ঢাকা ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪
Khaborer Kagoj

তরল উদ্ভিদ উদ্ভাবন

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ১১:২৬ এএম
তরল উদ্ভিদ উদ্ভাবন
তরল উদ্ভিদ 'লিকুইড থ্রি'

বিজ্ঞানীরা বর্তমান সময়ে বিশ্বের পরিবেশদূষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন। একদিকে দ্রুতহারে নগরায়ণ বৃদ্ধি, অপরদিকে ক্রমশ বনায়ন কমতে থাকায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবেশে। পরিবর্তন হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ুর, প্রভাব পড়ছে বাস্তুতন্ত্রে। সবুজের পরিমাণ রক্ষা করে, সভ্যতার চলমান অগ্রগতির চাকা সচল রাখতে হবে। এই দুইয়ের ভারসাম্য কীভাবে আসবে তা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যেই চমক দিয়েছেন সার্বিয়ার বিজ্ঞানীরা। তৈরি করেছেন তরল উদ্ভিদ বা লিকুইড ট্রি।

পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড অন্যতম বায়ুদূষিত একটি শহর। বায়ুদূষণ মানবস্বাস্থ্যের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে প্রতি বছর প্রায় ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। এই সমস্যাটি সার্বিয়াকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তোলে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সার্বিয়ার কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ নাগরিক দূষিত বাতাসে শ্বাস নিয়ে থাকেন। অফিসিয়াল ওয়ার্ল্ড এয়ার কোয়ালিটি রিপোর্টগুলোয় কিছু শহরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত বাতাসে উপাদানের তুলনায় সাত গুণ বেশি বলে চিহ্নিত করেছে। বায়ুদূষণের মোকাবিলা করতে গিয়ে সে দেশের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন তরল উদ্ভিদ। বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মাল্টি ডিসিপ্লিন রিসার্চের গবেষক ড. ইভান প্যাসোজেভিক ও তার সহকর্মীরা ‘লিকুইড থ্রি’ উদ্ভাবন করেছেন।

ইভান প্যাসোজেভিক ও তার দল লিকুইড থ্রি এমনভাবে নকশা করেছেন, যা আধুনিক অবকাঠামোর সঙ্গে ফটোবায়োরিয়াক্টর সিস্টেমকে অনন্যভাবে একীভূত করে। এটি বেলগ্রেডের মেকডনস্কা স্ট্রিটে স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, এটিই প্রথম আরবান ফটোবায়োরিক্টর। গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরিতে লাগাম টেনে ধরতে ও শহরের আবহাওয়া আরও ভালো করার জন্য এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো দূষিত শহর এলাকায় গাছের প্রতিস্থাপন করা, যেখানে সত্যিকারের সবুজ গাছ লাগানো এবং বাড়ানো সম্ভব নয়। লিকুইড থ্রি আরবান ফটোবায়োরিয়াক্টর একটি কাচের ট্যাংকে মাইক্রো এলজিতে ভরা। কাচের ট্যাংকটি একটি কাঠামোর সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত, যা বেঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই যন্ত্রে রয়েছে ৬০০ লিটার পানি এবং বিশেষ ধরনের মাইক্রো এলজি যেটি কার্বন-ডাই-অক্সাইড বিশ্লেষণ করে অক্সিজেন উৎপাদন করে। আর এই কাজটি করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে। ড. ইভান প্যাসোজেভিক জানিয়েছেন, এই মাইক্রো এলজি কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি কার্যকর। এই সিস্টেম দুটি ১০ বছরের পুরোনো বা ২০০ বর্গমিটার ঘাসের পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নিতে পারে। ফটোবায়োরিয়াক্টরগুলো দ্রুত নির্মাণ এবং ইনস্টল করা যায়। দ্রুততমভাবে দূষিত বায়ু পরিষ্কার করতে করতে পারে।

তাহলে কি লিকুইড থ্রি উদ্ভিদের জায়গা নেবে? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এমনটা নয়, শহরে দূষিত এলাকায় যেখানে উদ্ভিদ সৃজন করা যাবে না, সেখানে কাজে আসতে পারে এই প্রকল্প।

