ঢাকা ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩, রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা: ইউক্রেনকে দায়ী করল ইরান বাজার মূলধন কমল সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ডেঙ্গু রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কি না, স্পষ্ট করলেন ককরোচ নেতারা সেতুতে গর্ত-ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার বিএটিবিসির আয় ও মুনাফা বেড়েছে সপ্তাহজুড়ে মিউচুয়াল ফান্ডের দাপট প্রতিবন্ধী নারীর অনাগত সন্তানের বাবা নিয়ে ধোঁয়াশা ট্রাম্প প্রশাসনের পরের পদক্ষেপে বদলে যেতে পারে বিশ্ববাণিজ্য সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স রথযাত্রার পথে পাতা হয়েছিল শক্তিশালী ‘আইইডি’ বোমা বিএনপি-জামায়াতের দূরত্ব ঘোচার আভাস গাভির ব্রুসেলোসিস রোগ কমছে দুধ উৎপাদন আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, প্রশাসনে হতাশা-অসন্তুষ্টি রূপসা উপজেলা: সংস্কারের অভাবে সড়ক বেহাল অতিরিক্ত গরমে কাজ করতে পারছে না মরুর বাহন উট কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ ঠাকুরগাঁওয়ের মোজারেলা চিজ যাচ্ছে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে ভালো নেই দেশের অর্থনীতি সারা দিন গ্যাস নেই, ভোরে মেলে সামান্য যানজটে নাকাল ময়মনসিংহ বিভাগীয়শহরের বাসিন্দারা আজ-কালের মধ্যে বঙ্গভবন ছেড়ে নিজ বাসায় উঠবেন সাহাবুদ্দিন ২৬ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৬ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল খোকসায় বন্ধুজন এর বর্ষাবরণ ও ফল উৎসব আইসিইউতে নতুন আতঙ্ক: ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু পতিত সরকার জনমিতিক বোঝা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে: উপদেষ্টা তিতুমীর ঢাকার বাস ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ, ৩২ রুটে সমঝোতা ইউরেনিয়ামকে নিরাপদ রাসায়নিক যৌগে রূপান্তর ব্যাকটেরিয়ার মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ীদের মতবিনিময়

পিৎজা জনপ্রিয় হলো যেভাবে

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:১০ এএম
পিৎজা জনপ্রিয় হলো যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির একটি শহর নেপলস। আঠারো শতকের দিকে এই শহরের দরিদ্র মানুষরা তুলনামূলক সস্তা এবং তাড়াতাড়ি তৈরি করে ফেলা যাবে, এমন ধরনের এক প্রকার খাবার তৈরির উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগ থেকেই জন্ম হয় পিৎজার।

আজও ইতালির অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা পিৎজাকে গরিবের খাবার বলেই মনে করে থাকেন। এমনকি সেই সময়কার লেখকরা এই খাবারকে ‘জঘন্য’ হিসেবে তাদের লেখায় উপস্থাপন করেছিলেন। ভাগ্যের কী পরিহাস, সেই তথাকথিত জঘন্য খাবারটিই আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত!

গত বছর খননকাজ চলাকালীন পম্পেই নগরীর একটি বাড়ির দেয়ালে ফ্রেসকো আবিষ্কৃত হয়। সেই চিত্রকর্মে দেখা যায়, একটি সিলভারের প্লেটে গোলাকার ফ্ল্যাটব্রেড এবং সেই সঙ্গে তাজা ও শুকনো ফলমূল, যেমন- ডালিম, খেজুর সাজিয়ে রাখা হয়েছে এবং একটি পানপাত্রে রেড ওয়াইন রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় ২০০০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া এই চিত্রকর্ম আসলে বিখ্যাত ‘ইতালিয়ান পিৎজা’র পূর্বসূরি!

পিৎজা প্রথমে রাস্তার পাশে বিক্রি হতো। এমনই জৌলুসহীন ছিল এই খাবারটি। কিন্তু এই অবহেলিত খাবারটি জনপ্রিয় হলো কীভাবে? ১৮৮৯ সালের কথা। ইতালির রানি মার্গেরিতা তার স্বামী রাজা প্রথম উমবের্তোকে নিয়ে নেপলস শহর পরিদর্শনে আসেন এবং তখন তিনি ভিন্ন স্বাদের কোনো খাবার টেস্ট করতে চাইলে তাকে সাহস করে পিৎজা পরিবেশন করা হয়। রানি মার্গেরিতা পিৎজা খেয়ে তার স্বাদে বিমোহিত হয়ে পড়েন। রানির বদৌলতেই পথের ধারে বিক্রি করা দরিদ্রদের এই খাবারটি পায় রাজকীয় সম্মান!

