ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

শাস্ত্রীয় সংগীত-নৃত্যের যুগলবন্দিতে শিল্পকলায় ৪ দিনব্যাপী উৎসব

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:৩৮ পিএম
শাস্ত্রীয় সংগীত-নৃত্যের যুগলবন্দিতে শিল্পকলায় ৪ দিনব্যাপী উৎসব
ছবি : খবরের কাগজ

গৌড়ীয় নৃত্যে বন্দিত হলেন দেবী সরস্বতী, ভরতনাট্যমে বর্ণিত হলো দ্বাপর যুগ; কথকে চিত্রিত হলো ভারতের লোকজ জীবন। ওড়িশি নৃত্যে স্রষ্টা চরণে শিল্পীর নিজেকে সমর্পণের দৃশ্যও মঞ্চস্থ হলো। একই মঞ্চে রাগ মারু বেহাগ, রাগ বাগ্রেশী, রাগ ইমনের পরিবেশনায় শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট করে রাখলেন এই প্রজন্মের শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীরা। 

শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্যের অপূর্ব যুগলবন্দিতে রবিবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় শুরু হয়েছে ১৬শ শাস্ত্রীয় সংগীত ও নৃত্য উৎসব। 

চার দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে গতকাল প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক আফতাবউদ্দিন হাবলু।

শুরুতে শিল্পকলা একাডেমির শিশু-কিশোর সংগীত দল পরিবেশন করে। পরে শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদল ও প্রশিক্ষণার্থীরা পরিবেশন করেন সমবেত নৃত্য ‘নৃত্যাঞ্জলি’। নৃত্য পরিচালনা করেন বর্নালী মহন্ত, সাজু আহমেদ, বেনজির সালাম, অমিত চৌধুরী এবং র‍্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস। 

শাস্ত্রীয় ও নৃত্য উৎসবের প্রথম দিনের আসরে গৌড়ীয় নৃত্যে ‘সরস্বতী বন্দনা’ পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক র‍্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিস। রাগমালা ও তালগুচ্ছতে তিনি বন্দনা করেন জ্ঞানের দেবী সরস্বতীকে। এই নৃত্যে তিনি মাটির সরা ও চামর ব্যবহার করেন। মাটির সরায় বোঝানো হয়েছে ধরিত্রীকে, পঞ্চভূতকে পবিত্র করা হয় চামর দিয়ে। 

পাখোয়াজ অঙ্গের ১৪ মাত্রার তাল ধামারে কথক নৃত্য মেলবন্ধন পরিবেশনা করেন শিল্পী এস এম হাসান ইশতিয়াক ইমরান।

রাগ আটানা এবং তাল আদিতে মারিয়া ফারিহ্ উপমা পরিবেশন করেন ভরতনাট্যম ‘কৃত্তানাম’। রাগ ভৈরবী ও তাল একতালিতে তজিম চাকমা পরিবেশন করেন ওড়িশি নৃত্য প্রযোজনা ‘মোক্ষ’। চেম্পাটা, ত্রিপুটা, ঝাম্পা এবং পাঞ্চারী- এই চার তালে কথাকলিতে ‘তোডায়াম’ পরিবেশন করেন মো. রোমন ইসলাম। 

মণিপুরী নৃত্যে ‘পুং চলন’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ মণিপুরি নটপালা সংগঠন। র‍্যাচেল প্রিয়াঙ্কা প্যারিসের নৃত্য প্রযোজনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ গৌড়ীয় নৃত্য একাডেমিতে। 

আলোচনা পর্বের পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। রাগ ইমন পরিবেশন করেন সুপ্রিয়া দাশ। অসিত কুমার দে পরিবেশন করেন রাগ- মারু বেহাগ; কানিজ হুসনা আহম্মাদী পরিবেশন করেন রাগ বাগেশ্রী, খাম্বাজ ঠাটে অনিল কুমার সাহা পরিবেশন করেন রাগেশ্রী। শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন রেজওয়াদুল হক ও ড. প্রদীপ নন্দী।

আবৃত্তিশিল্পী মাসুদুজ্জামানের সাতরঙ্গ দুপুরের কাব্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:১০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:১০ এএম
আবৃত্তিশিল্পী মাসুদুজ্জামানের সাতরঙ্গ দুপুরের কাব্য
ছবি: সংগৃহীত

