শফিক সাহেবের প্রথম কবিতার বই বের হবে। প্রকাশক ই-মেইল করে প্রচ্ছদের ছবি পাঠিয়েছেন পছন্দ করার জন্য। প্রচ্ছদ করেছেন দেশের স্বনামধন্য একজন আর্টিস্ট।
প্রচ্ছদ শফিক সাহেবের ব্যাপক পছন্দ হয়েছে। তিনি নাচতে নাচতে বউয়ের রুমে ঢুকলেন প্রচ্ছদ দেখানোর জন্য। বউ রিমি তখন বেড়াতে আসা তার দুই বান্ধবীর সঙ্গে গল্প করছিলেন। রিমি প্রচ্ছদের দিকে একনজর তাকিয়েই বললেন, ওয়াক থু টাইপ প্রচ্ছদ হয়েছে। যে লোক প্রচ্ছদ করেছে, তাকে কাছে পেলে দুটি কথা শুনিয়ে দিতাম। বলেই তিনি বান্ধবীদের জন্য চা বানাতে চলে গেলেন।
শফিক সাহেব মন খারাপ করে বসে রইলেন। এত সুন্দর প্রচ্ছদ, এত নামি একজন আর্টিস্ট এঁকেছেন, কীভাবে বলবেন প্রচ্ছদ পছন্দ হয় নাই? এই কথা শুনলে প্রকাশকও রাগ করতে পারেন।
শফিক সাহেবের মন খারাপ দেখে রিমির বান্ধবীরা প্রচ্ছদ দেখতে চাইলেন। প্রচ্ছদ দেখে দুজনেই প্রশংসা করলেন এবং বললেন, মাস্টারপিস প্রচ্ছদ হয়েছে। তারা বান্ধবীর রুচি নিয়ে কথা বলতেও ছাড়লেন না।
রিমি চা বানাতে বানাতে আড়াল থেকে বান্ধবীদের ঠেস দেওয়া কথা শুনলেন কিন্তু কোনো মন্তব্য করলেন না।
রাতে ভাত না খেয়ে মন খারাপ করে শফিক সাহেব শুয়ে পড়লেন। রিমি বুঝতে পারলেন, শফিক সাহেব কেন ভাত না খেয়ে মন খারাপ করে আছেন।
স্বামীর রাগ ভাঙানোর জন্য কটাক্ষ করে বললেন, কবি-লেখকদের জ্ঞান-বুদ্ধি কম হয় এটা জানতাম, কিন্তু এত কম হয় তা আজকে প্রথম জানলাম। তোমার বইয়ের প্রচ্ছদের এমন প্রশংসা করলাম, তারপরও মন খারাপ করে আছো?
শফিক সাহেব অভিমানের গলায় বললেন, তুমি প্রশংসা করলে কোথায়? বললা তো ওয়াক থু টাইপ প্রচ্ছদ হয়েছে?
আরে এটাই তো প্রশংসা।
শফিক সাহেব শোয়া থেকে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বললেন, এইটা কীভাবে প্রশংসা হয়? বেকুব পাইছো আমারে?
রিমি স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, কোনো খাবার যদি সুস্বাদু হয় তখন আমরা কী করি বলো তো? বেশি করে খাই, রাইট?
শফিক সাহেব মিনমিনে গলায় বললেন, রাইট।
যদি খাবার খুবই সুস্বাদু হয় তখন কী করি, পরিমাণের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলি, রাইট?
শফিক সাহেব বললেন, কেউ কেউ খাই তো।
কেউ কেউ অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে বমি করে দিতে পারে না? এরপর ওয়াক থু করে থুথু ফেলতে পারে না?
পারে তো।
বমি সে কেন করল? সুস্বাদু খাবার বেশি খাবার কারণে না? তার মানে কি এই বোঝায় যে খাবার ভালো হয় নাই?
তা হবে কেন?
আরে গাধা! ওয়াক থু টাইপ প্রচ্ছদ হয়েছে মানে প্রচ্ছদ খুবই ভালো হইছে, আমি এটাই বোঝাতে চাইছিলাম।
কী বলো বউ! তাহলে যে আর্টিস্টকে কথা শোনাতে চাইলা, সেটা কী?
রিমি হাসতে হাসতে বললেন, আমি তাকে কথা শোনাতে চাইছি মানে তাকে ধন্যবাদ দিতে চাইছিলাম। সে আমার কথা না শুনলে ধন্যবাদ দেব কীভাবে? ইশারায়?
শফিক সাহেব মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবতে লাগলেন, আরে এইটা কেন আমার মাথায় ঢুকে নাই! আমার তো আসলেই বুদ্ধি কম!