রানির সম্মানার্থে তার নামেই সেই পিৎজার নামকরণ করা হয় ‘মার্গেরিতা পিৎজা’। কোনো কোনো স্থানে এটি ‘মার্গারিটা পিৎজা’ নামেও পরিচিত। সময়ের পরিক্রমায় পিৎজার এখন অনেক রকমফের হলেও সেদিন মার্গেরিতা পিৎজায় টপিংস হিসেবে দেওয়া হয়েছিল শুধু সফট হোয়াইট চিজ, টমেটো এবং পুদিনা পাতা। ইতালির পতাকার রঙের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে সাদা, সবুজ ও লাল রঙের উপাদানে সজ্জিত টপিংস দেওয়া পিৎজাটিকে রানি তার ‘প্রিয় আইটেম’ বলে আখ্যা দেন এবং হঠাৎ করেই এটি নেপলস শহরে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

রানি মার্গেরিতার জন্য পিৎজা আলাদা সম্মান পেলেও ইতালীয়দের দ্বারা তা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পায়নি, পেয়েছিল আমেরিকানদের দ্বারা। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নেপলসের মানুষরা যখন কাজের সন্ধানে আমেরিকায় পাড়ি জমান, তখন তাদের মাধ্যমে এই খাবারটি সেখানে জনপ্রিয় হতে শুরু করে।

সর্বপ্রথম ইতালিয়ান পিৎজেরিয়া ‘দ্য পিয়েত্রো’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৮০ সালে নেপলসে। আউটলেটটি পরে ‘পিৎজেরিয়া ব্রান্দি’ নামে পরিচিতি লাভ করে এবং এই আউটলেটের মালিক রাফায়েল এসপোজিতোই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি রানি মার্গারিটার নেপলস সফরের সময় তাকে পিৎজা বানিয়ে খাইয়েছিলেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কের পিৎজা আউটলেট লোম্বারদি’স চালু হয় ১৯০৫ সালে। ১৯৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ ইতালিয়ান অধ্যুষিত এলাকাতেই পিৎজেরিয়া গড়ে ওঠে এবং একই সঙ্গে তৈরি হতে থাকে বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি পিৎজা।

যে সময় পিৎজা দূরদেশে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছিল- সেই সময়, ভাবা যায় তখন ১৯১৮ সাল অবধি ইতালির কোনো পত্রপত্রিকায় এই খাবারটিকে নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। ইতালির অন্য রাজ্যের মানুষরা তখন অবধি পিৎজা নামক খাবারটির সঙ্গে ঠিকঠাকভাবে পরিচিতই হয়নি। পরবর্তী সময়ে পরিচিত হলেও এ খাবারটিকে অন্য রাজ্যের মানুষরা আপন করে নিতে পারেনি। 

১৯৩০ সালের পর পিৎজা টেকঅ্যাওয়ের জন্য বিশেষ কার্ডবোর্ডের বাক্স ব্যবহার করা শুরু হলো এবং ষাটের দশকের শেষভাগে ফ্রোজেন পিৎজা ব্যবস্থাও জনপ্রিয় হয়ে উঠল। তোতিনো’স এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রোজেন পিৎজা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড, যা রোজ এবং জিম তোতিনো মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

লন্ডনে ১৯৩৪ সাল থেকে পিৎজার প্রচলন শুরু হলেও পিটার বোয়জো ১৯৬৫ সালে ওয়েস্ট লন্ডনের ওয়াডু স্ট্রিটে চালু করেন জনপ্রিয় পিৎজা ব্র্যান্ড ‘পিৎজা এক্সপ্রেস’-এর প্রথম আউটলেট। তিনি নেপলস থেকে একটি পিৎজা ওভেন আমদানি করেন এবং ওয়াডুর স্ট্রিটে দুই শিলিংয়ের বিনিময়ে এক স্লাইস পিৎজা বিক্রি করতেন। 

অন্য জনপ্রিয় পিৎজা ব্র্যান্ড ‘পিৎজা হাট’ ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় নর্থ লন্ডনে এবং ডমিনো’জ-এর প্রথম আউটলেট চালু হয় ১৯৮৫ সালে লন্ডনের আরেক শহর লুটনে। বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে ডমিনো’জ, পিৎজা হাটের মতো বিখ্যাত পিৎজা ব্র্যান্ডের শাখা। এসব আউটলেটে ক্ল্যাসিক মার্গেরিতা, পিৎজা মার্গেরিতা, বারবিকিউ পিৎজা, পিৎজা ডায়াভোলা, ফোর সিজনস পিৎজাসহ বিভিন্ন ধরনের পিৎজা পাওয়া যায়।

 

তারেক

গ্রীষ্মে আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা বাড়ে ১৫ সেন্টিমিটার!

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
গ্রীষ্মে আইফেল টাওয়ারের উচ্চতা বাড়ে ১৫ সেন্টিমিটার!
ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসের গ্রীষ্ম মানেই এক অদ্ভুত অস্থিরতা। শহরের পিচঢালা রাস্তাগুলো যেন আগুনের চুল্লি, হাঁটাও কষ্টকর। পর্যটকরা একটু ছায়া আর ঠাণ্ডা বাতাসের খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটছেন, ক্যাফেগুলো ঠাণ্ডা পানীয়ের ভিড়ে সরগরম, আর স্থানীয় মানুষজনও গরমে হাঁসফাঁস করছেন। কিন্তু এই তীব্র গরমে শুধু মানুষই যে কষ্ট পাচ্ছে তা নয়; প্যারিসের আইফেল টাওয়ারটাও এই গরমে তার নিজস্ব এক শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু গ্রীষ্মের তাপে আইফেল টাওয়ার আক্ষরিক অর্থেই তার উচ্চতা বাড়িয়ে ফেলে!

এর পেছনে কোনো জাদু বা রহস্য নেই; আছে স্রেফ সহজ পদার্থবিজ্ঞানের একটা ছোট্ট কারসাজি। আমরা সবাই ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছি, লোহা তাপ পেলে প্রসারিত হয়। আইফেল টাওয়ারের পুরো কাঠামোটি যেহেতু বিশাল আকৃতির লোহার তৈরি, তাই সূর্যের উত্তাপে এর প্রতিটি অংশ সামান্য হলেও প্রসারিত হতে থাকে। আর এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রসারণ যখন একত্রিত হয়, তখন শীতে যে টাওয়ারটি শান্ত থাকে, গরমের দিনে সেটিই লম্বায় প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে যায়।

আরো পড়ুন: রংতুলিতে আঁকা রেড লিফ বানর

আরও মজার বিষয় হলো, টাওয়ারের যে পাশে সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে, সেই অংশটি ছায়ায় থাকা অংশের তুলনায় বেশি গরম হয়। ফলে একপাশ অন্যপাশের চেয়ে বেশি প্রসারিত হয় এবং প্রায় ১০ হাজার টন ওজনের এই বিশাল কাঠামো সূর্যের বিপরীত দিকে সামান্য হেলে পড়তে পারে।

অনেকে ভাবতে পারেন, এটি বুঝি বিপদের লক্ষণ। আসলে ঠিক উল্টোটা সত্যি। আইফেল টাওয়ার এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে এটি গরমে প্রসারিত হতে পারে, ঠাণ্ডায় আবার সংকুচিত হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। এমনকি প্রবল বাতাসে এটি ৬-৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দুলতে পারে, আর সেটিও প্রকৌশলীদের পরিকল্পনার অংশ।

১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন এবং Exposition Universelle (World’s Fair) উপলক্ষে গুস্তাভ আইফেলের নেতৃত্বে এই টাওয়ার নির্মিত হয়। প্রায় ১৮,০৩৮টি লোহার অংশ এবং ২৫ লাখ রিভেট দিয়ে তৈরি এই কাঠামো ছিল সেই সময়ের প্রকৌশল জগতের এক বিস্ময়। নির্মাণের সময় প্রকৌশলীরা তাপীয় প্রসারণের বিষয়টি এত নিখুঁতভাবে হিসাব করেছিলেন যে, ১৩৭ বছরের বেশি সময় পরও টাওয়ারটি নিরাপদে দাঁড়িয়ে আছে।

তবে শুরুতে সবাই যে এই টাওয়ারকে ভালোবেসেছে, তা কিন্তু নয়। প্যারিসের অনেক শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী একে ব্যঙ্গ করে বলতেন ‘কুৎসিত লোহার দানব’। এমনকি চুক্তি অনুযায়ী, ২০ বছর পর অর্থাৎ ১৯০৯ সালে এটি ভেঙে ফেলারও কথা ছিল। পরে রেডিও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশের ফলে এত উঁচু কাঠামোকে অ্যান্টেনা হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর সেই কারণেই টাওয়ারটি ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায়।

আর এখানেই আছে আইফেল টাওয়ারকে ঘিরে ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ঘটনাগুলোর একটি।

১৯২৫ সাল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স তখন অর্থনৈতিক চাপে। প্যারিসজুড়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে বিশাল আইফেল টাওয়ারের রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল খরচ হচ্ছে। এত বড় লোহার কাঠামোয় জং ধরে, নিয়মিত রং করতে হয়, আর সেই ব্যয় সরকারকে বেশ ভোগাচ্ছে।

এই গুঞ্জনকেই অস্ত্র বানালেন ইতিহাসের অন্যতম দুর্ধর্ষ প্রতারক ভিক্টর লুস্টিক। নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি কয়েকজন স্ক্র্যাপ লোহা ব্যবসায়ীকে গোপন বৈঠকে ডাকলেন। গল্প এঁটে ভিক্টর তাদের জানালেন, ফরাসি সরকার নাকি আইফেল টাওয়ার ভেঙে স্ক্র্যাপ লোহা হিসেবে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; তবে বিষয়টি এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, একজন ব্যবসায়ী পুরো গল্পটাই বিশ্বাস করে বসেন। এত বড় চুক্তি হাতছাড়া করতে না চেয়ে তিনি মোটা অঙ্কের অগ্রিমও দিয়ে দেন।

তারপর? ভিক্টর লুস্টিক টাকা নিয়ে উধাও।

এই প্রতারণার গল্প যতটা অবিশ্বাস্য, আইফেল টাওয়ার নিজেও ততটাই বিস্ময়কর। আজও মরিচা প্রতিরোধে প্রতি সাত বছর অন্তর প্রায় ৬০ টন রং দিয়ে পুরো টাওয়ারটি নতুন করে রাঙানো হয়।

তাই প্যারিসের এই গরমে যখন মানুষ একটু প্রশান্তির ছায়া খুঁজছে, তখন আইফেল টাওয়ার নিঃশব্দে নিজের উচ্চতা বাড়িয়ে নিচ্ছে। আর যে টাওয়ারকে এক সময় ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, এমনকি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রিও করে দেওয়া হয়েছিল, সেটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৌশল, পদার্থবিজ্ঞান ও মানব সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রতীক হয়ে।

তারেক/

রংতুলিতে আঁকা রেড লিফ বানর

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:১২ পিএম
আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
রংতুলিতে আঁকা রেড লিফ বানর
ছবি: সংগৃহীত

রেড লিফ বানর (Red Leaf Monkey)। নামের মধ্যেই যেন লুকানো আছে বানরটির মাহাত্ম্য। লালচে-বাদামি লোম, শান্ত স্বভাব এবং গাছের চূড়ায় কাটানো জীবন–সব মিলিয়ে এটি বোর্নিওর বনাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাইমেট।

রেড লিফ বানরকে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে রংতুলিতে এঁকেছে। এই বানরটি পৃথিবীর আর কোথাও প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না। শুধু ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের উষ্ণমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টই এর একমাত্র আবাসস্থল।

আরো পড়ুন: সমুদ্রের তলদেশে দাঁড়িয়ে থাকে যে মাছ

রেড লিফ বানর মূলত বৃক্ষবাসী। দিনের বেশির ভাগ সময়ই তারা গাছের উঁচু ডালে কাটায় এবং খুব কমই মাটিতে নামে। এদের প্রধান খাদ্য হলো কচি পাতা, ফল, ফুল ও বীজ। খাদ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে, এরা উইয়ের ঢিবির ওপরের মাটিও খায়।

সাধারণত ছোট দলে বসবাসকারী এই প্রাইমেটগুলো শান্ত ও লাজুক স্বভাবের। মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত গাছের ঘন পাতার আড়ালে সরে যায়।

বন উজাড়, পাম অয়েল বাগানের সম্প্রসারণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে রেড লিফ বানরের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তাই এই অনন্য প্রাণীটিকে রক্ষা করতে তাদের প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

তারেক/

পাঠকের গল্প : রাতের রংমহল

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
পাঠকের গল্প : রাতের রংমহল
ছবি: এআই জেনারেট

নব্বই দশকের শেষের দিকের ঘটনা। গ্রাম থেকে শহরে মোটামুটি নিজেকে শক্তপোক্তভাবে দাঁড় করাতে পেরেছি। ইতোমধ্যেই ঢাকার বিশাল একটা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার বেশ পরিচিতি লাভ হয়েছে। ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার কমার্শিয়াল ম্যানেজার শফিউল্লাহ সিদ্দিকী ভাইয়ের পরামর্শে এবং তার সহযোগিতায় একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা গড়ে তুলি আমি। ঢাকার অভিজাত শ্রেণির কিছু মানুষের সঙ্গে ভালো জানাশোনা এবং কঠোর পরিশ্রমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমার প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করাতে সক্ষম হই। নিজের যা পুঁজি ছিল তা দিয়ে ঢাকার শহরে বড় ধরনের ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তাই আমার গ্রামের একজন বড় ভাইকে আমার ব্যবসায় পার্টনার হিসেবে সঙ্গে নিয়ে নিলাম। 

এবার আসা যাক আসল ঘটনায়। আমার পার্টনার আমার একজন গ্রামের বড় ভাই। ঢাকার ওপর মহলের সঙ্গে তার বিরাট একটা জানাশোনা রয়েছে। যার ফলে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরপরই আমার অফিসের এসি রুমে অভিজাত শ্রেণির লোকজনের আনাগোনা ঘটতে থাকে। আসেন রাজনৈতিক মহলের লোকও। আমার অফিসে নিয়মিত তারা আড্ডা দেন। জম্পেশ আড্ডায় আমার লাভই হতে থাকে। যারা আসেন তাদের অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজই আমি পাই। আমাকে আর তাদের অফিসে ধরনা দিতে হয় না। এভাবেই চলছিল আমার প্রতিষ্ঠান। 

আরো পড়ুন: বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার

আমার পার্টনার ঢাকার একটি চার তারকা হোটেলের রংমহলে নিয়মিত যেতে শুরু করলেন। যার কারণে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই বেসামাল হয়ে পড়ল। 

বৃহস্পতিবার বেলা শেষ হতে না হতেই ব্যাংক, আদালতপাড়া এবং ব্যবসায়ীরা থেকে শুরু করে ঢাকার রাঘববোয়ালরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। অফিস শেষ হওয়ার অনেক আগেই তারা বেরিয়ে পড়েন। সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে বৃহস্পতিবার এলেই এদিন রাতে তারা রংমহলের বাসিন্দা হয়ে যান। চার তারকা হোটেলে হাউজি খেলার পাশাপাশি চলে নাচ-গানও। আবার পুরান ঢাকার অভিজাত শ্রেণির ব্যবসায়ীদের বাংলো বাড়িতে চলে অন্য রকম আয়োজন। এসব রংমহলে লাল পানির পাশাপাশি চলতে থাকে হাউজি নামের এক ধরনের জুয়া। আমার পার্টনার তার বন্ধুবান্ধবদের পাল্লায় পড়ে এ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। তার নিজস্ব ব্যবসার প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়েন। সেখানে যাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠানের সব অর্থকড়িই তিনি রংমহলে ঢালতে থাকেন। আমার পার্টনারকে সঙ্গ দিতে আসেন উঠতি বয়সী মডেলরাও। এক সময় তার ব্যবসা তলানিতে এসে ঠেকতে থাকে।

তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন। সেখান থেকে বড় ধরনের টাকা নিয়ে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ঢাকার রাতের রংমহলের খপ্পরে পড়ে তিলে তিলে তার সব অর্থ শেষ করে ফেলেন। বিষয়টি প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি। যখন বুঝলাম তখন আর আমার কিছু করার ছিল না। তার সঙ্গে আমার ব্যবসার যত টাকা-পয়সা ছিল সব রেখে এসে আমি আলাদা হয়ে গেলাম। আমার পার্টনার তার সব পুঁজি শেষ করে তার গ্রামে থাকা সহায়-সম্পত্তি এমনকি বাড়িঘরও পর্যন্ত বিক্রি করেন এ জুয়ার পেছনে। তার শ্বশুরবাড়ি এবং ভাইবোনের টাকাও জুয়ায় খুইয়ে ফেলেন। স্ত্রী-ছেলেকে শ্বশুরবাড়ি রেখে এখন করুণ পরিণতি ভোগ করছেন। একটি আনন্দময় সংসার তার জুয়ার আসক্তিতে নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। উচ্চ জীবনমান ফেলে এখন তাকে অসহায়ের মতো জীবনযাপন করতে হচ্ছে। ঢাকার কিছু ভুল মানুষের দেখা পেয়ে তাদের খপ্পরে পড়েই আজ সে সর্বস্বান্ত। তাই জীবনে কিছু ভুল মানুষের খপ্পরে পড়লে তার খেসারত যে এভাবে দিতে হয় তা নিজের চোখে না দেখলে আমি বিশ্বাস করতে পারতাম না। 

