ঈদুল ফিতরে যা করবেন এবং যা করবেন না । খবরের কাগজ
ঢাকা ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

ঈদুল ফিতরে যা করবেন এবং যা করবেন না

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০০ এএম
ঈদুল ফিতরে যা করবেন এবং যা করবেন না
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

করণীয়: ঈদের দিন ভোরবেলা ফজর নামাজ জামাতে আদায় করার মাধ্যমে দিনটি শুরু করা উচিত। এ দিন গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তিনি দুই ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন।’ (সুনানে কুবরা, বাইহাকি, ৬১৪৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে ফিরতেন। যাতে উভয় পথের লোকদের সালাম দেওয়া ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। (জাদুল মায়াদ, ১/৪৩২-৪৩৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৫৬৬৭)

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা উত্তম। ঈদের নামাজের আগে খাবার গ্রহণ করা সুন্নত। (বুখারি, ৯৫৩)

ঈদের নামাজ আদায় ও খুতবা শোনা ওয়াজিব। আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া ও ফিতরা আদায় করাও ইবাদত। 

বর্জনীয়: বিজাতীয় সংস্কৃতি উদযাপন না করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’(আবু দাউদ, ৪০৩১)

জুয়া, মদ, জিনা-ব্যভিচার ও মাদকদ্রব্য সেবন না করা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন একটা দল পাওয়া যাবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল (বৈধ) মনে করবে।’(বুখারি, ৫৫৯০)

অশালীন পোশাকে রাস্তায় বের না হওয়া: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একদল নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ মানুষের মতো হবে, অন্যদের আকর্ষণ করবে এবং অন্যরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথার চুলের অবস্থা হবে উটের হেলে পড়া কুঁজের মতো। ওরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি তার সুগন্ধিও পাবে না, যদিও তার সুগন্ধি বহুদূর থেকে পাওয়া যায়।’ (মুসলিম, ২১২৮)

লেখক: খতিব, বনানী আত-তাকওয়া জামে মসজিদ

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর আমল

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর আমল
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

ব্রেন বা মুখস্থ শক্তি মানুষের অমূল্য সম্পদ। মুখস্থ করার যোগ্যতা আল্লাহতায়ালার দেওয়া বিশেষ নেয়ামত। নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য জরুরি হলো, প্রাপ্ত নেয়ামতের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা আদায় করা। শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা আলহামদুলিল্লাহ বলে করা যায়, আবার আমল বা কাজের মাধ্যমেও শুকরিয়া আদায় করতে হয়। ব্রেনের আমলি শুকরিয়া হলো, ব্রেনের সঠিক ব্যবহার করা। ব্রেনের সঠিক ব্যবহারে মানুষের স্মৃতিশক্তি অটুট থাকে এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। আবার  কারও কারও ব্রেন সব সময় এক রকম থাকে না। একেক বয়সে একেক রকম হয়। ছোটবেলায় হয়তো স্মরণশক্তি ভালো থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। 

আল্লাহতায়ালা মানুষকে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে দোয়া, জিকির ও বেশকিছু কাজের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এখানে কয়েকটি দোয়া ও আমল উল্লেখ করা হলো—

মুখস্থশক্তি বৃদ্ধির দোয়া
স্মরণশক্তি বা মুখস্থশক্তি বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। মুখস্থশক্তি আল্লাহতায়ালার দেওয়া অনন্য নেয়ামত। তাই তো দেখা যায়, কেউ চাইলেই যেমন কোনো কিছু স্মরণ রাখতে পারে না, আবার চাইলেই কেউ মুখস্থ করতে পারে না। তাই স্মরণশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ১১ বার এই দোয়াটি পড়া—

বাংলা উচ্চারণ: রাব্বি জিদনি ইলমা।

বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন। (সুরা তহা, আয়াত: ১১৪) 

হজরত কাশ্মীরি (রহ.) লিখেছেন, উপরোক্ত দোয়াটির সঙ্গে নিম্নোক্ত দোয়াটি নয়বার পড়লে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়—

বাংলা উচ্চারণ: রব্বিশ রাহলি সাদরি, ওয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উকদাতাম মিন লিসানি ইয়াফকাহু কওলি।

