ঢাকা ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪
Khaborer Kagoj

এবারও ডিআরইউর সাহিত্য পুরস্কার পেলেন কবি হাসান হাফিজ

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫০ পিএম
এবারও ডিআরইউর সাহিত্য পুরস্কার পেলেন কবি হাসান হাফিজ
ডিআরইউ সাহিত্য পুরস্কার ও লেখক সম্মাননা ২০২৩ এর বিজয়ী সাংবাদিক-কবি হাসান হাফিজ মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। ছবি : খবরের কাগজ

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক খবরের কাগজের কপি এডিটর কবি হাসান হাফিজ। তিনি ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর ডিআরইউর এই সাহিত্য পুরস্কার পেয়ে আসছেন।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) ডিআরইউ সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘ডিআরইউ সাহিত্য পুরস্কার ও লেখক সম্মাননা ২০২৩’ এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রতি বছরের মতো এবারও তিন ক্যাটাগরিতে তিনজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। কাব্যে (কবিতা/ছড়া) হাসান হাফিজ (খবরের কাগজ), কথাসাহিত্যে (গল্প/উপন্যাস) মুহাম্মদ মোফাজ্জল (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস) এবং মননশীল (প্রবন্ধ ও গবেষণা) ক্যাটাগরিতে হেলিমুল আলম বিপ্লব (ডেইলি স্টার) পুরস্কার পেয়েছেন। বিজয়ীদের নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। 

এ বছর ডিআরইউ সদস্য লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের জন্য আয়োজিত এ পুরস্কার ও লেখক সম্মাননায় মোট ৩৮জন অংশ নেন। তাদের সবাইকে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বক্তব্য দেন। ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী, সহসভাপতি দীপু সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামাল উদ্দিন সুমনসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএ/

শেখ হাসিনাকে নিয়ে জিতুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
শেখ হাসিনাকে নিয়ে জিতুর বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে রাষ্ট্রপতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে হায়দার মোহাম্মদ জিতুর লেখা ‘তরুণ প্রজন্মের প্রেরণা শেখ হাসিনা’ শীর্ষক গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। 

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

গ্রন্থের লেখক হায়দার মোহাম্মদ জিতু রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ গ্রন্থে সংকলিত প্রবন্ধগুলোতে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানুষের অনুভূতি হয়ে উঠার পটকে চিত্রিত করা হয়েছে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায়। 

বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন, বিভিন্ন সূচকে ঈর্ষণীয় অর্জনসহ বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যয়দীপ্ত ছুটে চলার আখ্যান উঠে এসেছে প্রবন্ধগুলোতে।

বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম, সচিব সম্পদ বড়ুয়া, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ও সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিতু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে সর্বশেষ জয়-লেখক কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতেও বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। 

গত ২২ নভেম্বর (২০২৪) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জিতুকে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

রংপুরের সাতমাথার সিরাজুল ইসলাম সিরাজ-সৈয়দা মনিরা বেগম দম্পতির সন্তান জিতু সমসাময়িক বিষয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে নিয়মিত কলাম লিখে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

অমিয়/

ছায়ানটে ভরতনাট্যম, ওড়িশি, মণিপুরি নৃত্যে স্রষ্টার বন্দনা

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫১ পিএম
ছায়ানটে ভরতনাট্যম, ওড়িশি, মণিপুরি নৃত্যে স্রষ্টার বন্দনা
ছায়ানটে শাস্ত্রীয় নৃত্য উৎসবে দলীয় পরিবেশনা। ছবি: খবরের কাগজ

ভরতনাট্যম, ওড়িশি, মণিপুরি, কথক নৃত্যে স্রষ্টার বন্দনায় নিমগ্ন রইলেন শিল্পীরা। পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর নৃত্যে শাস্ত্রীয় সংগীতের নানা রাগ, তালে স্রষ্টার স্বরূপ অন্বেষণের পাশাপাশি সামাজিক জীবনের নানা প্রতিচ্ছবিও উঠে আসে। 

