ঢাকা ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেলেন বায়তুল্লাহ্ কাদেরী

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৩৩ পিএম
কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেলেন বায়তুল্লাহ্ কাদেরী
ছবি : খবরের কাগজ

বাংলা কবিতায় সার্বিক অবদানের জন্য কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন কবি ও অধ্যাপক ড. মো. বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। বায়তুল্লাহ্ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে কবি রফিক আজাদের ৮২তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পর্ষদের সভাপতি, ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এখানে বলা হচ্ছে রফিক আজাদ পূর্ববঙ্গের প্রেম ও পরিবেশ প্রিয় কবি। আমার মনে হয় এর মাধ্যমে তাকে সংকীর্ণ করা হয়েছে; কেননা প্রেম-ভালোবাসার কোনো সীমা থাকতে পারে না। রফিক আজাদও ঠিক তেমনি, একজন উদার ও দেশপ্রেমী কবি। তিনি দেশের প্রতি ভালোবাসা ও স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তার দেশপ্রেমে আমি মুগ্ধ হই, যখনই তার সঙ্গে দেখা হতো তিনি দেশের অবস্থার কথা বলতেন। আজ রফিক আজাদ নেই, কিন্তু তারপরেও তিনি তার পঙ্‌ক্তির কারণে যুগের পর যুগ ধরে বেঁচে থাকবে।’

কবি ও খবরের কাগজের কপি এডিটর হাসান হাফিজ বলেন, ‘রফিক আজাদ কবিদের কবি। তার ছন্দসিদ্ধি কবিদের জন্য খুব ঈর্ষণীয়। দেশের বর্তমান অনেক কবি-সাহিত্যিককে তিনি তৈরি করেছেন। সেলিম আল দীন প্রথম দিকে কবিতার লড়াই করছিলেন কিন্তু রফিক আজাদ তাকে নাটক লেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যে তুমি নাটক লিখো। সেই থেকে সেলিম আল দীন নাটক লেখা শুরু করেন। শুধু সেলিম আল দীনই নন, তরুণ ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে বাংলা একাডেমির পত্রিকা উত্তরাধিকারে সাহসিকতায় ছেপেছেন। অনেক বিষয়েই তিনি আমাদের পরামর্শ দিতেন। এখনো তার সেই পরামর্শ মোতাবেক চলছি। তার শিষ্য হতে পেরে আমি গর্বিত।’

এর আগে রফিক আজাদের সহধর্মিণী কবি দিলারা হাফিজ বলেন, “বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক আজাদের প্রয়াণের প্রায় আট বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তার কালজয়ী সৃষ্টি সম্ভার। কবির জন্মদিনের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল কবি বায়তুল্লাহ্ কাদেরীর হাতে ‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার’ তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। ইতিপূর্বে ২০২১ সালে সত্তর দশকের বিশিষ্ট কবি ফারুক মাহমুদ, ২০২২ সালে আশির দশকের প্রতিশ্রুতিশীল কবি ফেরদৌস নাহার এবং ২০২৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও কবি বুলবুল খান মাহবুব ‘কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার’ এ ভূষিত হয়েছেন।”

পুরস্কার পেয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ কবি ও অধ্যাপক ড. মো. বায়তুল্লাহ্ কাদেরী। তিনি বলেন, ‘একজন কবি বা লেখক পুরস্কার-প্রত্যাশী হয়ে লেখালেখি করেন না। সাহিত্যে মৌলিক চিহ্ন এবং মাত্রা যোগ করার ক্ষেত্রে তাকে অবদান রেখে যেতে হয়। একপর্যায়ে সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি মেলে পাঠকের নানা প্রতিক্রিয়া ও গ্রহণযোগ্যতায়। এ প্রতিক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হলো পুরস্কার। ফলে পুরস্কার একই সঙ্গে লেখকের কর্ম-স্বীকৃতি আবার ভবিষ্যৎ দায়। এখন লেখকরা পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় তদবির করেন। তদবির ছাড়া পুরস্কার মেলে না এখন; আমি বিনা তদবিরে পুরস্কার পেয়েছি। সে জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি।’

