শাওয়ালের ছয় রোজা । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

শাওয়ালের ছয় রোজা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০০ এএম
শাওয়ালের ছয় রোজা
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত আরবিতে শাওয়াল লেখা ছবি

শাওয়াল হিজরি বর্ষের দশম মাস। পবিত্র ঈদুল ফিতরের মধ্য দিয়ে এই মাসের সূচনা হয়। এ মাসে ছয়টি রোজা পালনের কথা হাদিসে এসেছে। নির্দিষ্ট কোনো দিন কিংবা তারিখের বাধ্যবাধকতা ছাড়া রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসজুড়ে ছয়টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জিত হয়।


শাওয়ালের ছয় রোজা প্রসঙ্গে হাদিসে সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে। সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের সব রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব অর্জন করল।’ (মুসলিম, ১১৬৪; তিরমিজি, ৭৫৯; আবু দাউদ, ২৪৩৩)


হাদিসের বর্ণনামতে, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা যথাযথ আদায়ের পর শাওয়াল মাসে ধারাবাহিক বা বিচ্ছিন্নভাবে ছয়টি রোজা রাখে, সে সারা বছর রোজা পালনের সওয়াব পাবে। আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বান্দাকে অল্পের বিনিময়ে বিপুলসংখ্যক সওয়াব অর্জনের এটি নিশ্চয়ই সুবর্ণ সুযোগ।
কোরআনের সুরা আনয়ামে আল্লাহ বলেছেন, ‘প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান দশগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়।’ (আয়াত, ১৬০)। এ ছাড়াও হাদিস থেকে জানা যায়, প্রতিটি রোজার বিনিময় দশগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। 


অতএব পুরো রমজানে ৩০টি রোজার সওয়াব দশগুণ বেড়ে ১০ মাস বা ৩০০ দিনের সমান হয়। এরপর শাওয়ালের ছয় রোজার দশগুণ ৬০টি রোজা—যা দুই মাসের সমান সওয়াব অর্জিত হয়। এভাবে রমজানে সবগুলো রোজা পূর্ণ করার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখলে খুব সহজে সারা বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। 


রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এ ছয় রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও নির্দেশ দিতেন। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও এ ধরনের হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (আবু দাউদ, ২৪৩৩) অন্য সাহাবিদের মধ্যে জাবের (রা.), সাওবান (রা.) এবং ইবনে উমর (রা.) থেকেও এ বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে।


সাধারণত রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখার সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের কিছু ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। কিয়ামতের মাঠে এসব ভুলের কারণে যেন রোজার সওয়াবে কোনো অপূর্ণতা না থাকে, সেজন্য শাওয়ালের ছয় রোজা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস থেকে জানা যায়, বিচারের দিন ওজনের পাল্লায় ফরজ ইবাদত যদি অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে, তখন মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তির নফল ইবাদত থাকলে সেখান থেকে নিয়ে তা পূর্ণ করার জন্য ফেরেশতাদের আদেশ দেবেন। 


বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনুল কাইয়ুম (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজার মধ্যে বিশেষ রহস্য রয়েছে। এই ছয়টি রোজা রমজানের রোজার পরিপূরক। রমজানের রোজায় যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, শাওয়ালের এই ছয় রোজা সেগুলো দূর করে। ব্যাপারটি যেন ফরজ নামাজের পর সুন্নত ও নফল নামাজের মতো এবং নামাজে ভুল হলে সাজদায়ে সাহু দেওয়ার মতো।’


উল্লেখ্য, শাওয়াল মাসের এ ছয় রোজা পুরুষ ও নারীর জন্য সুন্নত। পুরো শাওয়াল মাসের যে কোনো ছয় দিনে এসব রোজা রাখা যায়। কেউ চাইলে মাসের শুরুতে রাখতে পারে, আবার মাসের মধ্যভাগে বা শেষভাগেও রাখতে পারে। এমনকি একাধারে ছয় দিন অথবা মাঝে বিরতি দিয়ে মোট ছয়টি রোজা রাখা যেতে পারে। 


হাদিস শাস্ত্রের বিখ্যাত ইমাম ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেন, ‘প্রতি মাসে তিন দিন রোজা পালনের মতো শাওয়াল মাসের ছয় রোজাও মুস্তাহাব। কোনো কোনো হাদিসে এই রোজা রমজানের পরপরই রাখার কথা এসেছে।’ এ জন্য তিনি এই ছয়টি রোজা শাওয়াল মাসের শুরুর দিকে পালন করা বেশি পছন্দনীয় মনে করতেন।


