ঢাকা ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
Khaborer Kagoj

তাবলিগের মূল ১২ কাজ

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
তাবলিগের মূল ১২ কাজ
বিশ্ব ইজতেমার ময়দানের ছবি। সংগৃহীত

ইসলামের বার্তা পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম হলো  দাওয়াত ও তাবলিগ। এ কাজের কারণে এ উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই তাবলিগের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ ছিলেন মাওলানা ইলিয়াস (রহ.)। তাবলিগের বেশ কিছু কাজ রয়েছে। এখানে মূল ১২ কাজ তুলে ধরা হলো—

ছয় সিফাতের আমল 
তাবলিগের ছয় সিফাত হলো—ঈমান, নামাজ, ইলম ও জিকির, একরামুল মুসলিমিন, বিশুদ্ধ নিয়ত এবং দাওয়াত ও তাবলিগ। ঈমান হলো আল্লাহতায়ালা ছাড়া কোনো উপাসক নেই; মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিমের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা ফরজ। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ জেনে তদানুযায়ী আমল করতে সহায়ক জ্ঞানার্জন ফরজ। সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা হলো জিকির। বড়কে সম্মান, শ্রদ্ধা ও ছোটকে স্নেহ করা একরামুল মুসলিমিন। নিয়তকে শুদ্ধ করা আবশ্যক। সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহর দ্বীন ইসলামের প্রচার-প্রসারই হলো দাওয়াত ও তাবলিগ। এই ছয় সিফাতের বাস্তবায়ন করা। 

মাশওয়ারা 
মাশওয়ারা বা পরামর্শ করা আল্লাহতায়ালার আদেশ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত ও মুমিনের গুণ। পরামর্শের মাধ্যমে কল্যাণ ও বরকত হয়, আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়। 

তালিম
ইসলামি জ্ঞানার্জন করাকে তালিম বলে। জামাতে চার ধরনের তালিম হয়—এক. কিতাবি তালিম। দুই. কোরআনি তালিম। তিন. ছয় সিফাতের আলোচনা ও চার. ফরজিয়াতের (আবশ্যকীয় বিষয়) আলোচনা। 

মসজিদের ভেতর-বাইরের কাজ
মসজিদের ভেতরে মুসল্লিদের মধ্যে একজন ঈমান-একিনের কথা বলবে, কয়েকজন শুনবে, একজন জিকিরে থাকবে এবং কয়েকজন এস্তেকবালে (আগত মুসল্লিদের স্বাগত জানিয়ে গ্রহণ করা) থাকবেন। মসজিদের বাইরে একজন রাহবার (যে পথ দেখায়), মুতাকাল্লিম (যে কথা বলে), কয়েকজন মামুর (যারা শুধু শুনবে, কথা বলবে না) ও একজন জিম্মাদার (দায়িত্বশীল) থাকবেন। 

গাশত 
আল্লাহর ও দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে ঘোরাফেরা করা। গাশত কয়েক প্রকার: ১. উমুমি গাশত—বয়ানের মাধ্যমে যে গাশত করা হয়। ২. খুসুসি গাশত—ব্যক্তি বিশেষের কাছে যে গাশত করা হয়। ৩. তালিমি গাশত—তালিম চলাকালে গাশত। ৪. তাশকিলি গাশত—তাবলিগ জামাত বের হওয়ার জন্য গাশত করা। ৫. উসুলি গাশত—দাওয়াতে যারা তৈরি হয়েছে, তাদের মসজিদে নিয়ে আসা। 

বয়ান 
আসর, মাগরিব ও ফজর নামাজের পর বয়ান করা। মাগরিবের পর বয়ানে ছয় সিফাতের আলোচনা করে তাশকিল করবে। ফজরের পরের বয়ানেও ছয় সিফাতের আলোচনা করবে। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন তাসবিহ ও মাসনুন দোয়া আদায়ের ফজিলতের বর্ণনা করবে। 

