ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভয়ভীতি দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ: ভারতের মানবাধিকার সংগঠন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ভারত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে পুশইন করছে: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল আবারও এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি
Nagad desktop

চন্দ্রাভিযানে রেকর্ড গড়ে ফিরছেন নভোচারীরা

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
চন্দ্রাভিযানে রেকর্ড গড়ে ফিরছেন নভোচারীরা
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদ জয়ের স্বপ্নে বিভোর মানবজাতির জন্য এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর চাঁদের দেশে মানুষের পদধ্বনি আবার জোরালো হয়ে উঠেছে। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন সফলভাবে উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই রোমাঞ্চকর যাত্রা। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এটি প্রথম মানববাহী চন্দ্রাভিযান। গতকাল প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক সফর শেষে পৃথিবীতে ফেরার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চার সাহসী নভোচারী।

মানুষের রেকর্ড দূরত্ব অতিক্রম
আর্টেমিস ২ মিশনটি গত ৬ এপ্রিল এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। মহাকাশযান ওরিয়ন পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল (প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭ কিলোমিটার) দূরত্ব অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে ভেঙে গেছে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের গড়া ৫৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড। পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে বেশি দূরে যাওয়ার এই নতুন কীর্তি মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন মাইলফলক। চাঁদ থেকে মাত্র ৪ হাজার ৬৭ মাইল ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নভোচারীরা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন চাঁদের ‘ডার্ক সাইড’ বা উল্টো পিঠ। সেখান থেকে তারা উচ্চমানের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছেন, যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি।

মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণের সাক্ষী
মিশন চলাকালে নভোচারীরা কিছু বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন। চাঁদের উল্টো পিঠে অবস্থান করার সময় তারা একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। পৃথিবী থেকে যা দেখা অসম্ভব, সেই সূর্যের উজ্জ্বল ‘করোনা’ মহাকাশযান থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল তাদের চোখে।

জ্বালামুখের নামকরণ
আবেগের একটি বড় জায়গা জুড়ে ছিল চাঁদের দুটি নামহীন জ্বালামুখ বা ক্রেটারের নামকরণ। নভোচারীদের প্রস্তাবে একটির নাম রাখা হয়েছে তাদের মহাকাশযানের নামানুসারে ‘ইন্টিগ্রিটি’। অন্য ক্রেটারটির নাম দেওয়া হয়েছে কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল ওয়াইজম্যানের স্মরণে ‘ক্যারল’।

প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
১০ দিনের এই দীর্ঘ সফরে সবকিছু যে মসৃণ ছিল, তা নয়। মিশনের শুরুর দিকে ওরিয়ন মহাকাশযানের টয়লেট এবং বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থায় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ফিল্টারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে বর্জ্য নিষ্কাশন সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তবে পৃথিবীতে থাকা গ্রাউন্ড কন্ট্রোল টিমের সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় নভোচারীরা নিজেরা সেই সমস্যা সমাধান করেন। এছাড়া প্রপালশন সিস্টেমে হিলিয়াম গ্যাসের চাপ নিয়ে সামান্য উদ্বেগ তৈরি হলেও ব্যাকআপ সিস্টেমের সহায়তায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের সক্ষমতা ও নভোচারীদের উপস্থিত বুদ্ধির চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

মিশনের চার সাহসী নভোচারী
এই মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারীর প্রত্যেকে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। পাইলট হিসেবে আছেন ভিক্টর গ্লোভার, যিনি চাঁদের অভিযানে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছানোর গৌরব অর্জন করেছেন। তাদের সঙ্গে আছেন কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার জেরেমি হ্যানসেন।

ম্যানুয়াল পাইলটিং ও স্যুটেবিলিটি টেস্ট
চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে তারা ওরিয়ন মহাকাশযানটি ম্যানুয়াল পাইলটিং বা হাতে চালিয়ে পরীক্ষা করেছেন এবং তাদের নতুন ‘ওরিয়ন ক্রু সারভাইভাল সিস্টেম’ স্পেসস্যুটগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করেছেন।

ফেরার প্রস্তুতি ও অবতরণ
৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে পৃথিবীতে ফেরার চূড়ান্ত তোড়জোড়। ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা ভারী বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম, ব্যায়ামের যন্ত্র এবং অন্যান্য আসবাবপত্র নির্দিষ্ট স্থানে শক্ত করে বেঁধে রাখা হচ্ছে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় তীব্র ঝাঁকুনিতে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য এই সাবধানতা। পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তারা প্রচুর বৈজ্ঞানিক তথ্য ও দুর্লভ সব ছবি নিয়ে ফিরছেন।

১০ এপ্রিল ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় প্রচণ্ড ঘর্ষণে মহাকাশযানটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে। এরপর বিশাল প্যারাশুটের মাধ্যমে গতি কমিয়ে এটি সাগরে আছড়ে পড়বে, যাকে বলা হয় ‘স্প্ল্যাশডাউন’। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থান নিয়েছে।

মহাকাশ গবেষণায় নতুন আশা
আর্টেমিস ২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক মিশন। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে ২০২৮ সালের মধ্যে আর্টেমিস ৩ মিশনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ পুনরায় চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রাখবে। গভীর মহাকাশ গবেষণা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথে এই মিশনটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন চার নভোচারীর নিরাপদে ঘরে ফেরার মুহূর্তটির জন্য। চন্দ্রবিজয় এখন আর কেবল কল্পনা নয়, বরং হাতের মুঠোয় আসা এক বাস্তব সত্য। সূত্র: নাসা

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি

এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ (টিইএম) সিস্টেম তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সিস্টেমটি যৌথভাবে তৈরি করেছে তালিয়ান রাসায়নিক পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও শেনইয়াং ইনস্টিটিউট অব অটোমেশন।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফেডারেশন পরিচালিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি। বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এ আবিষ্কারের জন্য গবেষকদের পাঁচটি মূল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছিল—উচ্চ-বায়ুশূন্য পরিবেশে নমুনা স্থানান্তর, স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রন অপটিক্স সমন্বয়, ন্যানোস্তরে নির্ভুল অবস্থান নির্ধারণ, স্বয়ংক্রিয় চিত্র গ্রহণ ও বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিমান সময়সূচি ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তং তেহুই জানান, এআই-১ নমুনা সরবরাহ, চিত্র গ্রহণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পুরো প্রক্রিয়া মানবহীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এর চিত্র বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের তুলনায় ৩০০ গুণেরও বেশি দ্রুত।

পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, এআই-১ প্রতিদিন গড়ে ১৬৮টি নমুনা বিশ্লেষণ এবং চার হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম। মাত্র দুই সপ্তাহে এটি যে পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তা প্রচলিত ব্যবস্থার এক বছরের কাজের সমতুল্য। নতুন এই প্রযুক্তি জিনোমিক্স, সবুজ জ্বালানি ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। সূত্র: সিএমজি