নিজে সর্বস্বান্ত হয়ে আবার নতুন করে আমার প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করলাম। অনেক মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বিধায় আমাকে উপরে উঠতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। অবশেষে বুঝলাম–একজন ভালো মানুষের ছোঁয়ায় জগৎ উজ্জ্বলময় হয়ে ওঠে। আর নরকের খপ্পরে পড়লে তারা সঙ্গে করে নরকের দরজা অবধি নিয়ে যায়।

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ। 

তারেক/

বর্ষায় গাছের যত্ন নিন

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
বর্ষায় গাছের যত্ন নিন
ছবি: সংগৃহীত

কংক্রিটের ব্যস্ত শহরে বর্ষার দিনগুলোয় ছাদবাগানের গাছগুলোর মধ্যে দেখা যায় এক অদ্ভুত পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের তৃষ্ণা মিটিয়ে প্রতিটি গাছ নতুন করে বাঁচতে শুরু করে। প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা ধুলোমাখা পাতার ওপর পড়লে গাছগুলো গরমের ক্লান্তি ঝেড়ে সতেজ হয়ে যায়। টবে টবে উঁকি দেয় নতুন কুঁড়ি, বৃষ্টিভেজা পাতায় জমে থাকে স্বচ্ছ জলকণা, ভেজা মাটির গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ছাদের ছোট্ট বাগানটি হয়ে ওঠে ব্যস্ত জীবনের মাঝে এক টুকরো সবুজ আশ্রয়। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে কিছু সতর্কতাও। বর্ষা যেমন গাছের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল সময়, তেমনি অসতর্কতায় এটি গাছের জন্য বিপদের কারণও হতে পারে।

বর্ষাকালকে নতুন গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে, মাটি সহজে শুকিয়ে যায় না এবং চারার ওপর অতিরিক্ত তাপের চাপ কম পড়ে। তবে নতুন চারা দ্রুত বেড়ে উঠলেও সেগুলো সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল থাকে। তাই, নতুন লাগানো চারাকে প্রথম কয়েক সপ্তাহ ভারী বৃষ্টির আঘাত থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে টবের মাটি সরে গিয়ে শিকড় যাতে উন্মুক্ত হয়ে না যায় এজন্য চারার গোড়ায় অতিরিক্ত মাটি যোগ করতে হবে। জবা, গন্ধরাজ, বেলি, রঙ্গন, নয়নতারা, অপরাজিতা, কামিনীসহ বিভিন্ন ফুলগাছ বর্ষায় ভালো বেড়ে ওঠে। বর্ষায় নতুন চারা দ্রুত শিকড় বিস্তার করতে পারায় জবা, রঙ্গন কিংবা বোগেনভিলিয়ার মতো গাছের আধাপাকা ডাল কেটে রোপণ করলে সহজেই শিকড় গজায়। লেবু, পেয়ারা, ড্রাগন ফল কিংবা মাল্টার মতো ফলগাছও এ সময় সহজে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। 

আরো পড়ুন: জলের রাজা জলহস্তী

বর্ষাকালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অতিরিক্ত পানি জমা। বৃষ্টির পানি গাছের জন্য উপকারী হলেও টানা ভারী বর্ষণে টবের মাটিতে পানি জমে থাকে। এতে করে শিকড়ের চারপাশে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। গাছের শিকড় ধীরে ধীরে পচতে শুরু করে। বাইরে থেকে সবুজ দেখানো গাছও একসময় দুর্বল হয়ে যায়। তাই টবের পানি নিষ্কাশনের জন্য টবের ভেতরে ছিদ্র খোলা রাখা জরুরি। প্রয়োজনে টব কিছুটা উঁচুতে রাখতে হবে যাতে অতিরিক্ত পানি সহজেই বের হয়ে যেতে পারে। নতুন চারায় অনেক সময় পানি দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। টানা বৃষ্টির দিনে অতিরিক্ত পানি না দিয়ে মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করা উচিত। মাটি ভেজা থাকলে আলাদা করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছাদবাগানের সুস্থতার অন্যতম শর্ত ভালো মানের মাটি। বর্ষাকালে এমন মাটি প্রয়োজন যা একদিকে আর্দ্রতা ধরে রাখবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করবে। এজন্য বাগানে ব্যবহৃত মাটির সঙ্গে জৈব সার, কোকোপিট বা সামান্য বালু মিশিয়ে গাছ লাগানো ভালো। এতে মাটি ঝরঝরে থাকে এবং শিকড়ের চারপাশে প্রয়োজনীয় বায়ু চলাচল নিশ্চিত হয়। 

