প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসভবন যমুনায় রওনা হওয়া নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাধা দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশের দাবি, এ সময় কোনো লাঠিপেটা করা হয়নি এবং কেউ আহতও হননি।
শিক্ষকরা জানান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেশ কিছুদিন ধরে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বেলা ১১টার মধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা ছিল পুলিশের। কিন্তু সেই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেন এবং সবাই মিলে যমুনার দিকে অগ্রসর হন।
প্রেসক্লাব থেকে কদম ফোয়ারার দিকে যাওয়া রাস্তায় আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল পুলিশ। শিক্ষকরা কদম ফোয়ারার কাছাকাছি গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মানববর্ম তৈরি করে এবং বাঁশি বাজিয়ে তাদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এ সময় শিক্ষকরা আবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে অবস্থান নেন।
হোসনে আরা বেগম নামে একজন শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষকরা এখানে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। কিছু দুর্নীতিবাজ সচিবের কারণে দাবি পূরণ হচ্ছে না। আগের শিক্ষা উপদেষ্টাকে সচিবরা ভুল বুঝিয়েছেন। এতে করে উপদেষ্টা কোনো কাজ করেননি। আমরা শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে অনেকবার দেখা করতে চেয়েছি। পরে উপদেষ্টার সহকারী সচিব আমাদের কথা শুনলেও কোনো কাজ করেননি।’
তিনি বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে আমরা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো স্মারকলিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সেটি গোপন করেছেন। আমাদের স্মারকলিপি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে দেননি। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্মারকলিপির কথা শিক্ষা উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি আর আমাদের ডাকেননি।’
সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিবছর এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন নেওয়া হবে। গত চার বছর কোনো আবেদন নেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে যদি আবেদন না নেওয়া হয়, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ২০-২৫ বছর ধরে বিনা বেতনে কেউ চাকরি করতে পারেন না।’