ঢাকা ১২ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বৈষম্য বিলোপে স্বাধীন কমিশন চায় হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুশইনের আশঙ্কা, সতর্ক অবস্থায় বিজিবি সোনারগাঁয় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১২ হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, চলতি বছর প্রাণহানি ৪৯ রূপগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু শক্তিশালী ভূমিকম্পে অবকাঠামো ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা প্রতি উপজেলায় পুষ্টিবিদদের সরকারি পদ সৃষ্টিতে ইতিবাচক সরকার: অধ্যাপক এস. কে. রায় বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, ত্রাণ কার্যক্রমে নজরদারিতে মার্কিন প্রতিনিধি অন্তর্বর্তী সরকার একাত্তরের শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: বাসদ চীন সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী, অভ্যর্থনা জানাবেন মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে কারবালা স্মরণে শোক মিছিল তুরস্কের দুর্ভাগ্য রায়পুরে চাঞ্চল্যকর চার খুন: অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট ও ঘৃণা করতে হবে: ভূমিমন্ত্রী শেষ বত্রিশে জায়গা পেল কারা ৪৮ দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার, জানালেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নওগাঁর আম যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা তাস খেলে বন্ধন দৃঢ় করছেন কেইন-বেলিংহ্যামরা ২০৩৮ বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র ঠাকুরগাঁও অডিটোরিয়াম চত্বর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ: শামা ওবায়েদ জার্মানিকে হারানোয় ইকুয়েডরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা সরকারের উদ্দেশ্য ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শার্শায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে মাদককারবারির হামলার শিকার সাংবাদিক রিমু বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আসমাউল হুসনা–আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ বাংলাদেশ-মায়ানমার-চীন ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাব চীনের হার নিয়ে প্রশ্ন হতেই সাংবাদিকদের ওপর চটলেন পচেত্তিনো ‘চলতি বাজেটেই গুমের শিকার পরিবারগুলোর জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হবে’

ঈদে এ হাকিমের পর্দা

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৪, ০২:৩০ পিএম
আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৪, ০২:৩২ পিএম
ঈদে এ হাকিমের পর্দা

পর্দা-সোফা-চাদর ও গাড়ির সিট এবং কুশন কভারের কাপড়ের বিক্রয় প্রতিষ্ঠান-এ হাকিম ট্রেডার্স ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতাদের জন্য দেশি-বিদেশি সব ধরনের কাপড়ের প্রচুর পসরা সাজিয়েছে।

ঘরের আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে দৃষ্টি নন্দন পর্দা-সোফা কভারের বিকল্প অন্য কিছু নেই। সেদিক লক্ষ্য রেখে পর্দা কাপড়ে এনেছে নতুনত্ব। 

পাইকারদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারাও সাশ্রয়ী মূল্যে পর্দা-সোফা কভারের কাপড় কিনে, পছন্দমতো তৈরি করার জন্য অর্ডার দিয়ে আসতে পারেন। এ হাকিম ট্রেডার্সের পর্দা সৌন্দর্য ও রুচির প্রতীক।

যোগাযোগ: এ. হাকিম ট্রেডার্স দোকান নং #১৯,নীচতলা, ১২ নং ইসলামপুর প্লাজা [সাবেক খোদেজা মার্কেট] নবাববাড়ি,ইসলামপুর,ঢাকা-১১০০ 

কলি 

বয়সভেদে মেকআপ যেমন হবে

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
বয়সভেদে মেকআপ যেমন হবে

মেকআপ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার একটি উপায় নয়, এটি আত্মবিশ্বাস প্রকাশেরও একটি মাধ্যম। তবে সব বয়সের জন্য একই ধরনের মেকআপ মানানসই হয় না। বয়স, ত্বকের ধরন এবং জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী মেকআপের ধরনেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বয়স অনুযায়ী সঠিক মেকআপ নির্বাচন করলে সৌন্দর্য আরও স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। লিখেছেন মুশফিরাত 

১৩ থেকে ১৯ বছর: স্বাভাবিক সৌন্দর্যই হোক মূল আকর্ষণ
কৈশোরে ত্বক সাধারণত সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে। এই বয়সে ভারী মেকআপের প্রয়োজন নেই। বরং হালকা ও প্রাকৃতিক লুকই সবচেয়ে মানানসই। ভারী ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার বা হালকা বিবি ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। তবে ব্রণ বা দাগ থাকলে শুধু প্রয়োজনীয় জায়গায় কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। 

