ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যয়নপত্র না পেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাধীন বাঙ্গরা ইউনিয়নের সীমানারপাড় গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহমেদ। তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র পাচ্ছেন না। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
যদিও বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলছেন বাঙ্গরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন। বলেন, ‘তিনি আমার কাছে প্রত্যয়নপত্রের আবেদন করলে গ্রামের মানুষজন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসেন। বিষয়টি শুনানির জন্য ডাকা হলে তিনি আসেননি। পরে ইউএনও অফিসেও শুনানি ডাকা হয়। সেখানেও তিনি আসেননি। না এলে সনদ দেব কীভাবে। মূলত একটি মহলের ইন্ধনে তিনি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।’
অন্যদিকে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তার হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার দরকার ছিল না। শুনানিতে এলেই তিনি প্রত্যয়নপত্র পেয়ে যেতেন। আমি ইউপি চেয়ারম্যানকে সেই নির্দেশনাও দিয়ে রেখেছিলাম।
ভুক্তভোগী বশির আহমেদ বলেন, ‘রাজধানীর বনশ্রী এলাকার ভোটার আমি। আমার ঠিকানা পরিবর্তন করে গ্রামের বাড়িতে করতে চাচ্ছি। এজন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র দরকার। প্রত্যয়নপত্রের জন্য আমি প্রায় ৮-৯ মাস ঘুরছি। ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে না পেয়ে এ ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ইউএনও বরাবর দরখাস্ত দিয়েছি। তারপরও কোনো কাজ হয়নি। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তিনি আমাকে সনদপত্র দেননি।’
এ বিষয়ে কথা হয় বাঙ্গরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বশির অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির মানুষ। সাব ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করেন। তিনি ভোটারের ঠিকানা ট্রান্সফার করতে চাইছিলেন। এটা জেনে এলাকার লোকজন আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।’
তিনি যদি এখন আপনার কাছে আসেন তাহলে নাগরিক সনদ পাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ জাকির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, আমি হাইকোর্টেই জবাব দেব। আমি এখনো হাইকোর্টের আদেশ পাইনি। তিনি অন্যায়ভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছি, তার সঙ্গে দলীয় কোনো দ্বন্দ্বও নেই। বিষয়টি হাইকোর্টেই মোকাবিলা করব।’
চেয়ারম্যান জাকিরের দাবি, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিনি পুলিশের চাকরি হারিয়েছেন। বলেন, ‘তিনি যখন কক্সবাজার ডিবিতে ছিলেন তখন ১০ লাখ ইয়াবা আটক করে জব্দ তালিকায় মাত্র ১০ হাজার ইয়াবা দেখান। এ কারণে তিনি চাকরিচ্যুত হন।’
বশির আহমেদ অবশ্য বলছেন ভিন্ন কথা। বলেন, ‘আমি যদি অপরাধী হয়ে থাকি তাহলে আইন আছে, থানা পুলিশ আছে— তারা মামলা করুক। চেয়ারম্যানের কাছে কেন অভিযোগ করবে? আমি কোনো অপরাধ করিনি। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আমার চাকরিও যায়নি। আমি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসরে এসেছি।’
বশির আহমেদের স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া নিয়ে কক্সবাজার পুলিশের সঙ্গে কথা হয় খবরের কাগজের কক্সবাজার প্রতিনিধি মুহিববুল্লাহ মুহিবের। পুলিশ জানায়, ১০ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করে তালিকায় ১০ হাজার পিস দেখানো ঘটনায় এসআই বশির জড়িত ছিলেন। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি বলেন, ‘বশির আহমেদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আমি তাকে এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে শুনানিতে ডেকেছিলাম। কিন্তু বশির শুনানিতে আসেননি। চেয়ারম্যান এসে আমাকে বলেছেন, এলাকাবাসীর কিছু অভিযোগ আছে। আমি চেয়ারম্যানকে বলেছি, তিনি হয়তো খারাপ হতে পারেন। কিন্তু এটা তার অধিকার, তাকে নাগরিক সনদপত্র দিতে হবে।
নিয়ম আপনাকে মানতে হবে, আইন আপনাকে মানতে হবে। কিন্তু অভিযোগ দিয়ে বশির আর কোনোদিন আমার কাছে আসেননি, যোগাযোগও করেননি। তার তো হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার কোনো দরকার ছিল না। আমি নিজেই যেখানে প্রতিকার করতে পারি, তার হাইকোর্টে যাওয়ার কি দরকার ছিল?’
এমএ/