ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী জানতে পড়ুন ‘আর-রাহীকুল মাখতূম’ বইটি

প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৯ এএম
আপডেট: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী জানতে পড়ুন ‘আর-রাহীকুল মাখতূম’ বইটি
আর-রাহীকুল মাখতূম বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

মুমিন হওয়ার পূর্বশর্ত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জগতের সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করা, তাঁর প্রেমের সুধা পান করা। তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করা, তাঁর প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হলে জানতে হবে তাঁকে। তাঁকে জানার অন্যতম নির্ভরযোগ্য সিরাতগ্রন্থ আল্লামা সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রহ.) রচিত আর-রাহীকুল মাখতূম। 

১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার ‘রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামি’ আয়োজিত বিশ্বব্যাপী সিরাতুন্নবি (সা.) প্রতিযোগিতায় ১ হাজার ১৮২টি পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথম পুরস্কার বিজয়ী এই সিরাতগ্রন্থে রাসুল (সা.)-এর জীবনী খুব সুন্দর ও পরিপাটি করে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার এই গ্রন্থ আরবি ভাষায় লেখা। এর মধ্যে সিরাতগ্রন্থটি বাংলাসহ বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে সুনাম কুড়িয়েছে। ইসলাম নিয়ে যারা জানতে চান, তাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে এই সিরাতগ্রন্থ।

সাহিত্যের রূপ-রস, সৌন্দর্য, মাধুর্য, সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতার মাঝেই নিহিত রয়েছে এই সাহিত্যকর্মের প্রকৃত মূল্য। আর-রাহীকুল মাখতূম গ্রন্থের সুন্দর ও সাবলীল প্রকাশভঙ্গি এবং লেখকের মোহনীয় শক্তি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। সিরাতুন নবির প্রতিটি অধ্যায় বয়ান করতে গিয়ে লেখক গ্রন্থের কলেবর অস্বাভাবিক দীর্ঘ করেননি, আবার খুব বেশি সংক্ষিপ্তও করেননি। অথচ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সিরাতগ্রন্থ।

এ বইয়ে ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহের ধারাবাহিক বিবরণ পেশ করা হয়েছে। প্রতিটি আলোচনা বিভিন্ন অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়ে পর্যায়ক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যেসব ঘটনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রন্থে মতানৈক্য রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সবকিছু পর্যালোচনা করে সঠিক মতটি উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণকারীদের তথ্য লেখকের কাছে সঠিক মনে হয়নি, সেসব ক্ষেত্রে তিনি যুক্তি-প্রমাণের ইঙ্গিত প্রদান করেছেন। পাশাপাশি তথ্যের উৎস হিসেবে গ্রন্থটিতে লেখক অসংখ্য গ্রন্থের নাম ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছেন।

গ্রন্থের শুরুতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে পৃথিবীতে বিরাজমান বিভিন্ন অবস্থা ও পরিস্থিতির কথা উল্লেখপূর্বক আরবের ভৌগোলিক পরিচয়, তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন জাতির অবস্থান, আরবের নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থা, আরবদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতবাদ, জাহেলি সমাজের চারিত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে এ পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আবির্ভাবের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পরে নবিজির পবিত্র ও সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবির এক অনবদ্য উপস্থাপনা গ্রন্থটিকে করেছে প্রাণবন্ত।

নবিজির দাওয়াতের বিভিন্ন কৌশল ও পর্যায় বর্ণনা থেকে শুরু করে বদর, উহুদসহ বিভিন্ন যুদ্ধ, মক্কা বিজয়, বিদায় হজ, নবিজির মৃত্যু পর্যন্ত সমস্ত ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনার পর তাঁর পরিবারের পরিচিতি, তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শারীরিক সৌন্দর্য বর্ণনার এক ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে গ্রন্থটি শেষ করা হয়েছে। 

৮৮০ পৃষ্ঠার হার্ডকভারের রুচিশীল বাধাই ও মানসম্মত মুদ্রণে বইটি বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেছে রুচিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আনোয়ার লাইব্রেরি। আনোয়ার লাইব্রেরি বইটি অনুবাদের ক্ষেত্রে চৌদ্দটি আরবি নোসখা সামনে রেখে সংশোধন ও সম্পাদনা করেছে। এদের অনুবাদে রয়েছে সহজ, সাবলীল ও সহজবোধ্য ভাষার অনুবাদ, সব আয়াত, হাদিস এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলির রেফারেন্স উল্লেখ, পাঠোদ্যম বৃদ্ধিকল্পে বিভিন্ন ঐতিহাসিক এবং প্রাসঙ্গিক (প্রতীকী) চিত্রাবলি সংযোজন, ব্যক্তি ও স্থানবিশেষের নামের বানানে শুদ্ধতা বজায় রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপসহ মূল কিতাবের সমস্ত টীকা সংযুক্ত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক টীকা-টিপ্পনী সংযোজন। 

বইটি অনুবাদ করেছেন মীর শাহাদাত হুসাইন ও মুফতি সুহাইল আহমাদ। বাংলাবাজার ইসলামী টাওয়ারে অবস্থিত আনোয়ার লাইব্রেরির আউটলেট এবং অনলাইন থেকে সরাসরি বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজ

বই: আর-রাহীকুল মাখতূম
লেখক: আল্লামা সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রহ.)
অনুবাদ: মীর শাহাদাত হুসাইন ও মুফতি সুহাইল আহমাদ
প্রকাশক: আনোয়ার লাইব্রেরি
পৃষ্ঠা: ৮৮০
মুদ্রিত মূল্য: ১০০০/- টাকা 
মোবাইল: ০১৯১৩৬৮০০১০

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

পেট ব্যথা কমানোর দোয়া

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৩ পিএম
পেট ব্যথা কমানোর দোয়া
পেট ব্যথার যন্ত্রণায় পেটে হাত দিয়ে বসে আছেন এক ব্যক্তি। ইন্টারনেট

নানা কারণে অনেক সময় পেট ব্যথা হয়। পেট ব্যথা যে কারণেই হোক তা মানুষের জন্য মারাত্মক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কোনো কারণে যদি মানুষের পেট ব্যথা হয়, তবে তা থেকে মুক্ত থাকতে চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশ বিভিন্ন দোয়া ও আমল করা যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রচুর দোয়া-আমল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

পেট ব্যথার দোয়া
উসমান ইবনে আবুল আস (রা.) বলেন, ‘একবার তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে পেট ব্যথার কথা বলেন। উসমান (রা.) বলেন, ব্যথায় আমাকে অস্থির করে তুলেছে। নবিজি (সা.) বলেন, তুমি ব্যথার স্থানে সাতবার ডান হাত বুলিয়ে দাও এবং বলো, 


أعوذُ باللهِ و قُدرتِه من شرِّ ما أَجِدُ و أُحاذِرُ

বাংলা উচ্চারণ: আউজু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।

বাংলা অর্থ: আল্লাহর মর্যাদা ও তার কুদরতের উসিলায় আমি যা অনুভব এবং ভোগ করছি, তা থেকে মুক্তি চাচ্ছি।

উসমান (রা.) বলেন, আমি এমন করার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ আমার কষ্ট দূর করে দেন। এরপর থেকে আমি আমার পরিবার-পরিজন ও অন্যদেরকে এমন করার নির্দেশ দিই। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫১)

লেখক : আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

সালামের উত্তর কীভাবে দিতে হয়?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:০০ এএম
সালামের উত্তর কীভাবে দিতে হয়?
আরবিতে 'আসসালামু আলাইকুম' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

সালাম মুসলিম সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুসলিমরা একে অপরকে অভিবাদন জানায় সালামের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন তোমরা ঘরে ঢুকবে নিজেদের লোকদের সালাম করবে, কারণ এটা সাক্ষাতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বরকতপূর্ণ ও পবিত্র দোয়া।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৬১)

সালামের উত্তর কীভাবে দিতে হবে, তা শিখিয়ে দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমাদের কেউ সালাম দেয়, তখন তোমরা (তাকে) তদপেক্ষা উত্তমরূপে সালাম (জবাব) দাও, কিংবা (অন্ততপক্ষে) সে শব্দেই সালামের জবাব দাও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৮৬)

সালাম দেওয়া ইসলামের সৌন্দর্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা-অচেনা সকলকে সালাম দেবে।’ (বুখারি, হাদিস: ১২; মুসনাদে আহমাদ, ৬৭৬৫)

সালামের সম্পূর্ণ বাক্যটি হলো,

বাংলা উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

বাংলা অর্থ: আপনার ওপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। 

কেউ আসসালামু আলাইকুম বললে, উত্তরে ওয়ালাইকুম আস ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলা উচিত। অর্থাৎ সালামদাতার চেয়ে উত্তরদাতা শব্দ বাড়িয়ে বলবেন। মনে রাখবেন, কেউ সালাম দিলে তাকে শুনিয়ে উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।

যত কথা ও কাজই থাকুক না কেন, দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে সালাম দেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে ভালোবাসার বন্ধন সৃষ্টি হয়। 

উল্লেখ্য যে, ‘সালামুন আলাইকুম’, ‘সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’, ‘সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’ ইত্যাদি বাক্য দ্বারাও সালাম  দেওয়া জায়েজ আছে। এ বাক্য দ্বারা ফেরেশতারা জান্নাতবাসীদের সম্ভাষণ জানাবেন বলে কোরআনে একাধিক আয়াত রয়েছে। (সুরা জুমার, আয়াত: ৭৩; সুরা নাহল, আয়াত: ৩২)


লেখক: আলেম ও গবেষক

 

হজযাত্রীর মৃত্যু হাজার ছাড়াল, বাংলাদেশি ২৭ জন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
হজযাত্রীর মৃত্যু হাজার ছাড়াল, বাংলাদেশি ২৭ জন
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহে এক হাজারের বেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ২৭ জন।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাবে হজযাত্রীদের প্রাণহানির এই সংখ্যা জানানো হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক প্রতিদিনের বুলেটিনের তথ্য অনুসারে জানা যায়, বাংলাদেশি মৃত ২৭ হজযাত্রীর মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। তাদের ২০ জন মক্কায়, চারজন মদিনায়, দুজন মিনায় ও একজন জেদ্দায় মারা যান। সর্বশেষ বুধবার ফরিদা ইয়াসমিন (৫৩) নামে একজন মারা যান। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালে।

সৌদির সরকারি প্রশাসন, মক্কার বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের তথ্যের ভিত্তিতে মৃত হজযাত্রীদের ওই হিসাব করেছে এএফপি। এতে বলা হয়েছে, হজ পালনের সময় নিহতদের তালিকায় বৃহস্পতিবার নতুন করে মিসরের আরও ৫৮ হজযাত্রীর নাম যুক্ত হয়েছে। আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিক এএফপিকে বলেছেন, ‘হজ পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সহস্রাধিক হজযাত্রীর মধ্যে কেবল মিসরেরই নাগরিক আছেন ৬৫৮ জন। তাদের মধ্যে অনিবন্ধিত ছিলেন ৬৩০ জন। প্রায় ১০ দেশের  ১০৮১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সৌদি আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত মঙ্গলবার মক্কা ও মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করতে গিয়ে কিছু হাজি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অনেক মিসরীয় এপিকে জানান, তারা গরম ও ভিড়ের মধ্যে তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন। 

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের মতে, ২২ দেশের ১৬ লাখের বেশি ও প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার সৌদি নাগরিক এবং বাসিন্দা সহ ২০২৪ সালে ১৮ লাখ ৩০ হাজারে বেশি মুসলমান হজ পালন করেন। সূত্র: এএফপি, এপি

 

স্ত্রীকে হাসি-খুশি রাখা সুন্নত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
স্ত্রীকে হাসি-খুশি রাখা সুন্নত
নামাজ শেষে মোনাজাতরত স্বামী-স্ত্রীর ছবি

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘একবার তিনি এক সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল অল্প। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, ‘তোমরা সামনে এগিয়ে যাও।’ এরপর (আমাকে) বললেন, ‘এসো, তোমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব।’ এরপর আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। পরবর্তী সময় আবার তাঁর সঙ্গে সফরে গেলাম। তখন তিনি সঙ্গীদের বললেন, ‘তোমরা সামনে এগোতে থাকো।’ এরপর বললেন, ‘এসো, তোমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব।’ আমি আগের প্রতিযোগিতার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। আর তখন আমার শরীর কিছুটা স্থূলকায় হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এই অবস্থায় কী করে আমি আপনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব?’ তিনি বললেন, ‘তুমি পারবে।’ এরপর আমি তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলাম। দৌড়ে তিনি আমার আগে চলে গেলেন। এরপর বললেন, ‘এই জয় আগের পরাজয়ের বদলা।” (নাসায়ি, হাদিস: ৮৯৪৫)। 


রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে আনন্দ বিনোদন করতেন। তাদের মন ভালো হয়ে যায়, এমন আচরণ করতেন। এখানে হাদিসের একটি ঘটনা বলা যেতে পারে। আয়েশা (রা.) বলেন, “একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য গোশত, ঝোল ও রুটি মেশানো খাবার তৈরি করে তাঁর কাছে এলাম। এসে সাওদাকে বললাম, তুমি খাও। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন আমার ও তার মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু সাওদা খেতে চাইল না। আমি বললাম, অবশ্যই তুমি খাবে, না হয় আমি তোমার চেহারা লেপ্টে দেব। তারপরও সে খেতে চাইল না। এরপর আমি খাবারের পাত্রে হাত ঢুকিয়ে (হাতে ঝোল মাখিয়ে) সাওদার চেহারায় লেপ্টে দিলাম। তা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসলেন। এরপর তাঁর উরু সাওদার জন্য বিছিয়ে দিলেন এবং সাওদাকে বললেন, ‘এবার তুমি ওর চেহারায় লেপ্টে দাও। তা শুনে সেও আমার চেহারায় লেপ্টে দিল। আবারও রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসলেন। এমন সময় উমর (রা.) আবদুল্লাহ... আবদুল্লাহ...’ ডাকতে ডাকতে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। উমর হয়তো এখানে প্রবেশ করবেন ভেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের দুজনকে বললেন, ‘তোমরা যাও। তোমাদের চেহারা ধুয়ে নাও।’ আয়েশা (রা.) বলেন, ‘উমর (রা.)-এর ডাক শুনে সেদিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভয় পাওয়ার পর থেকে আমিও উমরকে ভয় পাই।’ (নাসায়ি, ৮৯১৭)


আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলাধুলা করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলা করত।’ (বুখারি, ৮৭৭৯)। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) পারিবারিক পরিবেশকে সব সময় আনন্দমুখর রাখতে চেষ্টা করতেন। তিনি পরিবার তথা স্ত্রীদের গুরুত্ব দিতেন। তিনি ছিলেন স্ত্রীদের কাছে উত্তম স্বামী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজের পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি তোমাদের চেয়ে আমার পরিবারের কাছে অধিক উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ, ১৯৭৭)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

আত্মহত্যার শাস্তি ভয়াবহ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
আত্মহত্যার শাস্তি ভয়াবহ
আত্মহত্যা করার ঝুলন্ত দড়ির ছবি

নানা ঘটনা কেন্দ্র করে কেউ কেউ আত্মহত্যা করছে। এর মধ্যে অভিমানে আত্মহত্যার খবরই পাওয়া যায় বেশি। কয়েক বছর ধরে আবার পরীক্ষায় ফেল কিংবা কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়েও কাউকে আত্মহত্যা করতে দেখা গেছে। মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসবের খবর চোখে পড়ার মতো ব্যাপার। আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে, তা কি আমাদের জানা আছে? দুনিয়ার সামান্য কষ্ট থেকে বাঁচতে আত্মহত্যাকারী অনন্তকালের কষ্টে পতিত হচ্ছে। চিরকালের জন্য জাহান্নামের অধিবাসী হচ্ছে। 


ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ, কবিরা গুনাহ। আত্মাহত্যা হারাম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে আত্মহত্যা করবে তাকে আগুনে দগ্ধ করব, এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯,৩০)


আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজের হাতে নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (এমনভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে। যে বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নাম (এমনভাবে) বর্শা বিঁধতে থাকবে। (বুখারি, হাদিস: ১৩৬৫)


ধৈর্যহারা হয়ে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তবে ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষ বিপদে-আপদে ধৈর্যহারা হবে না। সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ যাবতীয় অপরাধ মার্জনা করেন।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)

লেখক: আলেম