স্মার্টফোন হাতে পাওয়ার পর থেকেই আমরা সিম কার্ডের ব্যবহার দেখে আসছি। তবে কখনো কি নিবিড়ভাবে খেয়াল করেছেন, কেন প্রায় প্রতিটি সিম কার্ডের একটি নির্দিষ্ট কোণ কাটা থাকে? এটি কেবল কোনো বাহ্যিক সৌন্দর্য বা নকশার অংশ নয়; এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি কারণ ও সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞান।
ভারতসহ বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত প্রায় সব সিম কার্ডেরই গঠন এবং এই কাটা অংশটি হুবহু এক। এর মূল উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীর ফোন এবং সিম কার্ড উভয়কেই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো।
সিম কার্ডের ব্যবহারের সূচনা ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে। প্রথম দিকে প্রস্তুতকৃত সিম কার্ডগুলো আকারের দিক থেকে ছিল আজকের ক্রেডিট কার্ডের সমান। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের আকার যত ছোট হতে শুরু করে, সিম কার্ডের গঠনও ক্রমশ ছোট হতে থাকে। পর্যায়ক্রমে আসে Mini-SIM, Micro-SIM এবং আজকের Nano-SIM। কিন্তু আকারের পরিবর্তন ঘটলেও সিম কার্ডের সেই এক কোণ কাটার নকশা কখনো বদলায়নি।
আন্তর্জাতিকভাবে যেন যেকোনো ফোনে সহজেই এটি ব্যবহার করা যায়, সে জন্য ইউরোপিয়ান টেলিকমিউনিকেশন স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউট একে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সিম কার্ডে কাটা কোণ থাকার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
সিম কার্ডের মাঝখানে থাকা সোনালী চিপটি ফোনের সিম রিডারের অভ্যন্তরীণ পিনের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলতে হয়। এক কোণ কাটা থাকায় কোনোভাবেই সিম কার্ডটি উল্টো বা ভুল অভিমুখে ঢোকানো সম্ভব নয়।
কোনো ব্যবহারকারী যদি জোরপূর্বক উল্টো করে সিম ঢোকানোর চেষ্টা করেন, তবে ফোনের স্পর্শকাতর রিডার পিন ও সিমের মেটাল চিপ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কাটা কোণটি একটি দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে, যাতে যে কেউ সঠিক নিয়মে সিম ট্রে-তে এটি বসাতে পারেন।
শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীই নন, মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই ডিজাইন অত্যন্ত সহায়ক। কারখানায় ফোন তৈরির সময় বা সিম স্লট সেটআপের সময় মেশিনের মাধ্যমে ভুল হওয়া আটকায় এই নির্দিষ্ট আকৃতি।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এখন মোবাইল দুনিয়ায় দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে e-SIM। এটি কোনো ভৌত বা প্লাস্টিকের কার্ড নয়, বরং এটি ডিভাইসের ভেতরের মাদারবোর্ডে বিল্ট-ইন অবস্থায় থাকা একটি ডিজিটাল সিম। বর্তমানে অনেক স্মার্টফোন ব্র্যান্ডই সরাসরি ফিজিক্যাল সিমের স্লট বাদ দিয়ে ই-সিম নির্ভর ফোন বাজারে আনছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনে ই-সিম শতভাগ জনপ্রিয় হয়ে উঠলে প্লাস্টিকের ফিজিক্যাল সিম কার্ড এবং এর ঐতিহাসিক ‘কাটা কোণ’ হয়তো জাদুঘরে জায়গা করে নেবে। সূত্র: এমএসএন
তামান্না রুপা/