চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বরফ ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের সন্ধানে নামছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এই ঐতিহাসিক অভিযানের জন্য ‘ভাইপার’ (VIPER) নামের একটি রোভার তৈরি করেছে তারা। আর এই রোভারকে চাঁদের বুকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশ সংস্থা ব্লু অরিজিন। নাসার ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর আওতায় ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রোভারটি চাঁদে অবতরণ করবে।
ভাইপার (VIPER - Volatiles Investigating Polar Exploration Rover) নামের এই রোভারটির মূল কাজ হবে চাঁদের পৃষ্ঠে বরফের মতো উদ্বায়ী পদার্থের সন্ধান ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা, যা ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গলে মানব অভিযানের পথ সুগম করবে।
নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক শন ডাফি বলেন, ‘আমাদের রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুর প্রতিকূল পরিবেশে গবেষণা চালাবে। এটি সেখানকার স্থায়ীভাবে ছায়াচ্ছন্ন ছোট ছোট অঞ্চলে ভ্রমণ করে নভোচারীদের জন্য ভবিষ্যৎ অবতরণ স্থান চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি চাঁদের পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি মানব মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এই মিশনের জন্য ‘কমার্শিয়াল লুনার পেলোড সার্ভিসেস (সিএলপিএস)’-এর অধীনে ব্লু অরিজিনের সঙ্গে ১৯ কোটি ডলার বা প্রায় ২ হাজার ২৩৫ কোটি টাকার চুক্তি করেছে নাসা। এটি ব্লু অরিজিনের জন্য নাসার দ্বিতীয় চন্দ্র ডেলিভারি চুক্তি। এর আগে তাদের ‘ব্লু মুন এমকে-১’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে চলতি বছরের শেষদিকে নাসার পেলোড পাঠানোর কথা রয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ব্লু অরিজিন তাদের দ্বিতীয় এমকে-১ ল্যান্ডার ব্যবহার করে ভাইপার রোভারটিকে চাঁদে পৌঁছে দেবে।
মজার বিষয় হলো, এর আগে নাসা একবার ভাইপার প্রকল্পটি বাতিল করেছিল। তবে চাঁদে পানির মতো সম্পদের ম্যাপিং তৈরি করার জন্য সংস্থাটি বিকল্প ও সাশ্রয়ী পথ খুঁজছিল।
নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স বলেন, ‘আমরা এই মিশনের লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সৃজনশীল ও সাশ্রয়ী পদ্ধতির সন্ধান করছিলাম। বেসরকারি খাতের এই অবতরণ সক্ষমতা আমাদের বিনিয়োগকে সঠিক পথে চালিত করবে এবং মহাকাশে মার্কিন নেতৃত্ব নিশ্চিত করবে।’
চুক্তি অনুযায়ী, রোভারটি নিরাপদে চাঁদে অবতরণ করানোর জন্য ল্যান্ডারের নকশা, পরীক্ষা ও পেলোড ইন্টিগ্রেশনসহ সম্পূর্ণ মিশনের দায়িত্বে থাকবে ব্লু অরিজিন। অন্যদিকে রোভারটির পরিচালনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকল্পনা করবে নাসা। রোভারটির ১০০ দিনের একটি মিশন সফল করার জন্য এটিকে ২০২৭ সালের শেষদিকে অবতরণ করতে হবে।
নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, এই অভিযান সফল হলে চাঁদের কোথায় ও কীভাবে সবচেয়ে সহজে বরফ পাওয়া যাবে, তা জানা সম্ভব হবে। এই বরফ ভবিষ্যতে মানুষের ব্যবহারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। শুধু তাই নয়, চাঁদের পানির উৎস গবেষণা করে সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কেও মূল্যবান তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


