সৌরজগতের লাল গ্রহ মঙ্গল সম্পর্কে জানতে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। অবস্থানের কারণে এই গ্রহের অনেক স্বতন্ত্র রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ক্লোরিন, ফসফরাস ও সালফারের মতো তুলনামূলক কম ফুটন্ত বিন্দুসহ উপাদানগুলো পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলে অনেক বেশি বিদ্যমান।
অতীতে মঙ্গলের পরিবেশ কেমন ছিল, তা জানার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী মঙ্গল গ্রহ থেকে ছিটকে পড়া উল্কাপিণ্ড এনডব্লিউএ৭০৩৪-এর নমুনা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, অতীতের কোনো একসময়ে মঙ্গল গ্রহে গরম পানি ছিল। সেটি তাদের ভাষায় ২০০ কোটি বছরের বেশি আগে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ব্ল্যাকবিউটি নামে পরিচিত উল্কাপিণ্ডটি ২০১১ সালে সাহারা মরুভূমিতে পাওয়া গেছে। ৪৪৩ বছরের পুরোনো এই উল্কাপিণ্ড মহাজাগতিক কোনো সংঘর্ষের কারণে মঙ্গল গ্রহ থেকে পৃথিবীতে ছিটকে পড়েছে বলে ধারণা করা হয়। উল্কাপিণ্ডের জিরকন নমুনা বিশ্লেষণ করে পানির রাসায়নিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর এই রাসায়নিকের উপস্থিতি ইঙ্গিত করে যে, মঙ্গল গ্রহে একসময় গরম পানি ছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভূতাপীয় বা হাইড্রোথার্মাল সিস্টেম জীবন বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যক। পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশের জন্য শুরুতে এই সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান মঙ্গল গ্রহের ভূত্বক গঠনের সময়ও ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কার্টিনের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী অ্যারন ক্যাভোসি বলেন, ‘এই আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহের প্রাথমিক হাইড্রোথার্মাল সিস্টেম সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহ অতীতে বাসযোগ্য ছিল কি না, তা বোঝার জন্য নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। মঙ্গল গ্রহে গরম পানির প্রাথমিক প্রমাণ শনাক্ত করতে ন্যানো- স্কেল জিওকেমিস্ট্রি ব্যবহার করা হয়েছে।’
বিজ্ঞানীরা লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, ইট্রিয়াম, সোডিয়ামসহ জিরকন কণার প্রয়োজনীয় উপাদান শনাক্ত করতে ন্যানো- স্কেল ইমেজিং ও স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করেন। এসব উপাদানের প্যাটার্ন থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গল গ্রহের প্রথম দিকে ভূত্বকে পানি ছিল।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স ও আর্থ ডট কম