প্রদোষের সময় অর্থাৎ সন্ধ্যাকালে ত্রিশূল ধারণকারী ভগবান শিব প্রচণ্ড তাণ্ডবলীলা শুরু করেন। দেবী গৌরী যিনি তিন জগতের জননী, তিনি অমূল্য রত্ন দিয়ে জড়ানো সোনার আসনে বসেন। নিজে নাচতে প্রস্তুত হন এবং সব দেবতা তার প্রশংসায় গান করেন। পৌরাণিক সেই কাহিনি অবলম্বনে রাগম- পূরবী কল্যাণী, তালাম- আদিতে নির্মিত হয়েছে নৃত্য প্রযোজনা ‘শিব পদম’। ভরতনাট্যমে সে প্রযোজনা পরিবেশন করেন অমিত চৌধুরী। 

রাগ মিশ্র, তাল আদিতে জুয়েইরিয়াহ মৌলি পরিবেশন করেন ‘পঞ্চরাগ তিল্লানা’। তিল্লানা হলো দক্ষিণ ভারতীয় সংগীতের একটি ছন্দময় অংশ, যা সাধারণত ভরতনাট্যম মার্গমের শেষে পরিবেশিত হয়। 

মহাভারতে কৃষ্ণের লীলাময় রূপের দ্বারা কালিয় নাগকে বশ করার আধ্যাত্মিক ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে মণিপুরি নৃত্য ‘কালিয় দমন’। নৃত্যশিল্পী সুইটি দাস চৌধুরী সপতো তালে পরিবেশন করেন এ নৃত্য। মণিপুরি জাতিসত্তার নানা উৎসব মুখরিত জীবন এবং সামাজিক জীবনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি মণিপুরি নৃত্য। আদি প্রবাহে বহমান মণিপুরি নৃত্যের ভাবভক্তি উঠে আসে এই প্রযোজনায়। 

নৃত্য-উৎসবের সন্ধ্যায় ওড়িশি নৃত্য পরিবেশন করে চট্টগ্রামের ওড়িশি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার। প্রমা অবন্তীর পরিচালনায় এদিন তারা পরিবেশন করে ওড়িশি নৃত্যের সর্বশেষ ধাপ ‘মোক্ষ্য’। ভারতীয় দর্শন মতে ‘নির্বাণ’ লাভই হলো মনুষ্য জীবনের চরম পথ। সেই উদ্দেশ্যে সারা জীবনের সাধনার মাধ্যমে মনুষ্য জীবন পৌঁছে যেতে পারে সেই কাঙ্ক্ষিত বা অভীষ্ট লক্ষ্যে। বিশুদ্ধ নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে শিল্পী ছন্দ, গতি, লয় ও তাল, এই চতুষ্টয়ের সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলেন মোক্ষ্য বা নির্বাণের আকাঙ্ক্ষা। শিল্পী মুক্তি লাভের চরম পর্যায়ে পৌঁছে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আত্মোৎসর্গ করেন স্রষ্টার চরণে। রাগ বাগেশ্রী, তাল একোতালিতে নির্মিত ‘মোক্ষ্য’ পরিবেশনায় অংশ নেন ময়ূখ সরকার, দিয়া দাশগুপ্তা, অর্জিতা সেন চৌধুরী, ঈশিকা দাশ ও প্রমা অবন্তী। ওড়িশি নৃত্যে ‘মঙ্গলাচরণ’ পরিবেশন করে বেনজীর সালামের দল নৃত্যছন্দের সদস্য জসিম উদ্দিন ও আফিয়া ইবনাত হালিম। রাগ মেঘ, কেদার ও তাল একতালিতে নির্মিত এই প্রযোজনায় তারা উপস্থাপন করেন গণেশ বন্দনা। পরে নৃত্যছন্দ রাগ হংসধ্বনি ও তাল একতালিতে ‘হংসধ্বনি পল্লবী পরিবেশন করে। 

গৌড়ীয় নৃত্যে ‘শিবনামাবলি’ পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক র‍্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস। বাংলা সাহিত্যের অনন্য মঙ্গলকাব্য ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থের শিবের বহুনামসংবলিত নামাবলির খণ্ডিত অংশ এ নৃত্যে উপস্থাপিত হয়। রাগ শুদ্ধবঙ্গাল, তাল- বাংলার তাল দাশপাহারিতে পরিবেশিত হয় এ নৃত্য প্রযোজনা। 

পাখোয়াজ অঙ্গের ১৪ মাত্রার তাল ধামারে কথক পরিবেশন করেন হাসান ইশতিয়াক ইমরান। ‘মেলবন্ধন’ শিরোনামে ওই প্রযোজনায় উত্তর ভারতের কথকের জয়পুর ও লক্ষ্ণৌ ঘরানার উভয় শৈলীর বিভিন্ন উপাদান পরিবেশিত হয়। জয়পুর ও লক্ষ্ণৌ ঘরানার বোলের সমন্বয়ে নির্মিত ঠাট, আমদ, টুকরা, তেহাই, পরন, লাড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে এই নৃত্যশৈলী। 

বেঙ্গল আর্টস প্রোগ্রাম আয়োজিত 'ডেথ সেন্টেন্স' শীর্ষক প্রদর্শনী

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৪৯ পিএম
বেঙ্গল আর্টস প্রোগ্রাম আয়োজিত 'ডেথ সেন্টেন্স' শীর্ষক প্রদর্শনী

১৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকে ধানমণ্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সুবীর চৌধুরী কিউরেটোরিয়াল প্র্যাকটিস গ্র্যান্টপ্রাপ্ত জুয়েল এ রব এর কিউরেটেড প্রদর্শনী  'ডেথ সেন্টেন্স'। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা এর পরিচালক মিঃ এম ফ্রাঁসোয়া গ্রোসজিন। তিনি বলেন ‘এই প্রদর্শনীর অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। আর্ট সবসময় সমাজের গল্প নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরে’। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী এবং শিল্প লেখক মুস্তাফা জামান। তিনি বলেন ‘এই প্রদর্শনী আমাদের ভাবাবে। জানাবে, কিভাবে বারবার সামাজিক ও ভৌগলিক পটভূমির পরিবর্তনে যুদ্ধ, হত্যা ও ধ্বংস জড়িত ছিল’।

শিমুল দত্ত, প্রমথেশ দাস পুলক, আনিসুজ্জামান সোহেল, নাজমুন নাহার কেয়া প্রমুখ গুণীজনের কাজ দিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রদর্শনী। আনুমানিক ৮০-৯০ টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে, যা অ্যাক্রেলিক, নিউ মিডিয়া, ভাস্কর্য, ভিডিও আর্ট, স্কাল্পচার, জলরং, ড্রইং, মৃৎশিল্প সহ বিভিন্ন রকম মাল্টি ডিসিপ্লিনারী মাধ্যমে করা হয়েছে।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পরিচালক, শিল্পী, সুহৃদ, সংগঠক ও বাংলাদেশের শিল্পচর্চার অগ্রযাত্রার অনলস কর্মী সুবীর চৌধুরী স্মরণে ২০১৫ সালে সুবীর চৌধুরী গ্রান্টের প্রণয়ন করেছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন সময়ে মানুষ যেভাবে যুদ্ধ, হত্যা ও ধ্বংসে মেতে উঠেছে, ডেথ সেনটেন্স প্রকল্পের মূল ভাবনা তৈরি হয়েছে তাকে ভিত্তি করেই। ব্যক্তি-দল-রাষ্ট্র-সমাজ ও আদর্শের ওপর ভর করে আদিকাল থেকে মানুষ হত্যা ও ধ্বংসে লিপ্ত। এতে ইন্ধন জুগিয়েছে গোত্র ও জাতি-পরিচয়ের সংঘাত, আদর্শিক লড়াই ও ক্ষমতার তীব্র লিপ্সা। প্রস্তরযুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং প্রসারকে কাজে লাগিয়ে বিবর্তিত হয়েছে মারণাস্ত্র ও হাতিয়ার। এসব বিবর্তন  শুধু মারণাস্ত্রের কার্যকারিতাকে উন্নত করেনি, একইসঙ্গে তার কাঠামোগত সৌন্দর্য ও নান্দনিক আবেদনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এসব মারণযন্ত্রের নিপুণ অবয়ব সৃষ্টির পেছনে দৃশ্যকলাশিল্পের ভূমিকা অকিঞ্চিৎকর ছিল না। বরং কখনো কখনো তা শিল্পীর চর্চা এবং বোধকে শাণিত ও অগ্রগামী করেছে।

