চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীকে ঘিরে বড়স্টেশন মোলহেড। আর এই তিন নদীর মোহনা বা মোলহেড থেকে মাত্র একশ টাকায় যাওয়া যায় মিনি কক্সবাজারখ্যাত পদ্মার বালুচরে। চাঁদপুর জেলা শহরের প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে পদ্মা ও মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে তোলে।
পদ্মার চরের চারপাশে জলবেষ্টিত হওয়ায় তার নামকরণ করে ‘মিনি কক্সবাজার’। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন দর্শনার্থী এই স্থানে ঘুরতে আসেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় দর্শনার্থীদের সমাগম নেই তিন নদীর মোহনা ও পদ্মার বালুচরে।
বড়স্টেশন মোলহেডে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি স্টিলবডি ট্রলারের মাঝি যাত্রী অপেক্ষায় বসে আছেন। প্রতিটি ট্রলারে ৬-৭ জন হলেই পদ্মার চরের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। দর্শানার্থী কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে মাঝিদের।
মোহনা স্টিল বোর্ট সমিতির সদস্য মো. বাকির হোসেন জানান, গত মাস থেকে বড়স্টেশন মোলহেডে মানুষ কম আসছেন। মোলহেডে মানুষ এলে মিনি কক্সবাজারে ট্রলারে করে যেতে চান। তবে এখন যাত্রী খুব কম। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দর্শানার্থীদের ভিড় বাড়তে পারে। বর্তমানে ৮৬টি ট্রলার দর্শানার্থীদের জন্য চলাচল করে। পদ্মার চরে যাওয়ার জন্য জনপ্রিতি ১০০ টাকা লাগে। এ ছাড়া ঘণ্টায় ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মেহেদী হাসান জীবন বলেন, ‘চাঁদপুরে তিন নদীর মোহনা অসম্ভব সুন্দর। এ ছাড়া মিনি কক্সবাজারে দর্শনার্থীদের জন্য আরও কিছু সুযোগসুবিধা বাড়ানো হলে মানুষ যেতে আগ্রহবোধ করবেন। সেখানে ওয়াশরুম ও খাবার দোকান হলে আরও ভালো হতো। বিশেষ করে চুরি ও ডাকাতি যাতে না ঘটে, তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, চাঁদপুরে নৌ সীমানায় সব সময় নৌ পুলিশের টহল থাকে। যাত্রী নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যটন স্থানে নৌ পুলিশের নজরদারি রয়েছে। এ ছাড়া কোনো অভিযোগ এলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরীফুল ইসলাম/জোবাইদা/অমিয়/