মোজাকারা 
তাবলিগ জামাত ও দ্বীন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মোজাকারা বা আলোচনা করা। যেমন—জামাতবদ্ধ আমলের মোজাকারা, আমির ও মামুরদের মোজাকারা, মসজিদের মোজাকারা, ফরজের মোজাকারা, দাওয়াতি কাজের মোজাকারা ও প্রয়োজনীয় কাজের মোজাকারা। 

পাঁচ কাজ
দাওয়াত ও তাবলিগে পাঁচ কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। পাঁচ কাজ হলো—মাসে তিন দিন সময় লাগানো, প্রতি সপ্তাহে দুবার গাশত করা, প্রতিদিন দুটি তালিম করা, প্রতিদিন দাওয়াতি কাজ করা এবং প্রতিদিন পরামর্শ করা। 

মাস্তুরাত 
নারীদের জন্যও দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করা আবশ্যক। তারা প্রথমে মাহরামের সঙ্গে তিন দিন করে তিনবার তাবলিগে যাওয়ার পর ১০ বা ১৫ দিনের জন্য যাবে। এরপর চিল্লা (৪০ দিনের জামাত) দেবে। ঘরে তালিমের ব্যবস্থা করবে। প্রতি সপ্তাহে মাস্তুরাতের পয়েন্টে গিয়ে তালিম ও বয়ানে অংশগ্রহণ করা উচিত। 

তাশকিল
জামাতের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে মানুষকে তাবলিগ জামাতে বের হওয়ার জন্য যে আহ্বান করা হয়, তাকেই মূলত তাশকিল বলা হয়।   

তারুফি কথা
জামাতে বের হওয়ার প্রথম দিন নিজেদের মধ্যে পরিচিতিমূলক যে কথা হয়, তাকে তারুফি কথা বলা হয়। জামাতের সাথিরা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। জামাত মসজিদে যাওয়ার পর এলাকার মানুষকে এ সম্পর্কে অবগত করার বিষয়টিকেও তারুফি কথার অন্তর্ভুক্ত বলা হয়। 

এলান 
তাবলিগ জামাতের বিভিন্ন আমলের জন্য মসজিদে বিভিন্ন সময় ঘোষণা দেওয়া হয়, একেই মূলত এলান বলে। 

 

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ইসলাহ বাংলাদেশ

কুকুর কেনাবেচা করা কি জায়েজ?

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
কুকুর কেনাবেচা করা কি জায়েজ?
কুকুরের ছবি। ইন্টারনেট

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘(তাদের দেখলে) তুমি মনে করতে ওরা জাগ্রত, কিন্তু ওরা ছিল ঘুমন্ত। আমি ওদের পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম ডানে ও বামে। ওদের (পাহারাদার) কুকুর ছিল—সামনের পা দুটি গুহার প্রবেশমুখে প্রসারিত করে। তাদের দিকে তাকালে তুমি পেছন ফিরে পালিয়ে যেতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে।’ (সুরা কাহফ, আয়াত: ১৮) 

এখানে কুকুর সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা বলা হয়েছে। কয়েকটি কারণে কুকুর পালন বৈধ। যথা—শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসল হেফাজতের উদ্দেশ্যে, পাহারাদারির জন্য, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির হেফাজতের লক্ষ্যে, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, খণ্ড: ১৮, পৃষ্ঠা: ২৬৪)

পাহারার জন্য কুকুর রাখা এবং কেনাবেচা করা বৈধ। এর মূল্য বিক্রেতার জন্য ভোগ করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে সখের বশবর্তী হয়ে কিংবা বিজাতীয় ফ্যাশন অবলম্বনে কুকুর রাখা বা লালনপালন করা জায়েজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর থাকে অথবা কোনো ধরনের (প্রাণীর) ছবি থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৯৪৯)

সুতরাং পাহারা বা শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর লালন-পালন করা যাবে না। (ফাতহুল কাদির, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ২৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১১৪) 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম
হালাল-হারামের বিধান জানার অনন্য বই ‘হালাল-হারামের বিধান’
হালাল-হারামের বিধান বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

আপনি কি হালাল-হারামের মূলনীতিগুলো জানেন? কোন পানীয় ও কোন খাবার হারাম—তা কি আপনার জানা আছে? কোন ধরনের পোশাক পরতে পারবেন, সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামের নীতিমালা, উপার্জন ও পেশাতে বৈধ-অবৈধতার সীমারেখা এবং পরিবার ও সমাজজীবনে হালাল-হারামের কি বিধান রয়েছে—সে সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে? জীবনের সবকিছুর ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান জানতে সংগ্রহ করুন ড. ইউসুফ আল-কারযাবি (রহ.)-এর বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো গ্রন্থ হালাল-হারামের বিধান। 

মুসলিম হিসেবে হালাল-হারামের ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা আবশ্যক। অবশ্য কিছু বিষয়ের হালাল-হারাম হওয়া নিয়ে কখনো কখনো বেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যাই আমরা। এটা হালাল হলে ওটা হারাম কেন, এভাবে হারাম হলে ওভাবে হালাল কেন—এ জাতীয় নানা প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। দিশেহারা হয়ে পড়ি আমরা। অথচ কোনো কিছুর হালাল কিংবা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার যে সামান্য কিছু মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো জানা থাকলে এ অবস্থা থেকে অনেকাংশেই বেঁচে থাকা সম্ভব।

একজন মুসলিমের জন্য কোন কাজটি হালাল আর কোনটি হারাম, কোন কাজ এক জায়গায় জায়েজ হলেও অন্য জায়গায় বা অন্য সময়ে নাজায়েজ, কোনো কাজ জায়েজ এবং নাজায়েজ হওয়ার কারণগুলোই বা কী? ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক-জীবনঘনিষ্ঠ এমন অসংখ্য বিষয়ের বাস্তবধর্মী আলোচনা নিয়ে রচিত এ বই। 

ড. ইউসুফ কারযাবি (রহ.)-এর নাম শোনেনি এমন মুসলিম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তার কাজ তাকে এনে দিয়েছে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। হালাল-হারাম তার সবচেয়ে বিখ্যাত বই। জীবন থেকে নেওয়া উপমা, উপস্থাপনের সারল্য, সর্বাধুনিক বিষয়াবলির সন্নিবেশ আর জনসাধারণের উপযোগী বিশ্লেষণ এই বইয়ের স্বাতন্ত্র্য। এই বইয়ের পাঠকপ্রিয়তার মূল রহস্য—বইটি সহজ এবং সবার জন্য উপযোগী। তাই প্রকাশের পর থেকে অদ্যাবধি চলমান রয়েছে এর পঠন-পাঠন ও বিশ্লেষণ। বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এ বই; ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে।

এ বইয়ে চারটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে হালাল-হারামের ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি, দ্বিতীয় অধ্যায়ে দৈনন্দিন জীবনে হালাল-হারাম, তৃতীয় অধ্যায়ে পারিবারিক ও দাম্পত্যজীবনে হালাল-হারাম ও চতুর্থ অধ্যায়ে সামাজিক জীবনে হালাল-হারামের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। প্রতিটি আলোচনা ও মাসয়ালার সঙ্গে কোরআন-হাদিস ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে। 

এ গ্রন্থ রচনায় ড. কারযাবি হালাল-হারামের বিধানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো মাজহাব অনুসরণ করেননি। এ ব্যাপারে তিনি প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের মতগুলোর মধ্যে তার দৃষ্টিতে তুলনামূলক শক্তিশালী মত গ্রহণ করেছেন। হাতেগোনা কিছু মাসয়ালায় তিনি চার মাজহাবের বাইরে গিয়ে ভিন্নমত গ্রহণ করেছেন এবং কিছু মাসয়ালায় তিনি শিথিলতা দেখিয়েছেন। সেসব স্থানে সমকালীন প্রকাশন টীকার মাধ্যমে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতের কথা উল্লেখ করে দিয়েছে। 

৬৩২ পৃষ্ঠার হার্ডকভারের রুচিশীল বাধাই ও মানসম্মত মুদ্রণে বইটি প্রকাশ করেছে সমকালীন প্রকাশন। ভাষান্তর করেছেন আসাদুল্লাহ ফুয়াদ। দেশের অভিজাত সব লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন অনলাইন বুকশপে বইটি পাওয়া যায়। সরাসরি সমকালীন প্রকাশন থেকে বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজে।   

বই: হালাল-হারামের বিধান
লেখক: ড. ইউসুফ কারযাবি
ভাষান্তর: আসাদুল্লাহ ফুয়াদ
প্রকাশক: সমকালীন প্রকাশন 
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩২
মুদ্রিত মূল্য: ৮৯০/- টাকা
মোবাইল: ০১৪০৯৮০০৯০০

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা যাবে?

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা যাবে?
প্রতীকী ছবি

আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন, সুদ হারাম করেছেন। ব্যবসায় জীবনের বরকত রয়েছে। রিজিকের স্বচ্ছতা ও সচ্ছলতা রয়েছে। তবে ব্যবসা করতে গিয়ে হারামে জড়ানো যাবে না। অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ গ্রাস করা যাবে না। 

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পদের কিয়দংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকের কাছে পেশ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য কারও ক্ষতিসাধন করে, আল্লাহতায়ালা তা দিয়েই তার ক্ষতিসাধন করেন। যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহতায়ালা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪০)

ক্রয় করা মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে টিকিট বিক্রি করা জায়েজ নয়। কেউ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করলে ক্রেতার ঠিকানা জানা থাকলে তাকে অতিরিক্ত টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর মালিক জানা না থাকলে কোনো গরিবকে সদকা করে দিতে হবে। সে টাকা বিক্রেতার ব্যবহার করা কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৭৬; আলবাহরুর রায়েক, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ৩০৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ অন্যের ক্ষতি করলে আল্লাহ তার ক্ষতিসাধন করবেন। কেউ অযৌক্তিকভাবে কারও বিরোধিতা করলে আল্লাহ তার বিরোধী হবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৩৫)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

মৃত্যুর পরের জীবন জানতে পড়ুন ‘মরণের পরে কী হবে’ বইটি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:০০ এএম
মৃত্যুর পরের জীবন জানতে পড়ুন ‘মরণের পরে কী হবে’ বইটি
মরণের পরে কী হবে বইয়ের ছবি। সংগৃহীত

যে জন্মেছে, সে মরবেই। মৃত্যুকে ভুলে থাকা যায়, কিন্তু এর থেকে পালিয়ে বেড়ানো যায় না। মৃত্যুর পরই শুরু হবে মানুষের চিরস্থায়ী জীবন। যে জীবনের শুরু আছে, শেষ নেই। মৃত্যুর পর কী হবে, কেমন কাটবে মানুষের জীবন, মানুষ কোথায়, কীভাবে, কত দিন থাকবে—এসবের কতটুকু আমরা জানি। হাশর-নাশর, হিসাব-নিকাশের দিনের অবস্থাই-বা কতটা ভয়াবহ হবে—কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক এসব বিষয়ে জানতে সংগ্রহ করুন মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক এলাহী বুলন্দশহরী (রহ.) রচিত মরণের পরে কী হবে বইটি।

মানুষ পৃথিবীতে স্বল্প সময় অবস্থান করলেও তার যাত্রা সীমাহীন। ক্ষণস্থায়ী এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই পার্থিব জীবনের বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। কিন্তু চিরস্থায়ী জীবন তথা পরকালীন জীবন ও তার বিষয়াদি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ। তাই বলে পরজগতের ব্যাপারে এবং আত্মার যাত্রা সম্পর্কে তার জানার আগ্রহ শেষ হয়ে যায়নি। আখেরাত সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণেই মানুষ আল্লাহর পথ থেকে অনেক দূরে। দুনিয়ার কোনো সম্পদ দেখতে পেলে সেদিকেই দ্রুত অগ্রসর হয় এবং পরকালের নেয়ামত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর একে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এসব মানুষের কথা চিন্তা করে এ বইয়ে এমন বিষয়সমূহের অনুসন্ধান ও আলোচনা করা হলো—যা অন্তরে ভয়ের সঞ্চার ও চোখে অশ্রু প্রবাহিত করবে এবং পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। 

