ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথম সেমিতে ইতিহাসের বাঁশি ‘দাবি না মানলে বিশ্বকাপে যেতেন না কোচ’, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফেডারেশনের ইতিহাস গড়া নরওয়ের বীরদের বরণে রাস্তায় লাখো মানুষ ‘শুধু এমবাপ্পেকে নয়, পুরো ফ্রান্সকেই থামাতে হবে’ মেসির মুখোমুখি হওয়ার আগে যা বললেন নিকো ও’রেইলি ‘স্পেনকে ভয় নয়, সম্মান’ মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে ইংল্যান্ড! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘লাকি’ জার্সি পরে খেলবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ২ মাস পর রেফারির মৃত্যু ১৩ বছর পর আবারও ক্রোয়েশিয়ার কোচ স্লাভেন বিলিচ হালান্ডকে পাস না দেওয়ায় সরলথকে আত্মহত্যা করার বার্তা! বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ ৪ দলের মধ্যে কার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার সিরাজগঞ্জে ব্যতিক্রমী 'আর্জেন্টিনা বটগাছ' ফেসবুকে ভিসি-প্রশাসনের সমালোচনা, জকসু সদস্য জাহিদকে তলব ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী ইবির প্রধান ফটকের জুলাই স্মৃতি মুছে ‘জুলাই ফলক’ তৈরির পরিকল্পনা অনলাইনে মাদক-বাণিজ্যের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ ‘মাদক বহনকারীরা জেলে, কিন্তু কারবারিরা সংসদে কেন?’ ফতুল্লায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, খোলা হলো তিস্তা ব্যারেজের ৪৪ জলকপাট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার নতুন ডিরেক্টর ড. মাইক মিলার কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় রাঙামাটির ৬ উপজেলায় বন্যার শঙ্কা সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াল সিস্টেম গ্রুপ সংসদের বিভিন্ন কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার অভিযোগ হুইপের তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে কুতুবদিয়ার ৫ জেলে নিখোঁজ বৃষ্টির সময় কেন দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না? বরিশালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বজুড়ে ভোটাধিকারের বয়সসীমা

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:১৫ পিএম
বিশ্বজুড়ে ভোটাধিকারের বয়সসীমা
ভোটাধিকারের বয়স কমানোর বা বাড়ানোর পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে। ছবি এআই

ভোটাধিকার বা ভোট দেওয়ার অধিকার একটি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন নাগরিক তার দেশের সরকার গঠনে সরাসরি অংশ নিতে পারে। তবে পৃথিবীর সব দেশে কিন্তু একই বয়সে এই ক্ষমতা অর্জন করা যায় না। ভিন্ন ভিন্ন দেশ তাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সামাজিক কাঠামো এবং তরুণদের পরিপক্বতার ধারণার ভিত্তিতে এই বয়সসীমা নির্ধারণ করে। 

১৮ বছর: বৈশ্বিক মানদণ্ড
বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ভোটাধিকারের ন্যূনতম বয়স হলো ১৮ বছর। এই বয়সটিকে সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বগ্রহণের জন্য যথেষ্ট পরিপক্ব বয়স হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং জার্মানির মতো বিশ্বের শক্তিশালী গণতন্ত্রগুলোর বেশিরভাগেই এই নিয়ম প্রচলিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ভোটাধিকার দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ১৯৬০ এবং ১৯৭০-এর দশকে, যখন তরুণ সমাজ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বা দেশের জন্য সামরিক দায়িত্ব পালনের মতো গুরুতর কাজ করতে পারলে, কেন তারা সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, এই প্রশ্ন জোরালো হয়। তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্যই মূলত এই বয়সসীমা কমানো হয়। জাপানেও ২০১৫ সালে ২০ থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়, যা তরুণদের জন্য একটি বড় পরিবর্তন।

১৬ বছর: যখন তারুণ্য আরও আগে সুযোগ পায়
কিছু দেশ আছে যারা বিশ্বাস করে ১৬ বছর বয়সের তরুণ-তরুণীরাও যথেষ্ট রাজনৈতিক জ্ঞান ও সচেতনতা নিয়ে ভোট দিতে পারে। বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশে ১৬ বছর বয়সে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
অস্ট্রিয়া: এটি প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, যারা ১৬ বছর বয়সে ভোটাধিকার দিয়েছে।
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল: এই দেশগুলোতেও ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে।
স্কটল্যান্ড: স্কটল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়।
এই দেশগুলোর যুক্তি হলো, তরুণ বয়স থেকেই যদি নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়, তবে তারা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন ও দায়বদ্ধ হবে। এ ছাড়াও, এটি দীর্ঘমেয়াদে ভোটের হার বাড়াতেও সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।

২০ এবং ২১ বছর: ঐতিহ্যের গুরুত্ব
এক সময় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে ভোটাধিকারের বয়স ২১ বছর ছিল। এটিকে আইনিভাবে ‘পূর্ণ বয়সের’ প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হতো। যদিও বেশির ভাগ দেশই এখন ১৮ বছরে নেমে এসেছে, তবুও কিছু দেশে এখনো ২০ বা ২১ বছর বয়সসীমা বজায় রয়েছে:
২১ বছর: লেবানন, ক্যামেরুন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার মতো কিছু দেশে এখনো ২১ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়া হয়। এই দেশগুলো হয়তো মনে করে যে ২১ বছর হলো আরও বেশি পরিপক্বতা, স্থিতিশীলতা এবং জীবন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভের বয়স।
২০ বছর: দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কিছু দেশে ২০ বছর বয়সে ভোটাধিকার দেওয়া হতো, যদিও বর্তমানে এর পরিবর্তন হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে কিছু দেশে ২০ বছরকে ১৮ এবং ২১-এর মাঝামাঝি একটি সময় হিসেবে দেখা হতো।
২৫ বছর: সবচেয়ে বেশি বয়সে ভোটাধিকার পান সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকরা। বয়স ২৫ বছর হলে তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।

বয়সসীমা পরিবর্তনের কারণ কী?
ভোটাধিকারের বয়স কমানোর বা বাড়ানোর পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে। যেমন-
শিক্ষার প্রসার: আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় তরুণরা খুব দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করছে, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়।
সামরিক বাধ্যবাধকতা: যে বয়সে একজন সৈনিক দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারে বা সামরিক দায়িত্ব নিতে পারে, সেই বয়সে তার সরকারকে বেছে নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত— এই ধারণাটি একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
তরুণদের দাবি: অনেক দেশেই তরুণ সমাজ সক্রিয়ভাবে তাদের ভোটাধিকারের বয়স কমানোর জন্য আন্দোলন করেছে।
রাজনৈতিক সক্রিয়তা: রাজনৈতিক দলগুলোও অনেক সময় তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য বয়স কমানোর পক্ষে কাজ করে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর গল্প
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের খাবার দেয়া হচ্ছে।

শীতের এক কনকনে সকাল। চারদিকে তীব্র ঠান্ডা। এমন এক সকালে চীনের শানসি প্রদেশের ইয়ানহু জেলায় চাং ছাংছিন নামের এক ব্যক্তির চোখে ধরা পড়ল অদ্ভুত ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ঠান্ডা পানি দিয়ে শক্ত ও ঠাণ্ডা রুটি গিলে খাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমাজের অপরিহার্য এই কর্মীদের এমন মানবেতর দশা চাং-এর মনে গভীর দাগ কাটে। সেই মুহূর্তেই তিনি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন—রাস্তার এই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য অন্তত একবেলা গরম ও পুষ্টিকর সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করবেন। 
এই মানবিক তাড়না থেকেই ২০১৬ সালের নভেম্বরে শুরু হয় একটি অনন্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। তবে এর শুরুটা সহজ ছিল না। ২০১৬ সালে যখন চাং এই ফ্রি ব্রেকফাস্ট প্রজেক্ট বা বিনামূল্যে সকালের নাস্তা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেন, তখন তার সাথে ছিলেন মাত্র কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। কিন্তু চাং দমে যাননি। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে বোঝাতে শুরু করেন, কেন এই উদ্যোগটি প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব কতটুকু। 
ধীরে ধীরে তার এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। চাল, ডাল, সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় রসদ আসতে শুরু করে চারপাশ থেকে।
১০ বছরের পরিসংখ্যান ও বিশাল অর্জন  
দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ ১০টি বছর। এই এক দশকে চাং ছাংছিন এবং তার ভলান্টিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অর্জন সত্যিই চোখ কপালে তোলার মতো: 
•    বিগত ১০ বছরে এই সংগঠনটি ২ লাখ ৭০ হাজার এরও বেশি বিনামূল্যে গরম নাস্তা বিতরণ করেছে।
•    মাত্র কয়েকজন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই অ্যাসোসিয়েশনে বর্তমানে নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার।
•    এই উদ্যোগ অনুপ্রাণিত করেছে আরও হাজার হাজার সাধারণ নাগরিককে, যারা এখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সেবামূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের একজন নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘আমরা শুধু খাবার দিই না, আমরা তাদের জানাতে চাই যে সমাজ তাদের অবদানকে সম্মান করে।‘ 
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সকালের নাস্তা দেওয়ার মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও চাং-এর মানবিকতার পরিধি দিন দিন আরও বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে তার এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি সমাজের অন্যান্য অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির পাশেও দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে— ১. দুস্থ ও কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা শিশুদের শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ। ২. অসহায় ও প্রবীণ নাগরিকদের নিয়মিত দেখভাল ও সহায়তা প্রদান। 
দশ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের পরও চাং ছাংছিন থামতে চান না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা এই কাজ চালিয়ে যাব। আমরা বিশ্বাস করি, স্বেচ্ছাসেবামূলক সেবা সামাজিক অগ্রগতি তরাণ্বিত করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হতে পারে।’
চাং ছাংছিন প্রমাণ করেছেন, সদয় চিন্তা ও দৃঢ় ইচ্ছা কীভাবে হাজার হাজার মানুষের জীবনে আলো ছড়াতে পারে এবং বদলে দিতে পারে পুরো সমাজের চিত্র। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি তার এই ভালোবাসা আজ বিশ্বজুড়ে মানবতা ও সহানুভূতির এক অনন্য নজির। 
সূত্র: সিএমজি

পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে
ছবি:সংগৃহীত

অনেকের কাছে জনসমক্ষে কথা বলা বা পাবলিক স্পিকিং এক বিভীষিকার নাম। মঞ্চের সামনে দাঁড়ালেই হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা ও সব ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা নতুন নয়। স্কুল, কলেজ কিংবা ক্যারিয়ারের যেকোনো পর্যায়ে নিজের কথা গুছিয়ে বলার দক্ষতা এক অমূল্য সম্পদ। ভয়ের এই দেয়াল ভেঙে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার কৌশল রপ্ত করা খুব কঠিন কিছু নয়।

প্রথমে মনে রাখতে হবে, ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। পৃথিবীর অনেক বড় বড় বক্তারও মঞ্চে ওঠার আগে স্নায়ুচাপ কাজ করে। এই ভয়কে জয় করার প্রথম শর্ত হলো প্রস্তুতি। আপনি যে বিষয়ে কথা বলবেন, সেটির ওপর গভীর জ্ঞান থাকলে ভয়ের মাত্রা এমনিতে কমে আসে। নিজের বক্তব্যের বিষয়বস্তু ছোট ছোট পয়েন্টে সাজিয়ে নিন। এটি আপনাকে পথ দেখাতে সাহায্য করবে এবং মূল বিষয় থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে।

মঞ্চে দাঁড়ানোর আগে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। নিজের কথা বলার ভঙ্গি, হাত নাড়ানোর ধরন এবং চোখের চাহনি লক্ষ করুন। সম্ভব হলে নিজের বক্তব্য রেকর্ড করে পরে শুনুন। এতে ভুলগুলো সহজেই চোখে পড়বে এবং নিজেকে শোধরানোর সুযোগ পাবেন। প্রথম দিকে ছোট ছোট দলের সামনে বা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করতে পারেন। এতে জড়তা দ্রুত কেটে যাবে।

পাবলিক স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে শরীরী ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথা বলার সময় শ্রোতাদের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। সরাসরি চোখের দিকে তাকালে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পায়। তবে খুব বেশি স্থির হয়ে না দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করুন। আপনার হাসি এবং শারীরিক ভঙ্গি শ্রোতাদের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে।