সাধারণত পার্থিব কেনাকাটার বেলায় আমরা যেভাবে বিশেষ অফারের প্রতি আকর্ষণ বোধ করি এবং এ ধরনের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, একইভাবে আখেরাতের অপার্থিব পুণ্যের বেলায়ও মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য যেসব বিশেষ সুযোগ রয়েছে এবং যেগুলোর 
মাধ্যমে আমরা সীমিত কয়েক দিনের বিনিময়ে সারা বছরের জন্য পুণ্যবান হতে পারি—সেগুলোর প্রতি আমাদের যত্নবান হওয়া উচিত। শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর অনুগ্রহ অর্জন করার প্রতি বিশেষভাবে সচেতন থাকার মাধ্যমে একজন প্রকৃত ঈমানদার নিজের সর্বময় সাফল্য সুনিশ্চিত করতে পারেন। 

লেখক : অনুবাদক ও গবেষক

 

‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ কেন পড়া হয়?

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ কেন পড়া হয়?
আরবিতে 'আল্লাহুম্মা বারিক' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আমরা জীবন চলার পথে বিভিন্ন সময় নানা কিছু দেখতে পাই। এর মধ্যে কিছু হালাল আর কিছু হারাম। ইসলামে সব ধরনের হালাল বৈধ। আর সব ধরনের হারামই নিষিদ্ধ। কোরআন ও হাদিসে হালাল-হারামের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। হারাম থেকে দূরে থাকতে কোরআন ও হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। হালালের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। হালাল জীবনযাপনে রয়েছে বিশেষ সওয়াবও। কোনো ব্যক্তি যদি চলতি পথে বা কোনো সংবাদের মাধ্যমে ভালো কিছু দেখে বা শোনে, তার উচিত কল্যাণ কামনা করা। বরকতের দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের কিছু দেখে বিমুগ্ধ হয়, সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৫০৯)

বরকতের দোয়া করার সময় আমরা আরবিতে এভাবে বলতে পারি—বাংলা উচ্চারণ:‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু বা লাহা’। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি তা বরকতময় করুন।

লাহু /লাহার ব্যবহার
ভাষার ব্যবহারে নারী ও পুরুষের আলাদা নিয়ম-নীতি রয়েছে। ‘লাহু’ শব্দটি সব সময় পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হবে। আর ‘লাহা’ শব্দটি সব সময় নারীর জন্য ব্যবহার করা হবে। তথা পুরুষবাচক কল্যাণময় জিনিস দেখলে বলতে হবে ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ আর নারীবাচক কোনো কল্যাণময় জিনিস দেখলে বলতে হবে ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহা’।

আল্লাহুম্মা বারিক লাহু বলার উপকারিতা

আল্লাহ প্রার্থনাকারী বান্দাকে পছন্দ করেন। কেউ কারও জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারাও তার জন্য দোয়া করেন। ফেরেশতাদের দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য বিশেষ মনে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। সেখানে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই ওই ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করে তখন ওই ফেরেশতা ‘আমিন, আমিন’ ও তোমার জন্যও অনুরূপ হোক বলেন।’ (মেশকাত, হাদিস: ২২২৮)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

আজওয়া খেজুর খাওয়ার ফজিলত

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আজওয়া খেজুর খাওয়ার ফজিলত
আজওয়া খেজুরের ছবি। ইন্টারনেট

খেজুর আল্লাহতায়ালার অনন্য নেয়ামত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় ফল ছিল খেজুর। পাকা-তাজা খেজুর নানা পুষ্টিগুণ-সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু একটি ফল। পবিত্র কোরআনের নানা জায়গায় খেজুরের আলোচনা এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তারপর আমি তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জয়তুন, খেজুর।’ (সুরা আবাসা, আয়াত: ২৭-২৯) 

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘এবং খেজুরের ফল ও আঙুর থেকেও (আমি তোমাদের পানীয় দান করি), যা দিয়ে তোমরা মদ বানাও এবং উত্তম খাদ্যও। নিশ্চয়ই এর ভেতরেও সেইসব লোকের জন্য নিদর্শন আছে, যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায়।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৬৭)। তা ছাড়া খেজুরে আছে নানাবিধ রোগের প্রতিষেধকও।

