ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লক্ষ্মীপুরের গুলিবিদ্ধ শিশু আবিদা সুলতানার (০৬) অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর সে চোখ খুললেও কথা বলছে না বলে জানিয়েছেন তার মা আমেনা বেগম।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আমেনা বেগম জানান, আবিদার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তার ফুসফুস, কিডনি, কলিজাতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। শুধু রক্ত কনিকা ভালো আছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সকালে আমেনা বেগম সাংবাদিকদেরকে মোবাইলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) আবিদাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় অহিদসহ তিনজনের নামে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেছে তার বাবা ইব্রাহিম খলিল। মামলায় অভিযুক্ত ২নং আসামি ফাতেমা বেগম আঙ্কুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার আঙ্কুরী অহিদের স্ত্রী। অপর আসামি তার ছেলে মো. ফাহিম। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৬টার দিকে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের কাচারি বাড়ি এলাকায় শিশু আবিদাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে প্রতিবেশী সন্ত্রাসী অহিদ।
জানা যায়, অহিদ একজন অবৈধ অস্ত্রধারী। আবিদার পিতা প্রবাসে থাকাকালীন সে বিভিন্ন সময় টাকা ধার নেয়। তবে প্রবাস থেকে ফিরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। আর এ কারণে তার স্ত্রী ফাতেমা ও ছেলে ফাহিমের প্ররোচনায় আবিদাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল দিয়ে গুলি করে অহিদ।
গুলিটি আবিদার পিঠের ডান পাশে বিদ্ধ হয়ে পেটের ডান পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক আবিদা অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
ঘটনার পর হাসপাতালে আনার পথে ধারণকৃত একটি ভিডিওতে শিশু আবিদাকে বলতে শোনা যায়, অহিদ তাকে গুলি করেছে।
আমেনা বেগম বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আবিদা অহিদের মেয়ে জেরিনের সঙ্গে খেলছিল। অহিদের বাড়িতে লোকজন থাকায় আমি তাকে আনতে যাইনি। এ কারণে পাশে একটি ঘরে ঢুকে জানালা দিয়ে ডাকছিলাম। এরইমধ্যে অহিদ আমার মেয়ের পিঠ গুলি করে। আমি দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে কোলে নেই। এর পর সে মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিচ্ছিল চিকিৎসার জন্য। আমি সব ফেলে দিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতাল চলে যাই।’
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কায়সার হামিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘শিশুটিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একজন গ্রেপ্তার রয়েছে। তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মূল আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কেন বা কী কারণে শিশুকে গুলি করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
রফিকুল/তাওফিক/