চট্টগ্রামের বায়েজিদের রৌফবাদ এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন হেলে পড়েছে। এতে আশপাশের মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুই ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১০০ পরিবারকে। ঘটনাস্থল থেকে বাসিন্দাদের উদ্ধারকাজ চালায় বায়েজিদ থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। ভবনের পেছনে খাল খননের কাজ চলমান থাকায় দুটি কলাম সরে যাওয়ায় ভবনটি হেলে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আল ইসলাম রকি খবরের কাগজকে জানান, তিন মাস ধরে শীতলঝরনা খালের খননকাজ চলছে। এক সপ্তাহ ধরে তৈয়্যবিয়া হাউজিং সোসাইটির তাহেরিয়া ভবনের পেছনে খননকাজ চালাচ্ছে। এই ভবনের মালিক মো. লোকমান। শনিবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ছয়তলাবিশিষ্ট তাহেরিয়া ভবনটি ধীরে ধীরে পাশের খোরশেদ ম্যানসনের ওপর হেলে পড়ে, ৭টার দিকে ভবনটির সঙ্গে লেগে যায়। খোরশেদ ম্যানসনের মালিক খোরশেদ আলম। এর পর থেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও ফায়ার সাভিসের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দিতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাহেরিয়া ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে চারটি করে মোট ১৬টি এবং গ্রাউন্ড ফ্লোরে দুটিসহ মোট ১৮টি পরিবার রয়েছে। অন্যদিকে চারতলাবিশিষ্ট খোরশেদের ভবনে রয়েছে আটটি পরিবার।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লে. কর্নেল শাহ আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজটি শুরু হয়েছে। জায়গা না ছেড়েই মো. লোকমান ভবন নির্মাণ করেছেন। জিরোলাইন বরাবর ভবন নির্মাণ করার কারণে সেখানে শিট ফাইল করে নির্মাণকাজ করার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু ভবন মালিক তাতে রাজি হননি। কাজ করার জন্য তিনি কোনো স্পেস দিতে রাজি না হওয়ায় আমরা খালের ভেতরেই কাজ শুরু করি। শনিবার তার ভবনের দুটি কলাম সরে গেছে। যে কারণে ভবনটি এক পাশে হেলেছে। কাজ শুরু করার আগে তিনি এও বলেছিলেন, ভবনের কোনো সমস্যা হলেও তার দায় তিনি নেবেন। তাই এখন আমাদের বিরুদ্ধে ভবন মালিকের কোনো অভিযোগ থাকার কথা না। যে ভবনের ওপর হেলে পড়েছে ওই ভবনটি নিরাপদ আছে। সেটির কোনো ক্ষতি হবে না।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম অপারেটর জালাল আহমেদ বলেন, ‘ভবন হেলে পড়ার খবর এলে আমরা দ্রুত সেখানে পৌঁছাই। যতটুকু জেনেছি ভবনের পাশে নালা বা ড্রেনের কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণে ভবন হেলে পড়ে থাকতে পারে। তবে বিস্তারিত আরও পরে জানা যাবে।’
বায়েজিদ থানার ওসি তদন্ত সুজন কুমার দে বলেন, ‘আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে। ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এখনই এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো যাচ্ছে না।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাদিউর রহিম জাদিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আশপাশ এলাকা থেকে ১০০ পরিবারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাসিন্দাদের জন্য আশপাশের স্কুলগুলোকে আশ্রয়ণকেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে।’
এমএ/