কয়েক বছর ধরেই দেবে যাচ্ছে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থান। এর ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু এবং শেষে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। ভাঙন স্থানে অস্থায়ী বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সরকারি কার্যক্রম। এদিকে শহরের যমুনা রোড এলাকায় মেঘনার তীব্র স্রোতে বাঁধের ৫৬ মিটার জায়গার সিমেন্ট কংক্রিট (সিসি) ব্লক ধসে পড়েছে। এতে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি এখন ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে।
গত সোমবার বিকেল থেকে ব্লক ধস শুরু হয়। মঙ্গলবার (৩১ অকেটাবর) সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সিসি ব্লক ক্রমশ ধসে পড়ছে। এর আগেও একবার যমুনা রোডের টিলাবাড়ির সামনে ব্লক দেবে গিয়েছিল। সেখানে এখনো ভাঙনআতঙ্ক বিরাজ করছে। এর মধ্যেই ওই এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয়রা দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বরকত মিয়াজী বলেন, ‘এই বছর বর্ষার শুরু থেকে এখানে প্রবল স্রোত বইছে। যমুনা রোড এলাকার বাঁধটি খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এখানে শতাধিক ঘর আছে, দেবে গেলে সব শেষ। এত মানুষ কোথায় যাবে? এখানে স্থায়ী বাঁধ হলে ঝুঁকি থাকবে না।’
এদিকে গত ১২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৮২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এ কাজ শুরু হবে। শহর রক্ষা প্রকল্পের মেঘনার ভাঙনের মুখে ৩ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার নদীর তীর ব্লক বেষ্টন করে পুরো শহরকেই ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে বলে জানান চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শহরের যমুনা রোডের বকুলতলা এলাকায় হঠাৎ করেই নদীর পাড় দেবে যেতে দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সঙ্গে সঙ্গেই সেটা রোধে কাজ শুরু করে। এর মধ্যে ১৫শ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। দুটি বাল্কহেডে নিয়মিত ডাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাড় দেবে যাওয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এই এলাকা ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। এখানে আর কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পূর্বাঞ্চল কুমিল্লার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর পৌর সার্কেল (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মো. আবুল খায়ের, চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম।
এমএ/এআর