লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী গ্রামের শিক্ষক দম্পতি খলিলুর রহমান ও ফাতেমা খাতুন মজুমদার । তারা কমলা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। ২০১১ সালে দার্জিলিং জাতের কমলা রোপণের পর তাদের বাগানে ফলন বৃদ্ধি পায়। ২০১৬ সালে জাতীয় কৃষি পুরস্কার লাভ করেন তারা। বর্তমানে এক একর জমিতে চাষ করা কমলা বাজারে বিক্রি করছেন। তাদের সাফল্য দেখে স্থানীয়রা কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সফলতা অর্জন করেছেন এই দম্পতি। খবর বাসসের।
খলিলুর রহমান মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন মজুমদার পশ্চিম সারডুবী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। এ দম্পতি ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বিভিন্ন ধরনের গাছের নার্সারি তৈরি করেন। পরে ২০১১ সালে তারা এক বিঘা জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলার চারা রোপণ করেন। শুরুতে খুব একটা আশা ছিল না, কিন্তু ২০১৫ সালের দিকে ১৫২টি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল আসতে শুরু করে। তখন থেকে তারা কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে তাদের কমলার বাগান সম্প্রসারণ করেন। ২০২৪ সালে তাদের কমলার ফলন ভালো হয়েছে এবং প্রায় এক একর জমিতে এখন কমলা বাগান রয়েছে।
তাদের কমলা বাগানটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাগানে এখন প্রায় সব কমলা হলুদ হয়ে গেছে এবং বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। খলিলুর রহমান জানান, তার স্ত্রী ফাতেমা মজুমদার প্রথমে ২০১১ সালে দার্জিলিং জাতের কমলা রোপণ করেন। এরপর তিন বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে এবং তাদের বাগানের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে তাদের জাতীয় কৃষি পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ফাতেমা খাতুন মজুমদার বলেন, ‘শখের বসে শিক্ষকতার পাশাপাশি কমলা চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা সফল হয়েছি।’
ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাটের কমলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি করা কমলার দাম অনেক বেশি এবং এর সঙ্গে নানা ধরনের ভ্যাট ও খরচ যুক্ত থাকে। তবে দেশীয় কমলার দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং বাজারে ভালোভাবে বিক্রি হয়। এটি চাষিদের জন্য লাভজনক হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, ‘ওই শিক্ষক দম্পতির কমলা বাগানে প্রচুর পরিমাণে কমলা ধরেছে।’ তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই বাগান দেখতে মানুষ ভিড় করে। এলাকার অনেকেই এখন কমলা চাষের দিকে আগ্রহী হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদের কমলা বাগান পরিদর্শন করেছি। এখানে প্রচুর পরিমাণে ফলন হয়েছে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তাদের সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরা কমলা চাষে আগ্রহী হবেন।’