আজওয়া জান্নাতি ফল

পবিত্র মদিনায় নানা জাত ও স্বাদের খেজুর উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে উৎকৃষ্টতম খেজুর আজওয়া। দেখতে জামের মতো কালো রঙের অসাধারণ এই খেজুর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ফল। হাদিসে এটিকে জান্নাতের ফল বলা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, “রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কিছু সাহাবি বলেন, ‘মাশরুম হলো জমিনের বসন্ত রোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মাশরুম হলো মান্নের অন্তর্ভুক্ত এবং এর পানি চক্ষুরোগের প্রতিষেধক। আজওয়া বেহেশতের খেজুরের অন্তর্ভুক্ত এবং এটা বিষের প্রতিষেধক।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২০৬৮)

জাদুর কবল থেকে বাঁচায় আজওয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রতিদিন সকালবেলা সাতটি আজওয়া (উৎকৃষ্ট) খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদু তার ক্ষতি করবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৪৪৫) 

হৃদরোগের ওষুধ
আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সাদ (রা.) বলেন, “একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখেন। তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। তিনি বলেন, ‘তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।” (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৩৫) 

খেজুর বেশ বরকতপূর্ণ খাবার। যার ঘরে খেজুর আছে সে অনাহারী নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে খেজুর নেই, সে ঘরের মানুষ যেন অনাহারী।’ (মুসলিম, হাদিস: ১৭৭৬)

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর

 

দোয়া ইউনুস কি? পড়ার নিয়ম ও ফজিলত

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
দোয়া ইউনুস কি? পড়ার নিয়ম ও ফজিলত
আরবিতে 'ইউনুস' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহর নবি ইউনুস (আ.) দেশ ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সময় নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনি মাছের পেটে বন্দি হন। এই বিপদের সময় তিনি বারবার একটা দোয়া পড়েছিলেন। যা দোয়ায়ে ইউনুস নামে পরিচিত। আর সে দোয়ার বরকতেই আল্লাহ তাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেন।

দোয়া ইউনুস

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ 

দোয়া ইউনুসের বাংলা উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। 

দোয়া ইউনুসের বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র মহান, আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারী। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭ )

এই দোয়ার ফলে মাছের পেট থেকে আল্লাহ তাকে মুক্তি দেন। কোরআনে আছে, ‘সে যদি আল্লাহর মহিমা আবৃত্তি না করত, তা হলে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে মাছের পেটে থাকতে হতো।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৩-১৪৪)

দোয়া ইউনুস পড়ার ফজিলত
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, এই দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা কি শুধু ইউনুস (আ.)-এর জন্যই প্রযোজ্য, না সব মুসলিমের জন্য? জবাবে নবি (সা.) বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য দোয়াটি বিশেষভাবে কবুল হলেও এটা সব মুসলিমের জন্য সব সময় কবুলের ব্যাপারে প্রযোজ্য। তুমি কি কোরআনে পাঠ করোনি, ‘ওয়া কাজালিকা নুনজিল মুমিনিন’ আর এভাবেই আমি আল্লাহ মুমিনদের উদ্ধার করে থাকি।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

যেকোনো বিপদ-মসিবত, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান এই দোয়া ইউনুসের সাহায্যে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে, আল্লাহ তা কবুল করেন।’ অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

ক্ষমা করলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
ক্ষমা করলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহতায়ালা ক্ষমাশীল। তিনি বান্দাদের ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। আল্লাহতায়ালা মুহাম্মাদ (সা.)-কে এই গুণ অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং মানুষকে ভালো বিষয়ের আদেশ করুন। আর মূর্খদের উপেক্ষা করুন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৯৯) 

কোরআনের অপর এক আয়াতে মানুষকে ক্ষমা ও ছাড়ের ব্যাপারটাকে আল্লাহতায়ালা খুবই আশাব্যঞ্জক ও পরকালীন সমৃদ্ধির উপকরণ বলে বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ন্যায়। যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সম্বরণকারী আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ নেককার লোকদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩-১৩৪)

মুসলিম সমাজ সব সময় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকবে এমনটিই চাইতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজের মূল উপাদান হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে। আল্লাহ ক্ষমাকারীর সম্মান বাড়িয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা করলে অর্থসম্পদে ঘাটতি হয় না। যে ক্ষমা করবে আল্লাহ তার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন। আর যে আল্লাহর জন্য নম্রতা অবলম্বন করবে, আল্লাহতায়ালা তার মর্যাদা উঁচু করে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)

