পরকীয়া হলো বিবাহিত কোনো নারী বা পুরুষ নিজ স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভূত প্রেম, যৌন সম্পর্ক ও যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া। ইসলামে পরকীয়া হারাম। শরিয়তে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
ইসলাম আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। পবিত্র ধর্ম। নীতি ও আদর্শের ধর্ম। ইসলামে প্রয়োজন ছাড়া গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের কথা বলাই নিষেধ; দেখা করা তো হারাম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনদেরকে বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; এটাই তাদের জন্যে উত্তম। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ছাড়া তাদের আবরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দিয়ে আবৃত করে...।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩১)
যেখানে দৃষ্টি সংযত রাখতে আদেশ করা হয়েছে, সেখানে কথা বলা তো আরও জঘন্য অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান, তোমরা নির্জনে নারীদের কাছেও যেয়ো না। এক আনসার সাহাবি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, দেবর সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘দেবর তো মৃত্যুর সমতুল্য।’ (মুসলিম, ২৪৪৫)।
সর্বোপরি, ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়ের চরিত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩২)
ব্যভিচারকারীদের শাস্তি হিসেবে অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারকারী নারী ও পুরুষ উভয়কে ১০০টি করে বেত্রাঘাত করো।’ (সুরা নুর, আয়াত: ২)। এটা অবিবাহিত জিনাকারীর শাস্তি। আর পরকীয়া কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে বিবাহিত নারী-পুরুষ যদি জিনায় লিপ্ত হয়, তাদের জন্য ইসলামে আরও ভয়াবহ শাস্তি রয়েছে। পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম।
এ শাস্তির বিধান কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্রীয় আদালতে শতভাগ ইসলামি আইন-কানুন থাকা আবশ্যক। ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘এক নারী নবির (সা.) কাছে এসে জিনার স্বীকারোক্তি করল। তিনি তার দেহে তার পরিধেয় বস্ত্র শক্ত করে পেঁচিয়ে তাকে রজম (পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা) করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তার জানাজার নামাজ পড়লেন।’ (ইবনে মাজাহ, ২৫৫৫)
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক