ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, আশায় দীপ্যমান শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

মজুরি ও লবণের দাম বৃদ্ধি : চট্টগ্রামে শুঁটকি ব্যবসায় ধস

প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৪৩ এএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৪৭ এএম
মজুরি ও লবণের দাম বৃদ্ধি : চট্টগ্রামে শুঁটকি ব্যবসায় ধস
চট্টগ্রাম কর্ণফুলী এলাকায় শ্রমিকরা শুঁটকি তৈরি করছেন

চট্টগ্রামে গত দশ বছরে অর্ধেকে নেমেছে শুঁটকিপল্লি। মাছের সরবরাহ কম থাকা, শ্রমিকের মজুরি ও লবণের দাম বাড়ায় শুঁটকি তৈরিতে খরচ বেড়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় লোকসানের কবলে পড়ে অনেক শুঁটকি ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের নোমান কলেজ এলাকায় দশ বছর আগেও প্রায় ১৪০টির শুঁটকিপল্লি ছিল। এখন সেখানে ৩৫টি শুঁটকিপল্লি রয়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলীর দক্ষিণে ইছানগর, জুলধার আশপাশে ৬০ থেকে ৭০টির মতো শুঁটকিপল্লি ছিল। সেটা এখন ৩২টিতে নেমে এসেছে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার শুঁটকিপল্লিগুলোর শ্রমিকরা জানান, এক সময় ৪০ থেকে ৪৫ প্রজাতির মাছ থেকে শুঁটকি বানানো হলেও এখন তা অনেক কমে এসেছে। বর্তমানে শুঁটকিপল্লিগুলোতে ফাইশ্যা, ছুরি, লইট্টা, মধুভাইস্যা, পোয়া মাছ, রূপচাঁদা, পোপা, বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর মাছ, পাতা মাছসহ ১২ থেকে ১৫ প্রজাতির মাছ থেকে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সাগরে জেলেদের জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। কিন্তু কাঁচা মাছে জেলেরা ভালো মুনাফা পাওয়ায় তারা শুঁটকিপল্লিতে মাছ কম সরবরাহ করছেন।

শুঁটকি উৎপাদকরা জানান, সপ্তাহে শনিবার, মঙ্গলবার বাজার বসে। আসাদগঞ্জ থেকে শুরু করে সারা দেশের ক্রেতারা সেখানে শুঁটকি কিনতে আসেন। ক্রেতা সিন্ডিকেট করে শুঁটকি কিনতে আসেন। তাই উৎপাদন খরচ বাড়লেও সে অনুপাতে লাভ হয় না। এক কেজি লইট্টা শুঁটকি বানাতে ছয় কেজি কাঁচা মাছ প্রয়োজন হয়। 

প্রতিকেজি লইট্টা ১৫০ টাকা করে কিনতে হয়। সে হিসাবে ছয় কেজি লইট্টার দাম পড়ে ৯শ টাকা। তার ওপর প্রক্রিয়াজাতে খরচ লাগে আরও ৫০ টাকার মতো। সব মিলিয়ে এক হাজার টাকা খরচ পড়লেও সে টাকায় তো বিক্রি করা সম্ভব হয় না। তার ওপর শুঁটকি পচনশীল। বৈরী আবহাওয়া বা একটানা দুই-চার দিন বৃষ্টি থাকলে শুঁটকির গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এসব কারণে শুঁটকি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকে।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার শুঁটকি উৎপাদনকারী আমির আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘শুঁটকির উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মহিলা শ্রমিকদের আমরা তিন বছর আগে দিনে মজুরি দিতাম ১৫০ টাকা। গত বছর দিয়েছি ২৫০ টাকা। আর বর্তমানে দিতে হচ্ছে ৪০০ টাকা। অপরদিকে পুরুষ শ্রমিকদের তিন বছর আগে দিতাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর এখন দিতে হয় ৭০০ টাকা। এর পাশাপাশি লবণের দামও বেড়েছে। দুই বছর আগে প্রতিবস্তা (৭৪ কেজি) লবণ কিনতাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। আর এখন কিনতে হয় ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। আগে শুঁটকি মাছের ব্যবসা করে জীবন গোছানোর সুযোগ ছিল। আর এখন জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

অপরদিকে আসাদগঞ্জের আড়তদাররা জানান, দেশে উৎপাদিত শুঁটকি দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। তাই আমদানি করতে হচ্ছে। আমাদের দেশে যদি শুঁটকির উৎপাদন বাড়ত তা হলে অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন হতো না। পাশাপাশি উৎপাদকরাও ভালো দাম পেতেন। সরকারের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।

চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ এলাকার শুঁটকি বিক্রেতা মো. নাছির আহমেদ বলেন, সাগরে প্রচুর মাছ আছে। কিন্তু শুঁটকি উৎপাদন করতে যে খরচ লাগে, বিক্রি করে সে টাকা পাওয়া যায় না। তাই মাছ বিক্রি করে বেশি লাভ পাওয়ায় শুঁটকির উৎপাদন কমে গেছে। তাই দামটাও আগের তুলনায় বেশি।

