কিউবার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ভিনালেস ন্যাশনাল পার্ক থেকে গবেষকরা নতুন এক প্রজাতির ট্যারান্টুলা আবিষ্কার করেছেন, যা মাকড়সা বর্গের অন্তর্ভুক্ত। সম্প্রতি আবিষ্কৃত এই নতুন প্রজাতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রিকোপেলমা গ্রান্ডে’ (Trichopelma grande)। চেক রিপাবলিকের ম্যাসোরিক ইউনিভার্সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড অর্টিজ ও কিউবার কিউবান জুওলজিক্যাল সোসাইটির এলিয়ার ফনসেকা প্রজাতিটি চিহ্নিত করেছেন। এই গবেষণার ফলাফল ‘জার্নাল অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি’ নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রিকোপেলমা গণের এই নতুন সদস্যটি অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় আকার ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য উল্লেখযোগ্য। এটি এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত এই গণের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও লোমশ প্রজাতি।
গ্রেটার অ্যান্টিলিয়ান দ্বীপপুঞ্জ (কিউবা, জ্যামাইকা ও পুয়ের্তো রিকো) প্রজাতি বিবর্তনের গবেষণার জন্য একটি প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার। এই দ্বীপগুলো একসময় সংযুক্ত ছিল, যাতে রয়েছে নানা ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য। তবে এই দ্বীপগুলো লাখ লাখ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানকার প্রাণীরা নিজস্বভাবে বিবর্তিত হয়েছে। ফলে দ্বীপগুলোয় অনেক প্রজাতি স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ অভিযোজিত হয়েছে। এই অঞ্চলে অসাধারণ বৈচিত্র্য দেখা মেলে মাকড়সায়, বিশেষ করে ট্যারান্টুলায়।
গবেষকরা ট্রিকোপেলমা গ্রান্ডে নামের এই নতুন প্রজাতি চিহ্নিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা ও শারীরিক গঠন বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। ট্যারান্টুলার দেহ থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ পরীক্ষা করে গবেষকরা ১ হাজার ৩৪৮টি লোকাসের তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর এই তথ্য ২৭টি অন্যান্য থেরাফোসিডাই গোত্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ফলাফল থেকে দেখা যায়, ট্রিকোপেলমা গ্রান্ডে কোস্টারিকার ট্রাইকোপেলমা লাসেলভা প্রজাতির সবচেয়ে নিকটাত্মীয়।
এই নতুন প্রজাতির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ট্যারান্টুলার পায়ের নিচের ও মাঝের অংশে প্রচুর লোম থাকে, যা দেখতে পালকের ঝাড়ুর মতো লাগে। সাধারণত গাছের উপরে থাকা ট্যারান্টুলার এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তবে ট্রিকোপেলমা গ্রান্ডে মাটির গর্ত থাকে, যা এই গোত্রের অন্যান্য প্রজাতির মতো।
লোমশ পা ছাড়াও, ট্রিকোপেলমা গ্রান্ডের আরও কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর পেটের উপরিভাগে ছোপ ছোপ দাগ এবং ছয়টি গাঢ় ও হালকা রেখা রয়েছে। মাথার আকার এই গোত্রের অন্যান্য প্রজাতির চেয়ে অনেক বড়।
এই ট্যারান্টুলার নমুনাগুলো কিউবার পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত ভিনালেস জাতীয় উদ্যানের মাত্র ২০ কিলোমিটারের মধ্যে পাওয়া গেছে। এটি এই প্রজাতির ব্যাপকতার সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে। এই নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া অন্য কোনো স্থানে এদের দেখা মেলেনি। সীমিত আবাসস্থল ও সংখ্যার কারণে এই নতুন প্রজাতির সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে গবেষকদের মধ্যে।


