এই যে এত হাড় কাঁপানো শীত, বাজারে লোকসমাগম আগের মতো চোখে পড়ে না। আর তাতেই যেন রনির মেডিসিন ব্যবসায় লাল বাত্তি জ্বলে উঠেছে। কাস্টমারদের আনাগোনা নেই। মন খারাপ রনির।
শীতের কারণে রাত ৮টার পর বাজারের সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়। রনিও দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় ফোনটা বেজে ওঠে। জামালের কল এসেছে। জামাল রনির নিয়মিত কাস্টমার।
- ভাইজান, দোকান খোলা?
- খোলা। বন্ধ করে দেব।
- একটু বসবেন? জলদি আসছি। আজ বড় খালা এসেছেন। ওনার পুরো এক মাসের ওষুধ লাগবে।
পুরো এক মাসের ওষুধ লাগবে জেনে তৃপ্তির ঢেকুর গিলল রনি। যাক বাবা, এই অবেলায় বড় লেভেলের একটা কাস্টমার পাওয়া গেছে। নিশ্চয়ই অনেক টাকা আয় করা যাবে।
- কতক্ষণ লাগবে আপনার আসতে?
- হেঁটে রওনা দিয়েছি ভাইজান। শীতের রাত। কোনো রিকশা পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টাখানেক তো লাগবেই।
- এতক্ষণ?
- একটু বসতেন যদি ভাইজান।
- ঠিক আছে। আসুন।
লাইন কেটে দেওয়ার পর রনি মনে মনে ভাবে এত বড় কাস্টমারের জন্য এক ঘণ্টা কেন, দুই ঘণ্টা বসে থাকতেও রাজি।
তার পর অপেক্ষা। সময় যত গড়াচ্ছে, শীতের মাত্রা যেন ততই বাড়ছে। শুধু শরীর নয়, এবার থুতনিও কাঁপছে রনির। তবুও সে জামালের অপেক্ষায় থাকবে। এত বড় কাস্টমার বলে কথা। রনি কল দেয় জামালকে।
- ভাইজান, এই তো আর কিছুক্ষণের মধ্যে হাজির হয়ে যাব।
- সমস্যা নেই। আসুন। আচ্ছা কী কী ওষুধ লাগবে, বলুন তো। আমি রেডি করে রাখি।
- ইয়ে মানে...! আমি অশিক্ষিত মানুষ, আমি কি আর ওষুধের নাম পড়তে পারব? মোবাইলে সবগুলো ওষুধের ছবি তুলে এনেছি। ইমোতে পাঠিয়ে দেব আপনাকে? ইন্টারনেট চালু করেন।
- আমার এমবি নেই।
- তা হলে বসে থাকেন। এত বড় দোকানদারের মোবাইলে এমবি নেই, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না কখনো।
দেড় ঘণ্টা পর জামালের আগমন ঘটে। বেচারা শীতের জন্য পুরাই ডিপ ফ্রিজ হয়ে গেছে। কিন্তু বড় খালার ওষুধগুলোর ছবি মোবাইলে দেখে বেকুব হয়ে গেল রনি। তার এতক্ষণের সব অপেক্ষাই যেন বৃথা। কারণ ওষুধের যে ছবিগুলো দেখা যাচ্ছে মোবাইলে, সবগুলো হোমিওপ্যাথিক, যা অ্যালোপ্যাথিক দোকানে পাওয়া যাবে না। সে কথা জেনে জামাল বলল, ‘এগুলো হোমিও? আহারে, আজ অশিক্ষিত বলে জানতে পারিনি। শীতে বসিয়ে রেখেছি আপনাকে। মনে কষ্ট নিয়েন না ভাইজান।’
জামাল চলে যাচ্ছে। রনি মনে মনে বলে, ‘বেক্কল, তুই শুধু অশিক্ষিত না, গাধাও। এখন আমাকেও গাধা বানিয়ে ফেলেছিস।’
রাগে-ক্ষোভে রনি শীতে কাঁপতে কাঁপতে দোকান বন্ধ করার জন্য ফাইনালি রেডি হতে থাকে।