অমানবিকতা ও নির্মমতা একজন শিল্পীকে কতটা ব্যথিত করে এবং করলেও তার প্রকাশভঙ্গি কিরূপ? বর্তমান বিশ্বের কূট রাজনীতি এবং তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা যুদ্ধ-অর্থনীতি কীভাবে শিল্পীর চিন্তা-চেতনাকে আলোড়িত করে? আমাদের সংবেদ কি ক্রমশ অসাড় হয়ে পড়ছে? এমন প্রশ্নের উদ্রেক করে এই প্রদর্শনী।

জাহ্নবী

ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়ন ক্রাফট মাস্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৩

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:২৬ পিএম
ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়ন ক্রাফট মাস্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৩

বাংলাদেশের তিনজন কৃতী কারুশিল্পী গত নভেম্বরে চীনের দংইয়াং শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক WCC APR Craft Master Award 2023 লাভ করেছেন। চীনের আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় WCC-APR আয়োজিত ৪র্থ এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়ন ক্রাফট মাস্টার প্রোগ্রাম সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কারুশিল্প-অনুরাগী, বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। বিচারকমন্ডলির ভূমিকায় ছিলেন ১১ জন সদস্য। তাদের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ থেকে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে প্রেরিত তিনটি মনোনয়নই পুরস্কার লাভ করে ।

গত বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে তিন কীর্তিমান কারুশিল্পী গীতেশ চন্দ্র দাশ (শীতলপাটি, মৌলভীবাজার), গোপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (শোলাশিল্প, ঝিনাইদহ) ও মমতাজ বেগমকে (নকশিকাঁথা, যশোর) ওয়ার্ল্ড ক্রাফটস কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের ‘ক্রাফট মাস্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’এবং ‘লুনা শামসুদ্দোহা অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও ঢাকা অফিসের প্রধান ড. সুজান ভিজে এবং জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সভাপতি চন্দ্রশেখর সাহা।

লুনা শামসুদ্দোহা পুরস্কারের মাধ্যমে তিন ক্রাফট মাস্টার প্রত্যেকে এক লাখ টাকা করে পেয়েছেন। নতুন উদ্যোগ, আবিষ্কারকে উৎসাহিত করতে ডোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান প্রয়াত মিসেস লুনা শামসুদ্দোহার (১৯৫৩-২০২১) নামে এই পুরস্কারটি তাঁর পরিবার প্রবর্তন করেছে । মিসেস লুনা বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি ছিলেন জনতা ব্যাংক লিমিটেডের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন । এছাড়া তিনি স্টকহোম, সুইডেনে গ্লোবাল উইমেন ইনভেন্টর এবং ইনোভেটার্স নেটওয়ার্ক (জিডাব্লিউআইআইএন) থেকে নেতৃত্ব পুরস্কার এবং টেকনোলজি  উদ্যোক্তা হিসেব ‘অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা’ পান। 

জাহ্নবী

কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেলেন বায়তুল্লাহ্ কাদেরী

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম
কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেলেন বায়তুল্লাহ্ কাদেরী
ছবি : খবরের কাগজ

