পুরুষের বংশগত টাক ও চুল পড়ার দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কসমো ফার্মাসিউটিক্যালস তাদের নতুন ওষুধ ‘ক্ল্যাসকোটারোন ৫ শতাংশ টপিক্যাল সলিউশন’-এর তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়েছে।
যদি এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়, তবে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে সম্পূর্ণ নতুন জৈবিক পদ্ধতিতে প্রথম চুলের চিকিৎসা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটিরও বেশি পুরুষ এই সমস্যায় ভুগছেন।
যেভাবে কাজ করে নতুন ওষুধ
পুরুষের চুল পড়ার প্রধান কারণ ‘ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন’ (ডিএইচটি) নামের হরমোন। এই হরমোন চুলের ফলিকল বা গোড়াকে সংকুচিত করে দেয়। পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধির চক্রকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলে। বর্তমানে বাজারে থাকা ওষুধগুলো হয় পুরো শরীরে হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে, নতুবা চুলের বৃদ্ধিকাল দীর্ঘ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এসব পদ্ধতির অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।
ক্ল্যাসকোটারোন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে। এটি শরীরের হরমোন ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে সরাসরি মাথার ত্বকের নির্দিষ্ট জায়গায় কাজ করে। এটি চুলের গোড়ায় থাকা অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরগুলোকে ব্লক করে দেয়, ফলে ডিএইচটি হরমোন চুলের ক্ষতি করতে পারে না। যেহেতু এর কার্যকারিতা কেবল ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাই শরীরের অন্যান্য অংশে হরমোনজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে।
গবেষণার ফলাফল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন কেন্দ্রে ‘স্ক্যাল্প-১’ ও ‘স্ক্যাল্প-২’ নামে দুটি অভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ১ হাজার ৪৬৫ জন পুরুষের ওপর দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ল্যাসকোটারোন ব্যবহারকারীদের চুলের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি ট্রায়ালে দেখা গেছে, সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় এই ওষুধটি ৫.৩৯ গুণ বেশি কার্যকরভাবে চুল গজাতে সাহায্য করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরাও নিজ থেকে তাদের চুলের উন্নতির কথা জানিয়েছেন। সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে করা এই মূল্যায়নে দেখা গেছে, রোগীরা এই নতুন পদ্ধতিতে বেশ আশাবাদী।
ওষুধটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যগুলো চিকিৎসকদের জন্য বেশ স্বস্তিদায়ক। দেখা গেছে, এতে কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটি শরীরের হরমোন ভারসাম্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. মারিয়া হরডিনস্কি বলেন, ‘এতদিন রোগীরা সামান্য কার্যকারিতার বদলে বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকির কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এই নতুন গবেষণা সেই দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে।’
কসমো ফার্মাসিউটিক্যালস আশা করছে, ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে তারা তাদের ১২ মাসের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে এটি ছাড়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করা হবে।
অনুমোদন পেলে এটি হবে প্রথম কোনো টপিক্যাল অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টর ব্লকার, যা বিশেষ করে টাক সমস্যার জন্য অনুমোদিত। বর্তমানের প্রচলিত চিকিৎসার সঙ্গে এটি একত্রে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ওষুধটি টাক সমস্যার চিকিৎসায় সত্যিই এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