অণুজীবগুলো বাতাস থেকে ভারী বিষাক্ত ধাতুগুলোকে ফিল্টার করার ক্ষেত্রে গাছের তুলনায় অনেক ভালো। অণুজীব সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে জৈববস্তু তৈরি করে, যা বিভিন্ন ব্যবহারের জন্য পুনরায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

লিকুইড থ্রির প্রতি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের খরচ প্রতি মাসে প্রায় ৭০ ডলার। বর্তমান মডেলের সঙ্গে কয়েক বছর পরপর প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।  যেহেতু  ফটোবায়োরিয়াক্টরে মাইক্রো এলজি এমন একটি তাপমাত্রা পরিসীমা রয়েছে, যেখানে তারা বেঁচে থাকতে পারে। যদি খুব গরম বা খুব ঠান্ডা হয় তবে তাদের সংরক্ষণের জন্য আরও বেশি অর্থ এবং শক্তির প্রয়োজন হবে।

বেলগ্রেডের বাতাসে উপাদানের মান অত্যন্ত খারাপ। কারণ শহরের কাছে রয়েছে দুটি কয়লাচালিত শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র। এনজিও হেলথ অ্যান্ড ইনভারমেন্ট এলায়েন্সের দাবি অনুসারে, ইউরোপের প্রথম দশটি দূষণ ছড়ানো বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে এই দুইটি। ফলে তার প্রভাবে বায়ুদূষণ হয়েছে এই শহরে। শরৎ ও শীতকালে এই দূষণের মাত্রা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়েই এই সমস্যা রয়েছে। ইনভারমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ কমাতে হবে গ্রিন হাউস গ্যাস উৎপাদন।

সেই লক্ষ্যে কাজ করতে গেলে একদিকে যেমন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ভরসা কমিয়ে আনতে হবে, তেমনি বন সৃজনকে গুরুত্ব দিতেই হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এর পাশাপাশি অন্তত শহর এলাকায় দূষণমাত্রা কমাতে কাজে লাগতে পারে এমন ধরনের তরল উদ্ভিদের আবিষ্কার।

জাহ্নবী

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো রোবটিক্স প্রতিযোগিতা

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৯ পিএম
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো রোবটিক্স প্রতিযোগিতা

সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপীটেকস্প্রেকট্রা .নামের রোবটিক্স ইভেন্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক ক্লাবের তত্ত্বাবধানে স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স এই রোবটিক্স ইভেন্টের আয়োজন করে, যেখানে ৫০০ এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রোবট বানানো প্রোগ্রামিং নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান এই আয়োজনে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় আইডিয়া কম্পিটিশিনের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীরা এখানে রোবটিক প্রযুক্তি নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাগুলো তুলে ধরেন। রোবটিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেসকারবটলাইন-ফলোয়িং রোবট রেসনামের প্রতিযোগিতা দুটি। শিক্ষার্থীদের বানানো রোবটগুলো এই প্রতিযোগিতায় দ্রুততার সাথে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। রোবটের এমন আচরণ মোহিত করে উপস্থিত দর্শকদের। সবচেয়ে বেশি গোল করার জন্যসকারবটনামের গেমটিতে একটি বল নিয়ে লড়াই করে বেশ কয়েকটি রোবট।

অন্যদিকে, অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ লাইন-ফলোয়িং রোবট রেসে সবার আগে ফিনিশ লাইনে পৌঁছাতে দৌড়ায় আরও কয়েকটি রোবট। মাত্র সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি ট্র্যাকে এই প্রতিযোগিতায় নামে রোবটগুলো।

মূলত, নতুন ধরনের রোবট তৈরি করে অগ্নি-নির্বাপণ যাতায়াত ব্যাবস্থায় নানা সমস্যা সমাধান করতে টেকস্পেকট্রা . আয়োজন করা হয়। ইনিফিনিক্সের মাধ্যমে এমন একটি উদ্ভাবনী প্লাটফর্ম পায় আগ্রহী উদ্যোগী শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের গেমিং রোবটিকস ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও পাওয়া যায় এই সফল আয়োজনের মাধ্যমে।

সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা কীভাবে পানির নিচে ঘুমায়?