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও জাতীয় জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসির সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক খান মাহবুব এবং কবিতা আবৃত্তি করেন লিজা চৌধুরী।

পরে ২০২৪-২০২৭ তিন বছরের জন্য ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পর্ষদ ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে এসেছেন কবি ফারুক মাহমুদ ও কবি আবদুর রব।

 

শিল্পকলায় লালন সাঁই ও উকিল মুন্সীকে স্মরণ

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৯:২৮ পিএম
শিল্পকলায় লালন সাঁই ও উকিল মুন্সীকে স্মরণ
ছবি : খবরের কাগজ

লালন ফকির বাংলার লোকায়ত দর্শনের মহানায়ক। তিনি মানুষকে সব সময় মানুষ হিসেবেই দেখেছেন। সেখানে কোনো জাতি-গোত্র বা ধর্মের বিভাজন তিনি করেননি।

প্রাবন্ধিক বক্তা ড. আবু ইসহাক হোসেন বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক স্মরণ অনুষ্ঠানে ফকির লালন সাঁইজির মাহাত্ম্য তুলে ধরেন এভাবে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ৬২ জন মনীষীর জীবন ও কর্ম নিয়ে অনুষ্ঠান; ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ পঞ্চম দিনের আয়োজনে স্মরণ করা হয় ফকির লালন সাঁইজি ও উকিল মুন্সীকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় লালন সাঁইজির জীবন ও দর্শনের উপর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র।

পরে ‘একুশ শতকে লালন ফকিরের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

লেখক, গবেষক, এবং লালন রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও প্রাবন্ধিক ড. আবু ইসহাক হোসেন ফকির লালন সাঁইজিকে নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, ‘ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মিলন, বিভাজন নয়- এই সত্যটাকে জেনে মিলনের সাধনার মাধ্যমে ধর্মচর্চায় মোক্ষ লাভ হয়। ধর্ম-বিবাদ বা ধর্ম-বিভেদে নিরঞ্জন প্রাপ্তি ঘটে না। সত্তার সাধনায় তখন শব্দ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সত্তার প্রেম যদি ঠিক থাকে তবে যে শব্দেই তাকে ডাকা হোক না কেনো সেই শব্দেই তিনি ভক্তের দ্বারে এসে বাধা পড়েন।’

আলোচনা শেষে বাউল সম্রাট লালন সাঁইজির গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন ও সমীর বাউল। 

দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদর্শিত হয় বাউল সাধক উকিল মুন্সীর জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। পরে বাউল সাধক উকিল মুন্সীকে নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক রেজা। প্রবন্ধের শিরোনাম ‘গীতিকবি উকিল: মানবতীর্থের পরিব্রাজ’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী আকরামুল ইসলাম।

প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. তারেক রেজা উকিল মুন্সীকে নিয়ে তার প্রবন্ধে বলেন, ‘আষাঢ় মাইসা ভাসা পানি ও লিলুয়া বাতাস গান দুটি চমৎকার শিল্পসংহতি লাভ করেছে। হাওয়ার সঙ্গে কথোপকথনের ব্যাপারটিও এখানে পেয়েছে ভিন্নতর মাত্রা।’

আলোচনা শেষে উকিল মুন্সীর গান পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ মানিক ও রোকসানা আক্তার রুপসা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকাল ১০টায় চিত্রশিল্পী শফিউদ্দিন আমেদ ও আলোকচিত্রশিল্পী রশিদ তালুকদার স্মরণে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে সুরকার ও সংগীতপরিচালক সমর দাস এবং লোকশিল্পী ও সাধক মনমোহন দত্ত লবচন্দ্র স্মরণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/

রুষ্ট প্রকৃতিকে শান্ত করতে সংগীত-নৃত্য

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১১:১৪ পিএম
রুষ্ট প্রকৃতিকে শান্ত করতে সংগীত-নৃত্য
ছবি : সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় রিমালে বিপর্যস্ত বাংলার উপকূল। সমুদ্রতীরবর্তী গ্রামগুলো এখনো পানিবন্দি। পানিবন্দি হয়ে বিপাকে পড়েছেন নগরের বাসিন্দারা। এই রুষ্ট প্রকৃতিকে শান্ত করতে, শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যে প্রকৃতিবন্দনা করলেন শিল্পীরা। 

মঙ্গলবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় ছিল শিল্পকলা একাডেমির আয়োজিত শাস্ত্রীয়সংগীত ও নৃত্য উৎসবের চতুর্থ দিন। এদিন জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে আয়োজনের শুরুতে রাগনির্ভর সমবেত সংগীতে বাংলার ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য তুলে ধরেন অষ্টপ্রহরের শিল্পীরা। শহিদুজ্জামান স্বপনের কথা ও সুরে এ সংগীতায়োজন করেছেন বিনোদ রায়। 

আয়োজনের সংগীত-পর্বে মেরাজুল জান্নাত সোনিয়া পরিবেশন করেন রাগ ‘মুলতানি’। বিশ্বজিৎ জোদ্দার শোনান রাগ ‘বেহাগ’। চন্দ্র সাহা পরিবেশন করেন রাগ ‘কেদার’। টিংকু শীল পরিবেশন করেন রাগ ‘ভিন্ন ষড়জ’। সৌমিতা বৌস পরিবেশন করেন রাগ ‘মালকোষ’। ইয়াকুব আলী খান পরিবেশন করেন রাগ দরবারী।

এ সন্ধ্যায় মণিপুরী এবং ওড়িশী নৃত্যের যুগলবন্দি পরিবেশনায় ‘নৃত্যম নৃত্যশীলন কেন্দ্র’ পরিবেশন করে ‘তাণ্ডব-লাস্য’। সাত মাত্রার তেওড়া তালে আধারিত ‘তাণ্ডব- লাস্য’ নৃত্য প্রযোজনাটি প্রতিযোগিতামূলক আঙ্গিকে পরিবেশিত হয়। তেওড়া তালে ‘তাণ্ডব-লাস্য’ রচনা করেছেন গুরু বিপিন সিংহ। ওড়িশী নৃত্যভঙ্গি সংযোজন করেন তামান্না রহমান। 

‘তাণ্ডব’ পরিবেশনায় ছিলেন- মাহমুদুল হাসান রিপন, ঐন্দ্রিলা আকতার বীথি, নূরবানু মুক্তা এবং আরিবা ইবনাত ছোঁয়া। মণিপুরীতে ‘লাস্য’ অংশে মানোমী তানজানা অর্থী এবং ওড়িশী নৃত্যে তামান্না রহমান পারফর্ম করেন।

এদিন কত্থকে তাল দীপচণ্ডীতে ‘কৃষ্ণ বর্ণন’ পরিবেশন করেন ফিফা চাকমা। কত্থকে ধ্রুপদ পরিবেশন করেন মো. হানিফ। ‘সাংকারা আতি প্রাচান্দ্র’ শিরোনামের এই নৃত্য প্রযোজনাটি তাল চৌতালে নিবদ্ধ। কত্থকে ঐশী দাস একা পরিবেশন করেন শুদ্ধ নৃত্য তিনতাল এবং বিন্দাদীন মহারাজজীর রচিত ঠুমরি।

নৃত্য পর্বে শাস্ত্রীয় নৃত্য কত্থক পরিবেশনায় নৃত্যাঞ্চল মঞ্চস্থ করে ‘কৃষ্ণ বন্দনা’ এবং ‘তারানা’। 

রাগ হংসধ্বনি, তাল একতালিতে বেনজীর সালামের দল নৃত্যছন্দ শাস্ত্রীয় নৃত্য ওড়িশী পরিবেশনায় মঞ্চস্থ করে ‘হংসধ্বনি পল্লবী’। তাল ত্রিতাল ও রাগ মালকোষে কত্থক নৃত্য সম্প্রদায় পরিবেশন করে ‘তারানা’। ঠাট, আমোদ, তেহাই, টুকরা, পড়ন, সরগম ও লাড়ি- কত্থকের নানা আঙ্গিকে নির্মিত হয়েছে এই নৃত্য প্রযোজনা। প্রথমে বিলম্বিত লয়ে শুরু হয়ে, শেষে দ্রুত লয়ে শেষ হয় এ পরিবেশনা।