আসাদগঞ্জ শুঁটকি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওসমান হায়দার রানা বলেন, ‘চাহিদা মোতাবেক শুঁটকি বাজারে আসছে না। দশ বছর আগেও আসাদগঞ্জে শুঁটকির জন্য আমরা হাঁটতে পারতাম না। কিন্তু এখন কাঁচা মাছে লাভ বেশি। তাই শুঁটকি উৎপাদন কমে গেছে। এখন উল্টো আমদানি করে শুঁটকির চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। আমাদের দোকানগুলোতে ৫০ ভাগ আমদানি করা শুঁটকি এবং ৫০ ভাগ দেশীয় শুঁটকি রয়েছে। বর্তমানে বেশির ভাগ শুঁটকি মায়ানমার, ভারত, পাকিস্তান ও দুবাই থেকে আমদানি করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগে জেলেরা সাগর থেকে মাছ ধরে আনার সময় অনেক মাছ পচে যেত। তখন ওই মাছ দিয়ে শুঁটকি বানাতো। সময়ের সঙ্গে জেলেদের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন হয়েছে। তারা এখন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় বরফ নিয়ে যান। ফলে মাছ পচে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু লাভ বেশি হওয়ায় জেলেরা এখন মাছ বিক্রি করে দেন, এটা সত্য। তার উপর লবণের দামও বেড়েছে। ফলে শুঁটকির উৎপাদন কমে গেছে। শুঁটকির উৎপাদন বাড়াতে হলে উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শুঁটকি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এবিষয়ে সরকারের একটি প্রকল্প রয়েছে। আমরা শিগগিরই সেটা বাস্তবায়ন করব। তাহলে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।  কেমিক্যাল প্রয়োগ ছাড়াই শুঁটকির উৎপাদনও বাড়বে। তখন রপ্তানিও বাড়বে বলে আমরা আশা করি।’

হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩১ এএম
হাতিয়ায় নারীসহ যুবদল নেতা আটক, পদ থেকে বহিষ্কার
অভিযুক্ত যুবদল নেতা ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় আশরাফ উদ্দিন নামে যুবদল নেতাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রাইসুল হায়দার বাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলা যুবদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আশরাফ উদ্দিনকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বহন করবে না বলেও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে রাত ১১টার দিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, 'খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। 

হানিফ সাকিব/তামান্না রুপা

মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি
আহত শিক্ষক। ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিক্ষককে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার পশ্চিম আলীপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্বজনরা জানায়, ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রাজন শিকদারের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই দুই শিক্ষকের মধ্যে তর্কবির্তক হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লিপি বেগম তার বাড়িতে শিক্ষার্থীদের টিফিন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানান অপর শিক্ষক রাজন। বিষয়টি নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুরের খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে। তাকে পিটিয়ে ডান পা ভেঙ্গে দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।

রাজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে ভর্তি করা হয় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে পাঠানো হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিপি বেগম।

ভুক্তভোগী শিক্ষক রাজন শিকদারের অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায়ই শিক্ষার্থীদের টিফিনের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে যায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক লিপি বেগম। এর প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার লোকজন। আমার এক পা ভেঙ্গে দিয়েছে। আরেক পা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ। আমি এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

অভিযুক্ত লিপি বেগম বলেন, 'রাজন শিকদার আমার সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করে। তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে বারান্দায় গিয়ে বসে থাকেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। তার ওপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছে আমার জানা নেই।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া  হবে।’

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।

ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন মহা দুর্ভোগে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ঘটছে ব্যাঘাত।

স্থানীয়রা জানান, চার দিন আগে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে সমস্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে এবং প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, 'বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

বকুল/তামান্না রুপা

বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত
টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে মংডু শহরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী ২০-২৫টির মতো বিমান হামলা চালায়। সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার রাত ৯টা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটায়। শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নেন।

মংডুর এক বাসিন্দা জানান, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমান হামলার শব্দ না শোনা গেলেও মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম গ্রামে জেট ফাইটার ও ওয়াই-১২ বিমান থেকে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন পুরুষ ও দুই শিশু আহত হন এবং প্রায় ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১৭ জুন কিয়াউকতাও এলাকায় বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৮ জন আহত হন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদেরও সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে এলাকাসীর মানববন্ধন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখল, হামলা, মামলাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে  বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দখলবাজি, হামলা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন।

এসব কারণে এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসন দ্রুত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সৌদি আরব প্রবাসী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, 'আমি প্রবাসে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে এলাকায় একটি ভবন নির্মাণ করেছি। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৫ দিন ধরে আমার ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে রাখা হয়। এতে আমি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

এ দিকে এলাকাবাসীর মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজ বলেন, 'এসব অপকর্মের সঙ্গে আমি জড়িত নই, কিছু নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/