ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায়
Nagad desktop

বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুৎসিত’ ১০ প্রাণী: সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যেখানে ভিন্ন

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
বিশ্বের সবচেয়ে ‘কুৎসিত’ ১০ প্রাণী: সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যেখানে ভিন্ন
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির বিশাল রাজ্যে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সব সময় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মেলে না। আমরা সাধারণত লোমশ বিড়ালছানা কিংবা মায়াবী চোখের কুকুরছানা দেখলে মুগ্ধ হই। তাদের আদর করতে ইচ্ছা করে, দেখলে মনে হয় কোলে তুলে নেই। তবে বনের গহিনে, সমুদ্রের অতলে কিংবা মাটির নিচে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে, যাদের চেহারা আমাদের প্রচলিত সৌন্দর্যের সংজ্ঞায় ঠিক পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে এদের আমরা ‘কুৎসিত’ বা ‘মন্দ’ বলে আখ্যায়িত করি। তবে এই অদ্ভুত দর্শনের প্রাণীগুলোর প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা।

বিবর্তনের ধারায় মানুষ হিসেবে আমাদের মস্তিষ্কে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে ‘সুন্দর’ বা ‘আকর্ষণীয়’ হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘বেবি স্কিমা’। বড় চোখ, ছোট নাক, গোলাকার মুখ–এসব বৈশিষ্ট্য আমাদের মনে সহজাতভাবে মায়া ও আদরের অনুভূতি জাগায়। মূলত আমাদের নিজেদের শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য বিবর্তনের মাধ্যমে এই মানসিকতা তৈরি হয়েছে। এই মানসিকতা বন্যপ্রাণীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রভাবিত করে।

যেসব প্রাণীকে আমরা তথাকথিত ‘কুৎসিত’ বলি, তাদের প্রতি আমাদের সেই সহজাত মায়া কাজ করে না। ফলে প্রকৃতিতে থেকেও তারা অনেকটা অবহেলিত। সুন্দর প্রাণীদের সংরক্ষণে মানুষ যতটা আগ্রহী হয়, এই অদ্ভুত দর্শনের প্রাণীদের ক্ষেত্রে ততটা হয় না। অথচ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অপরিসীম। এদের অনেকের রয়েছে এমন সব সক্ষমতা, যা বিস্ময়কর।

বিশ্বের এমন কিছু বিচিত্র ও অদ্ভুত দর্শনের প্রাণী নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। মানুষের চোখে এরা হয়তো কুৎসিত, তবে প্রকৃতির চোখে এরা একেকটি মাস্টারপিস। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু প্রাণী সম্পর্কে।

আই-আই (Aye-aye)
মাদাগাস্কারের গহিন অরণ্যে দেখা মেলে এই অদ্ভুত প্রাণীটির। প্রাইমেট গোত্রের এই প্রাণীটি নিশাচর। এর চেহারার দিকে তাকালে প্রথমে নজরে আসবে এর বড় বড় কমলা রঙের চোখ, ইঁদুরের মতো দাঁত ও কালো-সাদা লোমশ শরীর। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য এর হাতের আঙুল। বিশেষ করে এর মাঝখানের আঙুলটি অস্বাভাবিক লম্বা।

আই-আইয়ের এই অদ্ভুত চেহারার পেছনে রয়েছে টিকে থাকার এক দারুণ কৌশল। এরা মূলত গাছের কোটরে লুকিয়ে থাকা পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। এদের লম্বা আঙুল দিয়ে এরা গাছের কাণ্ডে টোকা দেয়। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় আটবার টোকা দিয়ে এরা প্রতিধ্বনি শোনার চেষ্টা করে, যাকে বলা হয় ‘ইকোলোকেশন’। অনেকটা রাডারের মতো কাজ করে এই পদ্ধতি। গাছের ভেতরে কোথায় ফাঁপা জায়গা আছে বা কোথায় পোকা লুকিয়ে আছে, তা শব্দ শুনে বুঝে ফেলে আই-আই। এরপর সেই লম্বা আঙুল দিয়ে পোকা বের করে আনে।

প্রবোসিস মাঙ্কি (Proboscis monkey)
বানর প্রজাতির মধ্যে প্রবোসিস মাঙ্কির চেহারা সবচেয়ে আলাদা। এর প্রধান কারণ এদের বিশাল আকৃতির নাক। একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ প্রবোসিস বানরের নাক লম্বায় প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার বা ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। এর গায়ের রং বেশ চমৎকার। মাথায় লালচে লোম, শরীরে হালকা বাদামি আভা ও হাত-পা ধূসর রঙের হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে এদের দেখে মনে হয় যেন কোনো দামি কোট পরে আছে।

বোর্নিও দ্বীপে পাওয়া এই বানরগুলো দারুণ সাঁতারু। এদের পায়ে হাঁসের মতো লিপ্তপাদ থাকায় এরা অনায়াসে পানিতে সাঁতার কাটতে পারে। এমনকি কুমিরের হাত থেকে বাঁচতেও এরা পানিতে ডুব দিতে পটু। তবে খাবার টেবিলে এরা খুব একটা ভদ্র নয়। এদের পাকস্থলী বিশেষ প্রকোষ্ঠযুক্ত হওয়ায় খাবার হজমের সময় প্রচুর গ্যাস তৈরি হয়, ফলে এরা নিয়মিত ঢেকুর তোলে।

ন্যাকেড মোল র‌্যাট (Naked mole rat)
নাম শুনে বোঝা যায়, এই ইঁদুরজাতীয় প্রাণীটির শরীরে কোনো লোম নেই। কুঁচকানো গোলাপি চামড়া আর মুখের সামনে বেরিয়ে থাকা বিশাল হলুদ দাঁত, সব মিলিয়ে একে ‘কিউট’ বলা কঠিন। তবে চেহারায় কুৎসিত হলেও ন্যাকড মোল র‍্যাট বিজ্ঞানের জগতে এক বিস্ময়।

মাটির নিচে বসবাসকারী এই ছোট প্রাণীটি অন্যান্য ইঁদুরের তুলনায় অবিশ্বাস্যভাবে দীর্ঘজীবী। এদের ক্যানসার হওয়ার হার প্রায় শূন্যের কোঠায়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, এদের শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে না। জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত এরা সুস্থ থাকে। মাটির নিচে অক্সিজেনের অভাব ও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এরা নিজেদের বিপাক হার কমিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি এদের পানি পান করারও প্রয়োজন হয় না। খাবারের মাধ্যমে এরা প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পেয়ে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্যানসার গবেষণায় এই প্রাণীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লবফিশ (Blobfish)
ব্লবফিশকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে কুৎসিত প্রাণী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এর ছবি দেখে মনে হয় যেন এক দলা মাংসপিণ্ড বা গলে যাওয়া জেলির স্তূপ। তবে এই তকমাটি আসলে কিছুটা অন্যায্য। কারণ, আমরা সাধারণত ব্লবফিশের যে ছবি দেখি, তা ডাঙায় তোলা।

ব্লবফিশ সমুদ্রের অনেক গভীরে বসবাস করে, যেখানে পানির চাপ অনেক বেশি। এই প্রচণ্ড চাপে টিকে থাকার জন্য এদের শরীরে শক্ত হাড় ও পেশি নেই। এদের শরীর অনেকটা জেলির মতো নরম। পানির নিচে এই চাপের মধ্যে এদের চেহারা স্বাভাবিক মাছের মতোই দেখায়। তবে যখন এদের পানি থেকে ওপরে বা ডাঙায় তোলা হয়, তখন বায়ুমণ্ডলের কম চাপে এদের শরীর আকৃতি ধরে রাখতে পারে না ও ধসে পড়ে। অর্থাৎ নিজস্ব পরিবেশে ব্লবফিশ মোটেও কুৎসিত নয়, বরং অভিযোজনের এক অনন্য উদাহরণ।

