নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, দিনে ভোট হবে রাতে হবে না। আমাদের কমিশন থাকাকালে এক বছর নয় মাসে আমরা রাতে ভোট হতে দেখিনি। সুতরাং দিনের ভোট দিনেই হবে রাতে নয়।
রবিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আনিছুর রহমান বলেন, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বরাবরের মতো সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। অতীতেও সকল নির্বাচনে সামরিক বাহিনী ছিল। সেভাবে এ দ্বাদশ নির্বাচনেও সামরিক বাহিনী থাকবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা করা হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না। কোন ধরনের পক্ষপাত হবে না। সরকারী কর্মকর্তারা যথাযতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা হয় তাহলে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় এ ধরণের কোন কাজ করা যাবে না। নিরপেক্ষ থাকতে হবে কর্মকর্তাদের। যদি নিরপেক্ষহীনতার খবর পাওয়া যায়, যদি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে সেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমিশন বরাবরই বলে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশন একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য অবাধ নির্বাচন উপহার দিবে। এর জন্য যা যা করা দরকার সব করা হচ্ছে, করা হবে। বিভিন্ন দল অংশগ্রহণ করার জন্য আশা প্রকাশ করেছেন। আমি মনেকরি একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে।
ভোটারদের কেন্দ্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন বাঁধা দেওয়ার বিষয়ে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটকে কেন্দ্রে আনা এটা কিন্তু নির্বাচন কমিশন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নয়। এটা হলো যারা নির্বাচন করবেন তাদেরকেই ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। দল ও দলীয় সমর্থক নেতাকর্মীরা ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন এ কাজটা তাদেরই। কিন্তু কাউকে ভয়ভীতি দেখানো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বেশ কয়েকটি বড় দল নির্বাচনে নেই এতে নির্বাচন বানচালের কোন সুযোগ আছে কি-না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালের অধিকার ‘আইন’ কাউকে দেয়নি। অন্য কেউকে বা অন্য দলকে নির্বাচন করতে না দেওয়া এ অধিকার কাউকে দেয়নি। কেউ নির্বাচন না করলে সেটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। আমরা রাগ-ঢাক না রেখেই পরিষ্কার বলে দিয়েছি। যে দল নির্বাচনে আসবে তাদের নিয়েই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তফসিল পেঁছানোর বিষয়ে মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা এখনও কোন দল থেকে আবেদন নিবেদন পায়নি। আমরা আবারও বলছি কোন বড় দল নির্বাচনে আসতে চাইলে আমরা সুযোগ দিব। সময় নিয়ে কোন কথা থাকলে আমরা বিবেচনা করবো। বিবেচনা করার মতো সময় আমাদের হাতে আছে। আমরা সাংবাদিকের মাধ্যমে জানাচ্ছি বিষয়টি।
নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে কি-না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে গেলে তিন লক্ষ ক্যামেরা লাগবে। এতো সিসিটিভি ক্যামেরা আমাদের হাতে নেই। সেটি সম্ভবও না।
চট্টগ্রামের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের খসড়া দিয়েছি। যদি কোথাও বাড়ানো কমানোর বিষয় থাকে, তাহলে আমরা কমানো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সে ভাবে আমরা ব্যবস্থা নিব রিটার্নিং অফিসারের সাথে কথা বলে।
আয়োজিত সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, বিজিবির রিজিওনাল কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজিদুর রহমান, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুছ আলী, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এনামুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুস সাত্তার/এআর