মানিকগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আলপনা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বাশার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার বান্দুটিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বাশারের মামা ইসহাক ও স্থানীয় ব্যক্তি লাভলুসহ কয়েকজন মিলে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পর অভিযুক্ত বাশার এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত বাশার ভূঁইয়া ওই মসজিদে প্রায় এক বছর ধরে মুয়াজ্জিনের চাকরি করছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশুটি বলে, 'বুধবার সকালে কাকি আমাকে মক্তবে দিয়ে আসছে। তার কাছে সব পড়া দিয়েছি। সবার পড়া শেষ হলে আমাকে বাদে সবাইকে ছুটি দিয়েছে। আমি বলছি আমার স্কুল আছে। আমাকে বলে তুমি একটু পরে যাও। আমার সঙ্গে আরও দুজন মেয়ে ছিল।ওদেরকে বারান্দা ঝাড়ু দেওয়ার কথা বললে ওরা ঝাড়ু দিতে যায়। পরে আমাকে বলে পা ফাঁক কর। আমি কইছি কীসের জন্য। কয় কর। পরে করছি অমনি আমার প্যান্টের ভিতর দিয়ে হাত ঢুকিয়েছে। যখন দেখছে মানুষ আসছে তখন আবার হাত সরাইছে। পরে আবারও হাত ঢুকিয়েছে। যখন ওদের বারান্দা ঝাড়ু দেওয়া শেষ হয়েছে তখন আবার ছেড়ে দিয়েছে।'
শিশুটির দুলাভাই তিহান শিকদার জানান, ভুক্তভোগী তার স্ত্রীর চাচাতো বোন। শিশুটির বাবা প্রবাসী, এবং মা ও তিন বোন বান্দুটিয়ায় থাকেন। শিশুটির নানি অসুস্থ থাকায় তার মা ঢাকায় হাসপাতালে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সকালে শিশুটির খালা ফোন করে জানান মুয়াজ্জিন বাশার তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুনি, বাশারের মামা ইসহাক ও লাভলু শিশুটির আত্মীয়দের বাসায় গিয়ে বাশারকে চড়-থাপ্পড় মেরে মাফ চাইয়ে ঘটনাটির মীমাংসা করে। মীমাংসা আধঘণ্টার মধ্যেই ভয় দেখিয়ে ওদের তিন বোনকে নানির বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পর বাশারের মা আমার কাছে এসে আমার পায়ে পড়ে মাফ চায় আর বলে ছেলেটা ভুল করে ফেলেছে। তুমিতো জানই ও আগে থেকেই একটু পাঁজি।’
মীমাংসা পর ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এলাকাবাসী বান্দুটিয়া বাজারে ইসহাক ও লাভলুকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে তারা মীমাংসা কথা স্বীকার করেন।
লাভলু বলেন, 'সকালে ইসহাক আমাকে ডাকলে আমি যাই। ইসহাক তার ভাগিনাকে মারধর করে মীমাংসা করে। মীমাংসা এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যেহেতু ধর্ষণ হয়নি, তাই সামাজিক কারণে মীমাংসা করা হয়েছে।'
বান্দুটিয়া এলাকার বিট পুলিশিং কর্মকর্তা এসআই মনসুর বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।
আসাদ/মেহেদী/