এ বইয়ে কোরআন-সুন্নাহ এবং অতীত জাতির অবস্থা এবং তাদের উপদেশসমূহের ওপর গভীরভাবে দৃষ্টি দিয়ে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বই প্রত্যেকের জন্য জীবন চলার পাথেয় হয়ে থাকবে এবং পরকালে সবার জন্য আমলে বা সৎকর্ম হিসেবে পরিগণিত হবে। 

এ বইয়ে চারটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে কবর সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা, দ্বিতীয় অধ্যায়ে জাহান্নামের আদ্যোপান্তের বিবরণ, তৃতীয় অধ্যায়ে হাশর ও কিয়ামতের অবস্থার বর্ণনা এবং চতুর্থ অধ্যায়ে জান্নাতের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। 

বইটি অনুবাদ করেছেন মাওলানা শহীদুল্লাহ আড়াইহাজারী। বইটি প্রকাশ করেছে রুচিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আনোয়ার লাইব্রেরি। বইয়ের মোট পৃষ্ঠা ২৬৩। বাংলাবাজার ইসলামী টাওয়ারে অবস্থিত আনোয়ার লাইব্রেরির আউটলেট এবং অনলাইন থেকে সরাসরি বইটি কিনতে ভিজিট করুন ফেসবুক পেইজ

বই: মরণের পরে কী হবে
লেখক: মাওলানা মুহাম্মাদ আশেক এলাহী বুলন্দশহরী (রহ.)
অনুবাদ: মাওলানা শহীদুল্লাহ আড়াইহাজারী
প্রকাশক: আনোয়ার লাইব্রেরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৩
মুদ্রিত মূল্য: ৩৬০/- টাকা
মোবাইল: ০১৯১৩৬৮০০১০

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

সফরের কাজা নামাজ মুকিম অবস্থায় কীভাবে পড়ব?

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম
সফরের কাজা নামাজ মুকিম অবস্থায় কীভাবে পড়ব?
প্রার্থনারত এক মুসল্লির ছবি। ইন্টারনেট

নামাজ দ্বীনের খুঁটি। তাঁবুর জন্য যেমন খুঁটি প্রয়োজন, ইসলামের জন্য তেমন নামাজ প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এক. আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা। দুই. নামাজ কায়েম করা। তিন. জাকাত আদায় করা। চার. রমজানের রোজা পালন করা। পাঁচ. হজ করা।’ (বুখারি, হাদিস: ৮) 

আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দাদের বলো, যারা ঈমান এনেছে তারা যেন নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপন ও প্রকাশ্য ব্যয় করে, ওই দিন আসার আগে; যে দিন কোনো বেচাকেনা থাকবে না এবং থাকবে না বন্ধুত্বও।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩১)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন-মুসলমানের ওপর ফরজ। নামাজ ত্যাগের কোনো সুযোগ নেই ইসলামে। তবে সফর অবস্থায় নামাজের রাকাত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সফরে শরিয়ত নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করলে চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থানে দুই রাকাত পড়তে হয়। 
সফর অবস্থায় চার রাকাত নামাজ ছুটে গেলে মুকিম (বাড়িতে অবস্থানকালে) অবস্থায় দুই রাকাতই পড়তে হবে; চার রাকাত নয়। কারণ সফর অবস্থায় চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ কাজা হয়ে গেলে মুকিম অবস্থায় তা আদায় করলেও দুই রাকাতই আদায় করতে হয়। 

সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় নামাজ আদায় করতে ভুলে গেছে, অতপর সফর অবস্থায় স্মরণ হলে এই নামাজ চার রাকাতই আদায় করবে। আর যে সফর অবস্থায় নামাজ আদায় করতে ভুলে গেছে, মুকিম অবস্থায় হলে সে দুই রাকাতই আদায় করবে।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা: ৪৩৮৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৩)

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক