ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল মধুখালীতে জাল সনদে মাদরাসায় চাকরির অভিযোগ তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর গাইবান্ধায় ট্রেন থেকে পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু দৈনিক খবরের কাগজের শাকিলা ববিসহ সিলেটের ৬ সাংবাদিকে প্রেস লিগেসি অ্যাওয়ার্ড প্রদান নড়াইলে বাস উল্টে আহত ১৫ দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট হারাল বাংলাদেশ নড়াইলে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২ সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল ১২০০ ফুট লম্বা পতাকা নিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের র‍্যালি কুমিল্লায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত শহিদ জিয়ার প্রস্তাবে যুদ্ধের নাম হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায়
Nagad desktop

মঙ্গলে মিলল প্রাণের নতুন উপাদান

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
মঙ্গলে মিলল প্রাণের নতুন উপাদান
ছবি: নাসা

মহাকাশের রহস্য উন্মোচনে আবারও বড় সাফল্যের দেখা পেয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটির কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গল গ্রহের বুকে এমন কিছু জৈব যৌগের সন্ধান পেয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। লাল গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণায় এ আবিষ্কার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছে একটি শুকিয়ে যাওয়া হ্রদের তলদেশের শিলা পরীক্ষা করে সাতটি ভিন্ন ধরনের জৈব যৌগ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি যৌগ এর আগে মঙ্গলে কখনো পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই পরীক্ষায় এমন একটি যৌগের উপস্থিতি পাওয়া গেছে যার গঠন অনেকটা আমাদের পরিচিত ডিএনএর উপাদানের মতো। ডিএনএ হলো সেই অণু যা পৃথিবীর সব জীবিত প্রাণীর জিনগত তথ্য বহন করে।

জৈব যৌগ মূলত কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত অণু, যা পৃথিবীতে প্রাণের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন জৈব যৌগ শনাক্ত করা হলেও বিজ্ঞানীরা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলছেন না। গবেষকদের মতে, এ যৌগগুলো জৈবিক প্রক্রিয়া ছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে বা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হতে পারে।

সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের মতো মঙ্গলও প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল। ইতিহাস বলছে, বর্তমানের শুষ্ক ও শীতল মরুভূমির মতো মঙ্গলের রূপ অতীতে এমন ছিল না। কয়েক শ কোটি বছর আগে মঙ্গলের পরিবেশ ছিল অনেক বেশি উষ্ণ এবং সেখানে পানির অস্তিত্ব ছিল। কিউরিওসিটি রোভার যে শিলাটি পরীক্ষা করেছে, সেটি প্রবাহিত পানির নিচে জমা হওয়া পলি থেকে তৈরি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই শিলাটি অন্তত ৩৫০ কোটি বছরের পুরোনো।

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং এ গবেষণার প্রধান লেখক অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, ‘আমরা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। তবে আমাদের এ আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, পৃথিবীতে যখন প্রাণের বিকাশ ঘটছিল, ঠিক সেই সময়ে মঙ্গল গ্রহটিও বসবাসের উপযোগী ছিল।’ সম্প্রতি বিখ্যাত ‘নেচার কমিউনিকেশনস’ বিজ্ঞান সাময়িকীতে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

২০১২ সালে মঙ্গলের গেইল ক্রেটার নামের একটি গহ্বরে অবতরণ করে কিউরিওসিটি। ২০২০ সালে গহ্বরটির ‘গ্লেন টরিডন’ নামক এলাকায় এই বিশেষ পরীক্ষাটি চালায় রোভারটি। এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কাদামাটি বা ক্লে মিনারেল পাওয়া গেছে, যা সেখানে একসময় পানির উপস্থিতির প্রমাণ দেয়। অ্যামি উইলিয়ামস জানিয়েছেন, অন্যান্য খনিজের তুলনায় কাদামাটি জৈব অণুকে অনেক বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত রাখতে সক্ষম।

এ পরীক্ষার জন্য কিউরিওসিটির ‘স্যাম্পল অ্যানালাইসিস অ্যাট মার্স’ (স্যাম) নামের একটি উন্নত যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। রোভারটি মঙ্গলের তলদেশের কঠিন শিলা (বেডরক) ড্রিল করে গুঁড়া সংগ্রহ করে। সেই গুঁড়াকে একটি রাসায়নিক মিশ্রণের মাধ্যমে ভেঙে ক্ষুদ্র অংশে পরিণত করা হয়, যাতে যন্ত্রটি সহজে তা শনাক্ত করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মঙ্গলের তেজস্ক্রিয় পরিবেশেও বড় ও জটিল জৈব পদার্থগুলো মাটির গভীরে সংরক্ষিত রয়েছে। নাসার বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যদি মঙ্গলে কখনো অণুজীব থেকে থাকে, তবে পানির উৎসগুলো ছিল তাদের প্রধান আবাসস্থল। গত বছর নাসার আরেক রোভার ‘পারসিভারেন্স’ অন্য একটি গহ্বরে এমন কিছু শিলা খুঁজে পেয়েছিল, যা অণুজীবের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলের পরিবেশ কি আসলেই কখনো বসবাসের যোগ্য ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কিউরিওসিটি রোভারের এই অভিযান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বর্তমানে পাওয়া এই জৈব পদার্থগুলো উল্কাপাত বা অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক কারণেও তৈরি হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। তাদের মতে, ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে যখন মঙ্গলের শিলা পৃথিবীতে আনা সম্ভব হবে, তখনই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে লাল গ্রহের প্রাণের রহস্য নিয়ে। বর্তমানের এই সাফল্য মহাকাশ বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় নিঃসন্দেহে এক বিশাল মাইলফলক।

মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী
ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন প্যারালিম্পিয়ান ও সার্জন বিশ্বের প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশে গিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছোট বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশনে থাকার বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ইসা) নভোচারী প্যানেলের সদস্য জন ম্যাকফল গত বছর মহাকাশে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তাবিত ‘হেভেন-১’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি একটি অভিযানে অংশ নিতে পারেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ভাস্ট’ এই হেভেন-১ স্টেশনটি তৈরি করছে। একটি একতলা বাসের চেয়ে কিছুটা ছোট এই স্টেশনে চারজন নভোচারী থাকতে পারবেন। এর ভেতরে রয়েছে ম্যাপল কাঠের আস্তরণ, পৃথিবী দেখার জন্য একটি বড় জানালা এবং একটি গবেষণাগার।

ম্যাকফল বলেন, এটি একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর সুযোগ। দুই সপ্তাহের এই অভিযানে মহাকাশের পরিবেশ তার শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রস্থেটিক লিম্বসের ওপর মহাকাশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হবে। এই আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গগুলো সাধারণত সেন্সর এবং মাইক্রোপ্রসেসরের সাহায্যে কাজ করে।

ম্যাকফলের এই গবেষণাটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে আসতে পারে। এটি হালকা এবং সহজে মানিয়ে নেওয়া যায় এমন কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির নকশায় সাহায্য করবে। এছাড়া হাড়ের ক্ষয় ও পেশি কমে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যাগুলো বুঝতে এটি অবদান রাখবে। অঙ্গ হারানোদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে এই গবেষণা পথ দেখাবে।

বিজ্ঞানের লক্ষ্য ছাড়াও ম্যাকফল মনে করেন এই অভিযান প্রতিবন্ধী মানুষের কাজের পরিধি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমরা দেখাতে চাই যে, শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও নভোচারী হতে পারেন। আমরা প্রমাণ করেছি যে, এটি সম্ভব এবং সুযোগ দিলে তারাও সমান পারদর্শী।

ইউকে স্পেস এজেন্সি এই অভিযানের জন্য তহবিল সংগ্রহে ভাস্টকে সহায়তা করবে। ম্যাকফল ও অন্য নভোচারীরা স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে করে ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে হেভেন-১ স্টেশনে যাবেন। এছাড়া আগামী বছর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভাস্টের একটি ব্যক্তিগত অভিযানে অংশ নেওয়ার বিকল্প সুযোগও তার রয়েছে।

৪৫ বছর বয়সী ম্যাকফল ১৯ বছর বয়সে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পা হারান। হাসপাতাল ছাড়ার পর তিনি খেলাধুলায় মনোযোগ দেন এবং ২০০৮ সালের বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। পরে তিনি একজন অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ২০২২ সালে তিনি ইসার ‘ফ্লাই’ প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হন।

ম্যাকফল বলেন, একজন ভালো নভোচারী হওয়া এবং নিজের কাজ সঠিকভাবে করা আমার মূল অগ্রাধিকার। আমি এটিকে কোনো প্রচারণার অংশ বানাতে চাই না। আমি একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে নতুন কিছু করতে পেরে আনন্দিত। তবে সবার আগে আমি এমন কাজ করতে চাই যা মহাকাশ বিজ্ঞান এবং পৃথিবীর সমাজ উভয়ের জন্য মূল্যবান হয়।

এই অভিযান সফল হলে ২০১৬ সালের পর ম্যাকফল হবেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক। তার এই যাত্রাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/আবরার জাহিন

থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
থিয়েনচিনের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে নতুন যা দেখা গেল
থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েনচিনে হয়ে গেল ২০২৬ বিশ্ব বুদ্ধিমান শিল্প এক্সপো। চার দিনের এই আয়োজন যৌথভাবে আয়োজন করেছে থিয়েনচিন ও ছোংছিং প্রশাসন। স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি খাতে ক্ষেত্রে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই প্রদর্শনী।

 

 

এবারের বুদ্ধিমান শিল্প প্রদর্শনীতে ছিল ছয়টি থিমভিত্তিক অঞ্চল—যার মধ্যে ছিল কোর এআই প্রযুক্তি, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও স্মার্ট লিভিং। পাশাপাশি ছিল একটি নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা অর্জনের অঞ্চল, যেখানে স্মার্ট প্রযুক্তির সবচেয়ে সর্বাধুনিক উদ্ভাবন ও পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

থিয়েনচিন মিউনিসিপ্যাল ব্যুরোর শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা অফিসের পরিচালক শেন মামাও জানালেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সঙ্গে পেশাদার ও সর্বজনীন। একজন পেশাদার ক্রেতা কিংবা একজন বিজ্ঞানী—উভয়েই এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি খুঁজে পাবেন।’

এক্সপোয় অংশ নিয়েছিল ফরচুন গ্লোবাল-৫০০ কোম্পানির ২৮টি প্রতিষ্ঠান, ৩৭টি চীনের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠান এবং ৪০০টিরও বেশি স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি।

এবারের আয়োজনে আরও ছিল এআই থিম ডে, এন্টারপ্রাইজ ইকোলজি কনফারেন্স, বাজারভিত্তিক ফোরাম, ব্র্যান্ড প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ প্রচার এবং চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এক্সপো চলাকালে থিয়েনচিনে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

কাঠামোনির্ভর বুদ্ধিমত্তা বা এমবডিড এআই, মূল এআই প্রযুক্তি, বুদ্ধিমান সংযুক্ত যানবাহন, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক মহাকাশ অনুসন্ধান, ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং স্মার্ট লিভিং-এর জন্য ছয়টি বিশেষ জোন ছিল প্রদর্শনীতে।

 

 

নজর কেড়েছে এমন কিছু রোবট, যেগুলো কফি তৈরি, সকালের নাস্তা বানানো, রান্না করা ও ক্লাসিক্যাল চীনা বোর্ড গেম ‘গো’ খেলতে পারে। এমনকি বক্সিং করতে সক্ষম রোবটও ছিল এতে। আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিঁড়ি বেয়ে উঠতে সক্ষম একটি হুইলচেয়ার।

স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি এবং ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনালের মতো ক্ষেত্রগুলোর উদ্ভাবনী সাফল্যও তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনী এলাকায় ছিল বেশ কয়েকটি ব্রেইন-কম্পিউটার-ইন্টারফেস (বিসিআই) পণ্য। এগুলোয় ছিল স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, চোখ পরীক্ষা, খেলাধুলায় সহায়তা এবং পুনর্বাসন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

 

 

হাইহ্য ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গবেষণাগার ও মানব-যন্ত্র সমন্বিতকরণ বিভাগের উপ-পরিচালক লিউ সিয়ুইয়ুন জানালেন, ‘মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস একটি বহুশাস্ত্রীয় গবেষণার ক্ষেত্র। আমাদের বিভিন্ন শাখার বিজ্ঞানীদের একত্রিত হয়ে মতামত বিনিময় করে নতুন ধারণা তৈরি করতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা জানতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের এক ছাদের নিচে এনেছে এই এক্সপো। সূত্র: সিএমজি

মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে নজর চীনের
দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্ব সৌরশক্তি খাতে নিজেদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় ফোটোভোল্টাইক কোম্পানিগুলো এখন মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তিতে নজর দিচ্ছে। মঙ্গলবার শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক ফোটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও স্মার্ট এনার্জি সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৩টি শীর্ষ সৌর ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে স্পেস এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যালায়েন্স গঠন করা হয়।

জোটটির লক্ষ্য সৌরবিদ্যুৎ, শক্তি সঞ্চয়, হাইড্রোজেন শক্তি, কম্পিউটিং এবং চার্জিং প্রযুক্তিকে একত্রিত করে মহাকাশ শিল্প ও সবুজ জ্বালানি খাতের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও দিন-রাতের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই মহাকাশে সৌরশক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উৎক্ষেপণ ব্যয়ও কমছে, যা মহাকাশভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পকে অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

বিকিরণ-প্রতিরোধী প্রযুক্তির পরীক্ষাগুলো সফল হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মহাকাশে সৌরবিদ্যুতের বাস্তব প্রয়োগ শুরু হতে পারে বলে জানান তারা।

দীর্ঘমেয়াদে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ থেকে তারবিহীন পদ্ধতিতে সরাসরি পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বা গ্রিডের প্রয়োজন কমে যাবে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। সূত্র: সিএমজি

ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভুট্টায় প্রোটিন বাড়ানোর জিন আবিষ্কার
ছবি চায়না ডেইলি

চীনের বিজ্ঞানীরা ভুট্টায় প্রোটিন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ জিন শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার ভুট্টার পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং পশুখাদ্যের জন্য আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর চীনের নির্ভরতাও কমাবে।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির সেন্টার ফর এক্সেলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস, শাংহাইয়ের নরমাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিছুয়ান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণা দলের ১৫ বছরের গবেষণার ফলাফল বুধবার বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন আবিষ্কৃত টিএইচপি৩-টি নামের জিনটি ২০২২ সালে আবিষ্কৃত টিএইচি৯-টি নামের আরেকটি জিনের সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করলে সাধারণ ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। একই সঙ্গে চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া বাণিজ্যিক হাইব্রিড ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২–১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

গবেষক উ ইয়োংরুই জানান, টিএইচপি৩-টি জিনটি নাইট্রোজেন বিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উদ্ভিদকে আরও দক্ষতার সঙ্গে নাইট্রোজেন গ্রহণ ও ব্যবহার করতে সাহায্য করে, ফলে বেশি অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন উৎপাদন সম্ভব হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই দুই জিন একসঙ্গে কাজ করলে ভুট্টা কম নাইট্রোজেনযুক্ত মাটিতেও উচ্চ প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে। এতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজনও কমবে। বর্তমানে চীনে পশুখাদ্যে ব্যবহৃত প্রোটিনের প্রধান উৎস সয়াবিন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করে। 

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি সারা দেশে পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার প্রোটিনের পরিমাণ গড়ে ৪ শতাংশ বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রয়োজন কমে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, উচ্চ প্রোটিন ভুট্টা পশুখাদ্যে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিস্থাপন করতে পারবে। হাঁস-মুরগির খামারেও সয়াবিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। সূত্র: চায়না ডেইলি

এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
এআই-চালিত বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র বানাল চীন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ (টিইএম) সিস্টেম তৈরি করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। সিস্টেমটি যৌথভাবে তৈরি করেছে তালিয়ান রাসায়নিক পদার্থবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও শেনইয়াং ইনস্টিটিউট অব অটোমেশন।

সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ফেডারেশন পরিচালিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্রটি। বিশেষজ্ঞরা একে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত ট্রান্সমিশন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এ আবিষ্কারের জন্য গবেষকদের পাঁচটি মূল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়েছিল—উচ্চ-বায়ুশূন্য পরিবেশে নমুনা স্থানান্তর, স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রন অপটিক্স সমন্বয়, ন্যানোস্তরে নির্ভুল অবস্থান নির্ধারণ, স্বয়ংক্রিয় চিত্র গ্রহণ ও বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিমান সময়সূচি ব্যবস্থাপনা।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তং তেহুই জানান, এআই-১ নমুনা সরবরাহ, চিত্র গ্রহণ এবং তথ্য বিশ্লেষণের পুরো প্রক্রিয়া মানবহীনভাবে পরিচালনা করতে পারে। এর চিত্র বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের তুলনায় ৩০০ গুণেরও বেশি দ্রুত।

পরীক্ষামূলক ব্যবহারে দেখা গেছে, এআই-১ প্রতিদিন গড়ে ১৬৮টি নমুনা বিশ্লেষণ এবং চার হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করতে সক্ষম। মাত্র দুই সপ্তাহে এটি যে পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তা প্রচলিত ব্যবস্থার এক বছরের কাজের সমতুল্য। নতুন এই প্রযুক্তি জিনোমিক্স, সবুজ জ্বালানি ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। সূত্র: সিএমজি