ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

আমার আঁকা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
আমার আঁকা

স্বপ্নিল কুমার ভদ্র
ষষ্ঠ শ্রেণি 
ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুল 
ময়মনসিংহ

জাহ্নবী

দেশে দেশে ঈদ ঐতিহ্য

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৩ পিএম
দেশে দেশে ঈদ ঐতিহ্য
মুম্বাসায় গল্প বলার আসর

ঈদের শাব্দিক অর্থ বার বার ফিরে আসা। অর্থাৎ খুশি বা আনন্দটা বার বার ফিরে আসে বলেই এর নাম ঈদ। দিনের সঙ্গে যেমন রাতের সম্পর্ক রয়েছে, আলোর সঙ্গে যেমন অন্ধকারের যোগাযোগ রয়েছে, তেমনি দুঃখকষ্টের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে আনন্দ, সুখ। যে কোনো সাধনাই কষ্টের। একমাস সিয়াম সাধনাও তেমনি এক কষ্টকর বিষয়। এবং এই কষ্টের পর আল্লাহর তরফ থেকে উপহার হিসেবে বান্দার জন্য দেওয়া হয়েছে খুশি বা ঈদ। এ থেকে বোঝা যায়, জীবনে অনেক রকম কষ্ট আসবে, দুঃখ আসবে। তাই বলে হতাশ হওয়া যাবে না। কারণ কষ্টের পর আনন্দ বা খুশি আসবেই।

পৃথিবীর প্রায় দুইশ কোটি মুসলমান ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। আমরা যেমন ঈদ উল ফিতরকে বলি রোজার ঈদ। আজারবাইজানের লোকেরা বলে ‘রামাজান বায়রামি’। মধ্যপ্রাচ্য এবং এর আশপাশের দেশগুলোতে ঈদ উল ফিতরকে এভাবেই উচ্চারণ করে। ইন্দোনেশিয়ায় বলে ‘লেবারান।’ সেনেগালে বলে ‘করিতি’। তবে যে যেভাবেই বলুক, ঈদ উল ফিতর বিশ্বের সব মুসলমানের জন্য একই রকম আনন্দ ও খুশি নিয়ে হাজির হয়। কেবল আনন্দ উদযাপনের ধরনটা বৈচিত্রময়। পৃথিবীর নানান জাতি-গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব রীতি ও ঐতিহ্য অনুসারে ঈদ পালন করে থাকে।

পেলিটা

বিশ্বের অন্যতম মুসলিম দেশ তুরস্ক। আজারবাইজানের মতো ওই দেশেও ঈদ উল ফিতর পরিচিত ‘রামাজান বায়রামি’ অথবা ‘সেকের বায়রামি’ নামে। রামাজান বায়রামি অর্থ রমজানের ভোজ আর সেকের বায়রামি অর্থ মিষ্টান্ন ভোজ। আমাদের দেশের মতোই ঈদের দিন তুরস্কের সবাই নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের নামাজ পড়ে। নামাজ শেষে কোলাকুলি করতে করতে একজন অন্যজন্যকে শুভেচ্ছা জানায় ‘বায়রামিনিজ মুবারক’ বলে। এর অর্থ তোমার ঈদ সুন্দর হোক। তুর্কিরা কোলাকুলির পর ছোটরা বড়দের বাড়িয়ে দেওয়া ডানহাতে চুমু খায়। শিশুরা প্রতিবেশিদের ঘরের দরজায় দরজায় ছুটে বেড়ায়। প্রতিবেশিরা এদিন তাদের ঘরের দরজায় দরজায় তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন বাকলাভা আর তুর্কিশ ডেলাইট, চকোলেট এবং ঈদ সেলামি রেখে দেয়। শিশুরা যার যার প্রয়োজন মতো খাবার খায় আর ঈদ সেলামি নিয়ে নেয়। ঈদ উৎসব পালনের জন্য আমাদের দেশের মতো তিনদিনের সরকারি ছুটি থাকে তুরস্কে।

পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। ও দেশের ঈদ উদযাপন তুর্কিদের চেয়ে একটু ভিন্ন। অন্যান্য মুসলিম দেশের মতোই ইন্দোনেশিয়াতেও ঈদের ছুটি থাকে। এই ছুটিতে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে মিলিত হয়। ইন্দোনেশিয়ানদের ঈদ পালনের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য হচ্ছে ‘মুডিক’। ইন্দোনেশিয়ান ভাষায় মুডিক অর্থ নদীপথে যাত্রা করা বা পাল তোলা। সোজা বাংলায় বললে মুডিক মানে বাড়ি ফেরা। ইন্দোনেশিয়ার বড় বড় শহরে অনেক মানুষকে কাজের জন্য থাকতে হয়। কিন্তু ঈদের সময় পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই বাড়িমুখো হয়। এটাকেই ওরা মুডিক বলে।

তুর্কিদের ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার বাকালাভা

বাংলাদেশের মানুষও বড় বড় শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে কিংবা জন্মভিটায় ঈদ উদযাপন করতে ছুটে আসে। বিষয়টা ঠিক একই রকম। এই ঈদ উল ফিতরের সময় ইন্দোনেশিয়ানদের আরেকটা রীতি খুব উল্লেখযোগ্য। ওটার নাম ‘হালাল বিহালাল।’ তবে এটা ঈদের পরেই পালন করে ওরা। বিষয়টা হচ্ছে ঈদের পর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী ও প্রতিবেশিদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর একজন আরেকজনের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নেয়। অনেক সময় পরিচিতদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা বেয়াদবি বা অন্যায় হয়ে যায়। ঈদের পর দেখা করে সেই ইচ্ছা-অনিচ্ছাকৃত অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাওয়াটার রীতিই হচ্ছে হালাল বিহালাল।

শিশুদের ঈদের সালামি নেওয়ার রেওয়াজও আছে আমাদের মতো। তবে শিশুদের ঈদের সালামি দেওয়া হয় একটু অন্যরকমভাবে। শিশুরা বড়দের সঙ্গে দেখা করতে এলে রঙিন খামের মধ্যে পুরে তাকে ঈদসালামি দেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষ্যে পরিচিত ও আত্মীয়-পরিজনের কবর জিয়ারত করাও ওদের রীতি।

কুডিক

মালয়েশিয়ানরাও কিন্তু ঈদের সময় বাড়িতে ছুটে আসে। তবে মালয়েশিয়ানরা একটু সৌখিন ধরনের রীতি পালন করে। বাড়িতে এসেই তারা ‘পেলিটা’ দিয়ে ঘরদোর সাজিয়ে তোলে। পেলিটা হচ্ছে তেলের বাতি। ঈদ উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী খাবার কেটুপাট, রেনডাং রান্না করে। ঈদে বাড়িতে অতিথি এলে কেটুপাট ও রেনডাং দিয়ে আপ্যায়ণ করে। কেটুপাট হচ্ছে ভাত আর রেনডাং হচ্ছে রান্না করা মাংস। ঈদ উল ফিতরকে মালয়েশিয়ানরা বলে ‘হারি রায়া অ্যাইডিলফিতরি।’ অর্থাৎ ঈদ উল ফিতর উদযাপন। মালয়েশিয়ানদের ঈদ পালনের আরেকটা ঐতিহ্য হচ্ছে, যে কেউ যে কারো বাড়িতে যখন তখন ঢুকতে পারে। অর্থাৎ ঈদের দিনে ওদের বাড়ির সদর দরজা সবসময় খোলা থাকে যে কোনো অতিথির অপেক্ষায়।

আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোতেও প্রায় একই রকমভাবে ঈদ উৎসব পালিত হয়। তেমনি একটি দেশ কেনিয়া। এই কেনিয়া নামক দেশটির একটি প্রদেশ হচ্ছে মম্বাসা। মম্বাসায় ঈদ উদযাপনের রীতি কিন্তু দুনিয়ার অনেক জায়গা থেকে ভিন্ন তবে বেশ মজার। ওদের ভাষায় ‘কুমি লা মউইশো’ মানে রোজা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ ঈদের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওদের ঈদ আনন্দ শুরু হয়ে যায়। রাস্তায় রাস্তায় সবাই নেমে আসে উৎসবের আনন্দে। পছন্দের কাপড়চোপড় কেনে- নিজের জন্য, প্রিয়জনের জন্য, পরিবারের সদস্যদের জন্য। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, কিছু কিছু জায়গায় ঈদ উপলক্ষ্যে রাস্তার ওপর বসে যায় গল্প বলার আসর। গল্পবলিয়েরা এদিন শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্য রূপকথার গল্প শোনান। শিশুদের কাছে এটা বিশেষ আনন্দের। আর এই আনন্দ ঈদ উপলক্ষ্যেই পাওয়া যায়।

জাহ্নবী

 

ঈদের ছড়া

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৯ পিএম
ঈদের ছড়া

ছড়া

ঈদের দিনটি এলে 
গোলাম নবী পান্না 

ঈদের নতুন পোশাক পেলে 
আর কি লাগে বলো? 
নেই তা যাদের তাদেরকে তা
দেই বিলিয়ে চলো। 
ঈদের খুশি সমানভাবে 
ওরাও পেতে চায় 
কেমন করে মিলবে এসব 
অভাব পায়ে পায়!
ঈদের দিনটি ফিরে এলে 
অবাক হয়ে দেখি! 
ভাগ্যটা যে ফেরে না আর 
যত কিছুই লেখি।

ঈদের মজা 
ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান 

বাবার হাতে বেশ কয়েকটা
ঈদের শপিং ব্যাগ
ব্যাগের গোছা দেখে খুকুর
কাটলো মনের মেঘ।

ঈদের জামা কিনছে বাবা
মনটা খুকুর নাচে
খুশির চোটে দৌড়ে খুকু
গেল বাবার কাছে!

বাবার হাতের ব্যাগগুলোকে
আনলো খুকু ঘরে 
সবগুলো ব্যাগ খুললো খুকু
একটু তাড়া করে!

সবার আছে ঈদের জামা
দেখতে চমৎকার 
বাবার কোনো পায়নি জামা
মনটা খুকুর ভার!

বললো খুকু, ঈদ হবে না
বাবার জামা চাই;
বাবার নতুন জামা ছাড়া
ঈদের মজা নাই।


ঈদ আসুক গাজাতে 
হাসান মুসান্না মিশু  

হাসি খুশি নিয়ে ঈদ 
আসে ধরা সাজাতে, 
বারুদের বিষে আজ
ঈদ নেই গাজাতে!

অপরাধ কী যে ছিলো 
গাজাবাসী শিশুদের? 
কেন তবে প্রাণ ঝরে?
কোল খালি মায়েদের? 

অমানিশা ভোর হোক 
সহসাই নাজাতে,
বারেবারে ঈদ যেন-
ফিরে আসে গাজাতে!


ঈদের চাঁদ
কাজী আবুল কাসেম রতন

চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে
চাঁদ উঠেছে ওই
ওই চাঁদেতে খুকুর মনটা 
রাখার জায়গা কই?
চাঁদ উঠেছে ওই
নদীর ধারে চাঁদের আলো 
জোনাক ছড়ায় ওই।
চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে
চাঁদ উঠেছে ওই
শষ্যক্ষেতে চাঁদের আলোয় 
দিচ্ছে চাচা মই।
চাঁদ উঠেছে চাঁদ উঠেছে
চাঁদ উঠেছে ওই
ফুল বাগানে খোকা খুকু
পড়ছে ছড়ার বই।


খোকার হাসি
মজনু মিয়া 

কাতুকুতু দিলে খোকা
খলখলিয়ে হাসে,
বসেই ছিলাম পাশে
ধরতে গেলে দূরে সরে
দম খিলিয়ে কাশে।

জাপটে ধরে কোলে নিলে
আমতা আমতা কয়,
কাতুকুতু হয়
ছেড়ে দাও যে আমায় একা
আহা মধুময়!

খোকার হাসি হয় না বাসি
তড়তাজা তা খুব,
হাসলে অপরূপ
এমন হাসির বিনিময়ে
রয় কী তা চুপ চুপ!

ঈদ আনন্দ
এইচ এস সরোয়ারদী

চাঁদ উঠেছে, চাঁদ উঠেছে
চাঁদ উঠেছে ঐ
ঈদ আনন্দে খোকা-খুকু
করছে যে হইচই।

আমার প্রিয় বড় মামা
আনছে কিনে নতুন জামা
আরও কতো কি ?
বাবার জন্য পাঞ্জাবি আর 
মায়ের জন্য ঘি।

কি যে খুশি লাগছে মনে
ফুল ফুটেছে বনে বনে
গাইছে পাখি খুব,
ঈদ আনন্দে বদলে গেছে
আমার গাঁয়ের রূপ।

আমরা আঁকি

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৭ পিএম
আমরা আঁকি

রাবেয়া সুলতানা আফিফা
প্রথম শ্রেণি
বিরাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
লক্ষ্মীপুর

জাহ্নবী

ফুল কেন ফোটে

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
ফুল কেন ফোটে

গাছে ফুল কেন ফোটে, বিজ্ঞানীরা ত্রিশের দশক থেকে সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মতে, দিনে আলোর স্থিতিকাল বা দিনের দৈর্ঘ্যের প্রতি সাড়া দিয়েই ফুল ফোটে। আমাদের দেশে শীতকালে দিনে আলোর স্থিতিকাল বা সময় থাকে কম। এজন্য আলুর ফুল ফোটে না। কিন্তু ইউরোপে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি থাকায় সেখানে আলুর ফুল ফোটে, আবার সে ফুল থেকে ফল ও বীজও হয়। আমাদের দেশে কৃষিবিজ্ঞানীরা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ঘরের ভেতরে আলু গাছ লাগিয়ে কৃত্রিম আলো জ্বেলে শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে দেখেছেন যে, তার প্রভাবে আলু গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে। সে ফল থেকে প্রকৃত আলুবীজও উৎপন্ন হয়। সেসব বীজ মাটিতে লাগিয়ে আলু চাষও করা যায়। কিন্তু মৌলিক প্রশ্ন হলো ফুল কেন ফোটে?

রাশিয়ার একদল বিজ্ঞানী লক্ষ্য করেছেন যে, পাতা থেকে একটি রহস্যময় বস্তু বিটপ বা ডগায় যায়। সেই বস্তুর কারণে সেখানে প্রথমে কুঁড়ির উদ্ভব হয়। সেই কুঁড়িই পরে ফুল হয়ে ফোটে। সেই রহস্যময় বস্তুটি হলো ‘ফ্লোরিজেন’ হরমোন। কিন্তু কেনই বা গাছের একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে ফুল ফোটে, যা এক এক উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়? যদিও বেশির ভাগ ফুল ফোটে ডালের আগায় বা পাতার কোল থেকে। কিন্তু নাগলিঙ্গম ফুলের দিকে তাকিয়ে দেখ, গাছের গুঁড়ির গা থেকে কেমন থোঁকা ধরে ফুল ফুটছে! বৈশাখের দিনে রমনা উদ্যানে গেলে এ দৃশ্য বিরল নয়। এ প্রসঙ্গে সুইডিশ ইউনিভার্সিটি অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সের ওভ নিলসন বলেছেন, ‘আমরা এর পেছনে দায়ী একটি জিন খুঁজে পেয়েছি, যার নাম এফটি। এই জিন পাতায় সক্রিয় হয় ও যার কার্যকারিতা দিনের দৈর্ঘ্য বা ডে লেন্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। দিনের আলোর সংকেত পেলেই এই জিন উদ্দীপিত হয়ে ওঠে এবং তা পাতা থেকে ডগার শীর্ষে স্থানান্তরিত হয়। কীভাবে এই জিন সক্রিয় হওয়ার পর কুঁড়ি গঠন করে তা নিয়ে তারা গবেষণা চালিয়েছেন।

তারা দেখতে পেয়েছেন যে, এই জিন কিছু প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে ও সেসব প্রোটিন ভবিষ্যতে গাছের কোন অংশে কুঁড়ি বের হবে ও ফুল ফুটবে সেই অংশে থাকা প্রোটিনগুলোর সঙ্গে এসব প্রোটিনের যোগাযোগ ঘটে এবং সঠিক সময়ে সঠিক স্থানেই ফুলটি ফোটে। তবে বিজ্ঞানীরা এও বলেছেন যে, ফুল ফোটার ক্ষেত্রে শুধু জিন বা প্রোটিন নয়, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মাটির অবস্থারও ভূমিকা রয়েছে। আমরা সবাই জানি, কদম ফুল ফোটে আষাঢ়ে, শিউলি ফোটে শরতে। কিন্তু বর্তমান জলবায়ুর পরিবর্তনহেতু এখন হেমন্তেও কোনো কোনো গাছে কদম ফুটছে, শরত বাদে হেমন্তেও ফুটছে শিউলি ফুল। ইউরোপে বসন্তকালে দিনের আলো বেশিক্ষণ থাকায় সেখানে ড্যাফোডিল ফোটে, কিন্তু গোলাপকে ফোটার জন্য অপেক্ষা করতে হয় গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত। ইংরেজ কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থও ঠিক ভেবে পাননি, যে ড্যাফোডিলের রূপে তিনি এত মুগ্ধ, সেই ফুলগুলো ফোটার পেছনে রহস্যটা কী? আধুনিক অনেক জাতের ধানের এখন ফুল ফোটার জন্য কোনো মৌসুমের অপেক্ষা করা লাগে না। কিন্তু দেশি অনেক জাতের আমন ধানের ফুল ফোটে শরতে, ধান পাকে হেমন্তে। বছরের যে সময়েই সেসব জাতের ধান লাগানো হোক না কেন, তার ফুল শরতেই ফুটবে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, ফুল কখন ফুটবে তা নির্ধারণ করে আসলে ‘Apetala1’ নামক একটি জিন। এই জিন অন্য জিনদের আদেশ করে তারা যেন ডগায় আর কোনো পাতা উৎপাদনের সংকেত না পাঠায়। তখন এই আদেশে পেয়ে সহস্রাধিক জিন পাতা উৎপাদন বন্ধ করে ফুলের জননাঙ্গ গঠনের কাজে লেগে পড়ে।

ফুল ফোটার এসব জৈবিক ক্রিয়াকলাপ ছাড়াও রয়েছে আর এক ধরনের পদার্থবিজ্ঞান বা ফিজিক্স। আমেরিকায় হার্ভার্ডের একদল পদার্থবিদ গবেষক তাদের এক গবেষণাপত্রে ফুল ফোটার ফিজিক্সকে তুলে ধরেছেন। এশিয়াটিক লিলি ফুলের ওপর তারা গবেষণা করেছেন। তারা লক্ষ্য করেছেন যে, তরুণ কুঁড়ি থেকে একটি এশিয়াটিক লিলি ফুল ফুটতে প্রায় সাড়ে চার দিন সময় লাগে। এ সময়ে কুঁড়ি ধীরে ধীরে জল শোষণ করে, বড় হয় ও ফুল ফোটার জন্য তৈরি হয়। এই জল বৃতি ও পাঁপড়ির গোঁড়ায় দিযে চাপ দেয়, যার প্রভাবে বৃতি ও পাঁপড়ি বাইরে দিকে মেলতে শুরু করে। সে সময় বৃতি ও পাঁপড়ির ওপরের প্রান্তে থাকা কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সেগুলো বড় হতে শুরু করে ও ছড়ানোর জায়গা খুঁজতে থাকে। এটাও ফুল ফোটার এক কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করেন। আবার জলের প্রবাহ ও চাপ কমে গেলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ধানের ফুল ফোটার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি খুব ভালোভাবে দেখা যায়। সকালে জলের চাপে মাত্র ঘণ্টাখানেকের জন্য ধানের ফুলের বড় তুষ ও ছোট তুষখণ্ড ফাঁক হয়ে যায় ও ভেতরের জননাঙ্গগুলো তুষের বাইরে বেরিয়ে পড়ে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে পরাগায়ন সম্পন্ন হলেই তুষ আবার বন্ধ হয়ে যায় চিরকালের জন্য। পানিপ্রবাহের চাপেই এ ঘটনা ঘটে থাকে।