পিচ, হালকা গোলাপি বা কোরাল রঙের ব্লাশ মুখে তারুণ্যের আভা এনে দেয়। চোখের ক্ষেত্রে হালকা মাসকারা ও ন্যুড আইশ্যাডো যথেষ্ট। ঠোঁটে লিপবাম, টিন্ট বা হালকা রঙের লিপস্টিক মানায় সবচেয়ে বেশি। এই বয়সে ত্বকের যত্নই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তবে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

২০ থেকে ৩০ বছর: ট্রেন্ড ও ব্যক্তিত্বের সমন্বয়
বিশের দশকে নারীরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের মেকআপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কর্মক্ষেত্র, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন লুক তৈরি করা যায়। এ ক্ষেত্রে ত্বকে মাঝারি কভারেজের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া কনট্যুর ও হাইলাইটার দিয়ে মুখের গঠন আরও আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

আইলাইনার, স্মোকি আই কিংবা রঙিন আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। লাল, বেরি, কোরাল বা ন্যুড–সব ধরনের লিপস্টিকই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় মেকআপ সতেজ থাকে। তবে ট্রেন্ড অনুসরণ করার পাশাপাশি নিজের ত্বকের রং ও মুখের গঠনের সঙ্গে মানানসই মেকআপ নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৩০ থেকে ৪০ বছর: পরিমিত ও পরিশীলিত সৌন্দর্য
ত্রিশের পর ত্বকে ধীরে ধীরে বয়সের ছাপ দেখা দিতে শুরু করে। তাই মেকআপের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল দেখানো। ময়েশ্চারাইজার ও প্রাইমার ব্যবহার করে ত্বক প্রস্তুত করা জরুরি। ভারী ম্যাট ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে হাইড্রেটিং বা লাইটওয়েট ফাউন্ডেশন ভালো। 

অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার না করাই উত্তম, কারণ এটি ত্বকের সূক্ষ্ম রেখাগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে। চোখের নিচের অংশে হালকা কনসিলার ব্যবহার করলে ক্লান্তভাব কমে যায়। সফট ব্রাউন, টোপ বা রোজ গোল্ড আইশ্যাডো মুখে পরিণত সৌন্দর্য এনে দেয়। 
ঠোঁটে রোজ বা সফট পিংক শেডের লিপস্টিক মানানসই। এ বয়সে লক্ষ্য থাকবে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখা, অতিরিক্ত প্রসাধনী দিয়ে তা ঢেকে ফেলা নয়। 

৪০ থেকে ৫০ বছর: উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার কৌশল
চল্লিশের পর ত্বক তুলনামূলক শুষ্ক হতে শুরু করে এবং স্থিতিস্থাপকতা কিছুটা কমে যায়। তাই মেকআপে হাইড্রেশনের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গ্লোয়িং ফিনিশযুক্ত ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে ত্বক প্রাণবন্ত দেখায়। ক্রিম ব্লাশ ও ক্রিম হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন যা ত্বকে স্বাভাবিক আভা এনে দেয়। যদি ভ্রু কিছুটা পাতলা হয়ে যায় তবে হালকা করে ভ্রু পূরণ করা যেতে পারে।

চোখের পাপড়িতে মাসকারা ব্যবহার করলে চোখ আরও উজ্জ্বল দেখায়। তবে অতিরিক্ত গাঢ় লিপস্টিকের পরিবর্তে ক্রিম ফিনিশের রং বেছে নেওয়া ভালো। এই বয়সে মেকআপের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সতেজ, প্রাণবন্ত এবং মার্জিত একটি উপস্থিতি তৈরি করা।

৫০ বছরের পর: সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা
পঞ্চাশের পর মেকআপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আরাম, স্বাভাবিকতা এবং আভিজাত্য। ত্বককে আর্দ্র রাখতে ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি, যা ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত রাখে। হালকা কভারেজের ফাউন্ডেশন বা স্কিন টিন্ট ব্যবহার করলে মুখে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। অতিরিক্ত পাউডার এড়িয়ে চলা ভালো, এতে ত্বক শুষ্ক দেখায় না। নরম শেডের ব্লাশ মুখে সতেজতা আনে। চোখে হালকা আইশ্যাডো ও মাসকারা এবং ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজিং লিপস্টিক বা গ্লস ব্যবহার করলে পুরো লুক আরও পরিপাটি দেখায়।
এ বয়সে মেকআপের উদ্দেশ্য নিজেকে ঢেকে রাখা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা।

কিছু সাধারণ পরামর্শ
বয়স যাই হোক, সুন্দর মেকআপের ভিত্তি হলো সুস্থ ত্বক। তাই নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিজের ত্বকের ধরন ও রঙের সঙ্গে মানানসই প্রসাধনী নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

লিফটে আটকে গেলে

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
লিফটে আটকে গেলে

আধুনিক নগর জীবনে লিফট এখন প্রতিদিনের অপরিহার্য একটি অংশ। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই সুবিধার মধ্যেও কখনো কখনো ঘটে যেতে পারে অপ্রত্যাশিত ঘটনা–লিফটে আটকে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি অনেকের জন্যই ভয় ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সঠিকভাবে ধৈর্য ধরে কিছু নিয়ম মেনে চললে এ অবস্থাকে নিরাপদভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। লিখেছেন রোদসী 

প্রথমেই শান্ত থাকুন এবং আতঙ্ক এড়িয়ে চলুন 

লিফটে আটকে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শান্ত থাকা। অনেকেই প্রথম মুহূর্তে ভয় পেয়ে চিৎকার করেন বা অস্থির হয়ে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মনে রাখতে হবে, লিফট সাধারণত নিরাপদভাবে বন্ধ থাকে এবং বেশির ভাগ সময়ই অল্প সময়ের মধ্যে এটি পুনরায় চালু করা হয়। তাই প্রথমেই গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করা উচিত।

ইমার্জেন্সি বাটন বা অ্যালার্ম ব্যবহার করুন

প্রায় সব আধুনিক লিফটে জরুরি অবস্থার জন্য অ্যালার্ম বা ইমার্জেন্সি বাটন থাকে। লিফটে আটকে গেলে প্রথমেই সেই বাটন চাপতে হবে। এতে ভবনের সিকিউরিটি বা লিফট অপারেটরদের কাছে সংকেত পৌঁছে যায়। অনেক লিফটে ইন্টারকম সিস্টেমও থাকে, যার মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ধীরে ধীরে সাহায্য চাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

মোবাইল ফোন থাকলে সাহায্য নিন
বর্তমানে প্রায় সবার কাছেই মোবাইল ফোন থাকে। লিফটে আটকে গেলে যদি নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত ভবনের ম্যানেজমেন্ট, নিরাপত্তাকর্মী বা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করা উচিত। নির্দিষ্ট ভবনের কন্ট্রোল রুম বা কেয়ারটেকারকে জানালে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে বারবার কল না করে ধৈর্য ধরে প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করাই ভালো।

অপ্রয়োজনীয় চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন
অনেকেই আতঙ্কে দরজা খোলার চেষ্টা করেন বা জোর করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। লিফটের দরজা বা যন্ত্রাংশ নিজের মতো করে নাড়াচাড়া করা উচিত নয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে পেশাদার সাহায্য আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

অক্সিজেন ও আরামের বিষয় মাথায় রাখুন
লিফটের ভেতরে সাধারণত পর্যাপ্ত বাতাস থাকে, তাই শ্বাসকষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি খুবই বিরল। তবে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই আরামদায়ক অবস্থানে দাঁড়ানো বা বসে থাকা উচিত এবং শরীরকে শিথিল রাখার চেষ্টা করা উচিত। 

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা ও শিক্ষা
লিফটে আটকে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হলেও এটি থেকে কিছু শিক্ষা নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে লিফট ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত ওজন না দেওয়া, নিয়ম মেনে ব্যবহার করা এবং জরুরি বাটনের অবস্থান জানা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বড়দের তত্ত্বাবধানে লিফট ব্যবহার করা উচিত।

আস্থা থেকে অর্জন সাজগোজের অনন্য যাত্রা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
সাজগোজের অনন্য যাত্রা

বাংলাদেশে যখন সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে বিউটি টিউটোরিয়াল এবং স্কিনকেয়ারভিত্তিক কনটেন্টের বিস্তার ঘটেনি, তখন নির্ভরযোগ্য সৌন্দর্য ও ত্বক পরিচর্যা বিষয়ক তথ্য খুঁজে পাওয়া ছিল বেশ কঠিন। ইন্টারনেটে পাওয়া অধিকাংশ তথ্যই ছিল ইংরেজিতে, যা অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের আবহাওয়া, জীবনযাপন কিংবা মানুষের ত্বকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। একই সময়ে দেশীয় বাজারে ছিল নকল ও নিম্নমানের পণ্যের আধিক্য। ফলে কোন পণ্যটি নিরাপদ, কোনটি কার্যকর কিংবা কোনটি নির্দিষ্ট ত্বকের জন্য উপযোগী এ বিষয়ে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের বড় ধরনের ঘাটতি ছিল।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা। আর সেই শূন্যতাকেই সম্ভাবনায় রূপ দিয়েছিল সাজগোজ। তাদের লক্ষ্য ছিল শুধু পণ্য বিক্রি নয়; বরং মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং তথ্যের ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান গড়ে তোলা।

‘ইনোভেশন ফর আ সাস্টেইনেবল ফিউচার: সিলেক্টেড কেসেস (২০২৪)’ গ্রন্থে প্রকাশিত এম. সাঈদ আলম, কোহিনুর বিশ্বাস এবং বুশরা হুমায়রা এশার একটি কেস স্টাডি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সিনথিয়া শারমিন ইসলাম, নাজমুল শেখ এবং মিল্কি মাহমুদ সাজগোজ প্রতিষ্ঠা করেন। অধিকাংশ স্টার্টআপ যেখানে শুরু থেকেই বিক্রয়কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করে, সেখানে সাজগোজ বেছে নেয় একেবারেই ভিন্ন একটি পথ—কনটেন্টভিত্তিক আস্থা নির্মাণ।

শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলায় সৌন্দর্যচর্চা ও ত্বকের যত্ন নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করত। সময়ের সঙ্গে যুক্ত হয় টিউটোরিয়াল, পণ্যের ব্যবহারবিধি, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং সচেতনতামূলক নানা লেখা। প্রতিটি কনটেন্টই তৈরি করা হয়েছিল বাংলাদেশি ভোক্তাদের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে সামনে রেখে।

ধারণাটি ছিল সহজ, কিন্তু কার্যকারিতা ছিল অসাধারণ। কারণ কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে মানুষ সেটি সম্পর্কে জানতে চায়, আর কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বিশ্বাস করার আগে প্রয়োজন হয় নির্ভরযোগ্য তথ্য ও গবেষণালব্ধ উপস্থাপনা। সাজগোজ ঠিক সেই জায়গাতেই গুরুত্ব দেয়।

পণ্য বিক্রির প্রচারণার পরিবর্তে তারা মানুষের নিত্যদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে শুরু করে। কোন পণ্য নিরাপদ? কোনটি কোন ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী? কীভাবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে সাজগোজ ধীরে ধীরে একটি সাধারণ ওয়েবসাইটের গণ্ডি পেরিয়ে সচেতন ভোক্তাদের নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতায় পরিণত হয়।

সাজগোজের যাত্রা থেকে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর একটি হলো প্রকৃত সমস্যা অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে পণ্যের অভাব ছিল না; অভাব ছিল সঠিক তথ্য, স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্য নির্দেশনার। প্রতিষ্ঠানটি উপলব্ধি করেছিল, প্রকৃত চাহিদা আসলে আরও বেশি পণ্য নয়, বরং আরও ভালো তথ্য। আর সেই তথ্য থেকেই জন্ম নেয় বিশ্বাস যা যেকোনো ব্যবসার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

সাজগোজের আরেকটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়া। যখন অনলাইন জগতের বড় অংশজুড়ে ইংরেজি কনটেন্টের আধিপত্য ছিল, তখন তারা স্থানীয় ভাষায় তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। এর ফলে স্কিনকেয়ার ও সৌন্দর্যচর্চা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে যায় এমন লাখো মানুষের কাছে, যারা এতদিন এ ধরনের জ্ঞানের মূলধারা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া, সংস্কৃতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা প্রতিফলিত হওয়ায় সাজগোজের কনটেন্ট হয়ে ওঠে আরও প্রাসঙ্গিক ও গ্রহণযোগ্য। ফলে পাঠকদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ক্রমশ গভীর হতে থাকে।

পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি গড়ে ওঠে একটি সক্রিয় কমিউনিটি। মানুষ সেখানে শুধু কনটেন্ট পড়েই থেমে থাকেনি; নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করেছে, প্রশ্ন করেছে, মতামত দিয়েছে এবং একে অপরের কাছ থেকে শিখেছে। এই কমিউনিটিই পরবর্তীতে সাজগোজের প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়।

বর্তমানে সাজগোজ একটি পূর্ণাঙ্গ কনটেন্টনির্ভর ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বাণিজ্যিক সাফল্য নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্যতা। বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ভিড়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে কেবল আরেকটি বিক্রয়মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একজন নির্ভরযোগ্য গাইড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

সাজগোজের গল্প উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। অধিকাংশ ব্যবসা শুরু হয় এই চিন্তা থেকে ‘কীভাবে আরও বেশি বিক্রি করা যায়?’ কিন্তু সাজগোজ শুরু করেছিল অন্য একটি প্রশ্ন দিয়ে—‘কীভাবে মানুষকে আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা যায়?’

এই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই তাদের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। কারণ মানুষ যখন একটি প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান, সততা এবং উদ্দেশ্যের ওপর আস্থা রাখে, তখন সেই বিশ্বাস ধীরে ধীরে ব্যবসার প্রতিও ছড়িয়ে পড়ে। আর একবার সেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হলে লেনদেন ও প্রবৃদ্ধি অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে আসে।

/এমটি 

 

ঘর সাজুক মনের মতো

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
ঘর সাজুক মনের মতো

গ্রীষ্মের তীব্র গরম শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। একটু পরিকল্পিত সাজসজ্জা ঘরকে করে তুলতে পারে আরও শীতল, আরামদায়ক ও প্রাণবন্ত। এই গরমে ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে হালকা রং, প্রাকৃতিক উপকরণ এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ওপর। লিখেছেন রোদসী
 
হালকা রঙে আসুক শীতলতার ছোঁয়া
গরমকালে ঘরের সাজে হালকা রঙের ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর। সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা নীল, মিন্ট গ্রিন, বেইজ বা প্যাস্টেল শেডের রং ঘরে প্রশান্তির অনুভূতি এনে দেয়। পর্দা, কুশন কভার, বেডশিট কিংবা টেবিল রানারে এসব রং ব্যবহার করলে ঘর দেখতে উজ্জ্বল ও শীতল লাগে। গাঢ় রং তুলনামূলক বেশি তাপ শোষণ করে, তাই গ্রীষ্মে হালকা রঙের আধিক্য রাখাই ভালো।

পর্দা ও কাপড়ে আনুন পরিবর্তন
শীতকালে ব্যবহৃত ভারী কাপড়ের পর্দা গরমে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই এ সময় সুতি, লিনেন বা হালকা কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা উচিত। পাতলা পর্দা প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ দেয় এবং ঘরে বাতাস চলাচল সহজ করে। একইভাবে সোফা কভার, কুশন কভার ও বেডশিটেও হালকা ও আরামদায়ক কাপড় বেছে নেওয়া ভালো।

ইনডোর প্ল্যান্টে ফিরুক সতেজতা
গরমের দিনে ঘরের পরিবেশকে প্রাণবন্ত ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে ইনডোর প্ল্যান্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবুজ গাছপালা শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং একটি প্রাকৃতিক ও প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি করে। মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, পিস লিলি, অ্যারেকা পাম কিংবা স্পাইডার প্ল্যান্টের মতো গাছগুলো ঘরের বিভিন্ন কোনে সহজেই মানিয়ে যায় এবং সজ্জায় এনে দেয় সতেজতার ছোঁয়া।

ড্রয়িংরুমের একপাশে, জানালার ধারে বা বারান্দার কোনে ছোট-বড় গাছের সমন্বয় ঘরের সৌন্দর্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি সবুজের উপস্থিতি মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং গরমের ক্লান্তিকর আবহে ঘরকে আরও জীবন্ত ও আরামদায়ক করে তোলে।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখুন
ঘরের সাজসজ্জায় অতিরিক্ত আসবাব, অপ্রয়োজনীয় শোপিস বা ব্যবহারহীন সামগ্রী ঘরকে ভারী ও অগোছালো দেখায়। তাই এ সময় ঘরকে যতটা সম্ভব খোলামেলা ও পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করা উচিত।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখলে ঘরে বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ে, ফলে পরিবেশ আরও আরামদায়ক মনে হয়। একই সঙ্গে ঘর বড়, পরিপাটি ও নান্দনিক দেখায়। বিশেষ করে ছোট ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমিয়ে মিনিমালিস্ট সাজসজ্জা অনুসরণ করলে গরমের দিনে ঘরে স্বস্তির অনুভূতি অনেকটাই বেড়ে যায়।

প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ান
গ্রীষ্মকালীন সজ্জায় বাঁশ, বেত, কাঠ কিংবা মাটির তৈরি উপকরণ বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বেতের চেয়ার, বাঁশের ঝুড়ি, মাটির ফুলদানি বা কাঠের ছোট শোপিস ঘরে এনে দেয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এসব উপকরণ শুধু নান্দনিকই নয়, বরং গরমের সময় ঘরে একটি আরামদায়ক পরিবেশও তৈরি করে।

আলো ও বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করুন
গরমের দিনে ঘরকে আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক রাখতে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঘরের সজ্জা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, যদি সেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস না পৌঁছায়, তাহলে পরিবেশ দ্রুত ভারী ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই দিনের বেলায় যতটা সম্ভব জানালা ও বারান্দার দরজা খোলা রাখার চেষ্টা করুন, যাতে স্বাভাবিক আলো ও বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

পর্দার ক্ষেত্রেও হালকা ও পাতলা কাপড় বেছে নেওয়া ভালো, যা আলো-বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবে না। সন্ধ্যার পর ঘরের আলোর ক্ষেত্রে খুব বেশি তীক্ষ্ণ নয়, বরং কোমল ও উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করলে ঘর আরও প্রশান্ত ও আরামদায়ক মনে হয়। 
ফুলের সাজে আসুক গ্রীষ্মের প্রাণ

তাজা ফুল ঘরের পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে দিতে পারে। ছোট ফুলদানিতে রজনীগন্ধা, গাঁদা, গোলাপ বা মৌসুমি ফুল সাজিয়ে রাখলে ঘরে সতেজতা ও সৌন্দর্য দুটোই বাড়ে। ফুলের প্রাকৃতিক সৌরভ ঘরের আবহকে আরও মনোরম করে তোলে।

শিশুর অঙ্কভীতি দূর করতে…

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
শিশুর অঙ্কভীতি দূর করতে…

অঙ্ক যখন শিশুর আতঙ্ক, তখন চাই একটু বাড়তি যত্ন। শিশুর এই অঙ্কভীতি দূর করার দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবকদেরই। ধৈর্যের সঙ্গে শিশুর ভেতর থেকে ভয়কে নির্মূল করে গণিতে সাবলীল করে তুলবেন যেভাবে তা নিয়ে লিখেছেন দীনা মরিয়ম 

ভীতির কারণ উদ্ঘাটন: যেকোনো সমস্যা নির্মূলের জন্য তার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করতে পারা জরুরি। প্রথমে জানার চেষ্টা করতে হবে যে, কী কারণে শিশু অঙ্ক ভয় পায়। এই ভীতি কি তার জেনেটিক? তার কি বেসিক দুর্বল রয়েছে? শিক্ষক যেভাবে বোঝাচ্ছেন তা কি সে বুঝতে পারছে না? সে কি তার অঙ্কের শিক্ষককে ভয় পায়? নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা আগে খুঁজে বের করতে হবে। তার পর সেই সমস্যা নির্মূলের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। 

নিজের অঙ্কভীতি: যদি অভিভাবকেরই অঙ্কভীতি থেকে থাকে অথবা অঙ্কে তার দখল কম থাকে তা শিশুর ওপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করে। এ ক্ষেত্রে আগে নিজের ভেতর থেকে ভীতি দূর করতে হবে, নিজে আগে অঙ্কগুলো চর্চা করে নিতে হবে। তার পর শিশুকে শেখানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যতটা সহজ ভাষায় সম্ভব তা শিশুকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

অঙ্ক সমাধানে পরিবর্তন: একই অঙ্ক বেশ কয়েকভাবে সমাধান করা যায়। শিশু যে পদ্ধতিতে সবচেয়ে দ্রুত বুঝতে পারে বা রেসপন্স করতে পারে তাকে সে পদ্ধতিতে শেখাতে হবে। 

অঙ্কের ধরন: শিশুদের যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ–এই মূল চারটি বিষয় ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। আসলে যত জটিল প্রক্রিয়াতেই প্রশ্ন তৈরি করা হোক না কেন, তার সমাধান এই চার পদ্ধতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই চারটি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারলেই শিশুর অঙ্কভীতি অনেকটা দূর হয়ে যাবে।

বেসিক শিক্ষা: শুরুতে অঙ্ক এবং সংখ্যাগুলোর সঙ্গে শিশুর ভালোভাবে পরিচয় করাতে হবে। আগের সংখ্যা, পরের সংখ্যা, জোড়বিজোড় সংখ্যাগুলো চিনিয়ে দিতে হবে। তার পর ছবির মাধ্যমে কম বা বেশি, কতটি আছে গুনতে শেখানো দরকার। এতে করে যোগ এবং বিয়োগ শেখাতে সুবিধা হবে। সেটা শিখে গেলে নামতা শিখিয়ে দিতে হবে, যাতে গুণ ও ভাগ সহজ হয়ে যায়। হয়ে গেল মূল চারটি বিষয় শেখা। যারা একটু বড় তাদের ভগ্নাংশ ভালোভাবে শেখাতে হবে। ভগ্নাংশ এমন একটি ধাপ যার মাধ্যমে একই সঙ্গে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের চর্চা হয়ে যায়। 

ঘন ঘন অনুশীলন: একই অঙ্ক বারবার অনুশীলন করতে হবে যাতে শিশুর কাছে তা সহজ হয়ে যায়। একই অঙ্ক বারবার সংখ্যা পাল্টে, বিষয়বস্তুর নাম পাল্টে নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি করে প্র্যাকটিস করাতে হবে। এতে করে শিশু একই পদ্ধতির যেকোনো অঙ্ক সহজে সমাধান করতে পারবে। শিশুর কাছে অঙ্ক সহজ মনে হলে সে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে এবং জটিল অঙ্কও তখন সহজে বুঝতে ও সমাধান করতে পারবে।

পাঠ্যপুস্তকের অঙ্ক: প্রতিটি শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে অনুশীলনীর আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্কবিষয়ক কিছু তথ্য-উপাত্ত এবং উদাহরণ সন্নিবেশিত থাকে। সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই শিশুকে অনুশীলন করানো হয় না। বস্তুত, অনুশীলনীর অঙ্কগুলোর সহজ সমাধান সেই তথ্য এবং উদাহরণের মাঝেই থাকে। এগুলো অনুশীলন করলে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নগুলোর উত্তর বা সমাধান সহজ হয়। তা ছাড়া অনুশীলনীতে সৃজনশীল প্রশ্নের নমুনা দেওয়া থাকে। সেই অনুযায়ী প্রশ্ন তৈরি করে চর্চা করলে শিশু সহজে অঙ্কের সমাধান করতে পারবে।

ভয়ের প্রবণতা: চিকিৎসা বিজ্ঞানে অঙ্কভীতির প্রবণতাকে বলা হয় ‘অ্যারিথমোফোবিয়া’। কারও কারও এ প্রবণতার কারণে অঙ্ক বই দেখলে ভয় লাগতে পারে, অঙ্ক পরীক্ষার আগে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। বকাঝকা না করে তাকে বোঝাতে হবে যে ‘যা তুমি শিখেছ, তার বাইরেই কিছুই প্রশ্নে থাকবে না। 

একটু ঠাণ্ডা মাথায় প্রশ্নগুলো দেখো, তাহলেই বুঝতে পারবে অঙ্কগুলো কত সহজ। কারও কারও নার্ভাস ব্রেকডাউন বা প্যানিক অ্যাটাকের প্রবণতা থাকে। এসব ক্ষেত্রে তাদের প্রতিবার অঙ্ক করানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু পজিটিভ অ্যাফারমেশন এবং প্রয়োজনীয় কিছু দমচর্চা বা প্রাণায়াম এবং ইয়োগা হস্তমুদ্রা বা কিছু কৌশল নিয়মিত চর্চা করাতে হবে যাতে নিজে নিজেই এই ভয়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।

/এমটি