ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে সুফি-দরবেশদের ভূমিকা

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:৩৫ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৭ এএম
বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে সুফি-দরবেশদের ভূমিকা
ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত বাংলাদেশের পতাকার ডিজাইন

এই বঙ্গজমিন উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে পীর-দরবেশ, সুফি-সাধক, আলেম-ওয়ায়েজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ, খানকা-দরবারের পৃষ্ঠপোষকতা, সভ্যতা সংস্কৃতির পরিপালনে রাজা-বাদশাহদের অবদানের কথাও অস্বীকার করা যাবে না। তবে ইসলামের একচ্ছত্র প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োজিত ছিলেন পীর-দরবেশ, সুফি-সাধক-আলেমরাই।

 

অঞ্চলে যেসব সুফি-দরবেশ ইসলাম প্রচার করেছেন তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন সোনার মানুষ। ৩৬০ অলি-আউলিয়ার ভূমিখ্যাত বাংলাদেশে বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (রহ.), খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতি (রহ.), খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দী (রহ.), হজরত শাহজালাল ইয়ামেনি (রহ.), হজরত খান জাহান আলী (রহ.), হজরত শাহ্ পরান (রহ.), হজরত শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.), হজরত শাহ আলী (রহ.), হজরত মখদুম শাহদৌলা (রহ.), হজরত সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক (রহ.), হজরত শাহ সুফি নেছারুদ্দীন (রহ.), হজরত খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রহ.)-সহ বহু পীর-দরবেশ, সুফি-সাধকের আগমন ঘটেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে গড়া ছিল তাদের বহুমাত্রিক জীবন। তাদের কথা, কাজ, আচার-আচরণ ছিল শতভাগ সচ্চরিত্রের আভরণে মোড়া। রাতে তারা তাহাজ্জুদে নিমগ্ন হতেন, জিকিরে লীন হতেন এবং দিনেরবেলায় দাওয়াতের আহ্বান নিয়ে ছুটে যেতেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। নিপীড়িত মানুষ আর ধর্মের প্রয়োজনে তারাই প্রতিহত করতেন ধেয়ে আসা সব আঘাতকে। সমাজে যখন কোনও দুর্যোগ বা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, এই ইসলাম প্রচারক সুফিরাই এগিয়ে এসেছেন সবার আগে। ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি সমস্যা সংস্কৃতিতে মানুষের সঙ্গে ঐকতানে কাজ করেছেন তারা। এভাবেই বিজয় এসেছে বঙ্গজমিনে; প্রচার ঘটেছে ইসলামের।

 

হাজার বছর আগে দরবেশদের হাত ধরে বঙ্গদেশে ইসলামের প্রচার ঘটেছে। ইসলামের সৌন্দর্য আর দরবেশদের ব্যক্তিত্বে আকৃষ্ট হয়ে অসংখ্য মানুষ দীক্ষিত হয়েছেন ইসলামে। এ অঞ্চলে ধর্ম গ্রহণ পরিপালনে মানুষের চাহিদা বুঝে কাজ করেছেন পূর্ববর্তী ধর্মপ্রচারক দরবেশরা। শত-সহস্র বছর ধরে মানুষের ধর্মবিশ্বাস, তাদের সামাজিক প্রবণতা, কীভাবে তারা ধর্মপালন করছে, কীভাবে তারা ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত হয়, কাদের তারা ধর্মীয়ভাবে মহামান্য হিসেবে গ্রহণ করেএসব বিষয় মাথায় রেখে দাওয়াতি মেজাজ নিয়ে অঞ্চলের মানুষের কাছে গিয়েছিলেন শাহ জালাল, শাহ মখদুম, আবু তাওয়ামা এবং মানুষ তাদের গ্রহণও করেছে আপন ভেবে। দলে দলে অনুসারী তৈরি হয়েছে অল্প সময়ে। এজন্য বঙ্গদেশের মুসলিমদের জন্য কন্সটান্টিনোপল বিজয়ের ইতিহাসের জানার চেয়ে দরবেশ শাহ জালালের সিলেট বিজয়ের ইতিহাস জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুলতান আরতুগরুল আর সুলতান নুরুদ্দিন জানকির চেয়ে ঈসা খাঁ, নিসার আলী তিতুমীরের সংগ্রাম বেশি প্রভাবক। ইবনে তাইমিয়ার চেয়ে হাজী শরীয়তুল্লাহ আর মুনশী মুহাম্মদ মেহেরুল্লাহর সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাস জানা বেশি প্রয়োজন।

 

আজ বাংলাদেশ ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশ, পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। লাখো মসজিদ থেকে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান প্রচারিত হয়। প্রতি ওয়াক্তে কোটি মানুষ সেজদায় অবনত হচ্ছে আল্লাহর কুদরতি পায়ে। এ কাদের অবদান? সেই দরবেশদের অবদান। সুফি-সাধকদের শেষ রাতের কান্নার ফলাফল। জীবনের সোনালি অধ্যায় দিয়ে দেশে ইসলামের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে গেছেন তারা। আজ জান্নাতে তারা সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাচ্ছেন। প্রতিজন দরবেশ-ধর্মপ্রচারক তাদের আত্মত্যাগের নজরানা দিয়ে আমাদের জন্য এই সুজলা-সুফলা ভূমিকে আবাদ করে দিয়ে গেছেন।

 

কখনও চিন্তা করেছেন, মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটি ভূখণ্ড, সেখানে ইসলাম টেকসই ধর্ম হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নিল। এ কাদের অবদান? হিসাব যখন সামনের রাখবেন তখন বুঝে আসবে, সহস্র বছর ধরে সুফি-দরবেশরা অঞ্চলে কালেমার দাওয়াত দিয়েছেন, মানুষের মধ্যে সাম্য আর ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন, তাদের সেসব আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। হাজার বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা তাদের প্রতিটি উদ্যোগ এই দেশে ইসলামকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। এ কোনো সাধারণ অর্জন নয়। আমাদের ধর্মীয় জীবনে এক অমর অধ্যায়।

 

লেখক : চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর সোশ্যাল স্টাডিজ

পেট ব্যথা কমানোর দোয়া

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:৩৩ পিএম
পেট ব্যথা কমানোর দোয়া
পেট ব্যথার যন্ত্রণায় পেটে হাত দিয়ে বসে আছেন এক ব্যক্তি। ইন্টারনেট

নানা কারণে অনেক সময় পেট ব্যথা হয়। পেট ব্যথা যে কারণেই হোক তা মানুষের জন্য মারাত্মক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কোনো কারণে যদি মানুষের পেট ব্যথা হয়, তবে তা থেকে মুক্ত থাকতে চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশ বিভিন্ন দোয়া ও আমল করা যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রচুর দোয়া-আমল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

পেট ব্যথার দোয়া
উসমান ইবনে আবুল আস (রা.) বলেন, ‘একবার তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে পেট ব্যথার কথা বলেন। উসমান (রা.) বলেন, ব্যথায় আমাকে অস্থির করে তুলেছে। নবিজি (সা.) বলেন, তুমি ব্যথার স্থানে সাতবার ডান হাত বুলিয়ে দাও এবং বলো, 


أعوذُ باللهِ و قُدرتِه من شرِّ ما أَجِدُ و أُحاذِرُ

বাংলা উচ্চারণ: আউজু বিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাজিরু।

বাংলা অর্থ: আল্লাহর মর্যাদা ও তার কুদরতের উসিলায় আমি যা অনুভব এবং ভোগ করছি, তা থেকে মুক্তি চাচ্ছি।

উসমান (রা.) বলেন, আমি এমন করার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ আমার কষ্ট দূর করে দেন। এরপর থেকে আমি আমার পরিবার-পরিজন ও অন্যদেরকে এমন করার নির্দেশ দিই। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫১)

লেখক : আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

সালামের উত্তর কীভাবে দিতে হয়?

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১০:০০ এএম
সালামের উত্তর কীভাবে দিতে হয়?
আরবিতে 'আসসালামু আলাইকুম' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

সালাম মুসলিম সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুসলিমরা একে অপরকে অভিবাদন জানায় সালামের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন তোমরা ঘরে ঢুকবে নিজেদের লোকদের সালাম করবে, কারণ এটা সাক্ষাতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত বরকতপূর্ণ ও পবিত্র দোয়া।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৬১)

সালামের উত্তর কীভাবে দিতে হবে, তা শিখিয়ে দিয়েছেন আল্লাহতায়ালা। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমাদের কেউ সালাম দেয়, তখন তোমরা (তাকে) তদপেক্ষা উত্তমরূপে সালাম (জবাব) দাও, কিংবা (অন্ততপক্ষে) সে শব্দেই সালামের জবাব দাও।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৮৬)

সালাম দেওয়া ইসলামের সৌন্দর্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা-অচেনা সকলকে সালাম দেবে।’ (বুখারি, হাদিস: ১২; মুসনাদে আহমাদ, ৬৭৬৫)

সালামের সম্পূর্ণ বাক্যটি হলো,

বাংলা উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

বাংলা অর্থ: আপনার ওপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। 

কেউ আসসালামু আলাইকুম বললে, উত্তরে ওয়ালাইকুম আস ওয়া রাহমাতুল্লাহ বলা উচিত। অর্থাৎ সালামদাতার চেয়ে উত্তরদাতা শব্দ বাড়িয়ে বলবেন। মনে রাখবেন, কেউ সালাম দিলে তাকে শুনিয়ে উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।

যত কথা ও কাজই থাকুক না কেন, দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে সালাম দেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে ভালোবাসার বন্ধন সৃষ্টি হয়। 

উল্লেখ্য যে, ‘সালামুন আলাইকুম’, ‘সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’, ‘সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ’ ইত্যাদি বাক্য দ্বারাও সালাম  দেওয়া জায়েজ আছে। এ বাক্য দ্বারা ফেরেশতারা জান্নাতবাসীদের সম্ভাষণ জানাবেন বলে কোরআনে একাধিক আয়াত রয়েছে। (সুরা জুমার, আয়াত: ৭৩; সুরা নাহল, আয়াত: ৩২)


লেখক: আলেম ও গবেষক

 

হজযাত্রীর মৃত্যু হাজার ছাড়াল, বাংলাদেশি ২৭ জন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:১২ পিএম
হজযাত্রীর মৃত্যু হাজার ছাড়াল, বাংলাদেশি ২৭ জন
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহে এক হাজারের বেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন ২৭ জন।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপির হিসাবে হজযাত্রীদের প্রাণহানির এই সংখ্যা জানানো হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক প্রতিদিনের বুলেটিনের তথ্য অনুসারে জানা যায়, বাংলাদেশি মৃত ২৭ হজযাত্রীর মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। তাদের ২০ জন মক্কায়, চারজন মদিনায়, দুজন মিনায় ও একজন জেদ্দায় মারা যান। সর্বশেষ বুধবার ফরিদা ইয়াসমিন (৫৩) নামে একজন মারা যান। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালে।

সৌদির সরকারি প্রশাসন, মক্কার বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের তথ্যের ভিত্তিতে মৃত হজযাত্রীদের ওই হিসাব করেছে এএফপি। এতে বলা হয়েছে, হজ পালনের সময় নিহতদের তালিকায় বৃহস্পতিবার নতুন করে মিসরের আরও ৫৮ হজযাত্রীর নাম যুক্ত হয়েছে। আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কূটনীতিক এএফপিকে বলেছেন, ‘হজ পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সহস্রাধিক হজযাত্রীর মধ্যে কেবল মিসরেরই নাগরিক আছেন ৬৫৮ জন। তাদের মধ্যে অনিবন্ধিত ছিলেন ৬৩০ জন। প্রায় ১০ দেশের  ১০৮১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সৌদি আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত মঙ্গলবার মক্কা ও মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করতে গিয়ে কিছু হাজি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। অনেক মিসরীয় এপিকে জানান, তারা গরম ও ভিড়ের মধ্যে তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন। 

সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের মতে, ২২ দেশের ১৬ লাখের বেশি ও প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার সৌদি নাগরিক এবং বাসিন্দা সহ ২০২৪ সালে ১৮ লাখ ৩০ হাজারে বেশি মুসলমান হজ পালন করেন। সূত্র: এএফপি, এপি

 

স্ত্রীকে হাসি-খুশি রাখা সুন্নত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
স্ত্রীকে হাসি-খুশি রাখা সুন্নত
নামাজ শেষে মোনাজাতরত স্বামী-স্ত্রীর ছবি

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘একবার তিনি এক সফরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল অল্প। তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন, ‘তোমরা সামনে এগিয়ে যাও।’ এরপর (আমাকে) বললেন, ‘এসো, তোমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব।’ এরপর আমি তাঁর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তাঁর আগে চলে গেলাম। পরবর্তী সময় আবার তাঁর সঙ্গে সফরে গেলাম। তখন তিনি সঙ্গীদের বললেন, ‘তোমরা সামনে এগোতে থাকো।’ এরপর বললেন, ‘এসো, তোমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব।’ আমি আগের প্রতিযোগিতার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। আর তখন আমার শরীর কিছুটা স্থূলকায় হয়ে গিয়েছিল। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এই অবস্থায় কী করে আমি আপনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করব?’ তিনি বললেন, ‘তুমি পারবে।’ এরপর আমি তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলাম। দৌড়ে তিনি আমার আগে চলে গেলেন। এরপর বললেন, ‘এই জয় আগের পরাজয়ের বদলা।” (নাসায়ি, হাদিস: ৮৯৪৫)। 


রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের সঙ্গে আনন্দ বিনোদন করতেন। তাদের মন ভালো হয়ে যায়, এমন আচরণ করতেন। এখানে হাদিসের একটি ঘটনা বলা যেতে পারে। আয়েশা (রা.) বলেন, “একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য গোশত, ঝোল ও রুটি মেশানো খাবার তৈরি করে তাঁর কাছে এলাম। এসে সাওদাকে বললাম, তুমি খাও। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন আমার ও তার মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু সাওদা খেতে চাইল না। আমি বললাম, অবশ্যই তুমি খাবে, না হয় আমি তোমার চেহারা লেপ্টে দেব। তারপরও সে খেতে চাইল না। এরপর আমি খাবারের পাত্রে হাত ঢুকিয়ে (হাতে ঝোল মাখিয়ে) সাওদার চেহারায় লেপ্টে দিলাম। তা দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসলেন। এরপর তাঁর উরু সাওদার জন্য বিছিয়ে দিলেন এবং সাওদাকে বললেন, ‘এবার তুমি ওর চেহারায় লেপ্টে দাও। তা শুনে সেও আমার চেহারায় লেপ্টে দিল। আবারও রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসলেন। এমন সময় উমর (রা.) আবদুল্লাহ... আবদুল্লাহ...’ ডাকতে ডাকতে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। উমর হয়তো এখানে প্রবেশ করবেন ভেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের দুজনকে বললেন, ‘তোমরা যাও। তোমাদের চেহারা ধুয়ে নাও।’ আয়েশা (রা.) বলেন, ‘উমর (রা.)-এর ডাক শুনে সেদিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভয় পাওয়ার পর থেকে আমিও উমরকে ভয় পাই।’ (নাসায়ি, ৮৯১৭)


আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনেই আমি পুতুল বানিয়ে খেলতাম। আমার বান্ধবীরাও আমার সঙ্গে খেলাধুলা করত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে প্রবেশ করলে তারা দৌড়ে পালাত। তখন তিনি তাদের ডেকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তারা আমার সঙ্গে খেলা করত।’ (বুখারি, ৮৭৭৯)। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) পারিবারিক পরিবেশকে সব সময় আনন্দমুখর রাখতে চেষ্টা করতেন। তিনি পরিবার তথা স্ত্রীদের গুরুত্ব দিতেন। তিনি ছিলেন স্ত্রীদের কাছে উত্তম স্বামী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজের পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি তোমাদের চেয়ে আমার পরিবারের কাছে অধিক উত্তম।’ (ইবনে মাজাহ, ১৯৭৭)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

আত্মহত্যার শাস্তি ভয়াবহ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
আত্মহত্যার শাস্তি ভয়াবহ
আত্মহত্যা করার ঝুলন্ত দড়ির ছবি

নানা ঘটনা কেন্দ্র করে কেউ কেউ আত্মহত্যা করছে। এর মধ্যে অভিমানে আত্মহত্যার খবরই পাওয়া যায় বেশি। কয়েক বছর ধরে আবার পরীক্ষায় ফেল কিংবা কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়েও কাউকে আত্মহত্যা করতে দেখা গেছে। মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসবের খবর চোখে পড়ার মতো ব্যাপার। আত্মহত্যা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে, তা কি আমাদের জানা আছে? দুনিয়ার সামান্য কষ্ট থেকে বাঁচতে আত্মহত্যাকারী অনন্তকালের কষ্টে পতিত হচ্ছে। চিরকালের জন্য জাহান্নামের অধিবাসী হচ্ছে। 


ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ, কবিরা গুনাহ। আত্মাহত্যা হারাম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে আত্মহত্যা করবে তাকে আগুনে দগ্ধ করব, এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯,৩০)


আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা নিজের হাতে নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে (এমনভাবে) নিজেকে ফাঁস লাগাতে থাকবে। যে বর্শার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নাম (এমনভাবে) বর্শা বিঁধতে থাকবে। (বুখারি, হাদিস: ১৩৬৫)


ধৈর্যহারা হয়ে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। তবে ইসলামের শিক্ষা হলো, মানুষ বিপদে-আপদে ধৈর্যহারা হবে না। সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ যাবতীয় অপরাধ মার্জনা করেন।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)

লেখক: আলেম