যুক্তরাজ্য সরকার বিজ্ঞানের নামে প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। দেশটির বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী প্যাট্রিক ভাল্যান্স এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এর মূল লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং থ্রিডি-বায়োপ্রিন্টেড মানবটিস্যুর ব্যবহার বাড়িয়ে প্রাণীর ওপর পরীক্ষার বিকল্প পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা।
এই কৌশলের অধীনে টিকা বা কীটনাশকের মতো পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই করার জন্য যেখানে এখনো প্রাণীদের ওপর নির্ভর করতে হয়, সেসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর বিকল্প পদ্ধতি প্রতিস্থাপিত হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, গবেষকদের নতুন তহবিল এবং সুবিন্যস্ত নীতিমালার মাধ্যমে ‘অর্গান-অন-এ-চিপ’ সিস্টেমের মতো পদ্ধতির উন্নতি ঘটানো হবে। এই ক্ষুদ্র ডিভাইসগুলো বাস্তব মানব কোষ ব্যবহার করে অঙ্গের কার্যক্রম অনুকরণ করতে পারে।
পাশাপাশি, অণু সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে এবং নতুন ওষুধ মানুষের জন্য নিরাপদ হবে কি না তা ভবিষ্যদ্বাণী করতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো হবে। থ্রিডি-বায়োপ্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য ত্বক থেকে লিভার পর্যন্ত বাস্তবসম্মত মানবটিস্যু তৈরি করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে ত্বক ও চোখের জ্বালাপোড়া পরীক্ষার জন্য প্রাণীদের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ইঁদুরের ওপর বোটক্সের শক্তি পরীক্ষা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুর ও প্রাইমেটদের ওপর ওষুধের গতিবিধি পর্যালোচনার মতো পরীক্ষাগুলোও হ্রাস করা হবে।
লর্ড ভাল্যান্স বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা প্রাণীদের ওপর পরীক্ষার বিকল্প খুঁজে বের করতে সরকার, ব্যবসায়ী ও প্রাণী কল্যাণ গোষ্ঠীগুলোকে এক সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করবে।’
আরএসপিসিএ-এর বার্নি রিড এই কৌশলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি প্রাণী, বিজ্ঞান ও সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।


