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাম্পায়ার স্কুইডের জিনোম প্রায় ১১০০ কোটি বেস-পেয়ার দীর্ঘ, যা মানুষের জিনোমের প্রায় চার গুণ বড়। এখন পর্যন্ত এটি সিকোয়েন্স করা সবচেয়ে বড় সেফালোপড জিনোম।
আধুনিক অক্টোপাসদের ডিএনএতে যেখানে ক্রমাগত পুনর্বিন্যাস ঘটে, সেখানে ভ্যাম্পায়ার স্কুইড তার প্রাচীন স্কুইড-সদৃশ ক্রোমোজোম বিন্যাস প্রায় অপরিবর্তিত রেখেছে। অর্থাৎ এটি এমন এক অক্টোপাস, যার জিনগত পরিচয় এখনো প্রাচীন স্কুইডের মতো।
ভ্যাম্পায়ার স্কুইডকে নিয়ে বিভ্রান্তি নতুন নয়। ১৯০৩ সালে আবিষ্কারের পর প্রথমে একে অক্টোপাস ভাবা হয়েছিল। পরে ১৯৫০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা এটিকে আলাদা একটি গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেন—না অক্টোপাস, না স্কুইড—বরং ‘ভ্যাম্পাইরোমরফিডা’ নামের স্বতন্ত্র শ্রেণিতে স্থান দেওয়া হয়।
গবেষকদের মতে, এই প্রাণীর জিনোম উন্মোচনের মধ্য দিয়ে সেফালোপড বিবর্তনের বহুদিনের অজানা অধ্যায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া গেল। সূত্র: ইয়াহু
মেহেদী/


