দ্বিতীয় অধ্যায় : আর্থিক বাজারের আইনগত দিকগুলো
(গত ৩১ আগস্ট প্রকাশের পর)
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: বন্ড বাজার কাকে বলে?
উত্তর: দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দলিলকে বন্ড বলে। আর যে বাজারে বন্ড কেনাবেচা করা হয় তাকে বন্ড বাজার বলে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে বন্ড ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। বন্ড সাধারণত জামানতযুক্ত হয়ে থাকে।
প্রশ্ন: মূলধন কাঠামো কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: যৌথমূলধনী কোম্পানির মালিকানা মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে শেয়ার বলে। এ সাধারণ শেয়ার বিক্রি করে যৌথমূলধনী কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ করে থাকে। কোনো কোম্পানির মূলধন কাঠামোতে ঋণ মূলধন ও ইক্যুইটি মূলধন নিয়ে মূলধন কাঠামো গঠিত হয়।
প্রশ্ন: প্রাথমিক বাজার কাকে বলে?
উত্তর: যে বাজারে জনগণ কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি আবেদন করে লটারির মাধ্যমে শেয়ার বন্ড কেনে করে তাকে প্রাথমিক বাজার বলে।
প্রশ্ন: মাধ্যমিক বাজার কাকে বলে?
উত্তর: প্রাথমিকভাবে লটারির মাধ্যমে প্রাপ্ত যে শেয়ার মালিকানা বা বন্ড মালিকানা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কেনাবেচা করা হয় তাকে মাধ্যমিক বাজার বলে।
প্রশ্ন: নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কাকে বলে?
উত্তর: বাংলাদেশের পুঁজি বাজারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পুঁজি বাজারের আবার কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন- বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিমা কোম্পানিগুলোকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, শেয়ার বাজারকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসাকে ক্ষুদ্র ঋণ কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলে।
প্রশ্ন: সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কী?
উত্তর: যৌথমূলধনী কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শেয়ার, বন্ড, ঋণপত্র ইত্যাদি ইস্যু করে থাকে। আর এগুলো মূলধন বাজারে কেনাবেচা করা হয়ে থাকে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন হলো মূলধন বাজারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা।
প্রশ্ন: বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কী?
উত্তর: বিমা শিল্প ব্যবসার তত্ত্বাবধান, বিমা পলিসি গ্রহণ ও পলিসির অধীনে উপকারভোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বিমা শিল্পের নিয়মতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের নিমিত্তে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান প্রণয়নকল্পে আইন প্রণীত হয় ২০১০ সালের ১৮ মার্চ।
প্রশ্ন: ক্ষুদ্র ঋণ কর্তৃপক্ষ কী?
উত্তর: আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পে উদ্যোক্তা নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করে থাকে। এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তারা প্রথমে ছোট ছোট শিল্পকারখানা গড়ে তোলে। দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ নতুন পণ্য শিল্পকারখানা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রশ্ন: অংশীদারি আইন-১৯৩২ কী?
উত্তর: একটি অংশীদারি প্রতিষ্ঠান কীভাবে গঠিত ও পরিচালিত হবে বা বিলোপসাধন করা হলে কীভাবে করা হবে তা অংশীদারি আইনে উল্লেখ আছে। তা ছাড়া অংশীদাররা কীভাবে মূলধন সরবরাহ করবে তা অংশীদারি আইনে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে। একাধিক ব্যক্তি একত্রে মুনাফার আশায় ব্যবসা-বাণিজ্য করলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে চুক্তির ভিত্তিতে অংশীদারি ব্যবসা গড়ে তোলে। ১৯৩২ সালে অংশীদারি ব্যবসায় পরিচালনার জন্য একটি আইন প্রবর্তিত হয়।
প্রশ্ন: কোম্পানি আইন-১৯৯৪ কী?
উত্তর: সাধারণ অর্থে কতিপয় ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায়, যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে দেশের প্রচলিত আইনে যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে যৌথমূলধনী কোম্পানি বলে। বিভিন্ন পটপরিবর্তনে যৌথমূলধনী কোম্পানি আইন বিভিন্ন সময়ে রচিত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে ১৯৯৪ সালে কোম্পানি আইন অনুযায়ী যৌথমূলধনী কোম্পানি (Joint Stock Company) ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
প্রশ্ন: ব্যাংকিং কোম্পানি আইন-১৯৯১ কী?
উত্তর: ব্যাংকিং কোম্পানিগুলো কীভাবে গঠিত ও পরিচালিত হবে তা ব্যাংকিং কোম্পানি আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। পরিচালকরা কোম্পানি থেকে কী পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা কোম্পানি আইনে উল্লেখ আছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৯৯১ সালের ব্যাংকিং কোম্পানি আইন কার্যকর রয়েছে।
প্রশ্ন: আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন-১৯৯৩ কী?
উত্তর: একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে গঠিত ও পরিচালিত হবে তা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিলোপসাধন করা হলে কীভাবে বিলোপসাধন হবে তা উক্ত আইনে লিপিবদ্ধ আছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন-১৯৯৩ সালে পাস হয় এবং ওই বছরই ১৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা
কবীর