বাংলা অর্থ: (মুসা বলল,) হে আমার প্রতিপালক, আমার বুক খুলে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে।’ (সুরা তহা, আয়াত:২৫-২৮)

এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহতায়ালা বিশেষ জ্ঞানদান করবেন।

ব্রেন ভালোর জন্য জিকির করা

স্মরণশক্তি বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি আমল হলো, অধিক পরিমাণে জিকির-আজকার করা। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার পড়া। আল্লাহ বলেন, ‘যখন ভুলে যান, তখন আল্লাহর জিকির করুন।’ (সুরা কাহাফ, আয়াত:২৪) 

গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা
স্মরণশক্তি বৃদ্ধির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো, সব ধরনের গুনাহ থেকে পরিপূর্ণ বেঁচে থাকা। কারণ, গুনাহের কারণে মুখস্থশক্তিতে দুর্বলতা আসে। বিশেষ করে চোখের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা খুবই জরুরি। 

কয়েকটি খাবার খাওয়া
কোনো কোনো আলেম এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি করে। যেমন- মধু ও কিশমিশ খাওয়া। ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, ‘তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভালো। যে হাদিস মুখস্থ করতে চায়, সে যেন কিশমিশ খায়।’ (আল-জামি, খতিব আল-বাগদাদি, ২/৩৯৪)

নেক আমল করা
নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহকে খুশি করা যায়। নিজের মনে প্রশান্তি অনুভব করা যায়। তাই বেশি বেশি আমল করতে হবে।  ইসতেগফার, দরুদ পাঠ করতে হবে। কথা-বার্তা কম বলতে হবে। পাশাপাশি জ্ঞান অনুযায়ী আমল করতে হবে। 

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদরাসা, মধুপুর

 

 

‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ কেন পড়া হয়?

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ কেন পড়া হয়?
আরবিতে 'আল্লাহুম্মা বারিক' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আমরা জীবন চলার পথে বিভিন্ন সময় নানা কিছু দেখতে পাই। এর মধ্যে কিছু হালাল আর কিছু হারাম। ইসলামে সব ধরনের হালাল বৈধ। আর সব ধরনের হারামই নিষিদ্ধ। কোরআন ও হাদিসে হালাল-হারামের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। হারাম থেকে দূরে থাকতে কোরআন ও হাদিসে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। হালালের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। হালাল জীবনযাপনে রয়েছে বিশেষ সওয়াবও। কোনো ব্যক্তি যদি চলতি পথে বা কোনো সংবাদের মাধ্যমে ভালো কিছু দেখে বা শোনে, তার উচিত কল্যাণ কামনা করা। বরকতের দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের কিছু দেখে বিমুগ্ধ হয়, সে যেন তার জন্য বরকতের দোয়া করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৫০৯)

বরকতের দোয়া করার সময় আমরা আরবিতে এভাবে বলতে পারি—বাংলা উচ্চারণ:‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু বা লাহা’। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি তা বরকতময় করুন।

লাহু /লাহার ব্যবহার
ভাষার ব্যবহারে নারী ও পুরুষের আলাদা নিয়ম-নীতি রয়েছে। ‘লাহু’ শব্দটি সব সময় পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হবে। আর ‘লাহা’ শব্দটি সব সময় নারীর জন্য ব্যবহার করা হবে। তথা পুরুষবাচক কল্যাণময় জিনিস দেখলে বলতে হবে ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহু’ আর নারীবাচক কোনো কল্যাণময় জিনিস দেখলে বলতে হবে ‘আল্লাহুম্মা বারিক লাহা’।

আল্লাহুম্মা বারিক লাহু বলার উপকারিতা

আল্লাহ প্রার্থনাকারী বান্দাকে পছন্দ করেন। কেউ কারও জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারাও তার জন্য দোয়া করেন। ফেরেশতাদের দোয়া আল্লাহ অবশ্যই কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের জন্য বিশেষ মনে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। সেখানে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন। যখনই ওই ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করে তখন ওই ফেরেশতা ‘আমিন, আমিন’ ও তোমার জন্যও অনুরূপ হোক বলেন।’ (মেশকাত, হাদিস: ২২২৮)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