বাস্তবে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি, অনাচার ও ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করাই হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা করার প্রবৃত্তি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিধানের নিশ্চয়তা দেয়। অপরদিকে কেউ যদি নিজের শতভাগ অধিকার আদায় করতে উঠেপড়ে লেগে যায়, তা হলে তার মাধ্যমে সমাজে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহ দিতে গিয়ে বারবার কীভাবে ক্ষমা করতে হয়, তার কিছু উদাহরণ টেনেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, “এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, গোলামকে আমি কতবার ক্ষমা করব?’ রাসুল (সা.) চুপ রইলেন। এরপর সে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কতবার ক্ষমা করব?’ এবার রাসুল (সা.) উত্তরে বললেন, ‘প্রতিদিন ৭০ বার।” (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪৯) 

একজন গোলাম তো প্রতিদিন আর ৭০ বার ভুল করতে পারে না। ৭০ বারের কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বারবার ক্ষমা করা বোঝানোর জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করতে পছন্দ করতেন। এটি সুন্নত। ক্ষমায় সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়। মানুষকে ক্ষমা করলে কী পুরস্কার পাওয়া যায়, আল্লাহ তা কোরআনে ঘোষণা করেছন, ‘এবং নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মাগফেরাত ও সেই জান্নাত লাভের জন্য একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতুল্য। তা সেই মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর জন্য অর্থ) ব্যয় করে এবং যারা নিজের ক্রোধ হজম করতে ও মানুষকে ক্ষমা করতে অভ্যস্ত। আল্লাহ এমন পুণ্যবানদের ভালোবাসেন।’

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

মুমিন অন্যের দোষ প্রচার করে না

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
মুমিন অন্যের দোষ প্রচার করে না
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারও প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী এবং বিজ্ঞ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৮)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ পছন্দ করেন না যে, আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করি বা মন্দ বিষয় প্রকাশ করি, যদি না আমাদের ওপর অন্যায় করা হয়। তবে যদি কারও ওপর জুলুম করা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে আল্লাহর অনুমতি রয়েছে। তারপরও ধৈর্যধারণ করাই উত্তম। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদমসন্তানের প্রত্যেকই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারী ব্যক্তিরা হলো উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কারও দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করতেন না। কারণ, দোষ-ত্রুটির প্রকাশ মানুষের ফিরে আসার পথে, তওবার পথে অন্তরায় তৈরি করে। একজন মানুষ যখন ভাবে যে, তওবা করে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে, আবার সে সব মানুষের সঙ্গে মিশতে পারবে, পাপের কারণে কেউ তাকে খারাপ ভাববে না, তখন তওবা করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়। ইবনে উমর (রা.) বলেন, “একসায় রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বরে আরোহণ করে উচ্চৈঃস্বরে ডেকে বললেন, ‘হে ওই সম্প্রদায়, যারা মুখে ঈমান এনেছ কিন্তু হৃদয়ে ঈমান প্রবেশ করেনি। শোনো, তোমরা মুমিনদের কষ্ট দিয়ো না, তাদের লজ্জা দিয়ো না, তাদের গোপন দোষ তালাশ করো না। কেননা যে তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ তালাশ করবে, আল্লাহ তার গোপন দোষ ফাঁস করে দেবেন। আর আল্লাহ যার দোষ বের করে দেবেন তাকে তিনি লাঞ্ছিত করবেন। এমনকি সে তার ঘরের অভ্যন্তরে অবস্থান করলেও।” (তিরমিজি, হাদিস: ২০৩২)

মানুষের স্বভাবটাই এ রকম যে, অন্যের দোষ বলে বেড়াতে সে পছন্দ করে। আপনি নিজেকে ওই লোকের স্থানে কল্পনা করে দেখুন, তা হলে এই অভ্যাস-বর্জন আপনার পক্ষে সহজ হবে। তা হলে কেউ কারও দোষ প্রকাশ করতে চাইবে না। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ তো তার ভাইয়ের চোখের মধ্যে থাকা সামান্য ধূলিকণাও দেখতে পায়, কিন্তু তার নিজের চোখে আস্ত একটা গাছের কাণ্ড থাকলেও সে তা দেখতে পায় না।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৭৬১) 

আপনার চোখে যখনই কারও দোষ ধরা পড়ে, তখন নিজের কথা কল্পনা করুন। নিজের দোষগুলোর প্রতি খেয়াল করুন। নিজের দোষ অন্যের কাছে প্রকাশ পেলে আপনার কেমন খারাপ লাগবে, আপনার অবস্থান কোথায় যাবে, তা  ভাবুন। তা হলে আশা করা যায়, অন্যের দোষ প্রকাশের ক্ষেত্রে আপনার হৃদয় কেঁপে উঠবে। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক