ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলির’ প্রভাবে ফেনীতে বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আর এতেই মাঠের আমন ধান ও শীতকালীন সবজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে খেতে পাকা ধানের সঙ্গে কৃষকের স্বপ্ন এখন দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ফেনীতে ৬৬ হাজার ৭৫২ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত জেলায় মাত্র ৫ শতাংশ ধান কৃষকের ঘরে উঠেছে।
সোনাগাজীর চর অঞ্জুমান গ্রামের কৃষক জাফর আহাম্মদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ধান কাটছি কিছু ধান বাড়িতে এনেছি আর কিছু ধান বৃষ্টির কারণে বাড়িতে আনতে পারছিনা। এখন বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছি। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে মনে হয় ধান আর গড়ে তুলতে পারব না।
সোনাগাজী মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার কৃষক আব্দুল কাইয়ুম জানায়, ধান কাটার সময় হয়েছে। দু'একদিনের মধ্যে ধান কাটার কথা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে তাই ধান কাটা বন্ধ করেছি। যদি বৃষ্টির পানির নিচে তলিয়ে যায় অনেক বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।
কৃষক মানিক বলেন, বৃষ্টি না হলে আজ থেকে ধান কাটা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল রাতে ২০ শতকের বেশি জমির পাকা ধান বাতাসে নুয়ে পড়েছে। একদম ঘর তোলার মুহূর্তে এমন ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠব জানিনা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, যেসব ধান এখনো কাটা হয়নি, বাতাস না হলে সেগুলোতে তেমন প্রভাব পড়বেনা। তবে টানা বৃষ্টি হলে মাঠে থাকা কাটা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতোমধ্যে দ্রুত যেন কাটা ধানগুলো ঘরে তোলা যায় সে বিষয়ে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. একরাম উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি।
ফেনী আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, ফেনীতে বৃহস্পতিবার থেকে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও রাত থেকে বৃষ্টিপাতের বেগ বাড়তে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া উপকূলে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম করার সাথে সাথে তীব্র বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফেনীর উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। চার ইউনিয়ন, বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়ের জন্য ৪৪টি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, ১২টি মেডিকেল টিম এবং ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান। এছাড়াও সরকারী কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এআর