ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন?

চট্টগ্রামে ম্যাট্রেস তৈরির কারখানায় আগুন

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৪১ পিএম
আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪২ পিএম
চট্টগ্রামে ম্যাট্রেস তৈরির কারখানায় আগুন
ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় কাদের বেডিং নামে একটি ম্যাট্রেস তৈরির কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের তিনটি, চন্দনপুরা ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কফিল উদ্দীন খবরের কাগজকে জানান, কারখানাটিতে ঝুট ও তুলা দিয়ে ম্যাট্রেস তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। একপর্যায়ে আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে কাঁচামালের (ঝুট ও তুলা) ক্ষতি হয়েছে। আমরা তদন্তসাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানাব।

ইফতেখারুল/জোবাইদা/অমিয়/

মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১০ এএম
মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি
আহত শিক্ষক। ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুরের কালকিনিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই শিক্ষককে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার পশ্চিম আলীপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্বজনরা জানায়, ১৫৮নং চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রাজন শিকদারের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন বিতরণ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই দুই শিক্ষকের মধ্যে তর্কবির্তক হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লিপি বেগম তার বাড়িতে শিক্ষার্থীদের টিফিন নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানান অপর শিক্ষক রাজন। বিষয়টি নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরে বিদ্যালয় ছুটি শেষে ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুরের খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে। তাকে পিটিয়ে ডান পা ভেঙ্গে দেওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।

রাজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রথমে ভর্তি করা হয় কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি হলে রাত ১২টার দিকে পাঠানো হয় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত লিপি বেগম।

ভুক্তভোগী শিক্ষক রাজন শিকদারের অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায়ই শিক্ষার্থীদের টিফিনের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে যায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক লিপি বেগম। এর প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করে লিপির ভাই মিলন মোল্লা ও তার লোকজন। আমার এক পা ভেঙ্গে দিয়েছে। আরেক পা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ। আমি এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

অভিযুক্ত লিপি বেগম বলেন, 'রাজন শিকদার আমার সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করে। তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে বারান্দায় গিয়ে বসে থাকেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে তিনি আমার ওপর চড়াও হন। তার ওপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছে আমার জানা নেই।’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া  হবে।’

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম
লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক চার দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।

ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন মহা দুর্ভোগে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও ঘটছে ব্যাঘাত।

স্থানীয়রা জানান, চার দিন আগে বয়ে যাওয়া ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ)-এর ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে সমস্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ জানান, বজ্রপাতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার আনা হয়েছে এবং প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, 'বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

বকুল/তামান্না রুপা

বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত
টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও সাবরাং সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থান। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাত থেকে মংডু শহরে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে জান্তা বাহিনী ২০-২৫টির মতো বিমান হামলা চালায়। সীমান্তের ওপার থেকে আসা বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে সীমান্তবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নাফ নদী ও সীমান্তে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার রাত ৯টা থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অনেক পরিবার আতঙ্কে রাত কাটায়। শিশুদের ঘুম ভেঙে যায় এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তুতি নেন।

মংডুর এক বাসিন্দা জানান, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিমান হামলার শব্দ না শোনা গেলেও মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী ১ জুলাই বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম গ্রামে জেট ফাইটার ও ওয়াই-১২ বিমান থেকে দুটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন পুরুষ ও দুই শিশু আহত হন এবং প্রায় ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ১৭ জুন কিয়াউকতাও এলাকায় বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৮ জন আহত হন।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরে বিমান হামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন জলসীমায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদেরও সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বুধবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে এলাকাসীর মানববন্ধন। ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখল, হামলা, মামলাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনে  বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান কবিরাজের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দখলবাজি, হামলা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন।

এসব কারণে এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসন দ্রুত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সৌদি আরব প্রবাসী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, 'আমি প্রবাসে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে এলাকায় একটি ভবন নির্মাণ করেছি। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৫ দিন ধরে আমার ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে রাখা হয়। এতে আমি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

এ দিকে এলাকাবাসীর মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শাহজাহান কবিরাজ বলেন, 'এসব অপকর্মের সঙ্গে আমি জড়িত নই, কিছু নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় বুধবার ব্লক পিচিং ধসে যায়। ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল এলাকায় আবারও ধস দেখা গেছে। গত বুধবার সন্ধ‌্যার পর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকায় অবস্থিত ডান তীর রক্ষা বাঁধটির প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ব্লক পিচিং অংশ ধসে গেছে। একই সঙ্গে বাঁধের অন্তত ১০টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোত বেড়ে যাওয়ায় কাঁচকোল এলাকায় বাঁধের তিনটি স্থানে যথাক্রমে প্রায় ১০, ১২ ও ৬ মিটার ব্লক পিচিং ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নদীর স্রোতের চাপ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার বাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন এবং বালুভর্তি ড্যাম্পার ট্রাক চলাচলের কারণে বাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে ধস দেখা দিয়েছে।

জানা গে‌ছে, চিলমারী উপ‌জেলা রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডান তীর রক্ষা বাঁধের অন্তত ৯টি স্থানে বাঁধ কেটে বালুবাহী ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরেরহাট বাঁধমোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ৭টি স্থানে বাঁধ কেটে রাস্তা করা হয়েছে। এসব সড়ক নির্মাণে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্লক পিচিং ব্যবহার করা হয়েছে।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা মো. খতিব উদ্দিন বলেন, ‘ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর নদী ভাঙনের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র তীর থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে তীর ধসের ঘটনা ঘটছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’

একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধে ধসের পর থেকে উদ্বেগে রাত কাটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষার জন্য ৪ কিলোমিটার ব্লক পিচিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার বাঁধে ধস দেখা দেয়। গত বুধবার এই বাঁধের প্রায় ৩০-৩৫ মিটার ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।