ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে মামলা, ছাত্রলীগ নেতা কারাগারে বাজেট বাস্তবায়নে ছলচাতুরি চলবে না: চরমোনাই পীর আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে ইরাক ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে: মাহদী আমিন যেকোনো সাফল্যে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি (সা.) রৌমারীতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নারীর মৃত্যু ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ
Nagad desktop

আর্টেমিস-২ অভিযান: বরফ গলিয়ে সচল করা হলো টয়লেট

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
আর্টেমিস-২ অভিযান: বরফ গলিয়ে সচল করা হলো টয়লেট
ছবি: খবরের কাগজ

মহাকাশে আর্টেমিস-২ অভিযানের চার নভোচারীর শুরুর দিনগুলো বেশ স্বস্তিদায়ক ছিল। উড্ডয়নকালীন বড় কোনো সংকট তাদের মানসিক শান্তিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারেনি। তবে ১৬ দশমিক ৫ ফুট চওড়া ওরিয়ন ক্যাপসুলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা টয়লেট নিয়ে তৈরি হয় ভিন্ন এক বিড়ম্বনা। 

উড্ডয়নের তৃতীয় দিনের শেষ ভাগে গত শনিবার ভোরে এই সমস্যা প্রথম ধরা পড়ে।

আর্টেমিস-২-এর ফ্লাইট ডিরেক্টর জাড ফ্রিলিং সাংবাদিকদের জানান, টয়লেট থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছিল। ইঞ্জিনিয়ারদের ধারণা ছিল, ভেন্ট লাইনে সম্ভবত মূত্র জমাট বেঁধে এই প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ওই সময় নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ মাইল দূরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। 

মিশন কন্ট্রোল দ্রুত একটি কর্মপরিকল্পনা সাজায়। তারা ক্যাপসুলটিকে মহাকাশে এমনভাবে ঘুরিয়ে দেন যাতে সূর্যের আলো সরাসরি হিমায়িত ভেন্ট লাইনের ওপর পড়ে। সূর্যের তাপে লাইনটি গরম হওয়ার পর জমাট বরফ গলতে শুরু করে। এতে ময়লার ঝুড়ির আকারের ট্যাঙ্ক থেকে কিছু বর্জ্য মহাকাশের শূন্যতায় নির্গত করা সম্ভব হয়।

শনিবার বিকেলে জানানো হয়, টয়লেটটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। তবে প্রাথমিক নির্দেশে বলা হয় এটি ‘শুধুমাত্র মলত্যাগের জন্য’ ব্যবহার করা যাবে। দিনভর মেরামতের পর মধ্যরাতে মিশন কন্ট্রোলের জ্যাকি মাহাফি সুখবর দেন। 

তিনি জানান, এখন থেকে সব ধরনের কাজে টয়লেটটি ব্যবহারযোগ্য। এই খবরে নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পুরো ক্রু দল এই ঘোষণায় অত্যন্ত আনন্দিত।

ক্যাপসুলের বাইরে মূত্র ত্যাগের প্রক্রিয়াটি ছিল অভাবনীয়। ক্রিস্টিনা কোচ ক্যামেরায় দেখান, ওরিয়নের জানালার পাশ দিয়ে তীব্র বেগে ছুটে যাওয়ার সময় মূত্র উজ্জ্বল রত্নের মতো মহাকাশে ঝরে পড়ছে। তবে কেবল হিমায়িত লাইনই নয়, অভিযানের শুরুতেই টয়লেটের পাম্প নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। 

গত বুধবার ফ্লোরিডার নাসা কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উড্ডয়নের পরেই জানা যায় পাম্প কাজ করছে না। মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকায় শরীর থেকে বর্জ্য বের করতে পাম্পের ভূমিকা অপরিসীম।

তদন্তে দেখা যায়, কর্মীরা পাম্প চালু করতে পর্যাপ্ত পানি দেননি। এটি ছিল একটি ছোট ভুল। পর্যাপ্ত পানি দেওয়ার পর সিস্টেমটি দ্রুত সচল হয়। 

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে নভোচারীরা এই বিজয় উদযাপন করেন। ক্রিস্টিনা কোচ কৌতুক করে নিজেকে ‘স্পেস প্লাম্বার’ হিসেবে পরিচয় দেন। 

তিনি বলেন, ‘টয়লেট ঠিক হওয়ার পর আমরা সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছি। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে।’ আরাম-আয়েশপ্রিয় নভোচারীদের কাছে মহাকাশযানের সবচেয়ে প্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো এই শৌচাগার।

বর্তমান সময়ের আধুনিক শৌচাগারের তুলনায় অতীতের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। ওরিয়ন টয়লেট বিকল থাকা অবস্থায় নভোচারীদের বিকল্প হিসেবে সিসিইউ বা ‘কোল্যাপসেবল কন্টিনজেন্সি ইউরিনাল’ নামে ব্যাগ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। এটি মূলত অ্যাপোলো যুগের একটি আদিম কৌশল। ১৯৬০-এর দশকে অ্যাপোলো অভিযানে কোনো নির্দিষ্ট শৌচাগার ছিল না। নভোচারীরা মলমূত্র ত্যাগের জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগের ওপর নির্ভর করতেন।

১৯৬৯ সালের অ্যাপোলো ১০ অভিযানের এক গোপন নথিতে দেখা যায়, অভিযানের ষষ্ঠ দিনে কেবিনের ভেতর মানুষের বিষ্ঠার টুকরো ভাসছিল। নভোচারী টমাস স্ট্যাফোর্ড ও ইউজিন সারনান এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে চরম বিরক্ত হয়েছিলেন। তারা দ্রুত ন্যাপকিন দিয়ে সেই বর্জ্য পরিষ্কারের চেষ্টা করেন। 

২০০৭ সালের নাসার একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যাগ পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত ‘অরুচিকর’। ছোট ক্যাপসুলের ভেতরে ব্যাগে ভরা বর্জ্যের উৎকট গন্ধ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল না।

শুধু অ্যাপোলো নয়, আধুনিক স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলেও স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়।  ২০২১ সালে উড্ডয়নকালে মূত্র পরিবহনের নল খুলে গিয়ে ক্যাপসুলের মেঝের নিচে চুইয়ে পড়েছিল। সেই সময় নভোচারীদের বিকল্প হিসেবে বড়দের ডায়াপারের ওপর নির্ভর করতে হয়। 

বর্তমান নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও তার ব্যক্তিগত মহাকাশ ভ্রমণে একই ধরনের টয়লেট সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

আর্টেমিস-২ মিশনে ব্যবহৃত বর্তমান শৌচাগারটি কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার ফসল। এটি ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইউডব্লিউএমএস) নামে পরিচিত। কলিন্স অ্যারোস্পেস ৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির আওতায় এটি তৈরি করেছে। এই পদ্ধতিতে তরল বর্জ্য বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং কঠিন বর্জ্য সংকুচিত করে পৃথিবীতে ফেরত আনা হয়। 

সাবেক নভোচারী মাইক মাসিমিনো বলেন, মহাকাশের টয়লেট ব্যবহার করা একটি বড় দায়িত্ব। কেবিনের পরিবেশ ও সহযাত্রীদের সুস্থতার কথা ভেবে ব্যবহারের পর প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে পরিষ্কার রাখা জরুরি। ওরিয়ন ক্রুরা এখন সেই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সূত্র: সিএনএন

উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উড়োজাহাজ প্রযুক্তিতে চীনের নতুন মাইলফলক
ছবি সিএমজি


চীনের নিম্ন-আকাশ অর্থনীতি খাতে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ইভিটিওএল উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উৎপাদন লাইনে এসেছে। শুক্রবার পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের উসি শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইঞ্জিন সরবরাহ করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়না এর অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এইই২৫ নামের এই বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি টর্ক ঘনত্বের ক্ষেত্রে দেশের নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি টর্ক ঘনত্বের ফলে ইঞ্জিনের ওজন কম হয় এবং উড়োজাহাজে বেশি যাত্রী বা পণ্য বহন করা সম্ভব হয়। 
এইই২৫ ইঞ্জিনটি বিমানের ব্যাটারিতে সঞ্চিত বৈদ্যুতিক শক্তিকে রোটর সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি  ও থ্রাস্টে রূপান্তর করে।  
ইঞ্জিনটিতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—মূল মোটর ও এর কন্ট্রোলার, কুলিং সিস্টেমের মোটর ও কন্ট্রোলার, এবং ভ্যারিয়েবল-পিচ অ্যাকচুয়েটর ও কন্ট্রোলার—একীভূত করা হয়েছে। এর ফলে বিমান নির্মাতারা সহজে ইঞ্জিনটি স্থাপন করে সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাফল্য চীনের বৈদ্যুতিক বিমান ও নগর আকাশ পরিবহন প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সূত্র: সিএমজি

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি