ঢাকা ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ববিতার জন্মদিনে আসছে ‘আওয়ার ড্রিম গার্ল’ দেশজুড়ে গ্যাস বিপর্যয়: চুলায় আগুন নেই, সিএনজিতে দীর্ঘ লাইন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন, সরকারের কিছু করার নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভিসা ছাড়াই ৩৬ দেশে ভ্রমণের সুবিধা পেলেন বাংলাদেশিরা শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা গেল শিক্ষিকার স্বামীর নম্বরে, তারপর... কনফিডেন্স লবণ কারখানায় দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু ইউক্রেন-রাশিয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৭ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই পারমাণবিক চুক্তি, বললেন ট্রাম্প ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট, ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন বিকাশ পার্টনার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল হুয়াওয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণ লুটপাটের নতুন কৌশল: জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল এশিয়ান গেমসে কঠিন গ্রুপে ঋতুপর্ণারা সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে ভর্তি ধর্মমন্ত্রী কাজী কায়কোবাদ গ্যাস না পেয়ে বিপাকে চালকরা, সোনারগাঁয় বন্ধ ১৮ ফিলিং স্টেশন শেষটা রঙিন হলো না বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর গুঞ্জন, সিদ্ধান্ত শুক্রবার? দুটি গাছ থেকে বিশ্ববাজার—দিনাজপুরের আনছার আলীর অনন্য সাফল্য সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬ উদযাপন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে: গোলাম পরওয়ার কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন: সাংস্কৃতিক কূটনীতির নতুন সম্ভাবনা ফ্যান্টাসি কিংডম-খবরের কাগজ অনলাইন কুইজের ড্র অনুষ্ঠিত জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ৭ জনকে পুশইন প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-৩ হলেন মোবাইদুর ইসলাম গোপালগঞ্জের সেই বিচারককে প্রত্যাহার কেন রাজপথে জেন-জি? জানালেন পাঁচ আন্দোলনকারী প্রতারণা করে চাকরিতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার ৩ আসামি রিমান্ডে ইসরায়েল থেকে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ কিনছে গ্রিস সিলেটে বিপৎসীমার ওপরে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

পেঁয়াজের ফুলকির চড়া দাম

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৫১ এএম
আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২৪, ১২:১১ পিএম
পেঁয়াজের ফুলকির চড়া দাম
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদী বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজের ফুলকি (পাতা)। এক সপ্তাহ ধরে বাজারে অন্য সব সবজির সঙ্গে এই ফুলকিও বিক্রি করছেন দোকানিরা। প্রতি কেজি ফুলকি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

বিক্রেতারা বলছেন, এর আগে কখনো ফুলকির এত দাম হয়নি। শীতের শুরুতেই সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ঈশ্বরদীর সবজির বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (২০ নভেম্বর) সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের শীতের সবজি প্রতিটি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এর দামও চড়া। ৫০ থেকে শুরু করে ১০০ টাকা পর্যন্ত এসব সবজি বিক্রি করছেন দোকানিরা। তবে এখন বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম মৌসুমি সবজি ফুলকির। এ সবজিটি প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ বিক্রি করছেন দোকানিরা ১৩০ টাকা কেজি দরে। আগের চেয়ে কাঁচা মরিচের দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এদিকে আলুর দাম ৭৫ থেকে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শীতের আগাম অন্য সব সবজির দামও বেশি। প্রতি কেজি শিম ও ফুলকপি ১০০ টাকা, পাতাকপি ৭০, মুলা ৫০, বেগুন ৭০, পেঁপে ৪০, করলা ১০০, পটোল ৪০, পুঁইশাকের ফুল ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া একটি লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি আঁটি পালং ও লাল শাক ১৫ থেকে ২০, এক হালি কাঁচকলা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আমিন উদ্দিন বলেন, ‘শীতের সবজি বাজারে আসতে এখনো দেরি। তবে এরই মধ্যে আগাম সবজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিও ভালো। কিন্তু দাম আগের মতোই বেশি। সবচেয়ে বেশি দাম মৌসুমের নতুন সবজি পেঁয়াজের ফুলকির। এক সপ্তাহ আগে থেকে ফুলকি বাজারে এসেছে। প্রতি কেজি ফুলকি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। মৌসুমের নতুন সবজি হিসেবে বর্তমান বাজারে এটি সবচেয়ে দামি সবজি। তবে দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও কম। ক্রেতারা দাম শুনে কিনতে চান না। এর আগে কখনো এত দামে ফলকি বিক্রি করা হয়নি। নতুন সবজি হিসেবে বাজারে এলে খুব বেশি হলেও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। 

তিনি জানান, অন্য সব সবজির দামও চড়া। শীতের সবজি বাজারে আসা শুরু হলে তখন হয়তো দাম কমতে পারে।

বৃক্ষমেলায় নজর কাড়ছে চীনা ফুল ও ফলের গাছ

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
বৃক্ষমেলায় নজর কাড়ছে চীনা ফুল ও ফলের গাছ
ছবি সিএমজি

সবুজে সাজানোর আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানীতে চলছে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মেলায় এবার প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে চীনের নান্দনিক ফুল ও ফলের গাছ। কংক্রিটের এই শহরে এক টুকরো সবুজের খোঁজে দিনভর বৃষ্টির পরেও প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমাচ্ছেন বৃক্ষপ্রেমীরা।
পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত এই আয়োজনে এই মেলায় রয়েছে ১২০টি স্টল। এবারের মেলায় নার্সারিগুলো পসরা সাজিয়েছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং বাহারি সব আলংকারিক গাছের। বিশেষ করে নজর কাড়ছে দৃষ্টিনন্দন বনসাই, ছাদবাগানের জন্য উপযুক্ত বিভিন্ন জাতের রঙিন আম, মাটি ছাড়াই বেড়ে ওঠা এয়ার প্ল্যান্ট এবং পরিবেশবান্ধব নান্দনিক টবের কালেকশন। 

 


তবে এখানে দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি মেলাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে চীনা জাতের উদ্ভিদ।  দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি এখানে মিলছে চীনা জাতের লিচু, নাশপাতি, পিচ, বরই, ড্রাগন ফল, বিভিন্ন অলংকারিক গাছ এবং বাহারি ফুলের চারা। উন্নত ফলন, আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ও সহজ পরিচর্যার কারণে এসব গাছের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর থেকে আসা তাসনিম ফারজানা বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশে চীনা জাতের গাছের প্রতি মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। এসব গাছ আমাদের দেশের মাটিতে খুব দ্রুত বাড়ে এবং অল্প দিনেই ফল দেয়। সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভালো ফলনের নিশ্চয়তা থাকায় মানুষ এগুলো লুফে নিচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে চীনের এই উন্নত জাতগুলো। ফলে ছাদবাগান ও ছোট পরিসরের বাগানপ্রেমীদের কাছে এগুলোর চাহিদা এখন আকাশচুম্বী।
ফয়সল নার্সারির বিক্রেতা জানান, "আমি এবার মেলায় এসেছি মূলত ছাদবাগানের জন্য বিশেষ কিছু খুঁজতে। এখানে এসে চীনা জাতের কিছু ফলের গাছ দেখলাম, যেগুলো আকারে ছোট কিন্তু ফলন খুব ভালো শুনলাম। বিশেষ করে ওদের নাশপাতি আর বাহারি ফুলের কালেকশনটা দারুণ। তাই কয়েকটা চারা কিনলাম।
এক ছাদের নিচে দেশি-বিদেশি গাছের এই মেলবন্ধন প্রকৃতিপ্রেমীদের দিচ্ছে নতুন অভিজ্ঞতা। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই মেলায় পরিবেশ সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি, চীন ও বাংলাদেশের এই সবুজ মৈত্রী ছাদবাগানীদের যোগাবে নতুন অনুপ্রেরণা এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
সূত্র: সিএমজি

জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
জন্মদিনের আয়োজন ছেড়ে মাঠে
কৃষিবিজ্ঞানী চাও ইয়াফু

৮৫ বছর বয়সে অনেকেই অবসর জীবন বেছে নেন। কিন্তু চীনের প্রবীণ কৃষিবিজ্ঞানী চাও ইয়াফু এখনও ভোরে মাঠে যান, কৃষকদের সঙ্গে কাদামাটিতে নেমে ধানের চারা রোপণ দেখেন, নতুন প্রযুক্তি শেখান, আর ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরামর্শ দেন। তার কাছে কৃষি শুধু পেশা নয়, এটি আজীবনের অঙ্গীকার।  
চীনের ২৪টি সৌরঋতুর একটি 'কু ইউ'-এর দিনে পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের তাইচুয়াং গ্রামের ধানক্ষেতে যখন মৌসুমের প্রথম চারা রোপণ শুরু হয়, তখন গ্রামের মানুষ তার ৮৫তম জন্মদিন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু চাও ইয়াফুকে পাওয়া গেল জন্মদিনের আয়োজনে নয়, ধানক্ষেতের আইলে। পায়ে রাবারের বুট, মাথায় খড়ের টুপি—তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন চারা রোপণের কাজ। 
কৃষকদের উদ্দেশে তার পরামর্শ ছিল, ‘চারা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই জমিতে সেচ দিন। সেচ ঠিকভাবে করতে পারলে চাষের অর্ধেক কাজ সফল হয়ে যায়।‘  
১৯৪১ সালে জন্ম নেওয়া চাও ইয়াফু কৃষিবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করে ১৯৬১ সালে চেনচিয়াংয়ের একটি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তিনি উপলব্ধি করেন, একজন কৃষিবিজ্ঞান তখনই সফল হবেন যখন তার সুফল সরাসরি কৃষকের জমিতে পৌঁছবে। 
১৯৮২ সালে তিনি জাপানে কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান। দেশে ফেরার সময় সঙ্গে আনেন ১৩ বাক্স কৃষিবিষয়ক বই ও প্রযুক্তিগত উপকরণ। আরও এনেছিলেন মাত্র ২০টি স্ট্রবেরির চারা। সেই অল্প কয়েকটি চারা থেকেই শুরু হয় নতুন সম্ভাবনার গল্প। তিনি কৃষকদের স্ট্রবেরি চাষ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ দেন। প্রথম ফলনই কৃষকদের জন্য এনে দেয় অপ্রত্যাশিত আয়।
২০০১ সালে অবসরের সময় এলেও তিনি বিশ্রাম নেননি। বরং স্বেচ্ছায় চলে যান চেনচিয়াংয়ের অন্যতম দরিদ্র গ্রাম তাইচুয়াংয়ে। তখন গ্রামের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ছিল ৩ হাজার ইউয়ানেরও কম, আর গ্রামটি ছিল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। 
চাও গ্রামের মানুষকে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি সমবায়। তিনি তাদের জৈব পদ্ধতিতে পিচ চাষে উৎসাহিত করেন। শুরুতে অনেকেই দ্বিধায় থাকলেও সফল ফলনের পর ক্রেতাদের আগ্রহ দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে নিজের নামেই 'ইয়াফু' কৃষিপণ্যের ব্র্যান্ড ব্যবহারের অনুমতি দেন এবং কৃষকদের সরাসরি শহরের ভোক্তাদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে সহায়তা করেন। 
আজ তাইচুয়াং চীনের একটি সফল জৈব কৃষি গ্রামের উদাহরণ। গ্রামের মানুষের গড় বার্ষিক আয় বেড়ে হয়েছে ৪৭ হাজার ইউয়ানেরও বেশি। গ্রামের সমষ্টিগত বার্ষিক আয় ৫০ লাখ ইউয়ান ছাড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২০ বছর ধরে এখানকার ধানক্ষেতে কোনো কৃত্রিম কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়নি। অথচ ধানের উৎপাদনও স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে প্রকৃতিও ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ। গ্রীষ্মে ধানক্ষেতে এখন নিয়মিত দেখা মেলে ফড়িং, ব্যাঙ ও নানা প্রজাতির পাখির।
চাও ইয়াফু বলেন, ‘এই ধানক্ষেতে প্রায় ১৫০ প্রজাতির ছোট প্রাণী এবং প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি বাস করে। একটি গ্রামের জন্য এটি সত্যিই অসাধারণ।‘  
তাইচুয়াংয়ের সাফল্য এখন চিয়াংসুর সীমানা ছাড়িয়ে আনহুই, চিয়াংসি-সহ চীনের আরও অনেক প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তার নামে প্রতিষ্ঠিত কৃষি সেবা দল ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কৃষি প্রযুক্তিবিদরা কৃষকদের কাছে আধুনিক জ্ঞান পৌঁছে দিচ্ছেন।
চলতি বছর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ সম্মান 'জুলাই ১ পদক'-এ ভূষিত হয়েছেন চাও ইয়াফু। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার কোনো পদক নয়, বরং কৃষকের মুখের হাসি। 
তিনি বলেন, ‘একজন পার্টি সদস্য ও কৃষিবিজ্ঞানীর দায়িত্ব প্রযুক্তিকে এমন দক্ষতায় রূপান্তর করা, যা কৃষক বাস্তবে কাজে লাগাতে পারবেন এবং যার ফল পাবেন তাদের ফসলের মাঠে।‘ 
৮৫ বছর বয়সেও তাই চাও ইয়াফুর কর্মস্থল কোনো দপ্তর নয়, বরং কৃষকের মাঠ। তার জীবন প্রমাণ করে, মানুষের কল্যাণে নিবেদিত নিষ্ঠার অবসর গ্রহণের কোনো বয়স নেই।
তথ্য ও ছবি- সিএমজি 

হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ এএম
হাতিয়ার কৃষিতে ২০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
হাতিয়ায় ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে/ খবরের কাগজ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক খেতের ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সবজির খেত প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সোনাদিয়া  ইউনিয়নের কৃষক আরিফ হোসেন খবরের কাগজকে  বলেন, 'এবার প্রায় দুই একর জমিতে আউস ধান আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে, বুঝতে পারছি না।'

চর ইশ্বর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল লতিব খবরের কাগজকে বলেন , 'সবজি চাষ করেই সংসার চলে। বেগুন, ঢেঁড়স ও মরিচের পুরো খেত পানিতে ডুবে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না।

নিঝুমদ্বীপ  ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, 'বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমের আমন চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। আগের বিনিয়োগও শেষ, এখন কী করব বুঝতে পারছি না।'

পৌরসভার  কৃষক জিহাদ খবরের কাগজকে  বলেন, 'প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে কৃষকেরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।'

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ খবরের কাগজকে বলেন, 'অতিবৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে প্রণোদনা, বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে প্রতিবছর একই ধরনের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

হানিফ সাকিব /তামান্না রুপা/

গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
গোমতীর পানি বাড়ছে, কুমিল্লার চরাঞ্চলে তলিয়ে গেছে ফসল
গোমতীর পানি বৃদ্ধি/ ছবি: খবরের কাগজ

উজানের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক জানান, প্রায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি আগাম জাতের মূলা ও লাউ চাষ করেছিলেন। হঠাৎ গোমতী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পুরো খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

আরেক কৃষক আবদুল জলিল জানান, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার খেত পানিতে ভেসে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের এলাকার শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনিও মাঠে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে জরিপ চলছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জহির শান্ত/তামান্না রুপা/

পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
পাহাড় উজাড় ও বিরূপ আবহাওয়ায় সংকটে আলীকদমের মৌচাষিরা
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদমে এক সময় বাণিজ্যিকভাবে মৌ চাষ ও প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিলেও বর্তমানে তা চরম সংকটের মুখে। নির্বিচারে পাহাড় কাটা, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের মৌ চাষি ও মধু সংগ্রহকারীরা এখন দিশেহারা। আধুনিক প্রযুক্তি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজারজাতকরণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয় চাষি ও পরিবেশকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আলীকদমের পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে নানা জাতের ফুল ফুটত, যা ছিল মৌমাছির প্রধান খাদ্য উৎস। কিন্তু গত কয়েক বছরে জ্বালানি কাঠের জন্য এবং অবৈজ্ঞানিক উপায়ে পাহাড় কাটার ফলে কমে গেছে বন্য ফুল ও লতাগুল্মের সংখ্যা। ফলে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে মৌমাছিরা। অনেক সময় পুরো মৌ-কলোনি বা ঝাঁক এই অঞ্চল ছেড়ে গভীর জঙ্গলে পরিযায়ী হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার ছিলিমপুর এলাকার মৌচাষি মংথোয়াই মারমা বলেন , ‘আগে পাহাড়ে প্রচুর গর্জনের ফুল আর বুনো লতাগুল্ম ছিল। বাক্স বসালেই কয়েক দিনের মধ্যে মধু পাওয়া যেত। এখন পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে, গাছ নাই তো ফুলও নাই। মাছিরা খাবার না পেয়ে বাক্স ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত বছর আমার ১০টি বাক্সের মধ্যে ৫টার মাছিই উড়ে চলে গেছে।’

অসময়ের ভারী বৃষ্টিপাত, তীব্র দাবদাহসহ বিরূপ আবহাওয়ার কারণেও মধুর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে মনে করেন মধু সংগ্রহকারী জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘এখন আবহাওয়া আর আগের মত নাই। যখন ফুল ফোটার সময়, তখন হয় অতিরিক্ত গরম পড়ে, না হয় অসময়ে বৃষ্টি এসে ফুলের সব রেণু ধুয়ে নিয়ে যায়। গরম বেশি হলে মৌচাকের ভেতরে ডিম নষ্ট হয়ে যায়। আগে এক একটা বড় চাক থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি মধু পাইতাম, এখন ৫ কেজি পাওয়াই ভাগ্য।’ 

আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন চাষিরা। তারা বলছেন, কোনো ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই পাহাড়ি খাড়া দেয়াল বা উঁচু গাছ থেকে জীবন বাজি রেখে মধু সংগ্রহ করতে হয় তাদের। তাছাড়া উৎপাদিত মধু প্রক্রিয়াজাতকরণের কোনো ব্যবস্থা আলীকদমে নেই। পাহাড়ি মধুর আর্দ্রতা বেশি থাকায় তা দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর এই সুযোগটি নেয় শহরের একটি সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীরা। 

অঞ্চলটির একাধিক চাষি জানান, অনেক কষ্ট আর ঝুঁকি নিয়ে মধু সংগ্রহ করলেও সঠিক দাম পান না তারা। আলীকদমে মধু রিফাইন করার কোনো মেশিন নেই। এতে নষ্ট হওয়ার ভয়ে কম দামেই শহরের পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয় মধু। কেজি প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা পান চাষিরা। অথচ মধ্যস্বত্বভোগীরা ঢাকা-চট্টগ্রামে নিয়ে তা ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সরকারের কাছে কম সুদে ঋণ আর মধু প্রসেসিং সেন্টারের দাবি স্থানীয়দের। 

এ বিষয়ে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, আলীকদমে মৌচাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌবক্সসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে রানি মৌমাছির সংকটের কারণে উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সুযোগ ও বরাদ্দ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।