ফুল কখন ফোটে তার ওপর নির্ভর করে ফুলের রং। সাধারণত সাদা ও সুগন্ধযুক্ত ফুলগুলো ফোটে রাতে, রঙিন ও গন্ধহীনা ফুলেরা ফোটে দিনে। এর পেছনেও রয়েছে বিজ্ঞান। গাছে ফুল আসলে ফোটার দরকার কী? না ফুটলে কী হবে? ফুল না ফুটলে ফল হবে না, ফল না হলে বীজ হবে না। বীজ না হলে ওসব গাছের বংশরক্ষা হবে না। মানুষের মতো গাছেরাও চায় তার বংশ বা সন্তান রেখে যেতে। ফল উৎপাদনের জন্য দরকার পরাগায়ন, যা করে মৌমাছির মতো অনেক পতঙ্গ। পতঙ্গরা আবার দুই রকমের- নিশাচর ও দিবাচর। নিশাচর পতঙ্গরা রাতে কোথায় কোন ফুল ফুটে আছে তা সাধারণত ভালো করে দেখতে পারে না। তাই ওদের ফুলে ফুলে বিচরণ তত সহজ হয় না। তাই গাছেরা ঠিক করেছে, রাতে ওরা সাদা ফুল ফোটাবে যাতে নিশাচর পতঙ্গরা দেখতে পারে আর সুগন্ধ দিয়ে সেসব ফুলের উপস্থিতি জানান দেওয়া যাতে পতঙ্গরা বুঝতে পারে কোথায় ফুলগুলো আছে। দিনে এসব সমস্যা নেই, তাই সুগন্ধ দিয়ে পতঙ্গদের আকর্ষণ করতে হয় না। ফুলের রঙেই দিবাচর পতঙ্গরা আকর্ষিত হয় ও পরাগায়ন ঘটায়। তবে এখনো গবেষণার ফলাফলে পুরোপুরি স্পষ্ট নয় যে, ঠিক কী কী কারণে বা কারণগুলোর মিলিত প্রভাবে ফুল ফোটে।

জাহ্নবী

 

মধুমাস কোনটি?

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪, ১২:২২ পিএম
মধুমাস কোনটি?

মধুমাস কোনটি? অনেকেরই মনে হতে পারে, আরে মুধমাস তো জ্যৈষ্ঠ মাস। আসলেই কি তাই?
‘বসন্ত’ নামে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা আছে। কবিতাটি এমন-
‘অযুত বৎসর আগে হে বসন্ত, প্রথম ফাল্গুনে
মত্ত কুতূহলী,
প্রথম যেদিন খুলি নন্দনের দক্ষিণ-দুয়ার
মর্তে এলে চলি,
অকস্মাৎ দাঁড়াইলে মানবের কুটিরপ্রাঙ্গণে
পীতাম্বর পরি,
উতলা উত্তরী হতে উড়াইয়া উম্মাদ পবনে
মন্দারমঞ্জরী,
দলে দলে নরনারী ছুটে এল গৃহদ্বার খুলি
লয়ে বীণা বেণু-
মাতিয়া পাগল নৃত্যে হাসিয়া করিল হানাহানি
ছুঁড়ি পুষ্পরেণু।
সখা, সেই অতিদূর সদ্যোজাত আদি মধুমাসে
তরুণ ধরায়
এনেছিলে যে কুসুম ডুবাইয়া তপ্ত কিরণের
স্বর্ণমদিরায়...
ব্যর্থ জীবনের সে কয়খানি পরম অধ্যায়
ওগো মধুমাস,
তোমার কুসুমগন্ধে বর্ষে বর্ষে শূন্যে জলে স্থলে
হইবে প্রকাশ।
বকুল চম্পকে তারা গাঁথা হয়ে নিত্য যাবে চলি
যুগ যুগান্তরে,
বসন্তে বসন্তে তারা কুঞ্জে কুঞ্জে উঠিবে আকুলি
কুহুকলস্বরে।
অমর বেদনা মোর হে বসন্ত, রহি গেল তব
মর্মরনিশ্বাসে
উত্তপ্ত যৌবনমোহ রক্তরৌদ্রে রহিল রঞ্জিত
চৈত্রসন্ধ্যাকাশে।

কবিতার শব্দগুলো একটু কঠিন মনে হতে পারে। তবে মনোযোগ দিয়ে পড়লে কিন্তু জবাব পেয়ে যাবে, আসলে মধুমাস কোনটি? 
এবার জানা যাক ‘মধুমাস’ নামটা কী করে এলো?

শব্দটির খোঁজ পাওয়া যাবে কলিম খান ও রবি চক্রবর্তীর ‘বঙ্গীয় সমার্থকোষ অভিধান’ থেকে। ওখানে বলা হয়েছে- ‘চৈত্র মাসকে কেন মধুমাস বলা হয়, তার কারণ জানা যায় ‘বসন্ত’ শব্দ থেকে। দুধের থেকে সর, সর থেকে ঘোল-মাখন হয়ে ঘি-এ পৌঁছানো যায়। সেই সুবাদে মধু হলো ঘি। ঠিক সেইরূপ বৈশাখ থেকে বসবাস ও বর্ষের শুরু এবং তার চূড়ান্ত হয় বসন্তে। সেই বসন্তের শেষ মাস হলো চৈত্র মাস। গ্রহণ-বর্জন-পুনরুৎপাদনের নীতিতে চলা মানবজীবনের জৈবিক সার্থকতা পুনরুৎপাদনে। বসন্তের অন্তে বা চৈত্র মাসে মানুষের প্রতিপালন প্রাচীন শব্দবিদগণের অখণ্ড চিন্তাশৃঙ্খলার সঙ্গে খাপ খেয়ে যায়। সেই কারণে তারা চৈত্র মাসকে মধুমাস নাম দিয়েছিলেন।’

হিন্দি ভাষায় ‘বাহারি’ মানে মধুকাল বা মধুমাস। আবার ‘বাহারকে দিন’ মানে বসন্তকাল। অন্যদিকে ফারসিতে ‘বহার’ মানে বসন্তকাল। ‘বহারি’ অর্থ বাসন্তী বা বসন্তকাল সম্বন্ধীয়। ষোড়শ শতকের বাংলা ভাষার বিখ্যাত কবি দৌলত উজির বাহরাম খান তার কাব্যে বলেছেন, ‘মধুমাসে উতলা বাতাস, কুহরে পিক; যদি সে কমল শিশিরে দহল কি করিব মধুমাসে।’ বসন্তের সখা কোকিল। এই কোকিলের আরেক নাম হলো ‘মধুসখা’।

খনার বচনেও আছে-
‘মধুমাসে ত্রয়োদশ দিনে রয় শনি
খনা বলে সে বৎসর হবে শস্য হানি।’
অথবা-
‘মধুমাসে প্রথম দিবসে হয় যেই বার।
রবি শোষে, মঙ্গল বর্ষে, দুর্ভিক্ষ বুধবার।’
 
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কাওয়ালী সুরে একটি গান লিখেছেন। সে গান হচ্ছে-
মাধবী-তলে চলো মাধবিকা দল
আইল সুখ-মধুমাস।
বহিছে খরতর থর থর মরমর
উদাস চৈতি-বাতাস।
পিককুল কলকল অবিরল ভাষে,
মদালস মধুপ পুষ্পল বাসে।
বেণু-বনে উঠিছে নিশাস।
তরুণ নয়নসম আকাশ আনীল,
তটতরু ছায়া ধরে নীর নিরাবিল,
বুকে বুকে স্বপন-বিলাস।

এ গানেও কিন্তু মধুমাস হিসেবে চৈত্র মাসকেই বুঝিয়েছেন কাজী নজরুল। আর এর পরও যদি মধুমাস নিয়ে কারও সন্দেহ থাকে, তবে বাংলাসাহিত্যের আরও অনেক বিখ্যাত কবি ও লেখক রয়েছেন, তাদের লেখায় মধুমাসের সন্ধান পাওয়া যাবে। যেমন পঞ্চদশ শতকের কবি বিদ্যাপতি, ষোড়শ শতকের কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক কবি ও লেখকের লেখায় মধুমাস হিসেবে চৈত্র মাসকেই চিহ্নিত করেছেন।

কাজেই মধুমাস কোনটি এ নিয়ে কিন্তু আর বিতর্ক থাকার কোনো মানে হয় না। সোজা কথায়, ফুল ফোটে বসন্তে। মানে চৈত্র মাসে। ফুলের মধ্যে মধু থাকে। কাজেই মধুমাস চৈত্র হওয়াটাই স্বাভাবিক।

জাহ্নবী