গবলিন হাঙ্গর (Goblin shark)
সমুদ্রের গভীরতম অংশের ত্রাস বলা যেতে পারে গবলিন হাঙ্গরকে। এদের বলা হয় ‘জীবন্ত ফসিল’। কারণ প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর ধরে এদের বংশধররা পৃথিবীতে টিকে আছে। এদের চেহারা দেখলে দুঃস্বপ্ন মনে হতে পারে। লম্বা চ্যাপ্টা নাক ও তার নিচে থাকা চোয়াল, সব মিলিয়ে এক ভুতুড়ে অবয়ব।

গবলিন হাঙ্গরের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বৈশিষ্ট্য এদের চোয়াল। শিকার ধরার সময় এদের চোয়ালটি মুখের ভেতর থেকে স্প্রিংয়ের মতো ছিটকে বেরিয়ে আসে। এদের চোয়াল শরীর থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। মুখের ভেতরে থাকে সারি সারি ধারালো দাঁত। সাধারণত জাপান উপকূলে সমুদ্রের ১০০ থেকে ১৩০০ মিটার গভীরে এদের দেখা যায়।

পার্পল ফ্রগ (Purple frog)
ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় পাওয়া যায় এই অদ্ভুত দর্শন ব্যাঙটিকে। একে ‘পিগ-নোজ ফ্রগ’ও বলা হয়। এর শরীর থলথলে ও গায়ের রং গাঢ় বেগুনি। এর পেছনের অংশটি বেশ বড় ও স্ফীত। দেখে মনে হতে পারে ব্যাঙটি হয়তো অসুস্থ বা স্থূল। তবে এই শারীরিক গঠন একে মাটির নিচে টিকে থাকতে সাহায্য করে।

অন্যান্য ব্যাঙের মতো এরা লাফাতে পটু নয়, বরং এদের শক্তিশালী পা মাটি খোঁড়ার জন্য উপযোগী। জীবনের বেশির ভাগ সময় এরা মাটির নিচেই কাটায়। মাটির নিচে থাকার কারণে এদের দৃষ্টিশক্তি খুব একটা উন্নত নয়, তাই চোখগুলো খুব ছোট। এদের সরু মুখ ও নাক মাটির আর্দ্র পরিবেশে উইপোকা খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। বর্ষাকালে প্রজননের জন্য পুরুষ ব্যাঙ মাটির ওপরে আসে।

ওয়ার্থগ (Warthog)
ডিজনি মুভি ‘লায়ন কিং’-এর পুম্বা চরিত্রটির কথা মনে আছে? সেই পুম্বাই হলো বাস্তবে ওয়ার্থগ। আফ্রিকার তৃণভূমিতে এদের দেখা যায়। এদের মুখের দুই পাশে বড় বড় আঁচিলের মতো অংশ থাকে বলে এদের এমন নাম। যদিও দেখতে খুব একটা সুন্দর নয়, তবে এই আঁচিলগুলো মারামারির সময় তাদের চোখ ও মুখকে আঘাত থেকে রক্ষা করে।

এদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসা বড় দাঁত বা ‘টাস্ক’ শিকারিদের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। সিংহ, চিতা ও হায়েনার মতো ভয়ঙ্কর শিকারিদের হাত থেকে বাঁচতে এরা ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। যদিও এরা দেখতে হিংস্র মনে হতে পারে, তবে এরা শান্ত স্বভাবের এবং ফলমূল, ঘাস ও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে।

বল্ড উকারি (Bald uakari)
আমাজনের জঙ্গলে বসবাসকারী এই বানরটির চেহারা দেখলে মনে হবে যেন কেউ এর মুখে লাল রং মেখে দিয়েছে অথবা রোদে পুড়ে এর মুখ লাল হয়ে গেছে। এদের মাথা ন্যাড়া ও মুখমণ্ডল টকটকে লাল রঙের। শরীরের বাকি অংশে থাকে লম্বা ও ঘন লোম।

মানুষের ক্ষেত্রে মুখ লাল হয়ে যাওয়া অসুস্থতা ও লজ্জার লক্ষণ হতে পারে। তবে উকারি বানরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। এদের মুখ যত বেশি লাল, তারা তত বেশি সুস্থ। সঙ্গিনী নির্বাচনের সময় নারী বানররা উজ্জ্বল লাল মুখের পুরুষদের পছন্দ করে। তবে এরা ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হলে মুখের লাল ভাব কমে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তখন তারা সঙ্গী পাওয়ার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। বর্তমানে বন উজাড়ের কারণে এই প্রজাতিটি অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে।

হ্যামারহেড ব্যাট (Hammerhead bat)
আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বাদুড় হলো হ্যামারহেড ব্যাট। এদের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Hypsignathus monstrosus’, যা এদের দানবীয় চেহারার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে পুরুষ বাদুড়গুলোর মাথা বিশাল আকৃতির ও অদ্ভুত গঠনের হয়। এদের নাক ও ঠোঁট ফোলা এবং মুখের আকৃতি অনেকটা হাতুড়ির মতো।

পুরুষ বাদুড়রা নারীদের আকৃষ্ট করার জন্য এক ধরনের বিশেষ নিচু স্বরের হর্নের মতো শব্দ করে। এদের মাথার বিশাল চেম্বার বা প্রকোষ্ঠ এই শব্দকে আরও জোরালো করতে সাহায্য করে। যদিও মানুষের চোখে এদের চেহারা ভীতিপ্রদ, কিন্তু নারী বাদুড়দের কাছে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই আকর্ষণীয়। এরা মূলত ফলমূল খেয়ে বেঁচে থাকে।

অ্যালিগেটর স্ন্যাপিং টার্টল (Alligator snapping turtle)
আমেরিকার মিঠা পানিতে পাওয়া এই কচ্ছপটিকে দেখলে মনে হবে জুরাসিক পার্কের কোনো ডাইনোসর উঠে এসেছে। এর পিঠের খোলসটি কাঁটাযুক্ত এবং এবড়ো-খেবড়ো। মাথাটি বিশাল এবং ঠোঁট পাখির মতো বাঁকানো ও ধারালো।

এরা শিকার ধরার জন্য এক দারুণ কৌশল ব্যবহার করে। এদের জিহ্বায় লাল রঙের ছোট একটি অংশ থাকে, যা দেখতে হুবহু কেঁচোর মতো। কচ্ছপটি পানির নিচে মুখ হাঁ করে স্থির হয়ে বসে থাকে এবং জিহ্বার ওই অংশটি নাড়াতে থাকে। মাছ সেটাকে কেঁচো ভেবে খেতে এলেই কচ্ছপটি বিদ্যুৎ বেগে তার শক্তিশালী চোয়াল বন্ধ করে দেয়। এদের কামড়ানোর শক্তি এতটা বেশি যে এরা সহজে হাড় গুঁড়ো করে ফেলতে পারে। আবাসস্থল ধ্বংস এবং মাংসের জন্য শিকারের কারণে এরা বর্তমানে হুমকির মুখে। সূত্র: বিবিসি

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি

এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ (টিইএম) সিস্টেম তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সিস্টেমটি যৌথভাবে তৈরি করেছে তালিয়ান রাসায়নিক পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও শেনইয়াং ইনস্টিটিউট অব অটোমেশন।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফেডারেশন পরিচালিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি। বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এ আবিষ্কারের জন্য গবেষকদের পাঁচটি মূল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছিল—উচ্চ-বায়ুশূন্য পরিবেশে নমুনা স্থানান্তর, স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রন অপটিক্স সমন্বয়, ন্যানোস্তরে নির্ভুল অবস্থান নির্ধারণ, স্বয়ংক্রিয় চিত্র গ্রহণ ও বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিমান সময়সূচি ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তং তেহুই জানান, এআই-১ নমুনা সরবরাহ, চিত্র গ্রহণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পুরো প্রক্রিয়া মানবহীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এর চিত্র বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের তুলনায় ৩০০ গুণেরও বেশি দ্রুত।

পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, এআই-১ প্রতিদিন গড়ে ১৬৮টি নমুনা বিশ্লেষণ এবং চার হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম। মাত্র দুই সপ্তাহে এটি যে পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তা প্রচলিত ব্যবস্থার এক বছরের কাজের সমতুল্য। নতুন এই প্রযুক্তি জিনোমিক্স, সবুজ জ্বালানি ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। সূত্র: সিএমজি