চট্টগ্রাম কাস্টমসে দুই লটে কমলা ও আদার নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী সোমবার (১৩ নভেম্বর)। মোট চার লটে ২১ হাজার ৬০০ কেজি করে দুটি লটে ফ্রেস কমলা রয়েছে। অপরদিকে ২২ হাজার ১০০ কেজি ও ২৩ হাজার ৯০৮ কেজি ওজনের দুই লটে আদা রয়েছে।
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বিকালে চারটি লটের প্রকাশ্যে নিলামের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার মাহফুজ আলম।
তিনি জানান, ২৩ হাজার ৯০৮ কেজি ওজনের আদার সংরক্ষিত মূল্য রয়েছে ২৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৩ টাকা। যা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের জিএসআর ইন্টারন্যাশনাল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করেছিল। এ চালান এ বছরের ৪ আগস্ট বন্দরের রিমুভাল লিস্ট (আরএল) ভুক্ত করেন।
অপর লটে, ২২ হাজার ১০০ কেজি আদা ঢাকার সূত্রাপুরের সিকদার ভেনশারস ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করেছিল। যা চলতি বছরের ৩০ আগস্ট আরএল ভুক্ত করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। যার সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৮ লাখ ৮৭ হাজার ১৮ টাকা।
এদিকে, এক চালানে ২১ হাজার ৬০০ কেজি; অপর চালানে ২১ হাজার ৬০০ কেজির ফ্রেস কমলা সাউথ আফ্রিকা থেকে আমদানি করে ঢাকার দেশবাংলা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। এ দুই চালানই চট্টগ্রাম বন্দরের আরএল ভুক্ত হয় এ বছরের ১০ অক্টোবর। দুই চালানের আলাদাভাবেই সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৬ লাখ ২ হাজার ৩৮৯ টাকা।
কাস্টমসের নিয়ম অনুযায়ী, সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য নিলামে বিক্রি করার বিধান রয়েছে।
কাস্টমসের নিলাম পরিচালনাকারী সংস্থা কেএম করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ খবরের কাগজকে বলেন, প্রচলিত দরপত্রের ক্যাটালগ অনুযায়ী একটি ব্যাংক ড্রাফটসহ টেন্ডার বাক্সে সংরক্ষিত মূল্যের ১০ শতাংশ জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতা বাছাইয়ের পর দরপত্রের ২০ শতাংশ কাস্টমসের কাছে জমা দিতে হবে। বাকি টাকা পরিশোধের পর বন্দর থেকে পণ্য ছাড় করা হবে।
বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্য আমদানিকারকরা নানা কারণে বন্দর থেকে খালাস করে না। চোরাচালান, জালিয়াতি, মিথ্যা ঘোষণা, শুল্ক ফাঁকিসহ বিভিন্ন কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাস স্থগিত করে। নিয়মানুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে চালান খালাস না করলে এসব আমদানি পণ্য নিলামে তোলার নিয়ম রয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের জন্য নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশের ১৫ দিন পর কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ পণ্যচালান নিলামে তোলে।
আবদুস সাত্তার/জোবাইদা/অমিয়/