তাল তানচপ ও মেনকূপে প্রিয়াংকা সাহা মণিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন ‘রাধা অভিসার’।

রাগ হাংসানান্দানাম, তাল আদিতে নৃত্যবতী ভরতনাট্যম নৃত্যে চিত্রায়িত হয় রামায়ণের পৌরাণিক কাহিনি। রাম-সীতার প্রণয়লীলার সঙ্গে প্রজাপালক রাম ও তার রাজ্য শাসনের নানা কাহিনি বিধৃত হয় এই নৃত্যনাট্যে।

সবশেষে শিল্পকলা একাডেমির শাস্ত্রীয় সংগীত কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীরা পরিবেশন করেন রাগ ‘ভূপালি’।

শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের এই উৎসব আগামী ৩১ মে পর্যন্ত চলবে। উৎসবটি মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।

জয়ন্ত/এমএ/

 

শাস্ত্রীয় সংগীত-নৃত্যে প্রকৃতি ও জীবনের গল্প

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১১:০৩ এএম
শাস্ত্রীয় সংগীত-নৃত্যে প্রকৃতি ও জীবনের গল্প
শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত নৃত্য উৎসব। ছবি : খবরের কাগজ

বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় শাস্ত্রীয় সংগীতের উৎসবে পরিবেশিত হলো বর্ষার রাগ গৌড় মল্লার। কল্যাণ ঠাটে গুমোট প্রকৃতির কথা ধ্বনিত হলো রাগ শুদ্ধ কল্যাণে। এই সন্ধ্যায় শাস্ত্রীয় নৃত্য মণিপুরীতে প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের সংযোগের কথা তুলে ধরেন শিল্পীরা। ভরতনাট্যমে পৌরাণিক উপকথার পাশাপাশি কথকে যাপিত জীবনের চলচ্চিত্র এঁকেছেন শিল্পীরা।

সোমবার (২৭ মে) শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্য উৎসবের দ্বিতীয় দিনে একক, দলীয় পরিবেশনায় মুখর ছিল জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাব সত্ত্বেও বেশকিছু দর্শক আসেন শাস্ত্রীয় সংগীত, নৃত্য উপভোগ করতে।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

পরে সুইটি দাস চৌধুরীর দল ‘দীক্ষা’ পরিবেশন করে মণিপুরী নৃত্য প্রযোজনা ‘গতি’। মৃদঙ্গ ও ঢোল সহযোগে এই নৃত্য প্রযোজনায় প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের ছন্দোবদ্ধ জীবনের কথা উঠে আসে। প্রকৃতির সঙ্গে জীববৈচিত্র্যের সাযুজ্য ও নিজস্ব চলনভঙ্গি উপস্থাপিত হয় মণিপুরী নৃত্যের নানা আঙ্গিকে।

পূর্বি রাগে এবং আদি তালে ভরতনাট্যমে ‘তিল্লানা’ পরিবেশন করেন অমিত চৌধুরী। ভরতনাট্যম প্রান্তিক দেব পরিবেশন করেন কীর্তানাম ‘আনন্দ নাটানা প্রকাশম’। রাগ কেদার ও তাল মিশ্রতে প্রান্তিকের এই নৃত্য প্রযোজনা মূলত চিদাম্বরম মন্দিরে নটরাজ শিবের আনন্দ নৃত্য। 

আনিসুল ইসলাম হিরুর পরিচালনায় সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার পরিবেশন করে ভরতনাট্যম ‘তিল্লানা’।  