বাংলা কবিতায় সার্বিক অবদানের জন্য কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন কবি ও অধ্যাপক ড. মো. বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। বায়তুল্লাহ্ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে কবি রফিক আজাদের ৮২তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পর্ষদের সভাপতি, ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এখানে বলা হচ্ছে রফিক আজাদ পূর্ববঙ্গের প্রেম ও পরিবেশ প্রিয় কবি। আমার মনে হয় এর মাধ্যমে তাকে সংকীর্ণ করা হয়েছে; কেননা প্রেম-ভালোবাসার কোনো সীমা থাকতে পারে না। রফিক আজাদও ঠিক তেমনি, একজন উদার ও দেশপ্রেমী কবি। তিনি দেশের প্রতি ভালোবাসা ও স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তার দেশপ্রেমে আমি মুগ্ধ হই, যখনই তার সঙ্গে দেখা হতো তিনি দেশের অবস্থার কথা বলতেন। আজ রফিক আজাদ নেই, কিন্তু তারপরেও তিনি তার পঙ্‌ক্তির কারণে যুগের পর যুগ ধরে বেঁচে থাকবে।’

কবি ও খবরের কাগজের কপি এডিটর হাসান হাফিজ বলেন, ‘রফিক আজাদ কবিদের কবি। তার ছন্দসিদ্ধি কবিদের জন্য খুব ঈর্ষণীয়। দেশের বর্তমান অনেক কবি-সাহিত্যিককে তিনি তৈরি করেছেন। সেলিম আল দীন প্রথম দিকে কবিতার লড়াই করছিলেন কিন্তু রফিক আজাদ তাকে নাটক লেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যে তুমি নাটক লিখো। সেই থেকে সেলিম আল দীন নাটক লেখা শুরু করেন। শুধু সেলিম আল দীনই নন, তরুণ ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে বাংলা একাডেমির পত্রিকা উত্তরাধিকারে সাহসিকতায় ছেপেছেন। অনেক বিষয়েই তিনি আমাদের পরামর্শ দিতেন। এখনো তার সেই পরামর্শ মোতাবেক চলছি। তার শিষ্য হতে পেরে আমি গর্বিত।’

এর আগে রফিক আজাদের সহধর্মিণী কবি দিলারা হাফিজ বলেন, “বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদের প্রয়াণের প্রায় আট বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তার কালজয়ী সৃষ্টি সম্ভার। কবির জন্মদিনের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল কবি বায়তুল্লাহ্ কাদেরীর হাতে ‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার’ তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ইতিপূর্বে ২০২১ সালে সত্তর দশকের বিশিষ্ট কবি ফারুক মাহমুদ, ২০২২ সালে আশির দশকের প্রতিশ্রুতিশীল কবি ফেরদৌস নাহার এবং ২০২৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও কবি বুলবুল খান মাহবুব ‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার’ এ ভূষিত হয়েছেন।”

পুরস্কার পেয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ কবি ও অধ্যাপক ড. মো. বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। তিনি বলেন, ‘একজন কবি বা লেখক পুরস্কার-প্রত্যাশী হয়ে লেখালেখি করেন না। সাহিত্যে মৌলিক চিহ্ন এবং মাত্রা যোগ করার ক্ষেত্রে তাকে অবদান রেখে যেতে হয়। একপর্যায়ে সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি মেলে পাঠকের নানা প্রতিক্রিয়া ও গ্রহণযোগ্যতায়। এ প্রতিক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হলো পুরস্কার। ফলে পুরস্কার একই সঙ্গে লেখকের কর্ম-স্বীকৃতি আবার ভবিষ্যৎ দায়। এখন লেখকরা পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় তদবির করেন। তদবির ছাড়া পুরস্কার মেলে না এখন; আমি বিনা তদবিরে পুরস্কার পেয়েছি। সে জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি।’

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসির সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক খান মাহবুব এবং কবিতা আবৃত্তি করেন লিজা চৌধুরী।

পরে ২০২৪-২০২৭ তিন বছরের জন্য ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে এসেছেন কবি ফারুক মাহমুদ ও কবি আবদুর রব।