চট্টগ্রামের সঙ্গে ব্যবসায়িক উন্নয়নে শিল্প-কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর।
মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ওমর হাজ্জাজের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শিলা পিল্লাইয়ের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। সভায় তারা এই আগ্রহের কথা জানান।
এ সময় তারা চট্টগ্রাম বন্দরসহ ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধিরা জানান, ট্রানশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন হয়েছে, যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারণ হিসেবে যে বে-টার্মিনাল নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে, তাতে কাজ করতে সিঙ্গাপুরের কোম্পানির আগ্রহের কথা উল্লেখ করে প্রতিনিধি দল।
শিলা পিল্লাই বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রামের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে সিঙ্গাপুরের। চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার হচ্ছে। আমরা চট্টগ্রামে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে বন্দরসহ শিল্প-কারখানা স্থাপনে আগ্রহী।’
চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিনিয়োগের আদর্শ গন্তব্য হিসেবে পরিণত হতে যাচ্ছে।’
এসব অবকাঠামো ও বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামে ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের লজিস্টিক খাতের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অনুরোধ জানান। ওমর হাজ্জাজ বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা খাতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আউটসোর্সিং ও আইটি সেবা আমদানির আহ্বান জানান।
এ ছাড়া চট্টগ্রামকে সিঙ্গাপুরের মতো একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন তিনি।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, বাংলাদেশসহ প্রায় ৪০টি দেশের লজিস্টিকস খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিপিং সেক্টরে আরও বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করেন। তারা বাংলাদেশের শিপিং ও লজিস্টিকস সেক্টরে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন জটিলতা দূরীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ-সহ হাইকমিশন ও সিঙ্গাপুরের মিনিস্ট্রি অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি ও এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর এবং পিএসএ-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুস সাত্তার/ইসরাত/অমিয়/