আবৃত্তিশিল্পী মাসুদুজ্জামানের একক আবৃত্তি পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডের নাটক সরণির বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তন ছিল দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ। 

মাসুদুজ্জামান একে একে ২৭টি কবিতা আবৃত্তি করলেন দর্শকপূর্ণ মিলনায়তনে। মঞ্চসজ্জা, আলোক সম্পাত, শব্দ প্রক্ষেপণ ও আবহ সংগীত এ কবিতাসন্ধ্যাকে প্রাণময় করে তোলে। একেকটি কবিতা মাসুদুজ্জামানের আবৃত্তির মধ্য দিয়ে দর্শক-শ্রোতার মনকে উদ্বেলিত করেছে। দিয়েছে মুগ্ধতার পরশ। 

আবৃত্তিকার মাসুদুজ্জামান স্রোত আবৃত্তি সংসদের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে তিনি আবৃত্তিচর্চায় যুক্ত আছেন এই সংগঠনে।

সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরসহ দেশের গুণী আবৃত্তিশিল্পী ও সাংস্কৃতিকজনরা এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মোংলায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
মোংলায় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

মোংলায় নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ৩৩তম মৃত্যবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে শুক্রবার (২১ জুন) সকালে রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে একটি শোক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কবির গ্রামের বাড়ি উপজেলার মিঠাখালী বাজার প্রদক্ষিণ করে তার কবরস্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কবির কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রুদ্র স্মৃতি সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ সময় কবির কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনসহ দোয়া করা হয়। এ ছাড়া মসজিদে কোরআন খতম ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও রুদ্রের গড়া সংগঠন অন্তর বাজাও-এর শিল্পীরা রুদ্রের গানের আয়োজন করেছে।

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর স্মরণসভায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের রুদ্রের অনুজ সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল, মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মোংলা শাখার সভাপতি নূর আলম শেখ, রুদ্র স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। 

স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশিত হয়।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস মোংলার সাহেবের মেঠ গ্রামে। ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি। এ বছর তিনি একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন। শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি।

মাত্র ৩৫ বছরের (১৯৫৬-১৯৯১) জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুর দিয়েছেন। 

পরবর্তী সময়ে এ গানটির জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি তাকে ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা দেন। 

‘উপদ্রুত উপকূল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য ‘সংস্কৃতি সংসদ’ থেকে পরপর দুইবার ‘মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার’ পান। 

রিফাত আল মাহামুদ/সাদিয়া নাহার/

কবি অসীম সাহার প্রয়াণ: বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন আজ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
কবি অসীম সাহার প্রয়াণ: বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন আজ

সমকালীন বাংলা কবিতায় মেহনতি মানুষের প্রতিচ্ছবি এঁকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর হয়েছিলেন কবি অসীম সাহা। তার কবিতায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। গণমানুষের সেই কবি অসীম সাহা গত মঙ্গলবার দুপুরে চিরবিদায় নিয়েছেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। রেখে গেছেন সহধর্মিণী অঞ্জনা সাহা ও তার দুই ছেলে অভ্র সাহা, অর্ঘ্য সাহাসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, স্বজন ও অনুরাগী। গত ২১ মে থেকে তিনি এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, পারকিনসনসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে অসীম সাহাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ বিষয়ে কবির ছোট ছেলে অর্ঘ্য সাহা বলেন, হাসপাতালের হিমঘরে থাকা বাবার শবদেহ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। শেষকৃত্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবা তার মরদেহ দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন। এ বিষয়ে আমারও সমর্থন রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়। আমার বড় ভাই অভ্র সাহা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বুধবার রাতে দেশে ফেরার পর তার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’ 

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। পিতৃপুরুষের ভিটা মানিকগঞ্জের তেওতা গ্রাম হলেও শিক্ষক বাবা অখিল বন্ধু সাহার কলেজের চাকরিসূত্রে তারা থাকতেন মাদারীপুরে। মাদারীপুরের নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করে ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। অসীম সাহার লেখালেখি শুরু ১৯৬৪ সালে। ঢাকার পত্রিকায় ছোটদের জন্য লেখা ছাপা হয় ১৯৬৫ সালে। সেই থেকে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছড়া, কিশোর কবিতা, গান রচনা করে গেছেন তিনি। এ পর্যন্ত কবির ৩০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ‘পূর্ব-পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়’, ‘কালো পালকের নিচে’, ‘পুনরুদ্ধার’, ‘উদ্বাস্তু’, ‘মধ্যরাতের প্রতিধ্বনি’, ‘অন্ধকারে মৃত্যুর উৎসব’, ‘মুহূর্তের কবিতা’, ‘সৌর-রামায়ণ’, ‘কবর খুঁড়ছে ইমাম’, ‘প্রেমপদাবলি’, ‘পুরোনো দিনের ঘাসফুল’ তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই। 

বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান অসীম সাহা। ২০১৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। কবিতার পাশাপাশি প্রবন্ধ-গবেষণা, অভিধানচর্চা এবং কাব্য অনুবাদেও তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহার মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার শোক বার্তায় তিনি বলেন, অসীম সাহার মৃত্যুতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। অসীম সাহার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজাহার খান।

কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫২ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৫২ এএম
কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ
কবি সুফিয়া কামাল

দেশে ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত’ মহীয়সী নারী কবি সুফিয়া কামালের ১১৩তম জন্মবার্ষিকী আজ (২০ জুন)। ‘জননী সাহসিকা’ খ্যাত এই কবি ১৯১১ সালের আজকের দিনে বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় মারা যান।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সংগঠনের সুফিয়া কামাল ভবনে (১০, বি/১,  সেগুনবাগিচা, ঢাকা) কবির প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। অনুষ্ঠানে মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতারা, সম্পাদকমণ্ডলী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলো এবং একাত্তরের ডায়েরি তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ। সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পদক, বেগম রোকেয়া পদক, সোভিয়েত লেনিন পদক ও জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার।

সুফিয়া কামালের জন্মদিন উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। 

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, কবি সুফিয়া কামাল রচিত সাহিত্যকর্ম নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে। কবির জীবন ও আদর্শ এবং তার কালোত্তীর্ণ সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, কালজয়ী কবি বেগম সুফিয়া কামালের জীবন ও দর্শন এবং সাহিত্যকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পাঠকের হৃদয় আলোকিত করবে। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা ও প্রতিজ্ঞা কবি সুফিয়া কামালের জীবনে সঞ্চারিত হয় ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

কবি অসীম সাহা আর নেই

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৪:৫৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৪, ০৫:১১ পিএম
কবি অসীম সাহা আর নেই
অসীম সাহা

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। 

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালেয় (বিএসএমএমইউ) তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

কবির মরদেহ হাসপাতালেই রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কবি অসীম সাহা। চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন, বিষণ্নতায় ভুগছেন কবি। এছাড়া পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিস ছিল তার।

অসীম সাহা ১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোণা জেলায় তার মামারবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার বাড়ি মাদারীপুর। তার বাবা অখিলবন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক। 

অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ২০১১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করেন।

তাছাড়া, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৩), ময়মনসিংহ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফোরাম সম্মাননা (২০০৯), সাতক্ষীরা জাতীয় কবিতা পরিষদ কবিসম্মাননা (২০১০), কবিতাবাংলা কবিসম্মাননা (২০১০), বিন্দুবিসর্গ কবিসম্মাননা (২০১১), শৃন্বন্তু কবিসম্মাননা (কোলকাতা) (২০১১), দিকচিহ্ন কবিসম্মাননা (২০১১), কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর কবিসম্মাননা (২০১১), শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পুরস্কার (২০১২), কবিতালাপ পুরস্কার (২০১২) পুরস্কারে ভূষিত হন।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- পূর্ব-পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায়, কালো পালকের নিচে, পুনরুদ্ধার, উদ্বাস্তু, মধ্যরাতের প্রতিধ্বনি, অন্ধকারে মৃত্যুর উৎসব, মুহূর্তের কবিতা ইত্যাদি।

অমিয়/