রাগ বাহার ও তাল তিনতালে কথক প্রযোজনা ‘ঋতু বসন্ত’ মঞ্চস্থ করেন মুনমুন আহমেদ ও তার দল রেওয়াজ পারফরমার্স স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বসন্তের এই সঙ রচনায় বর্ণিত হয়েছে ঋতুরাজ বসন্তের রূপবৈচিত্র্য। কথকের এই পরিবেশনায় টুকরা, পরন, তিহাই এবং গাৎ-এর নানা আঙ্গিক ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা। এই শিল্পীরা পরে রাগ কলাবতী ও তাল দ্রুত তিনতালে ‘তারানা’ পরিবেশন করেন। রাগ ইমন ও তাল তিনতালে কথকে ‘তারানা’ পরিবেশন করেন স্নাতা শাহরিন।

এদিন শাস্ত্রীয় সংগীতে অভিজিৎ কুণ্ডু পরিবেশন করেন রাগ শঙ্করা/মারবা। পাখোওয়াজে শিল্পীর সঙ্গে সঙ্গত করেন কুমার প্রতিবিম্ব। পূরবী ঠাটের অন্তর্ভুক্ত উত্তরাঙ্গ প্রধান রাগ পুরিয়াধানেশ্রী পরিবেশন করেন সাইফুল তানকার। তার সঙ্গে তবলায় ছিলেন সৈয়দ সাজিদ হোসেন।

মো. মিনহাজুল হাসান ইমন পরিবেশন করেন রাগ দেশ। তবলায় ছিলেন অনুপ বিশ্বাস। রাগ তিলোক কামোদ পরিবেশন করেন সুস্মিতা দেবনাথ শুচি। কল্যাণ ঠাটের রাগ শুদ্ধ কল্যাণ পরিবেশন করেন ড. শেখর মণ্ডল। কৌশিকধ্বনি রাগে ঠুমরি পরিবেশন করেন শেখ জসিম উদ্দিন কবির, তবলায় ছিলেন পল্লব সান্যাল। 

খাম্বাজ ঠাটে রাগ গৌড় মল্লার পরিবেশন করেন করিম শাহাবুদ্দিন, তবলায় ছিলেন পরশুরাম সরকার।

জয়ন্ত সাহা/পপি/অমিয়/

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হলো সেলিম আল দীনের নাটক ‘নিমজ্জন’

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১০:১০ এএম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হলো সেলিম আল দীনের নাটক ‘নিমজ্জন’
ছবি: খবরের কাগজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হলো বাংলা নব্য নাট্যধারার প্রবক্তা সেলিম আল দীনের গণহত্যাবিষয়ক বিখ্যাত নাটক ‘নিমজ্জন’।

সোমবার (২৭ মে) সন্ধ্যা ৭টায় থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের জিয়া হায়দার ল্যাবে নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হয়।

এর আগে রবিবার (২৬ মে) বিকেল ৫টায় একই স্থানে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয়।

নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্মাণ করেছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হীরক মুশফিক। 

বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রযোজনা হিসেবে নাটকটি মঞ্চায়ন করা হয়েছে।

নাটকের ঘটনাপ্রবাহে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘটমান গণহত্যা ও নৃশংসতার প্রত্যক্ষদর্শী আগন্তুক দীর্ঘকাল বিশ্বভ্রমণের পর এক অদ্ভুত শহরে আসেন পুরোনো বন্ধুর খোঁজে। অধ্যাপক বন্ধু, তার সহকর্মী, কবি এবং ছাত্রের সঙ্গে যখন দেখা হয় তখন শহরে চলতে থাকে একের পর এক নৃশংসতা। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে নাটকটি এমন এক পরিণতির দিকে যায়, যার মাধ্যমে আহ্বান জানানো হয় সুন্দর এক পৃথিবীর পথে চলার।

নির্দেশক হীরক মুশফিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশ-কাল-পাত্র নির্বিশেষে গণহত্যার প্রাচীন ইতিহাস থেকে বর্তমান অবধি নৃশংসতার যে অবয়ব, তা মানুষের জন্য বিশ্বময় কখনই কল্যাণকর ছিল না। নিমজ্জন তারই এক চাক্ষুস বয়ান। যত দিন নানান অজুহাতে গণহত্যা চলবে, তত দিন নিমজ্জনের প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র কমবে না। এমন একটি কঠিন টেক্সট মঞ্চায়নে বিভাগের শিক্ষার্থীরা যে শ্রম দিয়েছে উপস্থাপনায় তার প্রকাশ ঘটেছে।’

নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

কামরুজ্জামান মিন্টু/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

শাস্ত্রীয় সংগীত-নৃত্যের যুগলবন্দিতে শিল্পকলায় ৪ দিনব্যাপী উৎসব

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম
শাস্ত্রীয় সংগীত-নৃত্যের যুগলবন্দিতে শিল্পকলায় ৪ দিনব্যাপী উৎসব
ছবি : খবরের কাগজ

গৌড়ীয় নৃত্যে বন্দিত হলেন দেবী সরস্বতী, ভরতনাট্যমে বর্ণিত হলো দ্বাপর যুগ; কথকে চিত্রিত হলো ভারতের লোকজ জীবন। ওড়িশি নৃত্যে স্রষ্টা চরণে শিল্পীর নিজেকে সমর্পণের দৃশ্যও মঞ্চস্থ হলো। একই মঞ্চে রাগ মারু বেহাগ, রাগ বাগ্রেশী, রাগ ইমনের পরিবেশনায় শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট করে রাখলেন এই প্রজন্মের শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীরা। 

শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের অপূর্ব যুগলবন্দিতে রবিবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় শুরু হয়েছে ১৬শ শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্য উৎসব। 

চার দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে গতকাল প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক আফতাবউদ্দিন হাবলু।

শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির শিশু-কিশোর সংগীত দল পরিবেশন করে। পরে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল ও প্রশিক্ষণার্থীরা পরিবেশন করেন সমবেত নৃত্য ‘নৃত্যাঞ্জলি’। নৃত্য পরিচালনা করেন বর্নালী মহন্ত, সাজু আহমেদ, বেনজির সালাম, অমিত চৌধুরী এবং র‍্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস। 

শাস্ত্রীয় ও নৃত্য উৎসবের প্রথম দিনের আসরে গৌড়ীয় নৃত্যে ‘সরস্বতী বন্দনা’ পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক র‍্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস। রাগমালা ও তালগুচ্ছতে তিনি বন্দনা করেন জ্ঞানের দেবী সরস্বতীকে। এই নৃত্যে তিনি মাটির সরা ও চামর ব্যবহার করেন। মাটির সরায় বোঝানো হয়েছে ধরিত্রীকে, পঞ্চভূতকে পবিত্র করা হয় চামর দিয়ে। 

পাখোয়াজ অঙ্গের ১৪ মাত্রার তাল ধামারে কথক নৃত্য মেলবন্ধন পরিবেশনা করেন শিল্পী এস এম হাসান ইশতিয়াক ইমরান।

রাগ আটানা এবং তাল আদিতে মারিয়া ফারিহ্ উপমা পরিবেশন করেন ভরতনাট্যম ‘কৃত্তানাম’। রাগ ভৈরবী ও তাল একতালিতে তজিম চাকমা পরিবেশন করেন ওড়িশি নৃত্য প্রযোজনা ‘মোক্ষ’। চেম্পাটা, ত্রিপুটা, ঝাম্পা এবং পাঞ্চারী- এই চার তালে কথাকলিতে ‘তোডায়াম’ পরিবেশন করেন মো. রোমন ইসলাম। 

মণিপুরী নৃত্যে ‘পুং চলন’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ মণিপুরি নটপালা সংগঠন। র‍্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিসের নৃত্য প্রযোজনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ গৌড়ীয় নৃত্য একাডেমিতে। 

আলোচনা পর্বের পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। রাগ ইমন পরিবেশন করেন সুপ্রিয়া দাশ। অসিত কুমার দে পরিবেশন করেন রাগ- মারু বেহাগ; কানিজ হুসনা আহম্মাদী পরিবেশন করেন রাগ বাগেশ্রী, খাম্বাজ ঠাটে অনিল কুমার সাহা পরিবেশন করেন রাগেশ্রী। শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন রেজওয়াদুল হক ও ড. প্রদীপ নন্দী।