একজন মানুষ যখন আরেকজনকে অপমান করতে চায় তখন তাকে ‘গাধা’ বলে সম্বোধন করে। অথচ এই গাধাই মানুষের বোঝা বইছে, মাটি টানছে, পাহাড় পেরোচ্ছে। বিপরীতে নেই কোনো প্রতিবাদ বা অভিযোগ। উল্টো গাধার মাঝে রয়েছে ধৈর্য, সহনশীলতা আর দায়িত্ববোধের এক অন্যান্য উদাহরণ।
মধ্য আফ্রিকার কোনো গ্রামে কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো পাহাড়ি এলাকায় গেলে দেখা যাবে গাধাই যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। ইতিহাস বলে এই গাধারাই কিন্তু মিসরের পিরামিড তৈরির জন্য পাথর টেনেছে, সেনাদের যুদ্ধের রসদ বয়ে এনেছে। অথচ এই নিরীহ, কর্মঠ প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির পথে।
গাধা সম্পর্কে আমাদের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা তাকে ভাবি নির্বোধ, অথচ গাধা একবার কোনো পথ চিনলে তা বছরের পর বছর মনে রাখতে পারে। গবেষণা বলে, গাধা একবার কোনো পথ দেখলে তা ২৫ বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে। শুধু তাই না, একটি গাধা মরু পরিবেশে ৬০ মাইল দূরে থেকে অন্য গাধার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে।
বিপদের সময় কেউ যখন মাথা গরম করে সামনে এগিয়ে যায়, গাধা তখন দাঁড়িয়ে যায়। কেউ ভাবে, বোকা বলে এগোয় না- আসলে ও জানে, এই পথে গেলে মরবে। গাধা নেকড়ে, বাঘ বা অন্য বন্য জন্তুর উপস্থিতি বুঝতে পারে। তাদের হাত থেকে বাকি পশুদের রক্ষা করতে বিশেষ সংকেত দেয়। এ ছাড়া গাধা গবাদিপশু, ভেড়া ও ছাগলকে পাহারা দেয়। সুতরাং গাধা বোকা নয়, বরং জ্ঞানী একটি প্রাণী। তার ধৈর্য, কম খেয়ে বেশি কাজ করার ক্ষমতা, আরেকটি গাধার সঙ্গে আজীবন সঙ্গী হয়ে থাকার মতো আনুগত্য- এসব গুণ মানুষের মধ্যেই বিরল।
বিশ্বজুড়ে আজ এই গাধাদের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চীনে গাধার চামড়া দিয়ে ‘ইজিয়াও’ নামের এক ধরনের ওষুধ তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি’। আর এই কারণে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো থেকে গাধা এখন পাচারের শিকার হচ্ছে। কোটি কোটি গাধা আজ হুমকির মুখে। বিজ্ঞানী আর্ক রাজিক এই অবস্থা দেখে ২০১৮ সালে শুরু করেন বিশ্ব গাধা দিবস। প্রতি বছর ৮ মে পালিত হয় দিবসটি। উদ্দেশ্য এই নিরীহ প্রাণীর প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।
আমাদের দেশে ইটভাটা, পাহাড়ি এলাকা কিংবা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো কিছু গাধা মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা করে দেয়। আমাদের মনে রাখা দরকার গাধা মানেই বোকা নয়, বরং পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল এবং আশ্চর্যরকম বুদ্ধিমান এক প্রাণী।
তারেক
.jpg)
.jpg)
.jpg)