মানুষের শরীর কতটা সহনশীল হতে পারে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস বারবার তার প্রমাণ দিয়েছে। কখনো ৯০ শতাংশ মস্তিষ্ক ছাড়াই মানুষের বেঁচে থাকা, আবার কখনো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাপনের ঘটনা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমনই কিছু বিস্ময়কর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে দেখা গেছে হৃৎপিণ্ড ছাড়াই একজন মানুষ ৫৫৫ দিন বেঁচে ছিলেন।
সাধারণত দেখা যায়, মানুষের জোড়া অঙ্গগুলোর একটি বিকল হলে অন্যটি সেই কাজ চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় কোনো একক অঙ্গ হারিয়েও প্রযুক্তির সহায়তায় বেঁচে থাকা এক অনন্য অর্জন। একজন মার্কিন যুবক হৃৎপিণ্ড ছাড়া ৫৫৫ দিন বেঁচে ছিলেন। তার নিজের হৃৎপিণ্ডটি শরীর থেকে অপসারণ করার পর প্রতিস্থাপন পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি একটি কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড ব্যবহার করেছিলেন, যা তিনি সব সময় একটি ব্যাকপ্যাকে বহন করতেন।
এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় ‘এম্পটি চেস্ট’ বা ফাঁকা বুকের ক্ষেত্রে ‘একমো’ (এসিএমও) নামক জীবন রক্ষাকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত কৃত্রিমভাবে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কাজ সম্পাদন করে। শুধু হৃৎপিণ্ড নয়, ২০০৭ সালে ফ্রান্সে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়, যার মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশই ছিল তরলে পূর্ণ। তা সত্ত্বেও তিনি একজন সুস্থ মানুষের মতো জীবনযাপন করছিলেন। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নিউরোপ্লাস্টিসিটি’ বা স্নায়বিক অভিযোজন ক্ষমতা বলা হয়।
এ ছাড়া ক্যানসার ও গুরুতর সংক্রমণের কারণে অনেক সময় মানুষের পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, প্লীহা কিংবা অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিপাক অঙ্গগুলো অপসারণ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে এনজাইম প্রতিস্থাপন, বিশেষ খাদ্যতালিকা ও ইনসুলিনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। এমনকি পিত্তথলি, থাইরয়েড বা অ্যাপেন্ডিক্স ছাড়াও মানুষ দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, একজন মানুষ একসঙ্গে কতগুলো অঙ্গ ছাড়া বেঁচে থাকতে পারবেন তার সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। তবে একাধিক অঙ্গ একসঙ্গে হারালে রক্তক্ষরণ বা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও শরীরের অবিশ্বাস্য অভিযোজন ক্ষমতার সংমিশ্রণ মূলত এসব অসম্ভবকে সম্ভব করছে।


