ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

ছায়ানটে তিন দিনব্যাপী নজরুল উৎসব

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:৩০ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৪, ০৭:৩০ পিএম
ছায়ানটে তিন দিনব্যাপী নজরুল উৎসব
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছায়ানট আয়োজন করতে চলেছে তিন দিনব্যাপী নজরুল উৎসব। আগামী শুক্রবার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে শুরু হবে এই উৎসব। কথা, সঙ্গীত, নৃত্য, পাঠ, আবৃত্তি পরিবেশনায় সাজানো হয়েছে তিনদিনের বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়োজ। এ ছাড়াও প্রতিদিন থাকবে গ্রন্থিত আয়োজন।

মঙ্গলবার (২১ মে) বিকেলে ছায়ানট ভবনে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা। তার সঙ্গে ছিলেন সহ সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায়।

লাইসা আহমদ লিসা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় দিনের আয়োজনে বিশেষ বক্তা হিসেবে থাকবেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। এদিন সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে খায়রুল আনাম শাকিল গ্রন্থিত ‘নজরুল সৃষ্ট নবরাগ সহযোগে আলেখ্য’। দ্বিতীয় দিন শনিবার সন্‌জীদা খাতুনের গ্রন্থনায় গীতি-আলেখ্য ‘সজল শ্যাম ঘন দেয়া’ পরিবেশিত হবে।

তৃতীয় দিন রবিবার সন্ধ্যার আয়োজনে ছায়ানট ‘নজরুলসঙ্গীত: তথ্য, ভাব ও সুরসন্ধান’ গ্রন্থ প্রকাশ করবে। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ভাবসন্ধান নিয়ে কথা বলবেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী এবং গ্রন্থ থেকে গানের ভাবসন্ধান নিয়ে গীতি-আলেখ্য ‘অন্তরে তুমি আছো চিরদিন’ পরিবেশিত হবে। ‘নজরুলসঙ্গীত: তথ্য, ভাব ও সুরসন্ধান’ গ্রন্থে কাজী নজরুল ইসলামের ৫০টি গানের ভাবসন্ধান, সুরসন্ধান ও তথ্যসন্ধান করা হয়েছে। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন মফিদুল হক, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সনজীদা খাতুন।

তিনদিনের নজরুল উৎসবে ছায়ানটের শিল্পীদের পাশাপাশি সারাদেশ থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনাও থাকবে।

লাইসা আহমদ লিসা লিখিত বক্তব্যে বলেন, সৃষ্টিশীলতার বিপুল ঐশ্বর্যে নজরুল ইসলাম আমাদের মধ্যে বর্তমান হয়ে উপস্থিত থাকেন। তাইতো আমাদের প্রয়োজনে তিনি বার বার ফিরে ফিরে আসেন আমাদের মধ্যে। তার প্রেরণাতেই আমরা শিকল পরে শিকলকে বিকল করি, বাঁধন প’রেই বাঁধন-ভয়কে জয় করি, আপনি ম’রে বরাভয়কে বরণ করি। নজরুল উৎসবে মানবতার জয়গান গাইব আমরা।

জয়ন্ত/এমএ/

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৮৯তম জন্মদিন উদযাপিত

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:৪৯ এএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৮৯তম জন্মদিন উদযাপিত
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

নিতান্ত সাদামাটা আয়োজনে উদযাপিত হলো দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৮৯তম জন্মদিন।

রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বাসায় তাকে শ্রদ্ধা-শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন তার ছাত্র, অনুরাগী এবং বামধারার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। 

তাদের ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হন  অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তার ব্যক্তিগত সহকারী মযহারুল ইসলাম বাবলা জানান, রবিবার (গতকাল) বিকেলে বাম নেতারা ধানমন্ডির বাসভবনে আসেন। স্যারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তারা। দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক হালহকিকত নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে বাম নেতাদের সঙ্গে।

রবিবার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানাতে যান সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। এ ছাড়া বাসদ ও বাসদ-মার্কসবাদীর বেশ কজন নেতাও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

বাবলা জানান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ২৯ জুন শনিবার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শুভেচ্ছা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে তিনি ‘ফিরে দেখা’ নামে একটি আত্মজৈবনিক বক্তব্য দেবেন। 

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জন্ম মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে। শৈশব কেটেছে রাজশাহীতে ও কলকাতায় বাবার চাকরি সূত্রে। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল, নটর ডেম কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের লিডস ও লেস্টার ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে উচ্চতর গবেষণাও করেছেন। 

পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৫৭ সালে। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিতে সমান সক্রিয় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। প্রবন্ধ, অনুবাদ, কলাম ও কথাসাহিত্য মিলিয়ে তার রচিত বই প্রায় ১১০টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় তিনি ‘মাসিক পরিক্রমা’ (১৯৬০-৬২), ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকা’ (১৯৭২), ‘ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্র’ (১৯৮৪) সম্পাদনা করেছেন। ‘নতুন দিগন্ত’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করছেন এখনো। ১৯৯৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সাহিত্যকর্মে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বাংলা একাডেমি স্বর্ণপদক’, ‘বিচারপতি ইব্রাহিম পুরস্কার’, ‘অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার’, ‘বেগম জেবুন্নেসা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কার’সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা তিনি পেয়েছেন।

আবৃত্তিশিল্পী মাসুদুজ্জামানের সাতরঙ্গ দুপুরের কাব্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:১০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:১০ এএম
আবৃত্তিশিল্পী মাসুদুজ্জামানের সাতরঙ্গ দুপুরের কাব্য
ছবি: সংগৃহীত

আবৃত্তিশিল্পী মাসুদুজ্জামানের একক আবৃত্তি পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডের নাটক সরণির বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তন ছিল দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ। 

মাসুদুজ্জামান একে একে ২৭টি কবিতা আবৃত্তি করলেন দর্শকপূর্ণ মিলনায়তনে। মঞ্চসজ্জা, আলোক সম্পাত, শব্দ প্রক্ষেপণ ও আবহ সংগীত এ কবিতাসন্ধ্যাকে প্রাণময় করে তোলে। একেকটি কবিতা মাসুদুজ্জামানের আবৃত্তির মধ্য দিয়ে দর্শক-শ্রোতার মনকে উদ্বেলিত করেছে। দিয়েছে মুগ্ধতার পরশ। 

আবৃত্তিকার মাসুদুজ্জামান স্রোত আবৃত্তি সংসদের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে তিনি আবৃত্তিচর্চায় যুক্ত আছেন এই সংগঠনে।

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরসহ দেশের গুণী আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিকজনরা এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মোংলায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
মোংলায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

মোংলায় নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৩তম মৃত্যবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (২১ জুন) সকালে রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কবির গ্রামের বাড়ি উপজেলার মিঠাখালী বাজার প্রদক্ষিণ করে তার কবরস্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কবির কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ সময় কবির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনসহ দোয়া করা হয়। এ ছাড়া মসজিদে কোরআন খতম ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও রুদ্রের গড়া সংগঠন অন্তর বাজাও-এর শিল্পীরা রুদ্রের গানের আয়োজন করেছে।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর স্মরণসভায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের রুদ্রের অনুজ সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল, মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মোংলা শাখার সভাপতি নূর আলম শেখ, রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশিত হয়।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস মোংলার সাহেবের মেঠ গ্রামে। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি। এ বছর তিনি একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন। শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি।

মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুর দিয়েছেন। 

পরবর্তী সময়ে এ গানটির জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি তাকে ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা দেন। 

‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দুইবার ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার’ পান। 

রিফাত আল মাহামুদ/সাদিয়া নাহার/

কবি অসীম সাহার প্রয়াণ: বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন আজ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
কবি অসীম সাহার প্রয়াণ: বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন আজ

সমকালীন বাংলা কবিতায় মেহনতি মানুষের প্রতিচ্ছবি এঁকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর হয়েছিলেন কবি অসীম সাহা। তার কবিতায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। গণমানুষের সেই কবি অসীম সাহা গত মঙ্গলবার দুপুরে চিরবিদায় নিয়েছেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। রেখে গেছেন সহধর্মিণী অঞ্জনা সাহা ও তার দুই ছেলে অভ্র সাহা, অর্ঘ্য সাহাসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, স্বজন ও অনুরাগী। গত ২১ মে থেকে তিনি এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, পারকিনসনসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে অসীম সাহাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ বিষয়ে কবির ছোট ছেলে অর্ঘ্য সাহা বলেন, হাসপাতালের হিমঘরে থাকা বাবার শবদেহ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। শেষকৃত্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবা তার মরদেহ দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন। এ বিষয়ে আমারও সমর্থন রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। আমার বড় ভাই অভ্র সাহা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বুধবার রাতে দেশে ফেরার পর তার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’ 

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। পিতৃপুরুষের ভিটা মানিকগঞ্জের তেওতা গ্রাম হলেও শিক্ষক বাবা অখিল বন্ধু সাহার কলেজের চাকরিসূত্রে তারা থাকতেন মাদারীপুরে। মাদারীপুরের নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। অসীম সাহার লেখালেখি শুরু ১৯৬৪ সালে। ঢাকার পত্রিকায় ছোটদের জন্য লেখা ছাপা হয় ১৯৬৫ সালে। সেই থেকে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, কিশোর কবিতা, গান রচনা করে গেছেন তিনি। এ পর্যন্ত কবির ৩০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ‘পূর্ব-পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়’, ‘কালো পালকের নিচে’, ‘পুনরুদ্ধার’, ‘উদ্বাস্তু’, ‘মধ্যরাতের প্রতিধ্বনি’, ‘অন্ধকারে মৃত্যুর উৎসব’, ‘মুহূর্তের কবিতা’, ‘সৌর-রামায়ণ’, ‘কবর খুঁড়ছে ইমাম’, ‘প্রেমপদাবলি’, ‘পুরোনো দিনের ঘাসফুল’ তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই। 

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান অসীম সাহা। ২০১৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। কবিতার পাশাপাশি প্রবন্ধ-গবেষণা, অভিধানচর্চা এবং কাব্য অনুবাদেও তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহার মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার শোক বার্তায় তিনি বলেন, অসীম সাহার মৃত্যুতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। অসীম সাহার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান।

কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫২ এএম
কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ
কবি সুফিয়া কামাল

দেশে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ মহীয়সী নারী কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ (২০ জুন)। ‘জননী সাহসিকা’ খ্যাত এই কবি ১৯১১ সালের আজকের দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় মারা যান।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সংগঠনের সুফিয়া কামাল ভবনে (১০, বি/১,  সেগুনবাগিচা, ঢাকা) কবির প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। অনুষ্ঠানে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতারা, সম্পাদকমণ্ডলী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলো এবং একাত্তরের ডায়েরি তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ। সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পদক, বেগম রোকেয়া পদক, সোভিয়েত লেনিন পদক ও জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার।

সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। 

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, কবি সুফিয়া কামাল রচিত সাহিত্যকর্ম নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে। কবির জীবন ও আদর্শ এবং তার কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, কালজয়ী কবি বেগম সুফিয়া কামালের জীবন ও দর্শন এবং সাহিত্যকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পাঠকের হৃদয় আলোকিত করবে। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা ও প্রতিজ্ঞা কবি সুফিয়া কামালের জীবনে সঞ্চারিত হয় ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।