অনেক সময় ভারী বর্ষণে মাটির পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান ধুয়ে যায়। ফলে গাছ বাইরে থেকে সতেজ দেখালেও ভেতরে ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হয়। তাই বর্ষাকালে গাছের সুস্থতা ধরে রাখতে জৈব সার প্রয়োগ করা জরুরি। তবে অতিরিক্ত সার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। বর্ষাকালের আর্দ্র পরিবেশ বিভিন্ন পোকামাকড়ের বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল। এরা গাছের পাতা থেকে রস শুষে নিয়ে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। তবে সব পোকা ক্ষতিকর নয়। প্রজাপতি, ফড়িং, মৌমাছির মতো অনেক উপকারী পতঙ্গ ছাদবাগানের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে। এসব উপকারী পতঙ্গ দূর করতে প্রথমেই রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে হাত দিয়ে অপসারণ করা ভালো। গাছের পাতায় কালো দাগ, পাতা পচে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিকভাবে পাতা ঝরে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আক্রান্ত পাতা ছেঁটে ফেলা বা জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করা ভালো। নিমপাতা ভিজিয়ে তৈরি করা নিম নির্যাস বা হালকা সাবান পানির দ্রবণ অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাস পোকা ও মিলিবাগ দমনে কার্যকর। তবে যেকোনো জৈব দ্রবণ ব্যবহারের আগে গাছের অল্প কিছু অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। গাছের ডালপালা অতিরিক্ত ঘন হয়ে গেলে হালকা ছাঁটাই করা প্রয়োজন। এতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।

বর্ষার প্রবল ঝড়ে বড় টব উল্টে যাওয়া কিংবা ডাল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বড় গাছের জন্য খুঁটির সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা উচিত। পাশাপাশি দুর্বল চারাগুলোকে ছোট বাঁশের খুঁটি বা কাঠির সাহায্যে বেঁধে দিলে ঝোড়ো বাতাসে হেলে পড়া বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। সবশেষে, ছাদবাগানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচর্যা হলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। ছাদবাগানের সৌন্দর্য গাছের সংখ্যার চেয়ে বেশি থাকে পরিকল্পিত পরিচর্যার মধ্যে। প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে গাছের পাতা, ডাল, মাটি ও সামগ্রিক অবস্থা লক্ষ করলে অনেক সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব। একটি নতুন কুঁড়ির জন্ম কিংবা প্রথম শিকড় বের হওয়ার দৃশ্য বাগানপ্রেমীদের জন্য আলাদা এক আনন্দ নিয়ে আসে। বর্ষার ছাদবাগান তাই প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক নীরব সহাবস্থান। সামান্য পরিচর্যায় নিজের যত্নে গড়া ছাদবাগানের এই ছোট্ট অংশটুকু হয়ে উঠতে পারে প্রশান্তির এক টুকরো আশ্রয়।

তারেক/

পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
পাঠকের গল্প : ল্যান্ডফোনের ক্রসকানেকশন
ছবি: এআই জেনারেট

নব্বই দশকের কথা। তখন মফস্বল থেকে ঢাকার জাতীয় দৈনিকে এত সহজে খবর পাঠানো যেত না। তখন ল্যান্ডফোন ডিজিটাল ছিল না। এনালগ লাইনের রিসিভারের ডায়াল ঘুরাতে ঘুরাতে হাত ব্যথা হয়ে যেত, তারপরও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত না। তখনকার সাংবাদিকতা ছিল অত্যন্ত জটিল ও কঠিন কাজ। যে সময়ের কথা বলছি, তখন ফ্যাক্স, ই-মেইল আসেনি। মফস্বলের ফিচার নিউজ হাতে লিখে ডাক বিভাগের খোলা চিঠিতে এক টাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল। আর কারেন্ট নিউজ পাঠানো হতো টেলিফোনে। আমার এলাকার মফস্বলের সংবাদদাতাদের ফোনে নিউজ দেওয়ার জন্য পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জেলা টেলিফোন অফিসে যেতে হতো। 

সে সময় এনালগের একটি টেলিফোনের লাইন পেতে মানুষ দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে দ্বিধা করত না। তার অন্যতম কারণ হলো–এ অঞ্চলে প্রবাসীর সংখ্যা অনেক বেশি। চাহিদার তুলনা ল্যান্ডফোনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। ঢাকায় তখন এক মিনিট কথা বলতে খরচ হতো ২০ টাকা। আবার দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলায় খরচ ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি মিনিট। এমন পরিস্থিতিতে ফোনে কারেন্ট নিউজ পাঠাতে গিয়ে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হতো। তবে জেলা টেলিফোন অফিসে যেতে পারলে তারা দয়াবশত বিশেষ ব্যবস্থায় নিউজ পাঠানোর ব্যবস্থাটুকু করে দিতেন। টেলিফোন অফিসের কর্ডের মাধ্যমে তারা সরাসরি ঢাকার টেলিফোন অফিসে লাইন সংযোগ করে তাদের মাধ্যমে পত্রিকার অফিসে লাইন দেওয়া হতো। তাতে সরাসরি লাইন পাওয়া যেত। 

সে সময় টেলিফোন সংযোগের ডিমান্ড নোটে সরকারিভাবে খরচ হতো ৮ হাজার ৪০০ টাকা কিন্তু নেওয়া হতো দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। এত টাকা দিয়েও অনেক সময় ফোনের সংযোগ পাওয়া যেত না। 

তবে হঠাৎ করেই শুনতে পেলাম এ অফিসে লাইন বাড়ানোর জন্য চীন থেকে ২০০ নতুন সংযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু সেখানে সংযোগের জন্য আবেদন পড়েছে কয়েক হাজার। তাই ২০০ লাইন এলেও সংযোগ পাওয়াটা ছিল অনিশ্চিত। 

অল্প খরচে সংযোগের জন্য দেশের টেলিফোন সংসদীয় কমিটির সুপারিশ লাগবে। নইলে লাইন নিতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হবে। এত টাকা কোথায় পাব? তবে সে সময় আমাদের ২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী আপা হলেন টেলিফোন সংস্থার সংসদীয় বোর্ডের স্থায়ী সদস্য। তার সুপারিশের বদৌলতে একটি টেলিফোন লাইনের গর্বিত মালিক হলাম। 

এবার আসা যাক আসল কথায়। লাইন সংযোগ পেয়ে এখন আর বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে আমাকে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয় না। তখন জেলার কন্ট্রোল রুমে পুরো জেলার কোথায় কী ঘটছে তার সংবাদ চলে আসত। সেখান থেকেই মূলত আমরা সংবাদ পেতাম। এখন ঘরে বসেই তা পাচ্ছি। কিন্তু আমার ফোনে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকে। একেকটা লাইন সংযোগে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা হওয়ায় টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মের অধিক পরিমাণে লাইন সংযোগ দিয়েছিলেন। তাতেই একজনের লাইনের কথা আরেকজনের লাইনে ঢুকে পড়ত। কারও গোপন কথাই আর গোপন থাকত না। তখন একটা লোকাল কলের মূল্য ছিল ২ টাকা। একবার ফোন করে লাইন না কাটা পর্যন্ত কথা বলা যেত। এ সুযোগই নিত কিছু প্রবাসীর স্ত্রী। রিক্তা নামের একটা মেয়ে প্রায়শই আমার লাইনে ঢুকে পড়ত। সে মেয়ে তার খালাতো ভাইয়ের জন্য পাগল। ফোনের সেই আকুতি এখন আমার কানে বাজে। সে হয়তো এখন নানি-দাদি হয়েছেন। 

আরো পড়ুন: গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয়

ফোন অফিসের কয়েকজন পিয়ন ছিল যারা টেলিফোন অফিসের সুইচ রুম পাহারায় রাতে থাকতেন। তারাই সারা রাত মানুষের কথা আড়ি পেতে শুনতেন। অনেকের সঙ্গে আবার সখ্য পর্যন্ত গড়ে তুলতেন। কাউকে আবার ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা ঘটেছিল। এ নিয়ে টেলিফোনের অনেক বড় কর্মকর্তা পর্যন্ত সে জল গড়িয়েছিল। এখন যেমন একটি ছেলে বা মেয়ে একাধিকজনের সঙ্গে সম্পর্ক করে বেড়ায় সে সময়ও ফোনের ক্রসকানেকশনে শুনতে পেতাম একাধিক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ঘটনা। প্রযুক্তির সুবিধা যেমন আছে তেমন দুর্ভাবনার বিষয়গুলোও এড়ানো যায় না। তাই মানুষের নৈতিকভাবে ভালো না হলে কেউ তাকে সংশোধন করতে পারে না। 

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

তারেক/