অনেক সময় মানুষ ভয় পায় ভুল করার ভয়ে। মনে রাখবেন, বক্তৃতার সময় ছোটখাটো ভুল হতে পারে। যদি কখনো কোনো তথ্য ভুলে যান, ঘাবড়ে না গিয়ে শান্তভাবে নিজের শ্বাস নিন। ভুল নিয়ে লজ্জা না পেয়ে হাসিমুখে তা এড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। শ্রোতারা আপনার নিখুঁত উপস্থাপনা থেকে আপনার কথার সারমর্ম শুনতে বেশি আগ্রহী থাকে।

বক্তৃতার শুরুতে একটি মজার তথ্য কিংবা ছোট কোনো ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। এটি দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। কথা বলার গতি খুব দ্রুত করবেন না, আবার খুব ধীরও করবেন না। নির্দিষ্ট সময় পরপর থামুন বা বিরতি নিন। এই নীরবতা আপনার বলা কথাগুলোকে আরও জোরালো করে তুলবে।

পরিশেষে, পাবলিক স্পিকিং কোনো জন্মগত প্রতিভা নয়, এটি নিছক চর্চার ফসল। যত বেশি মঞ্চে উঠবেন, জড়তা তত কমবে। নিজের কণ্ঠস্বর ও উপস্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনাই সাফল্যের চাবিকাঠি। আজই কোনো ছোট বিষয়ে কথা বলার পরিকল্পনা করুন এবং জড়তাকে জয় করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিন।

বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান পৃথিবী দ্রুতগতিতে একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির কল্যাণে ভৌগোলিক সীমানা এখন আর মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাধা নয়। আজকের তরুণ প্রজন্মকে শুধু নিজের দেশের ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চলবে না। তুমুল প্রতিযোগিতামূলক এই আধুনিক বিশ্বে সফলভাবে টিকে থাকতে হলে তাদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বিশ্ব নাগরিক বলতে এমন একজনকে বোঝায় যিনি নিজের দেশের শেকড়কে গভীরভাবে ধারণ করার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি ও সমস্যা সম্পর্কে সচেতন থাকেন।

বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। এই বিশাল পৃথিবীতে নানা ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষ বসবাস করে। সবার জীবনযাপন পদ্ধতি এক নয়। অন্যের মতাদর্শের প্রতি সহনশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি একটি গুণ। নিয়মিত দেশি ও বিদেশি বই পড়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। এই অর্জিত জ্ঞান তরুণদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে এবং তাদের সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।

সফল যোগাযোগের দক্ষতা বিশ্ব নাগরিকত্বের অন্যতম প্রধান শর্ত। মাতৃভাষার চমৎকার ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভালোভাবে শেখা বর্তমানে আবশ্যক। যেকোনো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ভাষার দখল থাকা প্রয়োজন। এর বাইরে ফরাসি স্প্যানিশ জার্মান বা মান্দারিনের মতো তৃতীয় কোনো ভাষা জানা থাকলে তা ক্যারিয়ারে অনেকখানি বাড়তি সুবিধা যোগ করে। বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে বিভিন্ন দেশের সমবয়সী তরুণদের সঙ্গে শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগের অবারিত সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে সহজেই ভিনদেশি ভাষায় কথা বলার জড়তা কাটানো সম্ভব।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা কঠিন। ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহার জানতে হবে। ইন্টারনেট শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি নতুন জ্ঞান আহরণের এক বিশাল প্রান্তর। অনলাইনে এখন বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসংখ্য কোর্স বিনামূল্যে করার সুযোগ রয়েছে। এসব কোর্সে অংশ নিয়ে তরুণরা নিজেদের বৈশ্বিক মানের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তির নিত্যনতুন পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্লেষণমূলক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

বিশ্ব নাগরিক হতে হলে শুধু নিজের ব্যক্তিগত উন্নতি নিয়ে ভাবলে চলবে না। সমসাময়িক বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়েও ভাবতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব উষ্ণায়ন মানবাধিকার রক্ষা বা দারিদ্র্য দূরীকরণের মতো বিষয়গুলো এখন আর কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক সমস্যা নয়। পুরো পৃথিবীর মানুষকে একতাবদ্ধ হয়ে এসব বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। এসব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাধানের কার্যকর উপায় নিয়ে চিন্তা করা প্রকৃত বিশ্ব নাগরিকের দায়িত্ব। নিজের এলাকায় ছোট কোনো পরিবেশবাদী কাজের মাধ্যমেও বৈশ্বিক এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়া যায়।