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২৪ পিএম
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা কীভাবে পানির নিচে ঘুমায়?
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বলা হয় সিটাসিয়ান। এদের মধ্যে তিমি, ডলফিন ও সিলমাছ উল্লেখযোগ্য। এরা সমুদ্র অর্থাৎ পানির নিচে বাস করলেও শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কিছুক্ষণ পরপরই এরা পানির ওপরে ভেসে ওঠে শ্বাস নেওয়ার জন্য। এখন প্রশ্ন হলো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ঘুমায় কীভাবে? সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীরা চাইলেই নিশ্চিন্তে পানির নিচে ঘুমাতে পারে না। আবার পানির ওপরেও এরা বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। এতে একদিকে শিকারির ভয় রয়েছে। অন্যদিকে বেশিক্ষণ পানির ওপরে থাকলে তাদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 
তাহলে কীভাবে ঘুমায় জানার জন্য ২০২৩ সালে এক গবেষণা শুরু করে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক। তারা সমুদ্রের নিচে ঘুমিয়ে থাকা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ’-এর জীববিজ্ঞানী প্যাট্রিক মিলার এই প্রশ্নটির জবাব খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘লাইভ সায়েন্স’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিক মিলার জানান, মানুষের মতো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশ একবারে বন্ধ করে ঘুমায় না। পানির নিচে ঘুমের সময় তাদের মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ বন্ধ এবং বাকি অর্ধেক অংশ খোলা থাকে। ঘুমন্ত ডলফিনের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা যায়, এদের মস্তিষ্কের একটি অংশ যখন গভীর ঘুমে থাকে, অন্য অংশটি তখন সজাগ ও সতর্ক থাকে। এই ধরনের ঘুম ‘ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ’ নামে পরিচিত। এমনকি ঘুমের সময় এদের চোখ বন্ধ এবং অপর চোখ খোলা থাকে। এতে আরেকটি সুবিধা হচ্ছে তিমির তার দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও কম থাক। ঘুমের সময় তিমিরা সমুদ্রের ঠিক নিচের পৃষ্ঠে এদের নাক উঁচু করে রাখে। আর এই সময় তাদের কোনো ধরনের সাড়াশব্দও পাওয়া যায় না, যার মানে তারা গভীর ঘুমে মগ্ন আছে।
 
তিমি অক্সিজেনের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে ফিরে আসার আগে পানির নিচে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে পারে। একবার তিমি শ্বাস নেওয়ার পরে এরা আবারও ঘুমের জন্য পানির নিচে নেমে আসে। এভাবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত তিমিরা এভাবে ঘুম বা বিশ্রাম নেয়। সিটাসিয়ান প্রাণীর মধ্যে ডলফিন, তিমি ও পোর্পোইজ প্রজাতি ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপের মাধ্যমে ঘুমায়। তবে সব ধরনের সিটাসিয়ান ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপের মাধ্যমে ঘুমায়, বিষয়টি এমন নয়। কোনো কোনো প্রাণী আবার ‘বিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ’ পদ্ধতিতে ঘুমায় যেখানে মস্তিষ্কের উভয় দিকই ঘুমিয়ে পড়ে। ঠিক যেমন মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী ঘুমায়। এই তালিকায় রয়েছে সিলমাছ। সিলমাছ ঘুমের জন্য প্রায় এক হাজার ফুট (প্রায় ৩০০ মিটার) গভীরে ডুব দেয়। তখন তাদের মস্তিষ্কের কাজ করার গতি কমে যায় ও দ্রুত এরা ঘুমিয়ে পড়ে, যা ‘র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম)’ নামে পরিচিত। ঘুমানোর সময় সিলমাছের শরীর উল্টে গিয়ে ক্রমশ একটি ধীরগতির বৃত্তের মতো ঘুরতে থাকে। গবেষকদের ধারণা, মানুষের মতো সিলমাছও ঘুমের সময় প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গভীর ঘুমের সময়ে শিকারির হাত থেকে রক্ষা পেতে ‘এলিফ্যান্ট সিল’ (হাতির মতো দেখতে সিল মাছ) সমুদ্রে দৈনিক মাত্র দুই ঘণ্টার ঘুমায়।
 
সূত্র: লাইভ সায়েন্স
জাহ্নবী
 
 
 

এবার গ্রহাণুর পৃষ্ঠে মিলেছে পানির অণু

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২২ পিএম
এবার গ্রহাণুর পৃষ্ঠে মিলেছে পানির অণু

মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহে দীর্ঘদিন ধরেই পানির খোঁজ করছিলেন বিজ্ঞানীরা। অবশেষে প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুর পৃষ্ঠে পানির অণু খুঁজে পেয়েছেন তারা। গ্রহাণুগুলো হলো গ্রহের গঠন প্রক্রিয়ার অবশিষ্টাংশ। প্ল্যানেটারি সায়েন্স জার্নালে এই আবিষ্কারের বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা দলটির প্রধান আনিসিয়া অ্যারেডোন্ডো এই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘আমরা দুটি উল্কাপিণ্ডে এমন বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছি, যা থেকে স্পষ্টভাবে পানির অণু পাওয়া গেছে। এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।’ সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, শুষ্ক বা সিলিকেট গ্রহাণু সূর্যের কাছাকাছি তৈরি হয়। বরফের মতো কিছু পদার্থ একত্রিত হয়ে দূরের গ্রহাণু তৈরি করে। ফলে এটাও একটা কারণ হতে পারে, সেখানে পানির সন্ধান পাওয়ার। তবে এই পানির অণু কোথা থেকে এল, তা নিয়ে আরও গবেষণা চলমান রয়েছে।

পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। ১৯৯৮ সালে মরক্কোয় একটি উল্কাপিণ্ড পড়েছিল। সেটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ পত্রিকায়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, মরক্কোর সেই উল্কাতেও পানির অণু ছিল। সঙ্গে ছিল অ্যামাইনো অ্যাসিডের অণুও। সেই থেকে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন উল্কাপিণ্ডে চলতে থাকে পানির সন্ধান। অবশেষে দুটি উল্কাপিণ্ডে পানির অণু সন্ধান করে সাফল্য পেলেন বিজ্ঞানীরা।

জাহ্নবী

মহাকাশে প্রথম কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:২০ পিএম
মহাকাশে প্রথম কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহ
জাপান কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট তৈরিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। ধাতুর পরিবর্তে ম্যাগনোলিয়া কাঠ দিয়ে ‘লিগনোস্যাট’ নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করেছে জাপানি বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম উপগ্রহটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কাঠের তৈরি হলেও এটি যথেষ্ট টেকসই।
 
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় ও কাঠের বাড়ি-আসবাব তৈরির প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো ফরেস্ট্রি একযোগে কাঠের তৈরি উপগ্রহটি তৈরিতে কাজ করেছে। মহাকাশে দূষণ কমাতে কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরিতে ধাতব পদার্থের বদলে পরিবেশবান্ধব কাঠের মতো বিকল্প উপাদান কাজে লাগানো যায় কি না, সে ধারণা থেকেই লিগনোস্যাট তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশবিষয়ক প্রকৌশলী তাকাও দোই বলেন, ধাতব কৃত্রিম উপগ্রহগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সময় সেগুলো পুড়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের ক্ষুদ্র কণা সৃষ্টি করে। যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষকরা কাঠ দিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই কাঠের কৃত্রিম উপগ্রহটি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা করেছে জাপানি গবেষকরা।
 
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
জাহ্নবী

দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ভাইরাস

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:১৮ পিএম
দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ভাইরাস
ভাইরাস বিষয়টি সব সময় আতঙ্কের নয়। জীববিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সব ভাইরাস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের পেটে বা অন্ত্রে থাকা কিছু ভাইরাস মানুষের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নেচার মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, অন্ত্রে থাকা ভাইরাসের একটি ধরন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, ভাইরাসটি ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রামিত করে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।
 
গবেষকরা প্রাথমিকভাবে ইঁদুরের অন্ত্রে থাকা একটি ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করেন। ইঁদুর কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে ভাইরাসটির গঠনে কী কী পরিবর্তন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করেন তারা। ভাইরাসটি মানসিক চাপের হরমোনের মাত্রা কমাতে সক্ষম। মানুষের অন্ত্রে থাকা ভাইরাসও এমন আচরণ করতে পারে- ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। দুশ্চিন্তা করার সময় আমরা যে মানসিক চাপ অনুভব করি, তা কাটাতেও এ ভাইরাসের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সঠিক হলে নতুন এই গবেষণা মানসিক চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে মানসিক চাপ সম্পর্কিত রোগের কার্যকর ওষুধ তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখবে গবেষণাটি।
 
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
জাহ্নবী