দোয়া ইউনুস কি? পড়ার নিয়ম ও ফজিলত

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৯:০০ এএম
দোয়া ইউনুস কি? পড়ার নিয়ম ও ফজিলত
আরবিতে 'ইউনুস' লেখা ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহর নবি ইউনুস (আ.) দেশ ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সময় নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনি মাছের পেটে বন্দি হন। এই বিপদের সময় তিনি বারবার একটা দোয়া পড়েছিলেন। যা দোয়ায়ে ইউনুস নামে পরিচিত। আর সে দোয়ার বরকতেই আল্লাহ তাকে মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেন।

দোয়া ইউনুস

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ، إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ 

দোয়া ইউনুসের বাংলা উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। 

দোয়া ইউনুসের বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি পবিত্র মহান, আমি তো সীমা লঙ্ঘনকারী। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭ )

এই দোয়ার ফলে মাছের পেট থেকে আল্লাহ তাকে মুক্তি দেন। কোরআনে আছে, ‘সে যদি আল্লাহর মহিমা আবৃত্তি না করত, তা হলে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তাকে মাছের পেটে থাকতে হতো।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১৪৩-১৪৪)

দোয়া ইউনুস পড়ার ফজিলত
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল, এই দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা কি শুধু ইউনুস (আ.)-এর জন্যই প্রযোজ্য, না সব মুসলিমের জন্য? জবাবে নবি (সা.) বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য দোয়াটি বিশেষভাবে কবুল হলেও এটা সব মুসলিমের জন্য সব সময় কবুলের ব্যাপারে প্রযোজ্য। তুমি কি কোরআনে পাঠ করোনি, ‘ওয়া কাজালিকা নুনজিল মুমিনিন’ আর এভাবেই আমি আল্লাহ মুমিনদের উদ্ধার করে থাকি।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

যেকোনো বিপদ-মসিবত, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান এই দোয়া ইউনুসের সাহায্যে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে, আল্লাহ তা কবুল করেন।’ অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক

 

ক্ষমা করলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ০৭:০০ পিএম
ক্ষমা করলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

আল্লাহতায়ালা ক্ষমাশীল। তিনি বান্দাদের ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। আল্লাহতায়ালা মুহাম্মাদ (সা.)-কে এই গুণ অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং মানুষকে ভালো বিষয়ের আদেশ করুন। আর মূর্খদের উপেক্ষা করুন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৯৯) 

কোরআনের অপর এক আয়াতে মানুষকে ক্ষমা ও ছাড়ের ব্যাপারটাকে আল্লাহতায়ালা খুবই আশাব্যঞ্জক ও পরকালীন সমৃদ্ধির উপকরণ বলে বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ন্যায়। যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সম্বরণকারী আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ নেককার লোকদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩-১৩৪)

মুসলিম সমাজ সব সময় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকবে এমনটিই চাইতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজের মূল উপাদান হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে। আল্লাহ ক্ষমাকারীর সম্মান বাড়িয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা করলে অর্থসম্পদে ঘাটতি হয় না। যে ক্ষমা করবে আল্লাহ তার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন। আর যে আল্লাহর জন্য নম্রতা অবলম্বন করবে, আল্লাহতায়ালা তার মর্যাদা উঁচু করে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)

বাস্তবে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি, অনাচার ও ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করাই হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা করার প্রবৃত্তি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিধানের নিশ্চয়তা দেয়। অপরদিকে কেউ যদি নিজের শতভাগ অধিকার আদায় করতে উঠেপড়ে লেগে যায়, তা হলে তার মাধ্যমে সমাজে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহ দিতে গিয়ে বারবার কীভাবে ক্ষমা করতে হয়, তার কিছু উদাহরণ টেনেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, “এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, গোলামকে আমি কতবার ক্ষমা করব?’ রাসুল (সা.) চুপ রইলেন। এরপর সে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কতবার ক্ষমা করব?’ এবার রাসুল (সা.) উত্তরে বললেন, ‘প্রতিদিন ৭০ বার।” (তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪৯) 

