আমেরিকার বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো মানুষের ত্বকের কোষ থেকে ডিএনএ নিয়ে তা শুক্রাণুর সঙ্গে যুক্ত করে প্রাথমিক স্তরের ভ্রূণ তৈরি করেছেন।
এই প্রযুক্তি বয়সজনিত বা রোগজনিত বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে, কারণ দেহের প্রায় যেকোনো কোষ থেকেই জীবনের সূচনা করা সম্ভব। এমনকি ভবিষ্যতে সমলিঙ্গ দম্পতিদের জন্যও জেনেটিকভাবে সম্পর্কিত সন্তান জন্মদানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে পদ্ধতিটি এখনো পুরোপুরি নিখুঁত নয় এবং প্রজনন ক্লিনিকে এটি ব্যবহারের আগে আরও অন্তত এক দশক গবেষণা ও উন্নয়ন প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির (OHSU) অধ্যাপক শৌখরাত মিতালিপভ।
তিনি বলেন, “আমরা এমন কিছু করতে পেরেছি যা একসময় অসম্ভব বলে মনে করা হতো।”
গবেষণায় দেখা গেছে, বিজ্ঞানীরা ত্বকের কোষের নিউক্লিয়াস (যেখানে সম্পূর্ণ জেনেটিক কোড থাকে) একটি দাতা ডিম্বাণুর ভেতরে প্রতিস্থাপন করেন। তবে এতে ডিম্বাণুতে অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থেকে যায়। ফলে একটি নতুন ধাপে “মাইটো-মিয়োসিস” নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিম্বাণুকে অর্ধেক ক্রোমোজোম ত্যাগ করতে হয়, যাতে পরে শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে স্বাভাবিকভাবে ভ্রূণ তৈরি করতে পারে।
প্রাথমিক পরীক্ষায় ৮২টি কার্যকর ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং সেগুলো শুক্রাণুর সঙ্গে যুক্ত করার পর কয়েকটি ভ্রূণের প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রসর হয়। তবে কোনো ভ্রূণ ছয় দিনের বেশি বিকশিত করা হয়নি।
বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন যে এই প্রযুক্তির সাফল্যের হার এখনো খুব কম (প্রায় ৯ শতাংশ) এবং ক্রোমোজোমের নির্বাচনী ত্রুটির কারণে রোগের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রজনন চিকিৎসায় এক বিরাট অগ্রগতি। একে বলা হচ্ছে “ইন ভিট্রো গ্যামিটোজেনেসিস”, যেখানে দেহের বাইরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করা হয়। এটি ভবিষ্যতে সন্তান জন্মদানে অক্ষম দম্পতিদের জন্য নতুন আশা হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই অগ্রগতি সমাজে নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্নও তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে জনমত গঠন, খোলামেলা আলোচনা ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। সূত্র: বিবিসি