বিশ্ব নাগরিক হওয়ার এই প্রস্তুতি এক দিনে শেষ হয় না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রক্রিয়া। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতা থাকতে হবে। তরুণদের প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার আগ্রহ মনের মধ্যে লালন করতে হবে। নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের প্রতি ইতিবাচক দায়বদ্ধতা অনুভব করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও বিশ্বের বুকে যোগ্য বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
পড়াশোনা ও শখের চমৎকার ভারসাম্য
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাজীবনে পড়াশোনার চাপ থাকবেই। পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট আর ক্লাসের নিয়মিত ব্যস্ততায় অনেকে নিজের প্রিয় শখগুলোকে ভুলে যান। কেউ হয়তো ছবি আঁকতে ভালোবাসেন, কেউ গান গাইতে, আবার কেউ হয়তো বাগান করতে পছন্দ করেন। অনেকে মনে করেন, পড়াশোনা আর শখ একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয়। তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পড়াশোনা ও শখ দুটিই সমানতালে বজায় রাখা সম্ভব।

শখ কেবল সময় কাটানোর মাধ্যম নয়। এটি আমাদের মানসিক ক্লান্তি দূর করে এবং নতুন কাজের শক্তি জোগায়। সারা দিন শুধু বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকলে একঘেয়েমি চলে আসে। এই একঘেয়েমি পড়াশোনার মনোযোগের মারাত্মক ক্ষতি করে। অন্যদিকে, পড়াশোনার ফাঁকে নিজের পছন্দের কাজটি করলে মন সতেজ হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থীর সক্রিয় কোনো শখ থাকে, তাদের সৃজনশীলতা ও মনোযোগ অন্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি হয়। তাই পড়াশোনাকে ঠিক রেখে শখ চর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল

অগ্রাধিকার নির্ধারণ: প্রথমে আপনার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন। পড়াশোনার জরুরি কাজগুলো সব সময় আগে শেষ করুন। পড়াশোনা শেষ হলে তবেই অবসর সময়ে শখের কাজটি করুন।

রুটিন তৈরি: সারা দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সূচি থাকা অত্যন্ত জরুরি। পড়াশোনা এবং শখের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ রাখুন। রুটিন মেনে চললে কোনো কাজ পড়ে থাকবে না।

পড়াশোনার ফাঁকে বিরতি: একটানা পড়াশোনা না করে একটু বিরতি নিন। এই ছোট বিরতিতে আপনার শখের ছোট কোনো কাজ করতে পারেন।

প্রযুক্তির ব্যবহার: সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে সেই সময়টুকু নিজের শখের পেছনে ব্যয় করুন। এতে সময়ের অপচয় কমবে এবং মানসিক তৃপ্তি আসবে।

পড়াশোনা ও শখের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে পরিবারের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক অভিভাবক ভাবেন শখের পেছনে সময় দিলে পড়াশোনা নষ্ট হবে। কিন্তু জোর করে পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখলে সবসময় ভালো ফল আসে না। শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য শখের চর্চা করতে দেওয়া উচিত। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তী সময়ে পড়াশোনাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সন্তানদের শখের প্রতি অভিভাবকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাদের মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

জীবন শুধু পরীক্ষার ভালো নম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের ভেতরের প্রতিভা ও ভালো লাগাকে বাঁচিয়ে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনাকে দায়িত্ব মনে করে আনন্দের সঙ্গে করুন এবং শখকে করুন মনের খোরাক। আজই একটি সুন্দর পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং পড়াশোনা ও শখকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যান।

পড়াশোনা ও শখ কোনোটিই একে অপরের পরিপন্থী নয়। বরং একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে, যদি আপনি সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন।

আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার
লামিনে ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে প্রতি আসরে তরুণ প্রতিভার জয়জয়কার দেখা যায়। এই তরুণ খেলোয়াড়রা রাতারাতি বিশ্বমঞ্চে তারকা হয়ে ওঠেন না। এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন নামি ক্লাবের যুব একাডেমির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর প্রশিক্ষণ। স্পেনের বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের ‘লা ফাব্রিকা’র মতো একাডেমিগুলো বছরের পর বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় সরবরাহ করে আসছে। একই ভূমিকা রাখছে লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোও। ফুটবলার তৈরির এই আঁতুড়ঘরগুলোর নেপথ্য গল্প নিয়ে থাকছে আজকের আয়োজন। 

খেলোয়াড় তৈরির সবচেয়ে সফল কারখানা হিসেবে পরিচিত বার্সেলোনার লা মাসিয়া। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আবাসিক একাডেমি থেকে বিশ্বমানের অসংখ্য ফুটবলার বের হয়েছেন। লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সার্জিও বুসকেতসের মতো কিংবদন্তিরা এই একাডেমিরই অবদান। ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের মূল চালিকাশক্তি ছিল এই লা মাসিয়া। বর্তমান সময়েও লামিন ইয়ামাল, গাভি কিংবা পাউ কুবার্সির মতো তরুণ ফুটবলাররা এই একাডেমি থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক স্তরে পারফর্ম করছেন। লা মাসিয়া মূলত খেলোয়াড়দের ছোটবেলা থেকে নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শন, পজিশনাল সেন্স এবং পাসিং গেমের নিখুঁত দীক্ষা দেয়।

অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি লা ফাব্রিকাও প্রতিভার জোগানে দারুণ সফল। লা মাসিয়া যেখানে নিজেদের মূল দলের জন্য বেশি খেলোয়াড় তৈরি করে, লা ফাব্রিকা সেখানে পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্য প্রতিভার জোগান দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের যুব একাডেমি থেকে তৈরি হওয়া ফুটবলাররা স্পেনের জাতীয় দলসহ ইউরোপের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে নিয়মিত খেলছেন। দানি কারভাহাল, নাচো ফের্নান্দেজ, আলভারো মোরাতা বা আশরাফ হাকিমির মতো তারকা ফুটবলাররা এই একাডেমিরই সৃষ্টি। এই একাডেমি খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক শক্তিমত্তা, আধুনিক ফুটবল কৌশল এবং তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের ওপর বেশি জোর দেয়।

ইউরোপের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার একাডেমিগুলো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাপ্লাই চেইন হিসেবে কাজ করে। ব্রাজিলের সান্তোস বা ফ্লামেঙ্গো এবং আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও বোকা জুনিয়র্সের মতো ক্লাবগুলো ফুটবলারদের আসল খনি। পেলে ও নেইমারের মতো বিশ্বসেরা ফুটবল তারকাদের উপহার দিয়েছে সান্তোস একাডেমি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের এনজো ফার্নান্দেস বা হুলিয়ান আলভারেসের মতো তারকারা উঠে এসেছেন রিভার প্লেটের একাডেমি থেকে। লাতিন আমেরিকার এই একাডেমিগুলো মূলত তরুণদের সহজাত খেলার শৈলী, বল নিয়ন্ত্রণ এবং অসাধারণ ড্রিবলিং দক্ষতাকে পেশাদার রূপ দেয়।

এই একাডেমিগুলোর সফলতার পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক কার্যপদ্ধতি। তাদের শক্তিশালী স্কাউটিং নেটওয়ার্ক খুব অল্প বয়সে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করে। সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে শিশুদের এই একাডেমিগুলোয় ভর্তি করা হয়। সেখানে শুধু ফুটবল খেলা নয়, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শারীরিক বৃদ্ধি এবং সুষম পুষ্টির বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও মানসিক দৃঢ়তা শেখানো এই একাডেমিগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিভিন্ন স্তরের কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে যখন কোনো তরুণ খেলোয়াড় গোল করেন, তখন পুরো বিশ্ব তার প্রশংসায় মেতে ওঠে। কিন্তু সেই গোলের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় অনেক বছর আগে, কোনো এক যুব একাডেমির কর্দমাক্ত মাঠে। ফুটবল এখন কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি বিশাল নিয়মতান্ত্রিক শিল্প। আর এই শিল্পের মূল কাঁচামাল জোগান দেয় লা মাসিয়া বা লা ফাব্রিকার মতো বিশ্বস্ত একাডেমিগুলো। এই আঁতুড়ঘরগুলো কার্যকর আছে বলেই বিশ্ব ফুটবল নিয়মিত নতুন নতুন মহাতারকার দেখা পায়। যুব ফুটবল সংস্কৃতির এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপ ফুটবলকে চিরতরুণ, গতিশীল ও আকর্ষণীয় করে রাখে।