একজন গোলাম তো প্রতিদিন আর ৭০ বার ভুল করতে পারে না। ৭০ বারের কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বারবার ক্ষমা করা বোঝানোর জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করতে পছন্দ করতেন। এটি সুন্নত। ক্ষমায় সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়। মানুষকে ক্ষমা করলে কী পুরস্কার পাওয়া যায়, আল্লাহ তা কোরআনে ঘোষণা করেছন, ‘এবং নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মাগফেরাত ও সেই জান্নাত লাভের জন্য একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতুল্য। তা সেই মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় (আল্লাহর জন্য অর্থ) ব্যয় করে এবং যারা নিজের ক্রোধ হজম করতে ও মানুষকে ক্ষমা করতে অভ্যস্ত। আল্লাহ এমন পুণ্যবানদের ভালোবাসেন।’

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

মুমিন অন্যের দোষ প্রচার করে না

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
মুমিন অন্যের দোষ প্রচার করে না
প্রতীকী ছবি। ইন্টারনেট

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারও প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী এবং বিজ্ঞ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৮)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ পছন্দ করেন না যে, আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করি বা মন্দ বিষয় প্রকাশ করি, যদি না আমাদের ওপর অন্যায় করা হয়। তবে যদি কারও ওপর জুলুম করা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে আল্লাহর অনুমতি রয়েছে। তারপরও ধৈর্যধারণ করাই উত্তম। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদমসন্তানের প্রত্যেকই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারী ব্যক্তিরা হলো উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কারও দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করতেন না। কারণ, দোষ-ত্রুটির প্রকাশ মানুষের ফিরে আসার পথে, তওবার পথে অন্তরায় তৈরি করে। একজন মানুষ যখন ভাবে যে, তওবা করে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে, আবার সে সব মানুষের সঙ্গে মিশতে পারবে, পাপের কারণে কেউ তাকে খারাপ ভাববে না, তখন তওবা করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়। ইবনে উমর (রা.) বলেন, “একসায় রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বরে আরোহণ করে উচ্চৈঃস্বরে ডেকে বললেন, ‘হে ওই সম্প্রদায়, যারা মুখে ঈমান এনেছ কিন্তু হৃদয়ে ঈমান প্রবেশ করেনি। শোনো, তোমরা মুমিনদের কষ্ট দিয়ো না, তাদের লজ্জা দিয়ো না, তাদের গোপন দোষ তালাশ করো না। কেননা যে তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ তালাশ করবে, আল্লাহ তার গোপন দোষ ফাঁস করে দেবেন। আর আল্লাহ যার দোষ বের করে দেবেন তাকে তিনি লাঞ্ছিত করবেন। এমনকি সে তার ঘরের অভ্যন্তরে অবস্থান করলেও।” (তিরমিজি, হাদিস: ২০৩২)

মানুষের স্বভাবটাই এ রকম যে, অন্যের দোষ বলে বেড়াতে সে পছন্দ করে। আপনি নিজেকে ওই লোকের স্থানে কল্পনা করে দেখুন, তা হলে এই অভ্যাস-বর্জন আপনার পক্ষে সহজ হবে। তা হলে কেউ কারও দোষ প্রকাশ করতে চাইবে না। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ তো তার ভাইয়ের চোখের মধ্যে থাকা সামান্য ধূলিকণাও দেখতে পায়, কিন্তু তার নিজের চোখে আস্ত একটা গাছের কাণ্ড থাকলেও সে তা দেখতে পায় না।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৭৬১) 

আপনার চোখে যখনই কারও দোষ ধরা পড়ে, তখন নিজের কথা কল্পনা করুন। নিজের দোষগুলোর প্রতি খেয়াল করুন। নিজের দোষ অন্যের কাছে প্রকাশ পেলে আপনার কেমন খারাপ লাগবে, আপনার অবস্থান কোথায় যাবে, তা  ভাবুন। তা হলে আশা করা যায়, অন্যের দোষ প্রকাশের ক্ষেত্রে আপনার হৃদয় কেঁপে উঠবে। 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক