ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
১৬ বছরের জট খুলল স্পেনের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের একাদশে পরিবর্তন শেষ ষোলোতে স্পেনের প্রতিপক্ষ কারা? আর্জেন্টিনাকে কেপ ভার্দে কোচের হুঁশিয়ারি অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী কেন বাতিল হলো কুকুরেয়ার গোল? ওয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে বিরতিতে স্পেন স্পেন-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১ ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন

কমলা চাষে সাড়া ফেলেছেন শিক্ষক দম্পতি

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:২৫ এএম
কমলা চাষে সাড়া ফেলেছেন শিক্ষক দম্পতি
নিজেদের কমলা বাগানে শিক্ষক দম্পতি খলিলুর রহমান ও ফাতেমা খাতুন মজুমদার। সংগৃহীত

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী গ্রামের শিক্ষক দম্পতি খলিলুর রহমান ও ফাতেমা খাতুন মজুমদার । তারা কমলা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। ২০১১ সালে দার্জিলিং জাতের কমলা রোপণের পর তাদের বাগানে ফলন বৃদ্ধি পায়। ২০১৬ সালে জাতীয় কৃষি পুরস্কার লাভ করেন তারা। বর্তমানে এক একর জমিতে চাষ করা কমলা বাজারে বিক্রি করছেন। তাদের সাফল্য দেখে স্থানীয়রা কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় সফলতা অর্জন করেছেন এই দম্পতি। খবর বাসসের।

খলিলুর রহমান মিলন বাজার মোজাম্মেল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন মজুমদার পশ্চিম সারডুবী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।  এ দম্পতি ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বিভিন্ন ধরনের গাছের নার্সারি তৈরি করেন। পরে ২০১১ সালে তারা এক বিঘা জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলার চারা রোপণ করেন। শুরুতে খুব একটা আশা ছিল না, কিন্তু ২০১৫ সালের দিকে ১৫২টি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল আসতে শুরু করে। তখন থেকে তারা কৃষি বিভাগ থেকে পরামর্শ নিয়ে তাদের কমলার বাগান সম্প্রসারণ করেন। ২০২৪ সালে তাদের কমলার ফলন ভালো হয়েছে এবং প্রায় এক একর জমিতে এখন কমলা বাগান রয়েছে।

তাদের কমলা বাগানটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাগানে এখন প্রায় সব কমলা হলুদ হয়ে গেছে এবং বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। খলিলুর রহমান জানান, তার স্ত্রী ফাতেমা মজুমদার প্রথমে ২০১১ সালে দার্জিলিং জাতের কমলা রোপণ করেন। এরপর তিন বছরের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে এবং তাদের বাগানের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে তাদের জাতীয় কৃষি পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ফাতেমা খাতুন মজুমদার বলেন, ‘শখের বসে শিক্ষকতার পাশাপাশি কমলা চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা সফল হয়েছি।’

ফল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, লালমনিরহাটের কমলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণত বিদেশ থেকে আমদানি করা কমলার দাম অনেক বেশি এবং এর সঙ্গে নানা ধরনের ভ্যাট ও খরচ যুক্ত থাকে। তবে দেশীয় কমলার দাম তুলনামূলকভাবে কম এবং বাজারে ভালোভাবে বিক্রি হয়। এটি চাষিদের জন্য লাভজনক হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, ‘ওই শিক্ষক দম্পতির কমলা বাগানে প্রচুর পরিমাণে কমলা ধরেছে।’ তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই বাগান দেখতে মানুষ ভিড় করে। এলাকার অনেকেই এখন কমলা চাষের দিকে আগ্রহী হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদের কমলা বাগান পরিদর্শন করেছি। এখানে প্রচুর পরিমাণে ফলন হয়েছে। আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তাদের সফলতা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরা কমলা চাষে আগ্রহী হবেন।’

ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ঘাটাইল উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে উপজেলা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন, গাছের চারা, মরিচ এবং শাক-সবজি আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার বীজ বিতরণের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকদের মাঝে কৃষিপণ্য বিতরণ করা হয়ে।

কৃষিপণ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমাদুল হাসান। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পর্যায়ক্রমে ৪ হাজর ৬৪৪ জনের কৃষক মাঝে বিতরণ করা হবে।

বীজ ও সার সহায়তা হিসাবে প্রত্যেক কৃষক পাবেন ডিএপি-১০ কেজি, এমওপি-১০ কেজি ও ধানের বীজ ৫ কেজি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার দিলশাদ জাহান। এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মমতাজ বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো.মনোয়ার হোসেন, সুষ্মি সাহা, বিআরবি চেয়ারম্যান হারুন অররশিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বেলাল হোসেনসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েল রানা/এএফ

গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী কৃষি-প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
গোপালগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী কৃষি-প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন
ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিন দিনব্যাপী ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ মেলার আয়োজন করে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করা হয়।

ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ১২টি স্টল করা হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত মেলা চলবে। এতে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও পৌরসভার শতাধিক কৃষক অংশ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড়, কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার বক্তব্য রাখেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষির বাস্তবায়ন করতে হবে। তাই পুরনো কৃষি ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে স্মার্ট কৃষিতে রূপান্তর করতে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।'

বাদল সাহা/তামান্না রুপা/

ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ধামরাইয়ে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকের
ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় কৃষক আবুল কালামের সবজির জমি। ছবি: খবরের কাগজ

ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে আধুনিক কৃষির এক অনন্য দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। সেখানে মালচিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় সফল চাষী আবুল কালাম।

মাত্র ২০ শতাংশ জমি দিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজির চাষ করছেন। সনাতন পদ্ধতিকে বিদায় জানিয়ে আধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহারে একদিকে যেমন ফসলের উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে এসেছে আশাতীত অর্থনৈতিক সাফল্য।

আবুল কালাম কেবল নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করেননি, সৃষ্টি করেছেন অন্যের কর্মসংস্থানও। বর্তমানে তার সবজি ক্ষেতে প্রতিদিন ৬০০ টাকা হাজিরায় নিয়মিত কাজ করছেন আরও ছয়জন কৃষক। আধুনিক ও নিরাপদ সবজি চাষে তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো ধামরাইয়ের কৃষকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন অনেক বেশি হয়। এই প্রযুক্তিতে চাষাবাদে খরচ কম কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, মালচিং পদ্ধতিতে ‘গ্যাপ ফসলে পার্টনার সিস্টেম’ ব্যবহার করে একই জমিতে আরও বেশি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগ জানায়, মালচিং পেপার ব্যবহারের কারণে জমিতে রোগবালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। পাশাপাশি সঠিক সময়ে সেচ ও জৈব সার প্রয়োগের ফলে সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্থানীয় কৃষকদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মাটির ওপর মালচিং পেপার বিছানোসহ বিভিন্ন ধরনের জৈব সার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আবুল কালাম বলেন, ২০ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতায় বর্তমানে তিনি ১২ বিঘা জমিতে কৃষি আবাদ করছেন। প্লাস্টিক মালচিং পেপার দিয়ে জমি ঢেকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তিনি জমির  বিভিন্ন অংশে পরিকল্পিতভাবে চাষ করেছেন নানা ধরনের সবজি। ​করলা, শশা ​,ধুন্দল ​ও লাউ চাষ করে লাভবানও হয়েছেন তিনি। এবার সবজি চাষে সকল খরচ বাদ দিয়ে প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, নরমাল পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক ​মালচিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে জমিতে আগাছা জন্মাতে পারছে না, মাটির আর্দ্রতা সঠিকভাবে বজায় থাকছে এবং সার ও সেচের অপচয় অনেকাংশে কমে গেছে। ফলে পদ্ধতিগত চাষাবাদ এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণে প্রতিটি ফসলের গাছই বেশ সতেজ এবং ভালো ফলন দিচ্ছে। তার এমন চাষ দেখে অনেক শিক্ষিত যুবকও সবজি চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। 

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জামান বলেন, “গতবার আবুল কালাম দুটি জমিতে করলা চাষ করেছিলেন। এর মধ্যে মালচিং ছাড়া জমি থেকে মাত্র ২০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করলেও, আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা জমি থেকে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেন। এই পদ্ধতিতে খরচ ও পোকার আক্রমণ কম, কিন্তু উৎপাদন অনেক বেশি।”

ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আরিফুল ইসলাম বলেন, “নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে আমরা কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। কৃষক আবুল কালামের প্রজেক্টে আমরা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার নিশ্চিত করেছি, এমনকি তাকে জৈব সার তৈরি করাও শিখিয়েছি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই জমিতে ধূমপান ও পানাহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের হ্যান্ডগ্লাভস ও নির্দিষ্ট পোশাক পরে কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়া সুরক্ষার জন্য পুরো জমি নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “মালচিং ও পার্টনার পদ্ধতিতে একই জমিতে সারাবছর কীভাবে বেশি লাভজনক ও নিরাপদ ফসল ফলানো যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আবুল কালামের মতো কৃষকদের মাধ্যমে আমরা বেকার শিক্ষিত যুবকদেরও কৃষিতে উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করছি।”

রুহুল/এএফ

সোনারগাঁয় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
সোনারগাঁয় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় বিনামূল্যে বীজ, সার, গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলা কৃষি অফিস মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। 

পরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ’কৃষক দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের সুফল যেন প্রকৃত কৃষকেরা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে আউশ ও আমন ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজির আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। এ সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি অধিক ফলন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. জফলুল হক (ফজলু) মেম্বার এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. অলিউল্লাহ খান।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের হাতে বীজ, সার, গাছের চারা ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

 ইমরান/খাদিজা রুমি/

ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন বৃদ্ধি, আর্থিক উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি ও আইএফএডির সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিসে ওই পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত  হয়। 

প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। 

পার্টনার কংগ্রেসে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি  ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন।

এ ছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও স্থানীয় কৃষক কৃষাণীরা এ কংগ্রেসে অংশ নেন।

ফয়সল আহমেদ/অমিয়/